Gastric Problem Solution Tips – গ্যাসের সমস্যা

আচ্ছা আপনার কি গ্যাস এর সমস্যা মানে এসিডিটি সমস্যা আছে ? মানে কিছু খেলেই পেট ভুলে যায় আর আপনার পেট টা জলের কলসির মতো হয়ে যায়। না না চিন্তার কোনো কারণ নেই কারণ আমাদের সবার হয় কম বেশি। আজ এটা নিয়ে আমি আপনাদের সাথে কিছু সমস্যার সমাধান শেয়ার করবো যার ফলে গ্যাস বা এসিডিটি সব সমস্যা চলে যাবে এক নিমিষে। পুরোটা পড়বেন ও শেষে কমেন্ট করবেন। বন্ধুরা অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা কিন্তু আমাদের কমবেশি সবার মধ্যেই থাকে। যখন আমরা কোনো অনুষ্ঠানে যাই বা নিজের বাড়িতে যখন কোন অনুষ্ঠানে লিপ্ত হই বা কখনো যদি একটু এদিকে সেদিকে বেড়াতে যাই পেট পুজো আমাদের থাকে আসল উদ্দেশে। আমরা অনেকেই জানি যে অল্প খাবো, মেপে খাবো, বেশি তেল ঝাল মসলা খাবো না। কিন্তু আমরা যারা খাদ্য রসিক তারা কিন্তু কিছু ভেবে খাইনা। সে যেমন খাবার হোক না কেন এটাই বাস্তব। সত্যি কথা বলতে এসিডিটির সমস্যা টা যারা ভোগেন কেবল তারাই বোঝেন এটি কতটা যন্ত্রনা। বর্তমাান ব্যস্ততম জীবন যাত্রার যুগে গ্যাস এবং পেটের অসুখ  এখন ঘরোয়া রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো বাড়িতে আপনি যান না কেনো গ্যাসের ওষুধ আপনি পাবেন আর কিছু পান বা না পান। কিন্তু বন্ধুরা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি বেশি গ্যাসের ওষুধ খাওয়া একদম স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো না। কিন্তু ঘরোয় কিছু দারুন উপায় আছে যেগুলি প্রয়োগ করলে গ্যাস, বুক জ্বালা থেকে সহজেই বাঁচা যায়। তাহলে আসুন সেগুলো কি কি আমরা একবার দেখে নি।

গ্যাসের সমস্যা দূর করার উপায় – কি খেলে গ্যাস কমে

জিরা :-

জিরা হল আমাদের রান্নার এক সৈনিক। জিরা পেটের গ্যাস, বমি, পায়খানা, রক্তবিকার প্রভৃতিতে অনেক অনেক উপকারী এক জিনিস। যারা জানেন না তারা জেনে নিন যে জ্বর হলে ৫০ গ্রাম জিরা আখের গুড়ের মধ্যে ভালো করে মিশিয়ে ১০ গ্রাম করে পাঁচটি বড়ি তৈরি করতে হবে। দিনে তিনবার এর একটি করে বড়ি খেলে ঘাম দিয়ে জ্বর সেরে যাবে। কিন্তু ,মাথায় রাখতে হবে যে ওটা বেশি খেয়ে কিন্তু কাজ হবে না।

 লবঙ্গ :-

২/৩টি লবঙ্গ মুখে দিয়ে চুষলে একদিকে বুক জ্বালা, বমিবমিভাব, গ্যাস দূর হয়। সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। মেপে খাবেন অর্থাৎ বেশি খাবেন না।

কলা ও কমলা :-

কলা ও কমলা পাকস্থলির অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে। এতে করে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়াও কলার ফাইবারের কারণে কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষমতা রাখে। সারাদিনে অন্তত দুটি কলা খান। পেট পরিষ্কার রাখতে কলা আমাদের প্রথম স্থানে।

 পেঁপে :-

পেঁপেতে রয়েছে পাপায়া নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলেও গ্যাসের সমস্যা কমে। আর তাছাড়া পেঁপে খেলে পায়খানাও অনেক পরিস্কার হয় আর অনেক ক্ষেত্রে অনেক উপকারী।

শসা :-

শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে অনেক বেশি কার্যকরী খাদ্য। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়।

দই :-

দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে করে দ্রুত খাবার হজম হয়, ফলে পেটে গ্যাস হওয়ার ঝামেলা দূর হয়।

ঠাণ্ডা দুধ :-

পাকস্থলির গ্যাসট্রিক এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয় ঠাণ্ডা দুধ। এক গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ পান করলে অ্যাসিডিটি দূরে থাকে। তবে দুধ গ্যাসের সমস্যা হলে তখন না খাওয়াই ভালো। আগে বা পরে খেতেই পারেন।

আদা :-

আদা সবচাইতে কার্যকরী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে আদা কুচি করে লবণ দিয়ে কাঁচা খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যা সমাধান হবে।

 দারুচিনি :-

হজমের জন্য খুবই ভালো। এক গ্লাস জলে আধ চামচ দারুচিনির গুঁড়ো দিয়ে ফুটিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার খেলে গ্যাস দূরে থাকবে।

এলাচ :-

লবঙ্গের মতো এলাচ গুঁড়ো খেলে অম্বল দূরে থাকে।

পুদিনা পাতার জল :-

এক কাপ জলে ৫টা পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে খান। পেট ফাঁপা, বমিভাব দূরে রাখতে এর বিকল্প নেই।

মৌরির, বাতাস ও মিস্রীর জল :-

মৌরি, বাতাস, আর মিস্রি ভিজিয়ে সেই জল সকাল বেলা খেলে গ্যাস থাকে না।

এ ছাড়াও খাবারে সরষে যোগ করুন :-

সরষে গ্যাস সারাতে করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন খাবারের সাথে সরষে যোগ করা হয় যাতে সেইসব খাবার পেটে গ্যাস সৃষ্টি করতে না পারে। নজর রাখতে হবে নিজের খাওয়া-দাওয়ার প্রতি। জেনে নিতে হবে কোনটি খাওয়া উচিত হবে কোনটি হবে না।

লেবুর রস :-

লেবুও গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত উপকারী। হঠাৎ খুব গ্যাসের সমস্যা হলে লেবু সঙ্গে সঙ্গে আরাম দেয়। এক কাপ জলে এক টেবিল চামচ লেবুর রস, হাফ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে ভালো করে নাড়ুন। এই জল খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পর খান নিয়ম করে। উপকার পাবেনই।

Tag – এসিডিটি দূর করার উপায়, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানের উপায়, গ্যাসের ব্যায়াম, পেটের পীড়া দূর করার উপায়, রুটি খেলে কি গ্যাস হয়, কোন কোন খাবারে গ্যাস হয়, পেটে গ্যাস ঢেকুর

Comments are closed.