আপেলের উপকারিতা – Apple Benefits In Bengali

প্রত্যেক দিনে একটা করে আপেল ডাক্তারকে দূরে রাখে !  এটা যদি দিনে একটা গ্রিন অ্যাপেল বা সবুজ আপেল হয়, তাহলে প্রাপ্ত উপকারিতা দ্বিগুণ হয়। সবুজ আপেল, পুষ্টির ভারসাম্য সহ, খাদ্যতালিকায় যোগ করার জন্য সেরা, তা সে স্বাস্থ্য কিংবা  ওজন কমানোর জন্য হোক।

একঝলকে দেখে নেওয়া যাক hide

আপেলের পুষ্টিগুন 

আপেলে মধ্যে পাওয়া গুণের সংখ্যা অনেক বেশি। আপেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন মিনারেল এবং ফাইবার পাওয়া যায়। এছাড়াও ভিটামিন k পটাশিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানীজ্, ইত্যাদির মতন উপকারী তথ্য পাওয়া যায়। আপেল ফাইবার এক অন্যতম প্রাকৃতিক আমানত। আপেলকে পুষ্টির এক অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস মানা হয়।

1. আপেল ক্যান্সার (Cancer) প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে

নিয়মিত আপেল খেলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম করা যায়। এছাড়াও আপেল কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম করতে পারে। আপেলে থাকা ফাইবার আপনার পাচন শক্তিকে মজবুত করে যা থেকে কোলন ক্যান্সার রুখতে সাহায্য মেলে।

2. আপেল পাচন ক্রিয়া (Digestion) তে সাহায্য করে

আপেলে অনেক বেশি ফাইবার পাওয়া যায় যেটি আপনার হজমে  সাহায্য করে।  আপেল প্রাকৃতিক ফাইবারের এক অন্যতম উৎস। নিয়মিত আপেল খেলে আপনার হজম শক্তি এবং পাচন ক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে। ফাইবার আপনার হজমের জন্য দরকারি enzymes এর উৎপাদন করতে সাহায্য করে।

3. আপেল আপনার কোলেস্টেরল (Cholestrol) নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে

আপেলে মজুদ দ্রবণীয় ফাইবার শরীরের কোলেস্টেরল এর মাত্রা কম করতে কার্যকরী। আপেলে থাকা ফাইবার আপনার শরীরের LDL অথবা Bad Cholesterol এর মাত্রা কম করতে সাহায্য করে। এছাড়াও Good Cholesterol অথবা HDL এর মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। রিসার্চে দেখা গিয়েছে প্রত্যেকদিন আপেল খেলে LDL মাত্রা 23 শতাংশ কম হতে পারে।

4. আপেল স্ট্রোকের (stroke) সম্ভাবনা কম করে

নিয়মিত আপেল খেলে thrombotic স্ট্রোকের সংখ্যা কম করা গিয়েছে। স্ট্রোকে (Stroke) প্রত্যেক বছর অনেক মাঝবয়সী এবং প্রাপ্ত বয়সে লোক মারা যান। স্ট্রোককে রুখতে ফল এবং ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়াটা উচিত।

5. আপেল ডায়বেটিসের (Diabetes) ঝুঁকি কম করতে সাহায্য করে

 নিয়মিত আপেল খেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য মিলতে পারে। ডায়াবেটিস এক মহামারির আকার ধারণ করছে এবং তাকে দূরে রাখার উপায় খুবই কম। প্রত্যেকদিন আপেল খেলে অল্প হলেও ডায়াবেটিসের মতন রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

6. আপেল আপনার দাঁতকে (Dental Care) মজবুত এবং সাদা করে

আপেলে মজুদ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা আপনার দাঁত এবং মাড়ি কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আপেল কামড়ানোর সময় যে রস আপনার দাঁতে লাগে সেই রস আপনার দাঁতকে পরিষ্কার এবং সাদা করতে সাহায্য করে।

7. আপেল ওজন কম করতেও উপকারী (Weight Loss)

আপেল ওজন কম করতে সাহায্য করে। আপেলে থাকা ফাইবার এবং জল শরীরে calorie এর দরকার কমিয়ে দেয়। শরীরে ক্যালরি কম হলে ফ্যাট সেল থেকে শরীর ক্যালরি নিতে থাকে। এর থেকে শরীরের ফ্যাট সেল ক্ষয় হয় এবং শরীরের সামগ্রিক চর্বি সঞ্চয় কম হয়। এছাড়া আপেলে মজুদ কিছু প্রাকৃতিক পদার্থও ওজন কম করতে সাহায্য করে।

8. আপেল অ্যাজমা (Asthama) চিকিৎসায় সাহায্য করে

আপেল হল এক প্রাকৃতিক Inflammation রোধ করার অন্যতম খাদ্যদ্রব্য। অ্যাজমা (Asthama)  এবং ফুসফুসের বিভিন্ন infection এ আপেলের জুস এবং আপেলে মজুদ কেরাটিন উপকারী। আপেলে অধিকমাত্রায় ভিটামিন সি থাকায় আপেল কফ এবং congestion থেকে মুক্তিতে সাহায্য করে।

9. আপেল হৃদরোগের (Heart Diseases) ঝুঁকি কম করতে সাহায্য করে

আপেলে থাকে অনেকবেশি ফাইবার যা রক্তবাহ তে চর্বির জমা কম করতে কার্যকারী। এছাড়া আপেল কোলেস্টেরল এবং স্ট্রোক থেকেও আমাদের সুরক্ষিত রাখতে পারে।

10. আপেল আর্থারাইটিস (Arthritis) থেকেও বাঁচাতে পারে

আপেলে অধিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম মজুদ থাকে যেটি হাড় এবং দাঁতকে মজবুত করতে সাহায্য করেক্যালসিয়াম osteoporosis এবং আর্থারাইটিস থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে। সেইজন্য, আপেলকে নিজের খাদ্যে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

11. আপেল আপনার দৃষ্টিশক্তি (Eye Sight) মজবুত করতে কার্যকারী

বন্ধুরা অনেকেই হয়তো জানেন না যে আপেল আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং রাতে দেখার  (night vision) ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আপেলে মজুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস চোখের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।

12. আপেল আপনার ত্বককে (Skin Care) তরুণ এবং সুন্দর রাখতে সাহায্য করে

আপেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার ত্বককে তরুণ এবং সতেজ রাখতে কার্যকারী। আপেলের পেস্টের সাথে দুধ এবং মধু মিলিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বকের জেল্লা বাড়ে।

সবুজ আপেলের উপকারিতা – Green Apple Benefits

এখানে সবুজ আপেলের কিছু  উপকারিতার কথা বলা হল যা খাদ্যতালিকার ভারসাম্য বজায় রাখবার জন্য জানা দরকার। জেনে নিন আর অন্যকেউ জানান।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

আপনি যদি ওজন কমাতে আগ্রহী থাকেন কিন্তু বেশী খাওয়া কমাতে পারছেন না? গ্রিন আপেল দিয়ে খিদে কমান কারণ এটা অনেক তাড়াতাড়ি পেট ভরিয়ে দেয়। কম ক্যালোরির পরিমাণ ডায়েট বজায় রাখতে সাহায্য করে, জলের অধিক পরিমাণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং পলিফেনল ওজন বাড়া নিয়ন্ত্রণ করার সাথে সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজমের উন্নতি ঘটায়।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

বন্ধুরা আমরা যে সমস্ত ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল খাই বাঁ আমাদের শরীর তৈরি করে সেটা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। গ্রিন আপেল তার ফাইবার উপাদান সহ আমাদের কোলেস্টেরল প্রতিরোধ করার সাথে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমায়। জুস হিসেবে কিংবা কাঁচা খেলে, গ্রিন আপেল ফাইটোনিউট্রিয়েন্টের সাহায্য আর্টারিতে কোলেস্টেরলের মুক্তি প্রতিরোধ করে। ফাইবারও ব্লাড সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখে।

শরীরের হাড় মজবুত করে 

আমাদের সবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমে যায় এবং ভেঙে গেলে সেরে ওঠা কষ্টকর। গ্রিন আপেলের ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন আপেল পরোক্ষ ভাবে অস্টিওপোরেসিসের সম্ভাবনা কমায় ঘটনাচক্রে যার অর্থ হল হাড় ভাঙবার সম্ভাবনা কম।

চুলের মান উন্নত করে 

শুষ্ক ত্বক থেকেই অধিকাংশ সময়ে খুশকি হয়। গ্রিন আপেল যুক্ত শ্যাম্পু অথবা সবুজ আপেলের পেস্ট লাগালে সেটা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করার সাথে খুশকি কমায়। তাছাড়াও, আপেলের ভিটামিন সি অস্বাস্থ্যকর, শুষ্ক চুলের মোকাবিলা করতে সাহায্য করে যা প্রধানত ভিটামিন সি-র অভাব থেকে হয়।

শেষ কথা 

আপেল এক অন্যতম ফল , যেটি সকলকে নিজের নিয়মিত খাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
এখনো যদি আপনি আপেল কে নিজের খাওয়ায়  তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করেন তাহলে ক্ষতি আপনারই। আপনাদের আজ থেকেই এই ফলের নিয়মিত সেবন করা উচিত। নিয়মিত ফল খাওয়া ভালো অভ্যেস, আর আপেলের মতো অন্যতম পুষ্টিকারক এবং সুস্বাদু ফল কেনইবা খাবেন না?

আপনি কি আরো কিছু আপেলের উপকারিতা জানেন ? তাহলে আমাদের সাথে অবশ্যই  কমেন্ট করে শেয়ার করুন এবং আমরা পরের আর্টিকেলে নিশ্চয়ই আপনাদের বক্তব্যকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করব। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে comment করে জানান। লেখাটি ভাল লেগে থাকলে শেয়ার করুন সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন

Comments are closed.