করোনা ভাইরাসের লক্ষণ, চিকিৎসা ও উপায় কি ? Corona Symptoms and Treatment in Bengali

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের চির সাথী আপনাদের সকলকে chalokolkata.com এ স্বাগত। আজ আমরা সবাই জানি যে সারা বিশ্ব জুড়ে যে এক মহামারীর সৃষ্টি হয়েছে যার নাম করোনা ভাইরাস ইংরেজিতে বা ডাক্তারি ভাষায় জেক বলে (Covid – 19 ) . আজ আমরা জেনে নেবো যে এই করোনা হাত থেকে এই সময় আপনি কিভাবে বাঁচবেন বা আপনি কিভাবে থাকবেন। আমরা সবাই জানি সারা বিশ্বে এই সময় লকডাউন অর্থাৎ সব কিছু বন্ধ। আসুন দেখে নেওয়া যাক আমরা কিববে এই বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের থেকে আস্তে আস্তে  মুক্তি লাভ করতে পারি।


এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। ভয়ানক থেকে ভয়ংকর এর ক্ষমতা। যেকোনো ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রথমেই যেটা করতে হবে, তা হচ্ছে সেটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা। এইচআইভি ভাইরাস যেমন যৌনতা বা রক্তের মাধ্যমেই ছড়ায়। হাঁচি, কাশি বা ছোঁয়ার মাধ্যমে নয়। তাই এইচআইভি রোগীর সঙ্গে যেমন মেলামেশা করবেন, বায়ুর মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাস (যেমন করোনা, ইবোলা ইত্যাদি) আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে সেভাবে মেলামেশা করবেন না।

রোগের লক্ষণ কী

রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

মানুষের মধ্যে যখন ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেবে তখন বেশি মানুষকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকবে তাদের। তবে এমন ধারণাও করা হচ্ছে যে নিজেরা অসুস্থ না থাকার সময়ও সুস্থ মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে মানুষ।

শুরুর দিকের উপসর্গ সাধারণ সর্দিজ্বর এবং ফ্লু’য়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্থ হওয়া স্বাভাবিক।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেককে সার্স ভাইরাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে যা ২০০০ সালের শুরুতে প্রধানত এশিয়ার অনেক দেশে ৭৭৪ জনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলো ।

নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো।

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। মাস্ক পরার চেষ্টা করুন। যেকোনো কিছু ছোঁয়ার আগে অবশ্যই মাথায় রাখবেন সেখানে প্রাণঘাতী জীবাণু থাকতে পারে।

যেকোনো জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদিকে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে হ্যান্ডেল করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে ডাক্তারি ফলাতে যাবেন না।

ভাইরাসটি কীভাবে ঠেকানো যেতে পারে?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাদের আবিষ্কৃত একটি টিকা নিয়ে মানুষের দেহে পরীক্ষা চালিয়েছে।

এই টিকার উপাদান হলো, কোভিড-নাইনটিন ভাইরাসের একটি জেনেটিক কোড – যা আসল ভাইরাসটি থেকেই নকল করে তৈরি করা হয়েছে। এই কপিটি বিপদজনক নয়, এবং এটা মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতেও পারে না।

যদি দেখেন আপনার শিশুর জ্বর এসেছে, তাকে স্কুলে পাঠাবেন না।

আপনি যদি নিজে অসুস্থ হন, তাহলে অফিসে যাবেন না। আপনার মাধ্যমে অফিসের কারও ফ্লু হতে পারে। আপনি হয়তো বেঁচে যাবেন। যাকে আক্রান্ত করবেন, তিনি হয়তো বাঁচবেন না। তাই এমন ঝুঁকি কখনই নেবেন না। এ ক্ষেত্রে অফিসের বসদের একটু শিথিল হতেই হবে। নিজেদের স্বার্থেই।

আপনি যদি দেখেন অফিসের কারও জ্বর/সর্দি/কাশি হয়েছে, তাহলে অবশ্যই তার থেকে কমসে কম পাঁচ ফুট দূরত্ব রেখে কথাবার্তা বলবেন। কাছে ঘেঁষবেন না। তিনি যা ছোঁবেন, স্পর্শ করবেন, খবরদার। সেসব ভুলেও ছুঁয়ে দেখবেন না। স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করবেন। এ দেশে প্রথম প্রথম বিদেশি কলিগদের এমন আচরণে খুবই মর্মাহত হতাম। মনে হতো আমি যেন বর্ণবাদ সমাজের অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের কেউ, আমায় ছুঁলে জাত যাবে। কিন্তু পরে উপলব্ধি করলাম, তাঁর হাসপাতালের বিলও আমি দেব না, তাঁর বাচ্চাকাচ্চা এতিম হলে ওদের দেখভালের দায়িত্বও নেব না। নিজের সাবধানতা নিজের কাছে ।

এই সময় গর্ভবতী নারী বা নবজাতক শিশু জন্মালে যা করণীয় 

গর্ভবতী নারী বা নবজাতক শিশু জন্মালে দেখতে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক সামাজিকতা। যদি আপনার নিজের বা নিজের পরিবারের কারও জ্বর, সর্দি, কাশি থাকে, তবে যত আপন আত্মীয়ই হোক না কেন, অবশ্যই সেই শিশুকে দেখতে যাবেন না। শিশুর মা–বাবাকে জানাবেন যে বাড়িতে কেউ অসুস্থ তাই আসতে পারেননি। গর্ভবতী নারীর ফ্লু হলে তাঁর গর্ভপাতও ঘটতে পারে। তাই গর্ভবতীর জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে হসপিটাল ইমার্জেন্সিতে যাবেন।

এদিকে নবজাতক শিশু খুবই দুর্বল থাকে। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না বললেই চলে। এমতাবস্থায় আপনার স্পর্শ, চুমু ও নিশ্বাসের ফলে সেই শিশুটির প্রাণঘাতী সংক্রমণ হতে পারে। নিজে একটু দায়িত্ববান হন। আপনি কোলে না নিয়েও শিশুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেন। সেটাই করুন। হাত ভালো করে জীবাণুমুক্ত না করে (স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে না ধুয়ে) কোনো অবস্থাতেই নবজাতককে স্পর্শ করবেন না।

পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা

পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। খাওয়ার পরে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন বা না করুন, খাবারের আগে অবশ্যই ভালো করে কমপক্ষে বিশ থেকে তিরিশ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে এরপরে খাবার খাবেন। ফ্লু সিজনে অবশ্যই জেনে বুঝে নিশ্চিত হয়ে খাবেন। যে খাবার সম্পর্কে ধারণা নেই, সেই খাবার খাবেন না। রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি হাত ধুয়ে রান্না করেছে বা কিচেন খুবই পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন, ইঁদুর–তেলাপোকার বাস নেই, সেখানে ইত্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে রেস্টুরেন্টের খাবার মুখে তুলবেন না। বাইরের খোলা খাবার খাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। সবচেয়ে ভালো হবে যদি নিজের বাড়িতেই রান্না করা খাবার খান। ওটা আপনার নিয়ন্ত্রণে।



Comments are closed.