Mon Valo Korar Tips – Mon Valo Korar Upay

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা ও স্বাগতম আমার এই পেজ এ। আশা করবো আমার প্রত্যেক লেখা আপনাদের অনেকটাই উপকার করতে সাহায্য করবে ও আশা করবো ভালো লাগবে আপনাদের। আমাদের বেশির ভাগ মনের আবেগ আসে মাথা থেকে। ফলে কাব্যজগতে বুকের অবস্থান দুর্বল হয়ে গেছে। আগে ভাবা হতো, বুকের মাঝে হ্নদয় বা হার্ট, এ হার্ট বা হৃদয় হতে আসে সব আবেগ। ফলে কারো প্রেম ভেঙে গেলে আমরা বলি বুক ভেঙে খান খান। তার সঙ্গে হ্নদয়খানও। তবে বুকের ব্যথা (প্রেমঘটিত নয়) মোটেও হেলাফেলার জিনিস নয়। সেখান থেকেই হয় হার্ট অ্যাটাক। যার মধ্য দিয়ে মানুষ তার জীবন হারিয়ে ফেলে। প্রেমিকদের কাছে হ্নদয়ের ব্যথা অনেক কাব্যিক কিন্তু বাস্তবে তা ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। হ্নদয় ভেঙে গেলে মন ভেঙে যায়, তার বেচে কি লাভ। কিন্তু ডাক্তাররা এ রোমান্টিকতার ঘোর বিরোধী। বিশেষ করে হার্টের ডাক্তাররা। কারণ তাদের মতে, হ্নদয় যদি আক্রান্ত হয় মানে হার্ট অ্যাটাক হলে মানুষের বেচে থাকার সম্ভাবনা কঠিন এবং তাকে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। এ কারণে হার্টের ডাক্তাররা বলেন, কেউ যদি মনে কষ্ট পুষে রাখে এবং চিন্তায় পড়ে যান তাহলে তার হার্টের সমস্যা হতে পারে। এর জন্য অবশ্য উদ্বিগ্ন আর অহেতুক টেনশন দূর করার চিকিৎসা করা জরুরি। মানে মনকে ভালো রাখতে হবে আর কি।


অনেকের মতে, হ্নদরোগে কোলেস্টেরল কমাতে হবে এবং আরো ব্যায়াম করতে হবে। ফলে কিছু সমস্যার সমাধান হয় বটে কিন্তু এতে হার্টের ব্যথার পুরো চিত্রটি মেলে না। বেশি বেশি চিন্তার কারণেও হার্টের সমস্যা তৈরি হওয়া শুরু হতে থাকে। কাজেই হার্টের জন্য অন্তত চিন্তামুক্ত থাকার শুরু করুন। এর জন্য যোগব্যায়াম এবং রিলাক্সেশন শুরু করুন। এতে মন বলে বিজ্ঞানীদের কাছে যে জিনিসের অস্তিত্ব নেই তা ভালো থাকবে। যদি আমরা সবাই জানি চিন্তাকে দূরে রাখতে বললেই চিন্তা চলে যায় না। চিন্তা আসে কোথা থেকে। আমরা এখন দেখে নেবো আমাদের মন কিভাবে ভালো করা যায় ও  প্রিয়জনের মন ভালো করার উপায়, অন্যের মন ভালো করার উপায়, মন ভালো করার দোয়া, মন ভালো রাখার টিপস, মন ভালো করার জোকস, মন ভালো রাখার কবিতা, একা মন ভালো করার উপায়। আমরা দেখে নেবো বেশ কিছু টিপস যা মেনে চললে অনেকটাই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে

প্রিয়জনের মন ভালো করার উপায় – অন্যের মন ভালো করার উপায়

1. হয়তো হাসার মতো পরিস্থিতি নেই, তবু চেষ্টা করুন হাসার। হাসি কখনো কখনো চাপ কমাতে সাহায্য করে, মেজাজ ভালো রাখে, বিষণ্ণতাকেও দূরে রাখে। তাই হাসুন।

 2. মন ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকারী `ওষুধ` হিসেবে পরিচিত হাসি। শত মন খারাপেও একচিলতে হাসি সব দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। শুধু মন নয়, শরীরকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে `প্রাণ খুলে হাসি`৷ এছাড়াও এটি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

3. শরীরচর্চাও আপনার মন ভালো রাখতে পারে। শরীরচর্চার ফলে অ্যান্ডরফিন নামক হরমোন নির্গত হয়; যা মন ভাল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরচর্চা উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদ কমাতেও সাহায্য করে।

4. সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপ নিয়ে কয়েক মিনিট রোদে বা জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন। এতে আপনার শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন `ডি` পাবে। সূর্যালোকে এমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে, যা মানসিকভাবে সুস্থ রাখে।

5. হঠাৎ কোনো কারণে মন খারাপ হলে গান শুনুন। গান মানুষের মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। আবার মিউজিকের তালে চাইলে একটু নাচতেও পারেন। পছন্দের কোনো গান শুনলে মুহূর্তেই আপনার মন ভালো হয়ে যেতে পারে। মনে পড়তে পারে সুখের কোনো স্মৃতি। গবেষণায় দেখা গেছে, গান মন ভাল রাখার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।

6. গান গাইতে পারেন। দ্রুত মন ভালো করতে গেয়ে উঠতে পারেন পছন্দের কোনো গান। গ্যারান্টি দিচ্ছি, মন ভালো হয়ে যাবে।

7. অ্যালবামে রাখা পুরোনো ছবিগুলো নেড়েচেড়ে দেখুন। এটি খুব তাড়াতাড়ি আপনার মন ভালো করে দেবে। পুরোনো ছবির পেছনের গল্প যখন আপনার মনে পড়বে তখন পালিয়ে যেতে পারে সব দুঃখ।

8. চা, কফি বা চকোলেট অনেকেই পছন্দ করে। কিন্তু এ জাতীয় দ্রব্য মানুষের স্নায়ুকে উত্তেজিত করে। বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষ এসব জিনিস ছাড়া চলতেও পারে না। যেহেতু এগুলো মানুষ গ্রহণ করে তাই যতোটা কম গ্রহণ করা যায় ততোই উদ্বিগ্ন নিরসনে কার্যকর। চিনি হচ্ছে রিফাইন বা প্রক্রিয়াজাত কার্বহাইড্রেট। এ ধরনের খাবার শরীরে সরাসরি বেশি গেলে তা উদ্বিগ্নতা বাড়াতে পারে।

9. এছাড়াও পছন্দের কোনো ছবি ফেসবুকে পোস্ট অথবা কম্পিউটারের স্ক্রিনসেভারে রাখতে পারেন। এতে মনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে। ভালো মন নিয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন।

10. লিখতে পারেন ডায়েরিতে মজার কোনো স্মৃতি লিখতে পারেন। যদি নেইল পলিশ পছন্দ করেন নখটা একটু রাঙিয়েও নিতে পারেন। রান্নার যদি শখ থাকে তা হলে করে ফেলুন মজার কোনো রেসিপি।

11. বন্ধুদের ফোন করুন ম্যাসেজ করবেন না, বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলুন। তাঁকে বলুন আপনার কষ্টের কথা। পরামর্শ চাইতে পারেন তাঁর কাছ থেকে।

শেষ কথা

চিন্তা করা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে দুশ্চিন্তা মানুষের শরীরের ও মনের ক্ষতির কারণ। দুশ্চিন্তা কমিয়ে আনতে থাকুন। আনন্দে থাকুন, ভালো থাকুন। 



Comments are closed.