ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ হয়ে পড়েছে ? শীতে ত্বকের যত্ন নিতে মেনে চলুন এই পরামর্শগুলি

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম। আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন।ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ হয়ে পড়েছে ? শীতে ত্বকের যত্ন নিতে মেনে চলুন এই পরামর্শগুলি অস্বস্তি এড়াতে এমন ক্রিম ব্যবহার করুন যাতে সয়া বা সাইট্রাস আছে। এগুলো ত্বক উজ্জ্বল হতে সাহায্য করে। আমরা আরো জেনে নেবো যে – মুখের মরা চামড়া দূর করার উপায়, শুষ্ক ত্বকের ময়েশ্চারাইজার, মুখের ত্বক শুষ্ক হলে করনীয়, খসখসে ত্বকের যত্ন, শুষ্ক ত্বকের ফেসওয়াস, গরমে শুষ্ক ত্বকের যত্ন, ছেলেদের ত্বক মসৃণ করার উপায়, শুষ্ক ত্বকের ফেসওয়াসের নাম ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

শীতকাল এলেই সর্দি-কাশির সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এই সময় ময়শ্চারাইজার ব্যবহার না করলে ত্বক ফাটতে পারে।

ত্বকের সমস্যা কম-বেশি প্রায় সকলেরই রয়েছে। আমাদের একেক জনের ত্বকের প্রকৃতি একেক রকমের। কারও ত্বক তৈলাক্ত, তো কারও শুষ্ক। কারও ত্বক আবার অত্যন্ত সংবেদনশীল। শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের সমস্যা বাড়তে চলেছে। তাই এখনই জেনে নিন, কী ভাবে এই শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন। জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা…

ত্বক শুষ্ক যেন প্রাণহীন ত্বক। অনেকেরই ত্বক অনেক শুস্ক। ত্বক শুস্ক হলে ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য কমে যেতে থাকে। তার ফলে ত্বক হয়ে যায় অনেক ফ্যাকাসে কেমন একটা বাজে টাইপের। শুস্ক ত্বকের জলের পরিমান টাও অনেক কম থাকায় মুখের বাটকের আদ্রতা হারিয়ে যায়। ফলে খুব তাড়াতাড়ি ত্বক খারাপ ও বয়স্কের চাপ পেতে শুরু করে। তাই ত্বকের শুস্কতা দূর করা অনেক প্রয়োজন। আমরা আজকে একটা একটা করে জেনে নেবো যে কিভাবে আমরা আমাদের শুস্ক ত্বক বা বাজে হয়ে যাওয়া ত্বক আবার পুনরায় ঠিক বা ভালো করতে পারি। আসুন ডেকে নিও একবার

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই প্যাক 

আপনার ত্বক যে রকমই হোক না কেন, পুরো শীতজুড়ে একদিন পর পর ব্যবহার করুন এই প্যাক। এতে ত্বক তো শুষ্ক হবেই না বরং এই শীতেও আসবে বাড়তি উজ্জ্বলতা। দেখে নিন কিভাবে প্যাক তৈরি করবেন –

একটি কাঁচের পাত্রে ডিমের সাদা অংশ ও তিন চামচ মধু মিশিয়ে নিন। মধু ঘন হওয়ায় অল্প জল দিয়ে ফেটিয়ে পাতলা করে নিন এই মিশ্রণ। ত্বকে ১০ মিনিটের মতো ম্যাসাজ করার পর পনেরো মিনিট অপেক্ষা করুন।
মধু এমনিতেই প্রাকৃতিক টোনার ও ময়েশ্চারাইজার। এর সঙ্গে ডিমের সাদা অংশের প্রোটিন ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষে আর্দ্রতা পৌঁছে দেয়। এজন্য এই প্যাক শীতে খুবই কার্যকর। প্যাক শুকিয়ে গেলে ভালো করে ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

কেন ত্বক শুষ্ক হয়  ?

1. আমাদের দেশে সাধারণত শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়। অল্প আর্দ্রতা, খুব সূর্যের আলো ও ঠান্ডা বাতাস এর কারণ।
2. বংশগত বা জিনগত কারণে, বয়স ৪০-এর পর তেল ও ঘাম গ্রন্থির সংখ্যা কমে যায়।
3. পেশার কারণে। যেমন বাগান, কৃষিকাজ বা নির্মাণকাজ যাঁরা করেন।
4. ক্লোরিনযুক্ত জলে অতিরিক্ত সাঁতার কাটলে বা স্নান করলে, বিশেষ করে গরম জল বা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে, ধূমপান, অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন গ্রহণ, অতিরিক্ত আকাশপথে ভ্রমণ।
5. ভিটামিন ‘এ’ ও ‘বি’র অভাব হলে। জিংক ও ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব হলেও ত্বক শুষ্ক হয়।
6. কিছু চর্মরোগ, কিছু ওষুধ সেবন, এসিতে অতিরিক্ত অবস্থান, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার ইত্যাদিও ত্বক শুষ্ক করে।

মুখের ত্বক শুষ্ক হলে করনীয়

যাঁদের ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক, তাঁরা স্নান করেই সঙ্গে সঙ্গে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এর ফলে ত্বকের শুষ্কভাবও দূর হবে, আবার ত্বক ভালও থাকবে।

তবে, ময়শ্চারাইজার বেছে নেওয়ার সময়ে মনে রাখতে হবে যে, চড়া গন্ধ যুক্ত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার কম করতে হবে আর অতিরিক্ত তৈলাক্ত ময়শ্চারাইজার এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।

শীতে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থেকে বাঁচতে আরও একটা পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকেন। তা হল, প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সঠিক ডায়েট মেনে খাবার খাওয়া।

 

শুষ্ক খসখসে ত্বকে সহজেই বলিরেখা দেখা দেয়। যা কিনা আপনাকে দ্রুতই বয়স্ক করে তুলে। আর যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক প্রকৃতির তাদের সমস্যা আরো বেশি। নিয়মিত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করে ত্বক আদ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভাবে ত্বকের শুষ্কতা দূর করার যায়।

ফলের ফেসপ্যাক: অ্যাভোকাডো বা পাকা পেঁপের শাঁস, অলিভ কিংবা নারিকেল তেল ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে ফলের ফেস প্যাক বানিয়ে নিন। এরপর প্যাকটি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে লাগিয়ে নিন মুখে, গলায় এবং হাতে। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে নিয়ে লাগিয়ে নিন ময়েশ্চারাইজার।

নিজস্ব ক্লিনজার: প্রথমে মুখে ও গলায় অলিভ অয়েল অথবা কোল্ড প্রসেস্ড নারিকেল তেল লাগিয়ে নিতে হবে। এবার গরম জলে একটি নরম তোয়ালে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। এটি আলতোভাবে মুখের উপর রাখুন। তোয়ালেটি ঠান্ডা হয়ে গেলে সরিয়ে ফেলুন এবং মুখে থাকা বাড়তি তেল মুছে নিন।

 

নারিকেল তেল

নারিকেল তেল খুব ভালো ময়শ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। রাতে শুতে যাওয়ার আগে ত্বকে লাগান নারিকেল তেল। যাদের পা ফাটার সমস্যা রয়েছে তারাও ব্যবহার করুন নারিকেল তেল।

ময়েশ্চারাইজার

স্নানের পর সব সময় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। অ্যালোভেরা জেল ও নারিকেল তেলের মিশ্রণ খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। শুধুমাত্র মুখেই নয়, গোটা শরীরেই লাগাতে হবে ময়েশ্চারাইজার।

প্রাকৃতিক স্ক্রাব

আধা কাপ চিনি আর দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল ও কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে তৈরি করুন স্ক্রাব। স্নানের আগে এই স্ক্রাব লাগিয়ে নিন মুখসহ সারা শরীরে। নিয়মিত ব্যবহারে দূর হবে ত্বকের কালচেভাব।

ঠান্ডা দুধ

ত্বকে যদি কোনো কারণ ছাড়াই জ্বালাভাব অনুভব করেন বুঝবেন ত্বক আর্দ্রতা হারাচ্ছে। এক্ষেত্রে ত্বকের আর্দ্রতা ফেরাতে ঠান্ডা দুধ ব্যবহার করুন। ঠান্ডা দুধে তুলো ভিজিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে ফিরবে ত্বকের আর্দ্রতা।

শেষ কথা 

মুখের কোথায় নয় আগে ব্যাবহার করুন তারপর বিশ্বাস করুন। একবার করেই দেখুন না দাম দিয়ে শতাধিক টাকা খরচ করার থেকে ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করলেই বেশি ভালো। কেমিক্যাল এর থেকে দূরে থাকবেন যতটা পারবেন।  ভালো থাকবেন ।

Comments are closed.