গর্ভাবস্থায় খেজুরের উপকারিতা – Health Benefits Of Dates During Pregnancy In Bengali

বন্ধুরা আজ আমরা জানবো যে গর্ভাবস্থায় খেজুরের কি কি উপকারিতা আছে। আমেদর দেশে প্রত্যেক দিনে হাজার হাজার লক্ষ্য লক্ষ্য মহিলারা মা হন। তার জন্য অনেক সময়ত অপেক্ষা করতে হয়। হ্যা  জানেন ৮ থেকে ১০ মাস অপেক্ষা করতে হয়। আর এই সময় ধরে থাকে নানানা সাবধানতা থেকে শুরু করে খাবার দাবার এর শুভ পরিচর্চা। তার থেকে উঠে আসে খেজুরের কথা।

বন্ধুরা আজ আমি একটা কথা দায়িত্ব গর্ভাবস্থায় নারীদের খুব সচেতন থাকতে হয় কি তাই তো নাকি ? এ সময় চলাফেরা, জীবনধারণ ও খাদ্যের ব্যাপারে সচেতন হলে অনেক ঝুঁকি এড়ানো যায়। তাই পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার তথা সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। গর্ভবতী মায়েদের খাদ্য তালিকায় ড্রাই ফ্রুটস ও বাদাম থাকা ভালো। এপ্রিকট, ডুমুর, আপেল, আখরোট, বাদাম, কিসমিস ও পেস্তা বাদাম গর্ভবতী মায়েদের জন্য স্বাস্থ্যকর।   কারণ এতে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন এবং খনিজ যেমন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন রয়েছে। গর্ভাবস্থায় ডাব ও গর্ভাবস্থায় বাদাম খাওয়াও খুব ভালো।

খেজুর নামক জিনিসটা কে না চেনে এর ইংরেজি নাম Dates। কয়েক শত বছর ধরে চলে আসছে এর খাদ্য ব্যবহার। আজ এই খেজুর নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করবো যে মহিলাদেড় এই সময় এর কী কী উপকার আছে।

বন্ধুরা সত্যি কথা বলতে এর মারাত্মক ভালো উপকার আছে। আর আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি আজ থেকেই খাওয়া শুরু করে দিন।  আর কি কি ফল পেতে পারেন তারই আলোচনা করবো আজকের আমাদের এই আর্টিকেলে।

খেজুরগুলি কেবল মা এবং শিশুর জন্য নিরাপদই নয়, পাশাপাশি এটি উপকারীও। গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়া ভাল কারণ এগুলিতে ল্যাক্সেটিভ রয়েছে যা জরায়ুর সংকোচনে সহায়তা করে এবং এটি সংক্ষিপ্ত করে প্রসব শ্রমকে সহজ করে।

বন্ধুরা সত্যি কথা বলতে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, ফাইবার রয়েছে, যা বয়সের সঙ্গে বেড়ে ওঠা বলিরেখাকে অনেকাংশে করে। বলিরেখা এসে গেলে তা যে কমিয়ে দিতে পারে। চলুন আজ আমরা দেখে নেবো যে এক গুচ্ছ উপকারিতা গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়া। 

গর্ভাবস্থায় ড্রাই ফ্রুটস, বাদাম ও খেজুর খাওয়ার উপকারিতা

1. ড্রাই ফ্রুটসের মধ্যে উপস্থিত পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেশি নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ হৃৎপিণ্ড ও কিডনিতে খুব বেশি চাপের সৃষ্টি করে, যা হার্ট বা কিডনি রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

2. গর্ভাবস্থায় ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার ফলে হাঁপানি ও ঘ্রাণকাশি হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

3. গর্ভাবস্থায় ড্রাই ফ্রুটস খাওয়ার ফলে হাঁপানি ও ঘ্রাণকাশি হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়

4. ড্রাই ফ্রুটসের মধ্যে যেমন- খেজুর, বাদাম ও কাজুতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। এ সময় মায়ের শরীর থেকে শিশুর শরীরে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ হয়।

5.  আলুবোখারা ও খেজুর জরায়ুর পেশি শক্তিশালী করার জন্য পরিচিত, যা মসৃণভাবে প্রসব ঘটাতে  সাহায্য করে। এ ছাড়া এগুলি প্রসব-পরবর্তীকালীন রক্তপাতের সম্ভাবনা হ্রাস করে।

6. . ড্রাই ফ্রুটস শিশুর দাঁত ও হাড়ের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়। এগুলো প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ সরবরাহ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, দৃষ্টি এবং ভ্রূণের বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।

7. শুকনো ফল ও বাদাম প্রচুর পরিমাণে ফাইবারযুক্ত হওয়ায় এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে করে। তাছাড়াও খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার যা গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে করতেও অনেক সাহায্য করে।

গর্ভবস্থায় আপনি কিভাবে আপনার সাস্থের যত্ন নেবেন 

আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে আপনি স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারেন। একটি সুস্থ জীবনধারা শুধুমাত্র একটি মসৃণ গর্ভাবস্থাই নিশ্চিত করে না, এটি আপনার সামগ্রিক কল্যাণও করে। প্রথম ত্রৈমাসিক আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনি গর্ভাবস্থার যাত্রায় সবে ছোট পা ফেলেছেন।

 

আপনি নিজেই আপনার স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থার সঠিক যত্ন নিতে পারেন। আপনি যে গর্ভবতী তা বুঝতে পারা মাত্রই শুরু করা উচিত। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে আপনাকে অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। দেখে নেবো কী কী।

A . আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিন, আপনি চাপ মুক্ত তা নিশ্চিত করুন এবং নিজেকে ইতিবাচক ও সুখী রাখুন, কারণ আপনাকে গর্ভাবস্থায় অনেক চড়াই-উতরাই পেরোতে হবে।

B. আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং প্রারম্ভিক প্রসবকালীন যত্ন নিন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রসূতি পরীক্ষাগুলি।

C. প্রসব পূর্ববর্তী ভিটামিন এবং লোহা এবং ফোলিক এসিডের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিপূরক নিন।

D. আপনার ডাক্তারের পরামর্শের পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করুন

E. আপনার খাদ্যের যত্ন নিন, এবং ভালোভাবে রান্না না করা খাবার, ঠান্ডা মাংস এবং অনির্বীজিত দুগ্ধজাত দ্রব্যগুলি এড়িয়ে যান, যাতে শিশুর ক্ষতি হতে পারে এমন ব্যাকটেরিয়া এড়ানো যায়। স্বাস্থ্যকর এবং তাজা খাবার খান।

শেষ কথা 

মহিলাদের সব থেকে বড়ো গুরুত্বপূর্ণ সময় হল মা হবার আগের সময়টা। মা হয়ে যাবার পরে তো কোনো তেমন সমস্যাই  নেই তখন শুধু আনন্দই আনন্দ। কিন্তু তার আগের প্রত্যেক মুহূর্ত গুলো আপনার পুঙ্কানুপুঙ্ক ভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আজকের আর্টিকেলে যথাযত ভাবে আপনারা দেখে নিয়েছেন খেজুর আপনাদের কতটা দরকারি। আর দেরি না করে আজকেই খাওয়া শুরু করে দিন। আর বাকিদের যারা আপনার জানা সোনা বা আত্মীয় বন্ধু বান্ধব যারা গর্ভবতী তাদের জানিয়ে দিন বা আমাদের লেখাটার লিংক শেয়ার করে দিন উনি নিজেই পরে নিতে পারবে। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

Comments are closed.