থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে কী হয়

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম। আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের থাইরয়েডে হরমোন বেড়ে গেলে কি হয় সেবাপারেই আলোচনা করবো। আজ আমরা জন্য যে – থাইরয়েড কি ভালো হয়, থাইরয়েড কি খাওয়া বারণ, হরমোন কি কারনে হয়, থাইরয়েড এর মাত্রা, থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে কি হয়, থাইরয়েড হলে কি খাওয়া উচিত, , থাইরয়েড হরমোন কমানোর উপায়,  ইত্যাদি ইত্যাদি।

হরমোন নিঃসরণে সমস্যা হলে নানা প্রভাব পড়ে। তবে সমস্যা ঠিক সময়ে ধরতে পারলে চিকিৎসায় নিরাময় সম্ভব। থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের গলার কাছে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে অনেকগুলো হরমোন উৎপন্ন হয়, যাদের বলা হয় থাইরয়েড হরমোন। এই হরমোন আমাদের শরীরের মেটাবলিক হার ও প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে থাকে। এই হরমোন নিঃসরণের ভারসাম্যহীনতার প্রভাব মানুষের দৈহিক স্বাস্থ্য এমনকী তার মানসিক ও অনুভূতিগত স্বাস্থ্যের উপরেও পড়ে। এমনকি এই হরমো ন বেড়ে গেলে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েড কী?

থাইরয়েড একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলায় শ্বাসনালির সামনের দিকে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন মানুষের শরীরের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যেমন বিপাক ক্রিয়া, বাচ্চাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, বুদ্ধির বিকাশ, বয়ঃসন্ধির লক্ষণ, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভধারণ—এগুলি নির্ভর করে থাইরয়েড গ্রন্থির থেকে নিঃসৃত হরমোনের উপরে। থাইরয়েড হরমোন দু’প্রকার টি-থ্রি ও টি-ফোর। আমাদের শরীরের রক্তে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এই হরমোন থাকে। কোনও কারণে এই হরমোনগুলি বেড়ে বা কমে গেলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

থাইরয়েড হরমোন কমানোর উপায়

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম রোগগুলোর মধ্যে থাইরয়েড জনিত রোগ ১ নম্বরে। বাংলাদেশেও এর অবস্থান কম নয়। সাম্প্রতি এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি রোগীই তার রোগের বিষয়ে জ্ঞানহীন।

থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি নিঃসৃত হওয়া উভয়ই রোগের সৃষ্টি করে। তাই বিয়ের আগে বা গর্ভধারণের পূর্বে নারীদের অবশ্যই থাইরয়েড পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত। এ রোগের আশঙ্কা থাকলে যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে গর্ভধারণ করা উচিত। অন্যথায় শিশুও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এ হরমোনের তারতম্যের ফলে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, হঠাৎ করে শরীর মোটা ও চিকন হওয়া, মাসিকের বিভিন্ন সমস্যা, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, হার্টের সমস্যা, চোখ ভয়ংকর আকারে বড় হয়ে যাওয়া, বন্ধ্যত্ব, এমনকি ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত একজন পুরুষের বিপরীতে ১০ জন নারী থাইরয়েডে আক্রান্ত হন। যা সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষ জানেন না। দেহের এক অপরিহার্য উপাদান থাইরয়েড হরমোন। এটি কমবেশি হলে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। প্রত্যেক মানুষের দেহে নির্দিষ্ট মাত্রায় থাইরয়েড হরমোন থাকা জরুরি। এর হেরফের হলেই নানা জটিলতা দেখা দেয়।

মধ্যবয়সী আয়শা পারভিন। খাওয়াদাওয়া খুব বেশি করছেন না, তার পরও তিনি মোটা হয়ে যাচ্ছেন। সব সময় শীত শীত একটা ভাব অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের দিকে মনে হয়, শরীরের ভেতরে জ্বর বয়ে যায়; কিন্তু বাইরে থেকে শরীর ঠাণ্ডা। পাশাপাশি অতিরিক্ত দুর্বলতা আছে। মন চায় সব সময় শুয়ে থাকতে, কাজকর্মেও এক ধরনের স্থবিরতা চলে এসেছে। সর্বদা বিষণ্ন ভাব। চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারলেন, তিনি হাইপোথাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন।

রাসেল এবার পঁচিশে পা দিলেন। অফুরন্ত যৌবনশক্তি নিয়ে যে বয়সে জীবনকে উপভোগ করার কথা, সেই বয়সে রাসেলকে বেশির ভাগ সময় ঘরে বসে কাটাতে হয়। পেটে ক্ষুধা আছে, তার পরও ওজন কমে যাচ্ছে। সব সময় বুক ধড়ফড় করে। তাপ সহ্য হয় না। হাত-পা কাঁপে, মেজাজ সব সময় খিটখিটে থাকে। শরীরও সব সময় গরম থাকে। কেউ গায়ে হাত দিলে ভাববে জ্বর এসেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা জানালেন, তিনি হাইপোথাইরয়েডে আক্রান্ত।

থাইরয়েড হরমোনের কাজ কী ?

শর্করা, আমিষ, স্নেহজাতীয় খাবার খাওয়ার পর সেখান থেকে পাওয়া মূল অংশকে কাজে লাগিয়ে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও তাপ উৎপাদন করতে থাইরয়েড হরমোন ভূমিকা রাখে। দেহে এই থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হলে তাকে বলা হয় হাইপোথাইরয়ডিজম আর হরমোন বেশি তৈরি হলে তাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়ডিজম। অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোনের কার্য কারিতাবিষয়ক সমস্যা দুই রকম হতে পারে।

থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যায় সঠিক চিকিৎসা না নিলে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন—\

 

থাইরয়েড ক্যান্সার

অনেকের ক্ষেত্রে গলা কম সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত ফুলে যায় এবং সেখান থেকে ভবিষ্যতে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক নিশ্চিত হয়ে অপারেশনের পরামর্শও দিয়ে থাকেন। যাদের পরিবারে থাইরয়েড ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। গলায় ছোট একটি নোডিউল যদি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

গর্ভাবস্থা ও শিশুদের ক্ষেত্রে

বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ এই হাইপার বা হাইপোথাইরয়ডিজম। আবার গর্ভাবস্থায় মায়ের হাইপোথাইরয়ডিজম যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে সে ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শিশুদের হাইপোথাইরয়ডিজম হয়। সম্ভব হলে জন্মের পর সব শিশুর TSH পরীক্ষা করে দেখা উচিত। খেয়াল রাখতে হবে, কোনো শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ যদি বয়স অনুযায়ী না হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।



Comments are closed.