তেলাপোকা, আরশোলা মারার প্রাকৃতিক উপায়

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম।   আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। আজ আমি  আপনাদের বলবো যে আরশোলা থেকে বাঁচার উপায়। আমাদের প্রায় সবারই বাড়িতে কম বেশি আরশোলার উপদ্রপ হয়ে থাকে। আমরা আরও জন্য যে – তেলাপোকা তাড়ানোর সহজ উপায়, তেলাপোকা মারার প্রাকৃতিক উপায়, ছোট তেলাপোকা মারার উপায়, তেলাপোকার ঔষধ, তেলাপোকা দমনের উপায়, তেলাপোকার উপকারিতা, তেলাপোকা তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়, তেলাপোকা মারার স্প্রে ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে তেলাপোকা মানে অন্য কিছু ভাবার দরকার নেই। তেলাপোকা মানে আরশোলা। আর অন্য কথা না বলে সরাসরি আমরা জেনে নি উপায় গুলো।

বেশিরভাগ আরশোলাই সরাসরি মানুষের কোন ক্ষতি করেনা তারপরও তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘৃণার পাত্র। আবার অনেক মানুষ বেশির ভাগ মহিলারা আরশোলা কে জমির মতন ভয় ও পায়। তেলাপোকা নোংরা এবং রোগের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। কিন্তু যদি তেলাপোকা সম্পূর্ণ ভাবেই বিলীন হয়ে যায় তাহলে কি হবে?

বাড়িতে আরশোলা (cockroach) উপদ্রব হলে অনেকে ব্যবহার করেন পেস্ট কন্ট্রোল। তবে শুরুতেই এতটা বিচলিত হয়ে পড়ার কিছু নেই। কিছু ঘরোয়া উপায়েই আরশোলা সমস্যার সমাধান হতে পারে । আরশোলা মূলত বর্জ্য-আবর্জনায় থাকে। তাই জীবাণু বয়ে বেড়াতে ওস্তাদ। এর পর ঘরের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়, কখনও খাবার-দাবারের উপর। এতে এর গায়ে থাকা জীবাণুও ছড়িয়ে পড়ে ঘরে। 

যেভাবে তাড়াবেন আরশোলা – 

 

1. তেজপাতা – সব চেয়ে সহজ ও সস্তা উপায়ে আরশোলা তাড়াতে এর চেয়ে ভাল পদ্ধতি আর নেই। সপ্তাহে কয়েক দিন তেজপাতার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন ঘরের আনাচে কানাচে, এর গন্ধ আরশোলা সহ্য করতে পারে না। ফলে যেখানে তেজপাতা থাকে সেখানে আরশোলাও থাকে না। তাই যেখানে আরশোলার আনাগোনা বেশি সেখানে তেজপাতা ছিঁড়ে ফেলে রাখুন। বা গুঁড়ো চৰফিয়ে দিন।

2. গায়ে মাখার সাবান ও জল মিশিয়ে সাবান জল মিশ্রণ তৈরি করুন। ঘরের কোণে এই জল স্প্রে করে দিন।

3. এক বালতি জলে দুই কাপ অ্যামোনিয়া গুলে নিন। এই জল দিয়ে রান্নাঘর ও শৌচাগার ধুইয়ে নিন। আরশোলা (cockroach)পালাবে।

4. বেকিং সোডার সঙ্গে মেশান মধু বা চিনি। মিষ্টির সঙ্গে  মিশিয়ে তা ছড়িয়ে দিতে পারেন ঘরে। মিষ্টির গন্ধে আরশোলা সেই খাবারে আকৃষ্ট হবে ও বেকিং সোডার প্রকোপে মারাও পড়বে। বেকিং সোডা ও চিনি মিশিয়ে যদি ঘরের কোনও কোণে মিশ্রণটি ছড়িয়ে দেন তাহলে তা কাজে দেয়। আরশোলা (cockroach) এই মিশ্রণটি খেলেই মারা যায়।

5. বোরিক অ্যাসিডের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে সেই মিশ্রণ ব্যবহার করুন। এতে শুধু আরশোলা নয়, পালাবে যেকোনও পোকামাকড়। চিনির টানে আরশোলা আসবে আর বোরিক অ্যাসিডের মতো বিষের সংস্পর্শে এলেই মরবে। ময়দা ও বোরিক অ্যাসিড মেখে একটা মণ্ড তৈরি করে নিন। এর ছোট ছোট লেচি কেটে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রাখুন। এই লেচিতে মুখ দিলেই আরশোলা (cockroach) খতম।

6. গোলমরিচ,  , রসুন এই তিন উপকরণ এক সঙ্গে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এক লিটার জলে ভাল করে গুলে নিন। ঘরের আনাচকানাচে এই জল স্প্রে করলেও নিশ্চিহ্ন হবে আরশোলার (cockroach)বংশ। একচামচ গোলমরিচ, কিছুটা রসুন আর অর্ধেক পেঁয়াজ বেটে তাতে এক লিটার জল মেশান। সাবান জলও মেশাতে পারেন এতে। এবার রান্নাঘর ও বাথরুমে ছিটিয়ে দিন ওই মিশ্রণ। চাইলে ঘর মোছার জন্যও ব্যবহার করতে পারেন। আরশোলা এই মিশ্রণের গন্ধ সহ্য করতে পারবে না। আর পালাবে আপনার বাড়ি ছেড়ে।

7. একটি টিনের কৌটোয় কাটা শশা ভরে মুখ খুলে রেখে দিন। আরশোলা (cockroach) পালিয়ে যাবে। তবে খুব বেশি দিন রাখবেন না যেন, তাতে মাছির উপদ্রব শুরু হবে।

8. ওয়াশিং মেসিনের জন্য গুঁড়ো সাবান ব্যবহার করা হয়। এই গুঁড়ো সাবানে ব্লিচ থাকে যা আরশোলা (cockroach) তাড়াতে সাহায্য করে। গুঁড়ো সাবান জলে গুলে স্প্রে করুন।

9. লিস্টারিন, জল ও বাসন ধোয়ার তরল সাবান এই তিনটি উপকরণ জলে মিশিয়ে ঘরের চারিদিকে স্প্রে করে দিন।

 

10. ঘর মোছার জলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে ঘর মুছুন, আপনার ঘর হবে পোকামাকড়মুক্ত। আরশোলা তাড়াতেও একই টোটকা ব্যবহার করতে পারেন।

সারা বিশ্বেই এদের খুজে পাওয়া যায় এবং তারা সকল পরিবেশেই বেচে থাকে বিশেষ করে উষ্ণ পরিবেশে। এরা অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশেও বেচে থাকতে পারে, যার ফলে এদের আর্কটিক অঞ্চলেও দেখা যায়। কিছু প্রজাতি আবার −১৮৮ °F (−১২২ °C) বেচে থাকতে পারে। এত নিম্ন তাপমাত্রায় বাচার জন্য তারা গ্লাইসিরল দিয়ে নিজেদের তৈরি করে। উত্তর আমেরিকায় ৫০ প্রজাতির তেলাপোকা মানে আরশোলা রয়েছে যাদের আবার ৫টি পরিবারে ভাগ করা হয়েছে যাদের পুরো মহাদেশে পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া ৪৫০ প্রজাতি রয়েছে। শুধুমাত্র বড় চারটি প্রজাতিকেই ক্ষতিকর হিসেবে গন্য করা হয়।

এরা অনেক জায়গায় বাস করে গাছের পাতায়, সবজির পাকানো কান্ডে, পচা কাঠে, কুদার গর্তে, বাকলের নিচে, কাঠের স্তুপের নিচে এবং ধ্বংসাবশেষে। কিছু প্রজাতি আবার শুষ্ক পরিবেশে বাস করে এবং জল ছাড়া বাচার পদ্ধতি অভিযোজন করে নিয়েছে। অন্যগুলো জলজ, জলের উৎস আছে এমন জায়গার কিনারে বাস করে। জলজ তেলাপোকারা খাদ্যের জন্য পানির উপরিভাগ ভেদ করে তাদের শরীরের অগ্রভাগ দিয়ে যা চোষক হিসেবে কাজ করে, কিন্তু কিছু আবার তাদের থোরাসিক ঢালের নিচে বাতাস ধরে রেখে ডুব দেয়। অন্যগুলো বনের শামিয়ানায় বাস করে সম্ভবত তারাই সেখানে বসবাস করে এমন অমেরুদন্ডি প্রানী। তারা দিনের বেলা ফোকরে, মরা পাতার নিচে, পাখি বা কীটের বাসা বা পরাশ্রয়ী উদ্ভিদে লুকিয়ে থাকে, রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়।



Comments are closed.