ক্যান্সার কি – Cancer Symptoms in Bengali

হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই, আশা করি ভালোই আছেন, আর ভালো তো আমাদেরকে থাকতেই হবে নিজের জন্য বা অন্যের জন্য। কোথায় আছে বন্ধুরা নিজেকে না ভালোবাসলে অন্যকে ভালোবাসা যায় না আর আপনি যদি নিজে ভালো না থাকেন তাহলে অন্যকে ভালো রাখবেন কিভাবে বলুন। বন্ধুরা আজকে তোমাদের সাথে আলোচনা করবো আমাদের দুনিয়ায় সবথেকে আতঙ্কের রোগ যেটা হল ক্যান্সার।  হ্যা বন্ধুরা এটা কোনো জায়গা বিশেষের পক্ষে আলোচনা না, সারা বিশ্বে এর চাপ প্রবল। ক্যান্সার বা যাকে আমরা  কর্কটরোগ বলে থাকি।  এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। আর চিকিৎসা দিলেও যে ভালো হবে তার কোনো বিশ্বাস নেই বললেই চলে। বাস্তবিক অর্থে এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জানিনা আমাদের দুনিয়ায় আর কবে বেরোবে এর পুরোপুরি প্রতিরোধের ওষুধ। শুধু সতর্কতার মাধ্যমেই চলতে হবে আমাদের প্রতি নিয়ত। 

বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারনভাবে কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। সাধারণত বলতে গেলে যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম হয়ে বৃদ্ধি পাওয়া কলাকে নিওপ্লাসিয়া (টিউমার) বলে, এবং সেরকম ক্রিয়া যুক্ত কোষকে নিওপ্লাস্টিক কোষ বলে। নিওপ্লাস্টিক কোষ আশেপাশের কলাকে ভেদ করতে না পারলে তাকে বলে নিরীহ বা বিনাইন টিউমার। বিনাইন টিউমর ক্যান্সার নয়। নিওপ্লাসিয়া কলা ভেদক ক্ষমতা সম্পন্ন হলে তাকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সার, এবং তার অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনক্ষম ভেদক ক্ষমতাযুক্ত কোষগুলিকে ক্যান্সার কোষ বলে। অনেক ক্যান্সার প্রথমে বিনাইন টিউমার হিসাবে শুরু হয়, পরে তার মধ্যেকার কিছু কোষ পরিবর্তিত (ট্রান্সফর্মেসন) হয়ে ম্যালিগন্যান্ট (অর্থাৎ ভেদক ক্ষমতাযুক্ত) হয়ে যায়। তবে বিনাইন টিউমার ক্যান্সারে পরিবর্তিত হবেই তার কোন স্থিরতা নেই। কিছু বিনাইন টিউমার সদৃশ ব্যাধি আছে যাতে ক্যান্সার হওয়া অবশ্যম্ভাবী – এদের প্রি-ক্যান্সার বলে। নামে বিনাইন অর্থাৎ নিরীহ হলেও বিনাইন টিউমারও চাপ দিয়ে আশেপাশের কলার ক্ষতি করতে পারে। মেটাস্ট্যাসিস হলো ক্যান্সারের একটি পর্যায়, যাতে ক্যান্সার কোষগুলি অন্যান্য কলাকে ভেদ করে ও রক্ত, লসিকাতন্ত্র (Lymphatic System) ইত্যাদির মাধ্যমে দূরবর্তী কলায় ছড়িয়ে যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধে শরীর পরীক্ষা করা বা স্ক্রিনিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আগে থেকেই স্ক্রিনিং করা হলে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তার জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করতে হবে যে কোথাও কোনো প্রবলেম আছে কিনা, আপনাকে আপনার জন্য ও পরিবারের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবে যে এমন কোনো ক্ষত জায়গা আছে কিনা যেটা অনেকদিন হয়ে গেল সেরে উঠছে না। বা অন্য কোনো জায়গা আছে এমন যেখানে টিউমার এর মতন আছে ব্যাথা হয়, অনেক ওষুধ খেয়েছেন কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে ডাক্তারের সাথে সত্তর যোগাযোগ করতে হবে। 

ক্যান্সার সম্পর্কে কিছু বলারই প্রয়োজন নেই

ক্যান্সার সম্পর্কে কিছু বলা কঠিন। বিশেষ করে, যখন আপনি জানেন না কিভাবে আপনি সাহায্য করবেন বা ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি আপনাকে কিভাবে নেবেন। আপনার সহকর্মী  পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহকর্মী ক্যান্সারে ভুগলে, খোলাখুলি ক্যান্সার সম্পর্কে আলোচনা ও চিকিৎসার সঠিক পথে এগোনো রোগের উন্নতিতে সাহায্য করে।

ক্যান্সারের চিকিৎসায় কিছু করার নেই 

ইটি একটি কাল্পনিক ধারণা ও শ্রুতিকথা।  খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে সঠিক সময়ে সঠিক ভাবে ধরা পড়লে ক্যান্সারের চিকিৎসায় অনেক কিছুই করার আছে। পরিচিত ক্যান্সারগুলোর প্রায় ১/৩ ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ক্যান্সারের কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই 

 ইটা ঠিক যে, গোড়ার দিকে সব ক্যান্সারের উপসর্গ ধরা পড়ে না, কিন্তু ব্রেস্ট (স্তন), গ্রীবা বা ঘাড় সম্পর্কিত (কার্ভিক্যাল), চামড়া (স্কীন), কলোরেক্টাল এবং কিছু শৈশবের ক্যান্সার সহ অনেক কান্সারের ক্ষেত্রে গোড়ার দিকে ক্যান্সার নির্দ্ধারণ খুব জরুরী।  গোড়ার দিকে ক্যান্সার নির্দ্ধারণের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও ক্যান্সারের উপসর্গ ও লক্ষণ চিনে নেওয়ার শিক্ষা।

ক্যান্সার শনাক্ত

প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার দুই ভাবে শনাক্ত করা যায়। আপনারা জানেন, কোষের মধ্যে ক্যানসার বিভিন্ন পর্যায়ে থাকে এবং একটা সময় গিয়ে এর লক্ষণ ধরা পড়ে। কোষের মধ্যে পরিবর্তনটি অনেক আগে শুরু  হয়। লক্ষণ ধরা পড়ে অনেক শেষে। যখন ক্যানসারের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তখনো ক্যানসার নির্ণয় করা যায়; এটিকে আমরা বলি সূচনায় নির্ণয়। তখনো চিকিৎসা করে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

সাধারণত সাতটি বিষয়কে ক্যানসারের বিপদ সংকেত বলা হয়। যেমন : খুসখুস কাশি, ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর, সহজে যদি ঘা না শুকায়, স্তনে বা শরীরে কোথাও কোনো চাকা বা পিণ্ডের সৃষ্টি, মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, ঢোক গিলতে অসুবিধা বা হজম  অসুবিধা, তিল কিংবা আচিলের কোনো সূক্ষ পরিবর্তন। এই সাতটি বিপদ সংকেতের কথা সাধারণ মানুষের কাছে যদি আমরা ব্যাপকভাবে প্রচার করি তাহলে অনেক আগে থেকে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। একজন সুস্থ ব্যক্তি যার মধ্যে ক্যানসারের লক্ষণ এখনো প্রকাশ পায়নি কিন্তু ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি আছে তখন ক্যানসার আছে কি না বা হতে পারে কি না এই  বিষয়ে যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি তাকে স্ক্রিনিং বলা হয়।

শেষ কথা 

যেকোনো রোগ হোক না কোনো কোনোটাকেই ছোট বলে আমরা মনে করবো না। অতীব সামান্য রোগ থেকেই অনেক বোরো রোগ এ পরিণত হয় এটা এখন তো আমরা মোটামুটি সবাই জানি বা মানি। আমরা যদি প্রতিনিয়ত আমাদের দিকে লক্ষ্য রাখি আর আমাদের পরিবারের দিকে লক্ষ্য রাখি তাহলে দেখবেন ক্যান্সার কোনো করো রোগ আপনাকে ছুঁতেও ভয় পাবে। বন্ধুরা একথা সত্যি ক্যান্সার হল রাজার অসুখ। অর্থ্যাৎ এর কোনো বিকল্প নেই টাকার পর টাকা, ডাক্তারের পর ডাক্তার, দেশে বিদেশে আপনি যেখানেই যাবেন না কেন ক্যান্সার যদি একবার মোটামুটি লাস্ট স্টেজ এ পৌঁছয় তাহলে সামলানো মুশকিল আছে। নিজের খেয়াল রাখুন। খারাপ অভ্যাস গুলো বাদ দিন। ভালো অভ্যাস গুলোকে আলিঙ্গন করুন।  দেখবেন আপনার পরিবারের আর আর আপনার সংসার অনেক সুখের হবে।  ধন্যবাদ।

লেখক – শান্তনু পাল 


Comments are closed.