ঘামাচি কমানোর উপায়

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম।   আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আজ আমরা জেনে নেবো যে ঘামাচি থেকে বাঁচার উপায় কি ? আমরা তার সাথে আরও জন্য যে – ঘামাচি কেন হয়, ঘামাচি পাউডার, শিশুর ঘামাচি দূর করার উপায়, মুখে ঘামাচি হলে করণীয়, ঘামাচির চিকিৎসা কি, বাচ্চাদের ঘামাচি পাউডার, ঘামাচির হোমিও চিকিৎসা ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে চলুন ফায়ার যাই আমাদের মূল বিষয়ে।

সত্যি কথা বলতে কলকাতার প্রচন্ড প্যাচপ্যাচে গরমে অনেকেই ঘামাচির যন্ত্রনায় ভুগে থাকেন। এই ঘামাচি শরীরের মুখ, হাত, পা, ঘাড়, বুক, পিঠ এমনকি যে কোনো জায়গায় হতে পারে। এর ফলে শরীরে অনেক চুলকানি হয় এবং লালচে ভাব তৈরি হয়। ঘামাচির হবার ফলে ঠিক থাকে জামা কাপড়ও পড়তে পারে না কুট কুট করে বলে।

ঘামাচি কী ?

দেহের ঘর্মগ্রন্থিগুলোর মুখ যখন ময়লা ও ব্যাকটেরিয়ার জন্য আটকে যায়, তখন ঘাম বের হতে না পেরে সেখানে আটকে গিয়ে ঘামাচি তৈরী হয়। সাধারণত পিঠ, বাহু, পেট এসব স্থানে ঘামাচি দেখা দিলেও অনেকের মুখে, কপালেও অতিরিক্ত গরমে ঘামাচি দেখা দেয়। এর সাথে যুক্ত হয় চুলকানি ও নানা রকম সংক্রমণ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও গরমের সময় ফ্যানের নিচে কিংবা কিছুটা সতর্ক থাকলে ঘামাচি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। এ ছাড়া আমি বেশ কয়েকটি উপায়ে জানাবো ঘামাচি থেকে নিরাময়ের জন্য-

কাঁচা আম

কাঁচা আম সবচেয়ে ভালো একটি খাবার ফল যা আপনার শরীরকে খুব কার্যত ভাবে শীতল রাখবে এবং ঘামাচির জ্বালা এবং চুলকানি থেকে রক্ষা করবে। দুটি কাঁচা আম দুই কাপ পরিমাণ গরম জলে সিদ্ধ করুন যতক্ষন না পর্যন্ত আম গুলো নরম হয়। এইবার সিদ্ধ হওয়া আম গুলো ঠান্ডা হওয়ার পর জল থেকে তুলে নিন এবং আম গুলো কে চিপিয়ে রস বের করুন। আমের রস ঠান্ডা খাবার জলে মিশান, সাথে লবণ এবং চিনি আপনার স্বাদ অনুযায়ী মিশিয়ে নিন। দৈনিক এক বা দুই বার পান করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত যা আপনার হিলিং প্রসেস বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

ঠান্ডা চিকিত্‍সা

ঘামাচি আক্রান্ত এলাকায় ঠান্ডা শীতল পরশ খুব কাজে আসে উদ্দিপ্ততা এবং চুলকানি দূর করতে। কিছু বরফ টুকরা নিয়ে ঘামাচি আক্রান্ত এলাকায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে পারেন। দৈনিক ৪-৬ ঘন্টা পরপর এটি করতে পারেন। এইভাবে দুই থেকে তিন দিন করুন। ঘামাচি সমস্যা দূর হয়ে যাবে এবং পুনরায় দেহে ছড়াবে না। অন্যভাবে আপনি একটি পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে আক্রান্ত এলাকায় ৫-১০ মিনিট ধরে লাগাতে পারেন, এইভাবে দিনে ৩-৪ বার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত। তাছাড়া আপনি ঠান্ডা জলে স্নান করে নিতে পারেন ঘামাচির তীব্র যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।

লেবুর রস

প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ গ্লাস লেবুর শরবত পান করুন একটু বেশি করে লেবু মিশিয়ে। এটি ঘামাচি নিরাময়ে কাজ করবে জাদুর মতোই !

নিম পাতা

নিমপাতা ভালোভাবে বেটে নিন। খানিকটা জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং আক্রান্ত জায়গায় লাগান। সম্পূর্ণ না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। নিমপাতার এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ঘামাচির জীবাণু মেরে ফেলে দ্রুত আপনাকে ঘামাচি থেকে মুক্তি দেবে। কিছুক্ষণ পর তুলে ফেলুন। ভালো ফলাফল পাবার জন্যে দিনে ৪-৫ বার এটি করতে পারেন।

ওটমিল বাথ

যাদের বাড়িতে বাথ টাব আছে তারা জলে আধ কাপ ওটমিল ভিজিয়ে রাখুন । এরপর এই জলে ১৫-২০ মিনিট ডুবে থাকতে হবে । যাদের বাড়িতে বাথ টাব নেই তারা জলে ভেজানো ওটমিল হাল্কা করে ঘামাচির ওপর ঘষুন । এর ফলে ত্বক একফলিয়েট হবে এবং ত্বকের যে ছিদ্র দিয়ে ঘাম বেরোয় তা খুলে যাবে । ওটমিল লাগালে ঘামাচির চুলকানি থেকেও আরাম পাবেন ।

শসা

শসার মধ্যে পরম শীতল ভাব রয়েছে যা আক্রান্ত স্থানকে ঠান্ডা এবং শীতল করে। এটি অবশ্যই চুলকানি দূর করতেও সাহায্য করে। শসাকে পাতলা করে কেটে নিন। কিছু সময় ধরে এক বাটি ঠান্ডা জলে চুবিয়ে রাখুন এবং ২ টেবিল চামচ লেবুর রস তাতে মিশিয়ে নিন। এইবার শসার টুকরো গুলোকে নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় ১০ পর্যন্ত রেখে দিন। দিনে ৩ বার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত। আপনি ইচ্ছে করলেই শসার নরম অংশ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ৩০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করতে পারেন। ৩০ মিনিট পর পরিষ্কার ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার আক্রান্ত স্থানকে ঠান্ডা রাখবে এবং চুলকানি কমাতে সাহায্য করবে। দিনে কয়েকবার করুন এক সপ্তাহ পর্যন্ত যার ফলে আপনি দ্রুত আরোগ্য লাভা করবেন। প্রতিদিন শসা খাওয়ার চেষ্টা করুন যা আপনার দেহ কে ডিহাইড্রেট হতে রক্ষা করবে।

অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরাতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপ্টিক প্রপার্টি আছে । তাই এটা লাগালে খুব সহজেই ঘামাচি সেরে যাবে । এর জন্য অ্যালোভেরা পাতার একটা অংশ গাছ থেকে ছিঁড়ে নিন । এরপর সেই পাতার টুকরো থেকে সব রস বের করে নিয়ে ঘামাচির ওপর লাগান । এক দুবার লাগানোর পরেই দেখবেন লাল ভাব কমে গেছে এবং জ্বালা বা চুলকানিরও অবসান ঘটছে । যাদের বাড়িতে অ্যালোভেরার গাছ নেই তারা দোকান থেকে অ্যালোভেরা জেল কিনে এনেও কাজ চালাতে পারেন।

বেসন

ছোলার বেসন এবং জল দিয়ে একটা গাঢ় পেস্ট বানান । এরপর এই পেস্ট ঘামাচির ওপর লাগান । ২০-২৫ মিনিট রাখার পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । এই ঘরোয়া পদ্ধোতির সাহায্যে খুব সহজেই ঘামাচির জ্বালা এবং চুলকানির হাত থেকে রেহাই পাবেন।

মুলতানি মাটি

বহু যুগ ধরে ঘামাচি সারাতে মুলতানি মাটির ব্যবহার হয় । চার চা চামচ মুলতানি মাটি নিন । গোলাপ জল দিয়ে একটা পেস্ট বানান । শরীরের যে অংশে ঘামাচি হয়েছে এই পেস্ট সেই জায়গায় লাগান । মোটামুটি তিন ঘন্টা রাখার পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ।

বেকিং সোডা

বেকিং সোডাতেও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন আছে । তাই যে কোন ইনফেকশন সারাতে এটা খুব কার্যকারী । খানিকটা জলে দু চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন । একটা পরিষ্কার সুতির কাপড় ওই জলে ভিজিয়ে ঘামাচির ওপর আলতো হাতে বোলান ।

কাঁচা আলু

কয়েকটা আলু টুকরো করে কেটে ঘামাচির ওপর লাগান । শুকিয়ে গেলে আরো একবার লাগিয়ে নিন । খনিক্ষণ রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন । এই পদ্ধতি মেনে চললে খুব তাড়াতাড়ি ঘামাচির থেকে আরাম পাবেন ।

তরমুজ

গরমকালে সহজেই তরমুজ পাওয়া যায় । খানিকটা তরমুজ নিন । তার থেকে বিচি ছাড়িয়ে তরমুজের পাল্প বানান । এটা ঘামাচির ওপর লাগালে সঙ্গে সঙ্গে আরাম পাবেন ।

আদা

খানিকটা আদা গ্রেট করে নিন । এই গ্রেট করা আদা জলের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে নিন । জল ঠান্ডা করে একটা পরিস্কার সুতির কাপড় এই জলে ভিজিয়ে ঘামাচির ওপর লাগান ।

কর্পুর

কর্পুরের টুকরো নিয়ে তার পাউডার বানান । এইবার এই পাউডারে কয়েক ফোঁটা নিম তেল মেশান । নিম পাতাও বেটে নিয়ে মেশাতে পারেন । এই পেস্ট এবার ঘামাচির ওপর লাগান । দ্রুত আরাম পাবেন ।

চন্দন এবং ধনে পাতা

চন্দন পাউডার বা চন্দন বাটাতে ধনে পাতা বেটে মেশাতে হবে । এই পেস্ট এবার ঘামাচির ওপর লাগান । শুকিয়ে যাওয়া অবধি লাগিয়ে রাখতে হবে । শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন । ধনে পাতায় অ্যান্টি সেপ্টিক গুন আছে । আর চন্দন জ্বালা আর চুলকানি কমাতে সাহায্য করে ।

শেষ কথা 

ওপরের ঘরোয়া পদ্ধতি ছাড়াও ঘামাচিতে বরফ, মধু, লেবুর রস, শসার রস, পাকা পেঁপে, ট্যালকম পাউডার বা ল্যাভেন্ডার তেলের মধ্যে যে কোন একটা লাগাতে পারেন। এছাড়াও যতটা পারবেন সুতির পোশাক পরুন। বেশি পরিমাণে জল পান করুন। দিনে অন্তত দুবার ভালো করে স্নান করুন। এই সমস্ত জিনিস করলে আর ঘামাচির চিন্তা বা ঝামেলা বা কোনো রকম কষ্ট করতেই হবে না।

মানুষের স্বার্থে অবশ্যই এই পোস্টটি শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষদের ” সুস্থ রাখুন ও সুস্থ থাকুন” আপনিও ভালো থাকুন আর অপরকেও ভালো  রাখুন। 



Comments are closed.