মা লক্ষ্মীর পাঁচালী, মন্ত্র, ব্যাখ্যা

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম। আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। আজ আমরা জানবো যে  মা লক্ষীর পাঁচালি ও অন্নান্ন মন্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে।

“এস মা লক্ষী বোসো ঘরে, আমার এই ঘরে থাকো আলো করে”। লক্ষ্মী (সংস্কৃত: लक्ष्मी) হলেন একজন হিন্দু দেবী। তিনি ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী। তিনি বিষ্ণুর পত্নী। তাঁর অপর নাম মহালক্ষ্মী। জৈন স্মারকগুলিতেও লক্ষ্মীর ছবি দেখা যায়। লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা। বৃহস্প[অতি হলেন দেবগুরু। তাই এই বারকে গুরুবার বলা হয় বা আমরা অনেকেই লক্ষীবার ও বলে থাকি। জ্যোতিষসাশ্র মতে বলা হয় যে মানুষের ভাগ্যে বৃহস্পতির অবস্থান সঠিকভাবে থাকে সে কোনোদিন অর্থ কষ্টে পীড়িত হয়না। তাই  বৃহস্পতিবারকেই ধন সম্পদ-লক্ষী বার বলা হয় বা আমরা বলে থাকি। মা লক্ষী কে কেবল আমরা জানি ধন সম্পদের দেবী রূপে। আর ধন সম্পদ বলতে আমরা বুঝি সোনা,দানা,টাকা,পয়সাকে। বৃহস্পতিবার আসলেই সবার বাড়িতেই লক্ষীর ঘটে বসে মা লক্ষীর উদ্দেশে। লক্ষী বার মানে আমরা  বৃহস্পতি বার বলি সেই বার এ  বাড়ির মায়েরা সবাই তাদের নিজ নিজ নির্ধারিত সময়ে লক্ষীর ঘটে বসিয়ে পুজো করে আর সেই মঙ্গোল ঘটে এ থাকে আমের পল্লব থাকে আর থাকে পান সুপারি ও ঘটে আঁকা স্বস্তিক চিহ্ন অর্থাৎ সেই ঘটের গায়ে তেল সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকা হয়। ঘটে  সময় উলু ও শাক এর মাধ্যমে ঘট বসানো হয় বা ঘটে অর্পণ করা হয়। আর যেটা সব থেকে ভালো জিনিস সেটা হলো সেই ঘটে বসানোর পর মা লক্ষীর পাঁচালি পড়া হয়।  লক্ষ্মী ছয়টি বিশেষ গুণের দেবী। তিনি বিষ্ণুর শক্তিরও উৎস। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার গ্রহণ করলে, লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাঁদের সঙ্গিনী হন। কৃষ্ণের দুই স্ত্রী রুক্মিনী ও সত্যভামাও লক্ষ্মীর অবতার রূপে কল্পিত হন। লক্ষ্মীর পূজা অধিকাংশ হিন্দুর গৃহেই অনুষ্ঠিত হয়। দীপাবলি ও কোজাগরী পূর্ণিমার দিন তাঁর বিশেষ পূজা হয়। এটি কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা নামে খ্যাত। বাঙালি হিন্দুরা প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা করে থাকেন।

গণেশ বন্দনা 

বন্দ দেব গজানন বিঘ্ন বিনাশন।

নমঃ প্রভু মহাকায় মহেশ নন্দন।।

সর্ববিঘ্ন নাশ হয় তোমার শরণে।

অগ্রেতে তোমার পূজা করিনু যতনে।।

নমো নমো লম্বোদর নমঃ গণপতি।

মাতা যার আদ্যাশক্তি দেবী ভগবতী।।

সর্বদেব গণনায় অগ্রে যার স্থান।

বিধি-বিষ্ণু মহেশ্বর আর দেবগণ।।

ত্রিনয়নী তারার বন্দিনু শ্রীচরণ।

বেদমাতা সরস্বতীর লইনু শরণ।।

শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর প্রণাম মন্ত্র

ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।

সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোহস্তু তে।।

শ্রীশ্রীলক্ষ্মীদেবীর বারমাসি পাঁচালী

বছরে বৈশাখ মাস প্রথম যে হয়।

পূজা নিতে এস গো মা আমার আলয়ে।।

জৈষ্ঠ্য মাসে ষষ্ঠী পূজা হয় ঘরে ঘরে।

কৃপা করি এস ওমা পূজা যে বা করে।।

আষাঢ়ে আসিতে মাগো নাহি কর দেরী।

পূজা হেতু রাখি মোরা ধান্য-দূর্বা ধরি।।

শ্রাবণের ধারা দেখ চারিধারে পড়ে।

পূজিবারে শ্রীচরণ ভেবেছি অন্তরে।।

ভাদরের ভরা নদী কূল বয়ে যায়।

কৃপা করে এস গো মা যত শীঘ্র হয়।।

আশ্বিনে অম্বিকা সাথে পূজা আয়োজন।

কোজাগরী রাতে পুনঃ করিব পূজন।।

কার্তিকে কেতকী ফুল চারিধারে ফোটে।

বসো এসে মাগো মোর পাতা এ ঘটে।।

অঘ্রাণে আমন ধান্যে মাঠ গেছে ভরে।

লক্ষ্মীপূজা করি মোরা অতি যত্ন করে।।

পৌষ পার্বণে মা গো যে মনের সাধেতে।

প্রতি ঘরে লক্ষ্মী পূজি নবান্ন দানেতে।।

মাঘমাসে মহালক্ষ্মী মহলে রহিবে।

নতুন ধান্য দিয়া পূজা করি মোরা সবে।।

ফাল্গুনে ফাগের খেলা চারিধারে হয়।

এস গো মা বিষ্ণুজায়া পূজিব তোমায়।।

চৈত্রেতে চাতকসম চাহি তব পানে।

এস ওমা পদ্মালয়া অধিনী ভবনে।।

লক্ষ্মীদেবী বারমাসি হৈল সমাপন।

দীন ভক্তজন দুঃখ কর নিবারণ।।

কাতরে ডাকিছে যত ভক্ত সন্তান।

ভক্তজন মাতা হয়ে করহ কল্যাণ।।

লক্ষ্মীদেবীর স্তুতি

লক্ষ্মীস্তং সর্বদেবানাং যথাসম্ভব নিত্যশঃ।

স্থিরাভাব তথা দেবী মম জন্মনি জন্মনি।।

বন্দে বিষ্ণু প্রিয়াং দেবী দারিদ্র্য দুঃখনাশিনী।

ক্ষীরোদ সম্ভবাং দেবীং বিষ্ণুবক্ষ বিলাসিনীঃ।।

লক্ষ্মীদেবীর ধ্যান মন্ত্র

ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ সৃণিভির্যাম্য সৌম্যয়োঃ।

পদ্মাসনাস্থাং ধায়েচ্চ শ্রীয়ং ত্রৈলোক্য মাতরং।।

গৌরবর্ণাং স্বরূপাঞ্চ সর্বালঙ্কারভূষিতাম্।

রৌক্‌নোপদ্মব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।

শ্রীশ্রীলক্ষ্মী স্তোত্রম্

ত্রৈলোক্য পূজিতে দেবী কমলে বিষ্ণুবল্লভে।

যথাস্তং সুস্থিরা কৃষ্ণে তথা ভবময়ি স্থিরা।।

ঈশ্বরী কমলা লক্ষ্মীশ্চলা ভূতি হরিপ্রিয়া।

পদ্মা পদ্মালয়া সম্পদ সৃষ্টি শ্রীপদ্মধারিণী।।

দ্বাদশৈতানি নামানি লক্ষ্মীং সম্পূজ্য যঃ পঠেত।

স্থিরা লক্ষ্মীর্ভবেৎ তস্য পুত্রদারারদিভিংসহ।।

(তিন বার পাঠ করতে হবে)

পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র

নমস্তে সর্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে।

যা গতিস্তং প্রপন্নানাং সা মে ভূয়াত্বদর্চবাৎ।।

মা লক্ষীর বসবাস করার প্রচলিত গান 

শঙ্খ বাজিয়ে মাকে ঘরে এনেছি

সুগন্ধে ধূপ জ্বেলে আসন পেতেছি।

প্রদীপ জ্বেলে নিলাম তোমায় বরণ করে

আমার এ ঘরে থেকো আলো করে।

এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে

আমার এ ঘরে থেকো আলো করে।।

আলপনা এঁকে তোমায় সাজিয়ে দিলাম ঘর

আমের পল্লব দিলাম জলভরা ঘট।

পান-সুপারী সিঁদুর দিলাম দু’হাত ভরে

ধনধান্যে ভর আমার এ ঘরে।।

শঙ্খ বাজিয়ে তোমায় ঘরে এনেছি

সুগন্ধে ধূপ জ্বেলে আসন পেতেছি

প্রদীপ জ্বেলে নিলাম তোমায় বরণ করে

জনম জনম থেকো আমার এ ঘরে।।

শেষ কথা 

সুখ শান্তি টাকা পয়সার জন্যই আমরা মা লক্ষী দেবীর পুজো করে থাকি। মা কে করো জোর এ বিনীত করি যে মা তুমি সবার মঙ্গোল করো, মা তুমি সর্বদা সবার গৃহে বাশ করো, মা সবার ছোট খাটো ভুল ক্ষমা করে তাদের গৃহে চিরস্থান বাস করো। মা তুমি কারোর ভুলে ক্রোধিত হয়ে কারোর গৃহ পরিত্যাগ করো না। ভক্তি  নিষ্ঠা ভাবে করবেন। আর হ্যা এই পোস্ট টি আপনারা সবাই একবার হলেও সবার সাথে শেয়ার করবেন। ভালো থাকুন মা লক্ষী সবার মঙ্গোল করুক। জয় মা ধনলক্ষীর জয়।

Comments are closed.