ঘন ঘন প্রস্রাব – Treatment for Frequent Urination in Bengali

নমস্কার বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সকলে ভালোই আছেন।  আজকের আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু  হল ঘন ঘন প্রস্রাব।  বন্ধুরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেকে এমন মানুষ আছেন যাদের খুব ঘন ঘন প্রস্রাব হয়ে থাকে। এটা কিন্তু কোনো চরম রোগের লক্ষণ তা কিন্তু একদমই নয়। তবে সত্যি বলুন তো কোনো কাজের মধ্যে বার বার যদি এই প্রস্রাবের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে কতটা যে অসুবিধে বা কতটা যে অসস্থি সেটা যার হয় সেই বোঝে।

অধিক প্রস্রাব মানেই ডায়াবেটিস নয়। আমরা সাধারনত বার বার বাথরুমে গেলেই ডায়াবেটিসের ভয়ে শংকিত হয়ে পড়ি। এবং ডায়াবেটিসের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হিসেবে ঘন ঘন প্রস্রাব হাওয়াকে মনে করি। কিন্তু বার বার প্রস্রাব হওয়া মানেই ডায়াবেটিস নয়। এটা সত্য যে, ঘন ঘন বা অধিক প্রস্রাব ডায়াবেটিসের অন্যতম লক্ষন। কিন্তু এমন অবস্থা বিভিন্ন কারনেও হতে পারে। বিভিন্ন বয়সে প্রস্রাবের পরিমান বিভিন্ন। একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি দিনে চার থেকে আটবার মূত্রত্যাগ করে থাকেন। বয়স্ক ব্যক্তিদের বারবার বাথরুম যাওয়ার প্রবণতা বেশি, আবার গর্ভবতী নারীরাও এ সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাই এই সমস্যা বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকে। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রস্রাবের পরিমাণ ২৪ ঘণ্টায় তিন লিটার বা এর অধিক হলে তাকে অস্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে, পলিইউরিয়া বলা হয়। সাধারনত ঘন ঘন প্রশ্রাবের কারন হল, বেশি করে জল পান করা। এছাড়াও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ, শীতকালে ঘামের পরিমাণ কমে গেলে, গর্ভাবস্থায়, প্রস্রাব বৃদ্ধিকারক ওষুধ সেবন, ১০ হাজার ফুট ওপরে ভ্রমণের সময়, অধিকমাত্রায় ভিটামিন সি ও বি২ গ্রহণের কারনে প্রস্রাব বেড়ে যায়। কিন্তু এই সমস্যাকে আবার স্বাভাবিক মনে করাও উচিত নয়। এটি অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণও হতে পারে। 

মূত্রনালি বা মূত্রথলির সংক্রমণ  বয়স্ক পুরুষদের প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যায়  মূত্রথলির স্নায়ুবিকলতা, মূত্রথলির ক্যান্সারের কারনে কিডনি রোগে মূত্র নিয়ন্ত্রক এডিএউচ হরমোনের অভাব বা অকার্যকারিতা দেখা দিলে রক্তে ক্যালসিয়াম বা পটাশিয়ামের তারতম্যের কারনে দেহে থাইরয়েড হরমোন বা করটিসল হরমোনের পরিমান বেড়ে গেলে।

ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ 

ঘন ঘন প্রস্রাব মূলত ডায়েবেটিস এর লক্ষন। আরো কয়েকটা কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে। যেমন শরীর চড়া হওয়া, জল বেশি খাওয়া বা কম খাওয়া। বেশি জল খেলে বেশি প্রস্রাব হয়। আবার জল  কম খেলেও ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। কথাটা অদ্ভুত শোনালেও কিন্তু সত্য। আপনি কয়েকদিন যদি জল কম খান তো খেয়াল করবেন, আপনার প্রস্রাব হলুদ হলুদ হবে, প্রস্রাব একবারে অনেক পরিমাণে নির্গত না হয়ে বারে বারে প্রস্রাবের বেগ পাবে এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া করবে। এক্ষেত্রে একটু বেশি জল  খেলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসলে যা খাবেন

অনেকের ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে। দিনে ৪-৫ বার প্রস্রাবের চাপ আসা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তবে তার থেকে বেশি বার হলে কিন্তু চিন্তার বিষয়! বিশেষ করে দিনে যদি ৮-৯ বার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয় এবং এরজন্য র্নিঘুম রাত কাটাতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাডার যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করা শুরু করে তাহলেই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে। আর এরকমটা নানা কারণে হতে পারে যেমন: অ্যালকোহল সেবন, ক্যাফিন, ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন, পেলভিক রিজিয়ানে কোনো অসুবিধা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রয়া থেকেও হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ও আধুনিক নানা চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায় ঠিকই। তবে বোল্ডস্কাইয়ের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কিছু ঘরোয়া খাবারের  চিকিৎসা দিয়েছেন যা এক্ষেত্রে দারুন কাজ করে। এ ব্যপারে বিস্তারিত নিম্নে আলোচনা করা হলো :

পালংশাক

এই শাকে রয়েছে নানা রকমের পুষ্টিকর উপাদান, যা এই ধরনের রোগ সারাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া ডাবের পানিতে পালংশাক চুবিয়ে খেলেও একই কাজ হয়।

চেরি

চেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা ব্লাডারের অস্বাভাবিকতা কমায়। এতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ করে।

মেথি বীজ 

এটি ঘন ঘন প্রস্রাব চাপার অসুবিধা কমায় এবং যে কোনো ধরনের ইউরিনারি ডিজঅর্ডার সারাতে দারুন কাজ করে।

তিল বীজ 

এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফাইবার, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন, যা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা কমায়।

ছোলা 

ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফোনোলস, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। এগুলো ব্লাডারের কাজকে স্বাভাবিক করে এই সমস্যা কমিয়ে ফেলে।

কুমড়ার বীজ

কুমড়োর বীজে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রস্টেট এবং ব্লাডারকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই এমন সমস্যা হলে এটি খাওয়া শুরু করতে পারেন।

ডালিম 

ডালিমের কোয়াগুলি নিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এটি খেলে প্রায় সব ধরনের ইউরিনারি সমস্যা কমে যাবে। এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ব্লাডারের প্রদাহ হ্রাস করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আর ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসবে না। এছাড়া রাতে একাধিকবার ইউরিন চাপার অসুবিধা কমাতেও এটি দারুন কাজ করে।

প্রতিকার 

  • প্রতিদিন মেথির শাক খেলে এই বার বার প্রস্রাবের রোগ ভালো হয়। মেথির শাকে পেটে আম থাকলেও তাকে নির্মূল করে। প্রয়োজনমতো ১-২ সপ্তাহ খেলেই চলে।
  • নিয়মিত আঙুর খেলেও বহুমূত্র রোগে ফল পাওয়া যায়। আঙুর মিষ্টি হওয়া বাঞ্ছনীয়।
  • যাঁরা রাতের বেলায় বার বার প্রস্রাব করেন তাঁরা বিকেলে বা রাতে খাবার সময় পালঙের তরকারি বা শাক খেলে উপকার পাবেন।
  • বার বার যাঁদের প্রস্রাব হয় তাঁরা দিনের কোনো সময়ে অথবা বিকেলে কিছু খাওয়ার পর ২৫-৫০ গ্রাম খোসাসমেত ভাজা ছোলা চিবিয়ে খেয়ে সামান্য গুড় সহ জল খেলে উপকার পাবেন। বয়স্ক বা বৃদ্ধদেরএকটু বেশিদিন খেতে হবে।তবে মনে রাখবেন যদি হজমের খুব গোলমাল থাকে বা খুব বেশি পেটের গোলমাল থাকে তাহলে এটা না  খেতে দেওয়াই ভালো।
  • যাঁরা বার-বার প্রস্রাব করেন বা অধিক মাত্রায় যাঁদের প্রস্রাব হয় বা প্রস্রাব করার সময় জ্বালা অনুভূত হয় তাঁরা দুপুরে খাওয়ার পর কিছুদিন দুটো করে পাকা কলা খেলে উপকার পাবেন। 

শেষ কথা 

 ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া কোন রোগ নয়, রোগের লক্ষন মাত্র। এই কারনে শরীরে জলশূন্যতা,জলের ভারসাম্যহীনতা, লবণের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। আর একটি বিশেষ ব্যাপার আপনাদের জানিয়ে রাখি যে ঘন ঘন  প্রস্রাবের পর আপনি একদমই ভেবে নেবেন না যে আপনার ডায়াবেটিস বা সুগার হয়েছে।  এরকম ভাবনার আগে আপনি ডাক্তারের কাছে দিয়ে একবার চেক আপ করাতেই হবে ,সমস্যা নানান ভাবে আপনার কাছে আস্তে পারে তাই এই ধরণের কোনো সমস্যা আসলেই বা দেখা দিলে সঠিক কারন জানতে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া জরুরি। ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন। 



Comments are closed.