খেজুরের উপকারিতা – The Benefits Of Dates In Bengali

আজ আমরা জানবো যে খেজুরের ১ ডজন অর্থাৎ ১২ রকমের উপকারিতা। খেজুর নামক জিনিসটা কে না চেনে এর ইংরেজি নাম Dates। কয়েক শত বছর ধরে চলে আসছে এর খাদ্য ব্যবহার। আজ এই খেজুর নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করবো যে এর কী কী উপকার আছে।

বন্ধুরা সত্যি কথা বলতে এর মারাত্মক ভালো উপকার আছে। আর আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি আজ থেকেই খাওয়া শুরু করে দিন। তার কারণ আমি রোজ অফিস আসার আগে ৪টি করে খেজুর খেয়ে আসি। আর কি কি ফল পেতে পারেন তারই আলোচনা করবো আজকের আমাদের এই আর্টিকেল এ।

বন্ধুরা আমাদের সমাজে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে মিষ্টি খাবার মানেই তা শরীরের জন্য ভালো নয় বা মিষ্টি কম খাওয়া উচিত, যদিও কথা টা খুউব যে অসত্য তা কিন্তু নয়। তবে এই ধারণা সব কিছুর ক্ষেত্রে কিন্তু ঠিক নয়। কারণ খেজুর একটা মিষ্টি ফল, তবু এর মধ্য কোনও ক্ষতিকর উপাদান নেই। বরং এটি খেলে শরীর অনেক চাঙ্গা থাকে। খেজুরের মধ্য বিপুল পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ক্য়ালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ফাইবার থাকার কারণে শীতকালে এই ফলটি খাওয়া খুব জরুরি। তবে আমি বলবো যে শীতকালে তো খাবেনই তা ছাড়া অন্য যে কোনো সময়ে আপনি খেতেই পারেন কোনো সমস্যা নেই।

বন্ধুরা আর কথা না বাড়িয়ে আমরা আজ সরাসরি জেনে নেবো যে কী কী সেই অসাধারণ গুণাবলী যা আমাদের জীবনে নিয়ে আসে অনেক সুখ শান্তি ও স্বাস্থবান, আসুন দেখে নেওয়া যাক।

1. হার্টের জন্য ভালো:-

খেজুর খাওয়ার ফলে আপনার হার্টকে ভালো রাখবে । আর একথা তো সকলেরই জানা যে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই এই ফলটি খেলে হার্ট যেমন ভালো থাকে, তেমনি হার্টরেটও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফেল হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

2. শরীর গরম রাখে:-

খেজুরে আছে অনেক বেশি ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং ম্য়াগেনশিয়াম থাকার কারণে এটি শরীর গরম রাখতে খুব সাহায্য় করে। সেই কারণেই তো শীতকালে এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু আপনি কম বেশি ১২ মাস খেতে পারেন।

3. ঠান্ডার দোষ কমায় :-

আপনার কি খুব ঠান্ডায় হাঁচি-কাশি হচ্ছে ? একদম চিন্তাকরবেন না । এখনই ২-৩ টে খেজুর, কিছুটা মরিচ আর ১-২ টো এলাচ নিয়ে গরম জলে ফেল সেদ্ধ করে নিন। দাঁড়ান দাঁড়ান, এখনই খাবেন না। শুতে যাওয়ার আগে ওই জল খেয়ে নিন। দেখবেন ঠান্ডা কেমন দৌড়ে পালাচ্ছে।

4. ব্লাড প্রেশার কমাতে সহায়তা করে :-

খেজুরে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ‘বি’ নার্ভকে শান্ত করে রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

5. খেজুর মনকে আনন্দিত করে

খেজুরে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড ও ট্রিপটোফেন, যা সিরোটোনিন হরমোন তৈরিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এছাড়া এই মিষ্টি ফল মনে আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, খুশি রাখে।

6. অ্যাজমা সারায়:-

শীতে যে যে রোগ খুব মাথাচারা দিয়ে ওঠে তার মধ্য়ে অন্য়তম হল হাঁপানি বা অ্যাস্থেমা। প্রতিদিন সকালে আর বিকালে নিয়ম করে ১-২ টো খেজুর খান। দেখবেন শীতকালে আর হাঁপানি হচ্ছে না আপনার। এটা খুব উপকারী।

7. শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে:-

খেজুরে যেহেতু অনেক পরিমাণে প্রাকৃতিক মিষ্টি থাকে, তাই এই ফলটি খেলে নিমেষ শরীরের শক্তি বেড়ে যায়।

8. দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়:-

কেয়েকটা খেজুর নিয়ে সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে খেজুরটা ফাটিয়ে জলে মিশিয়ে সেই জল পান করুন। দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্য়া কেমন কমতে শুরু করেছে। আসলে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে দারুন কাজে আসে।

9. আর্থারাইটিস কমায়:-

যাদের আর্থ্রারাইটিসের সমস্যা আছে তারা আজ থেকেই কোনো চিন্তা না করেই খেজুর খেতে শুরু করুন।  আর শীতে যারা আর্থ্রারাইটিসের সমস্য়ায় খুব ভোগেন তারাও  আজ থেকেই খেজুর খাওয়া শুরু করুন। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ থাকার কারণে আর্থ্রারাইটিসের ব্য়থা কমাতে এটা দারুন কাজে দেয়।

10. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে:-

ম্য়াগনেশিয়াম আর পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য় করে। আর এই দুটি খনিজ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে থাকায় এই ফলটি খেলে রক্তচাপ একেবারে নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্য়া আছে, তারা প্রতিদিন ৫-৬টা খজুর খেতে ভুলবেন না যেন !

11. হাড় শক্ত করতে খেজুর :-

ভিটামিন ‘কে’-তে ভরপুর খেজুর৷ হাড়কে মজবুত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে ভিটামিন ‘কে’৷

12. পেটের জন্য খুব উপকারী:-

খেজুর পেটের জন্য খুব উপকারী ও পেট পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। খেজুরে থাকা ফাইবার যেমন কোষ্টকাঠিন্য দূর করে তেমনই পেটের ক্যান্সারের আশঙ্কা কম করে। নিয়মিত খেজুর খেলে খাদ্যনালীতে প্যাথোজেন তৈরি হতে দেয় না ও উপকারী জীবাণু তৈরিতে সহায়তা করে। প্যাথোজেন হল একধরণের জীবাণু যা শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

শেষ কথা 

খজুর হল এক অন্যতম মিষ্টি জাতীয়ফল , যেটি সকলকে নিজের নিয়মিত খাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
এখনো যদি আপনি খজুর কে নিজের খাওয়ায়  তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করেন তাহলে ক্ষতি আপনারই। আপনাদের আজ থেকেই এই ফলের নিয়মিত খাওয়া  উচিত। কম বেশি নিয়মিত সব রকম ফল খাওয়া ভালো অভ্যেস, আর খজুরের মতো অন্যতম পুষ্টিকারক এবং সুস্বাদু ফল কেনইবা খাবেন না?

আপনি কি আরো কিছু খজুরের উপকারিতা জানেন ? তাহলে আমাদের সাথে অবশ্যই  কমেন্ট করে শেয়ার করুন এবং আমরা পরের আর্টিকেলে নিশ্চয়ই আপনাদের বক্তব্যকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করব। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে comment করে জানান। লেখাটি ভাল লেগে থাকলে শেয়ার করুন সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন

Comments are closed.