গর্ভকালীন অবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম। আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো যে গর্ভকালীন থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে। গর্ভবস্থায় থায়রয়েড থাকলে অনেকটাই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মানুষকে  আজ সেটা নিয়ে ছোট্ট একটা আলোচনা।

থাইরয়েড একটি ছোট গ্রন্থি যা মানুষের গলার সামনের দিকে চামড়ার নিচে থাকে। এ গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নামক এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়ে রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে যায়। থাইরয়েড হরমোন শরীরের অনেক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ সহ কিভাবে দ্রুত আপনার ক্যালোরি বার্ন এবং কত দ্রুত আপনার হৃদয়স্পন্দন হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছারাও এ হরমোন মানব দেহে শক্তি উৎপাদন করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে। এ হরমোন স্বাভাবিক পরিমানের চেয়ে বেশি বা কম নিঃসরনের কারণে বিভিন্ন রকমের থাইরয়েড রোগ দেখা দেয়। বেশী নিঃসরন এর কারণে যে রোগ তাকে হাইপার থাইরয়ডিজম এবং কম নিঃসরন এর কারণে রোগকে হাইপোথাইরয়ডিজম বলে।

থাইরয়েড কী ?

থাইরয়েড একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলায় শ্বাসনালির সামনের দিকে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন মানুষের শরীরের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যেমন বিপাক ক্রিয়া, বাচ্চাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, বুদ্ধির বিকাশ, বয়ঃসন্ধির লক্ষণ, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভধারণ—এগুলি নির্ভর করে থাইরয়েড গ্রন্থির থেকে নিঃসৃত হরমোনের উপরে। থাইরয়েড হরমোন দু’প্রকার টি-থ্রি ও টি-ফোর। আমাদের শরীরের রক্তে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এই হরমোন থাকে। কোনও কারণে এই হরমোনগুলি বেড়ে বা কমে গেলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

গর্ভবস্থায় থাইরয়েড কিভাবে প্রভাবিত করে 

গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের চাহিদা বেড়ে যায়। গরভকালীন এইচসিজি হরমোন এবং এস্ট্রোজেন থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে যাতে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করে। গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থি সামান্য বড় হয়ে যেতে পারে যদিও তা বাইরে থেকে খুব বেশী একটা বোঝা যায়না।

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের দু ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে –

1. হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েডের লঘূক্রিয়া

2. হাইপারথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েডের অতিক্রিয়া

হাইপোথাইরয়েড লক্ষন

হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষনগুলো সাধারণত মৃদু হয়। এ লক্ষনগুলো ধীরে ধীরে দেখা দেয় এবং অনেকদিন বোঝা যায় না যে আপনার এ সমস্যা আছে। হাইপোথাইরয়েডিজমের প্রধান লক্ষন গুলো হল:- যেসব গর্ভবতী মায়েদের নিকট আত্মীয় কারো থাইরয়েডের সমস্যা আছে (মা বা বোন) তাদের গর্ভধারণের আগেই বা গর্ভধারণের পরপরই থাইরয়েডের পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

হাইপার থাইরোয়েডিজমের লক্ষণ ও গর্ভের বাচ্চার ওপর কি প্রভাব ফলে ?

গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহে ভ্রুনের বৃদ্ধি নির্ভর করে মায়ের থাইরয়েড হরমোনের উপর। তাই মায়ের পর্যাপ্ত পরিমানে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ হরমোনের গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয় করা উচিত গর্ভধারণের আগেই বা গর্ভধারণের শুরুতেই। যদি শুরুতেই এ সমস্যা নির্ণয় করা যায় এবং তার প্রতিকার করা হয় তবে গর্ভের শিশুর ঝুঁকির সম্ভাবনা কম থাকে।

1. হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। এ সমস্যার ফলে গর্ভের বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্থ হয় যার ফলে বাচ্চা কম IQ নিয়ে জন্মাতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমের সঠিক প্রতিকার না হলে আরও কিছু সমস্যা, যেমন- গর্ভপাত, সময়ের আগেই প্রসব, প্রি-এক্লাম্পশিয়া, মৃত সন্তান প্রসব ইত্যাদি হতে পারে। তবে এ সমস্যাগুলো উপযুক্ত চিকিৎসার মাদ্ধমে রোধ করা যেতে পারে।

2. হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রেও যদি তা নিরাময় করা না হয় তবে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন- গর্ভপাত, প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন, প্রি-ম্যাচিউর লেবার ও বার্থ, প্রি-এক্লাম্পশিয়া, মৃত সন্তান প্রসব, কম ওজনের বাচ্চার জন্মদান, এবং গর্ভে বাচ্চার ওজন ঠিক ভাবে না বাড়া ইত্যাদি।

3. এছাড়াও হাইপারথাইরয়েডিজমের প্রতিকার করা না হলে “থাইরয়েড স্টর্ম” নামের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যদি গর্ভাবস্থায় এর সম্ভাবনা কম। এটি খুব কমন কোন ঘটনা নয় এবং সাধারণত বৃদ্ধ বয়সে হয়। “থাইরয়েড স্টর্ম” বলতে বুঝায় হঠাৎ করে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরী হয়ে যাওয়া। এর ফলে প্রচন্ড জ্বর, মাথা কাজ না করা, পেটে ব্যাথা, উচ্চরক্তচাপ, হার্ট বিট অত্যন্ত বেড়ে যাওয়া এবং হার্ট ফেইলিওর হয়। তাদক্ষনিক চিকিৎসা না করলে “থাইরয়েড স্টর্ম” জীবন ঘাতি হতে পারে। সাধারণত ইনফেকশন ও স্ট্রেস হাইপারথাইরয়েডিজমের রোগীর মধ্যে “থাইরয়েড স্টর্ম” তৈরী হয়।

গর্ভবস্থায় থাইরয়েড পরীক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব গর্ভবতী মহিলা গর্ভাবস্থায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই থাইরয়েড পরীক্ষা করা জরুরি। মায়ের শরীরে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় থাকাটা খুবই দরকার। বিশেষ করে ভ্রূণের মস্তিষ্কের উন্নতির জন্য গর্ভবতী হওয়ার পরে শরীরে থাইরয়েড হরমোনের চাহিদা বেড়ে যায় এবং সেজন্য থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে বেশি পরিমাণ টি-থ্রি, টি-ফোর হরমোন নিঃসৃত হয়. এই অবস্থায় খাদ্যে আয়োডিনের পরিমান কম থাকলে শরীরে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের অভাব দেখা দেয়।

থাইরয়েড একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলায় শ্বাসনালির সামনের দিকে অবস্থিত।

থাইরয়েড হরমোন দু’প্রকার টি-থ্রি ও টি-ফোর। আমাদের শরীরের রক্তে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এই হরমোন থাকে।

থাইরয়েডের সমস্যা প্রধানত দুই ধরনের—হাইপারথাইরয়েডিজ়মে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। আর হাইপোথাইরয়েডিজ়মে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ কমে যায়।

রক্তের এফটি-ফোর এবং টিএসএইচের মাত্রা, থাইরয়েড গ্রন্থির আল্ট্রাসাউন্ড, অ্যান্টি টিপিও অ্যান্টিবডি, থাইরয়েড স্টিমিউলেটিং, ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা  হয়।

থাইরয়েডের সমস্যা হলে কি ডায়াবিটিস হতে পারে? 

থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোন রক্তে বেশি হলে বা কমলে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ডায়াবিটিস হতে পারে। যেহেতু হাইপোথাইরয়েডিজ়ম বেশি পরিমাণ দেখা যায় হাইপারথাইরেয়ডিজ়মের থেকে, সে জন্য সচরাচর আমরা ডায়াবিটিসের সঙ্গে হাইপোথাইরয়েডিজ়মের চিকিৎসা করি। এ ছাড়া, গ্রেভস হাইপারথাইরয়েডিজ়ম এবং টাইপ-১ ডায়াবেটিস যেহেতু একটি অটো ইমিউনি ডিজ়িজ অনেক ক্ষেত্রে এক সঙ্গে দেখা যায়।



Comments are closed.