এইডস এর প্রাথমিক লক্ষন

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম। আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের কিছু ভয়াবহ বা আতঙ্কিত রোগের মধ্যে অন্যতম এইডস এর ব্যাপারে বলবো। আমরা জন্য আজকে যে –  এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিকার, এইডস এর পরীক্ষা, এইডস এর ঔষধ, বাংলাদেশে এইডস এর চিকিৎসা, এইডস এর উৎপত্তি, এইডস টেস্ট, এইডস প্রতিরোধের উপায়, এইডস কত দিন পর ধরা পরে ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

মানুষের জীবনে বেশ কয়েকটা রোগ হয় বা হয়ে থাকে যার জন্য আমরা সকলেই খুউব আতংকিত ও ভয় পেয়ে থাকি। কারণ আমরা ভয় পাই মৃত্যুকে। তার মধ্যে অন্যতম রোগ হলো এইডস (HIV). হ্যা বন্ধুরা এইডস হলেও তাদের মধ্যেই একটা অতীব ভয়ানক একটি রোগ যার তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিরোধ করা যায় না। অর্থাৎ সম্পূর্ণ রূপে রোগ নিরাময় বা সপূর্ণ রূপে সেরে যায় না বা নির্মূল হয়না, টোন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এইডস একটি সংক্রামক রোগ যা এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) ভাইরাসের সংক্রমণের মাধ্যমে হয়ে থাকে।আমাদের খুব দুর্ভাগ্য যে সত্যি এখনও পর্যন্ত এইচআইভি বা এইডসের কোন কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি আবিস্কার হয়নি এবং সেকারণে এই রোগে আক্রান্তের অর্থ শুধুমাত্র মৃত্যু। এই রোগটি মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় ধীরে ধীরে। এরফলে দেহে বাসা বাঁধে নানান ধরণের রোগ যেমন- নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস সহ মারাত্মক নানা রোগ, এমনকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায় অনেককেই। তাই এইডস প্রতিরোধের সবচাইতে ভালো উপায় হচ্ছে সচেতনতা এবং এই বিষয়ে সতর্ক থাকা। আমাদের কিছু ভুলের কারণে আমাদের দেহ আক্রান্ত হতে পারে এই মরণব্যাধিতে। তাই সচেতন থাকুন সবসময়। এইডসে আক্রান্তের প্রতিটি ধাপে এই রোগের লক্ষণ একেকভাবে প্রকাশ পেয়ে থাকে। চলুন আমরা এইডস নিয়ে কিছু প্রাথমিক পর্যালোচনা করা যাক। 

এইচআইভি এইডস একটি ভয়ঙ্কর মারণ ব্যাধি। সারা পৃথিবীতে লাখ লাখ মানুষ প্রতি বছর এতে প্রাণ হারান। দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা কোনও শারীরিক সমস্যা ছাড়াই এই মারণ রোগ শরীরে জাঁকিয়ে বসে। ধীরে ধীরে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। তারপর শরীরে কোনও রোগ বাসা বাঁধলে শরীর আর তা সইতে পারে না।অসুরক্ষিত যৌনজীবন, ওরাল সেক্স, আক্রান্তের রক্ত শরীরে যাওয়া, বাবা-মায়ের শরীর থেকে নবজাতকের শরীরে রক্ত বয়ে আসা, ইত্যাদি নানা কারণে এইডস হতে পারে।উনবিংশ শতকে পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকা থেকে এই রোগ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করা হয়। ১৯৮১ সালে প্রথম এই রোগ ধরা পড়ে। এইচআইভি সংক্রমণের ফলে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

নতুনভাবে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যাও আগের চেয়ে অনেকটা কমে গিয়েছে। ২০০০ সালে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ছিল। ২০১৬ সালে তা কমে হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ জন। অর্থাৎ এইডসের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে হলেও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে মানব সমাজ। অনুন্নত দেশগুলিতে যৌনতা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এই রোগের প্রকোপ আরও কমে আসবে।

রোগের প্রাথমীক পর্যায়ের লক্ষণ 

1. জ্বর

2. গলা ভাঙ্গা

3. লিম্ফগ্রন্থি ফুলে উঠা

4. দেহে লালচে দানা উঠা

5. প্রচণ্ড মাথা ব্যথা

6. হাড়ের জয়েন্টগুলো ফুলে উঠা

7. ডায়রিয়ায় আক্তান্ত হওয়া

8. কোনো কারণ ছাড়া দ্রুত দেহের ওজন কমতে থাকা বা রোগা হয়ে যাওয়া 

9.  জ্বরের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া

10. কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুরু হওয়া ইত্যাদি। 

এইডস রোগের শেষ পর্যায়ের লক্ষণ গুলো হলো আমরা একটু মোটামুটি  নি 

  • রাতের বেলা অনেক বেশি ঘাম হওয়া। 
  • টানা ২-৩ সপ্তাহ বা এরচাইতে বেশি সময় ধরে অনেক বেশি জ্বর থাকা। 
  • মাথা ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়া। 
  • শুকনো কাশি এবং শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া। 
  • প্রচণ্ড দুর্বলতা বোধ করা। 
  • দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়ার সমস্যা থেকে যাওয়া। 
  • দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা শুরু হয়। সবকিছু অস্পষ্ট এবং বিকৃত দেখতে পাওয়া। 
  • মুখ কিংবা জিহ্বা বাঁকা হয়ে যাওয়া। মাঝে মাঝে সাদা সাদা দাগ পরতে দেখা যায়।

এখন আমরা বিস্তারিত ভাবে জেনে নেবো এইডস এর  কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ আর সেগুলো হলো :-

  • HIV/AIDS এর প্রথম দিকে এবং পরবর্তীতে চামড়ায় ফুস্কুড়ি দেখা দিতে পারে।
  • অন্যান্য লক্ষণের সাথে গলা এবং মাথা ব্যাথা অনেক সময় ARS এর প্রাসঙ্গিক লক্ষণ হতে পারে, প্রাথমিক অবস্থায় HIV ব্যপক সংক্রমনের কারণ হতে পারে।
  • HIV এর প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০% থেকে ৬০% লোক স্বল্প মেয়াদী বমি ভাব, বমি করা বা ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ সকল লক্ষণ গুলি antiretroviral থেরাপির কারণে দেখা দিতে পারে এবং পরবর্তীতে সংক্রমণের কারণেও তা হতে পারে।
  • রোগের ব্যাপক আক্রান্তের সময়ে মারাত্মক ডায়রিয়াতে সংক্রমণের ফল স্বরূপ ওজন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কোন আক্রান্ত ব্যাক্তি যদি ডায়রিয়া বা দুর্বলতা এবং জ্বরে ৩০ দিনের বেশী একাধারে ভোগে এবং ঐ সময়ে তার ১০% শরীরের ওজন হারায় তবে সে wasting syndrome এ আক্রান্ত বলে ধরে নেয়া হয়।
  • ব্যাপক ভাবে HIV আক্রান্ত হলে অনিয়মিত ঋতুচক্রের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, যেমন তুলনামূলক কম এবং হালকা মাসিক হওয়া।
  • এটিকে Peripheral Neuro-pathy বলা হয়, যাতে সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস যুক্ত ব্যাক্তিরা বেশী আক্রান্ত হয়ে থাকে।
  • হারপেস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়াও HIV তে আক্রান্তের ঝুঁকির একটি অন্যতম কারণ। এটা এ কারণে যে যৌনাঙ্গের হারপেস এর কারণে ক্ষত হতে পারে যা যৌন ক্রিয়ার সময় খুব সহজে HIV সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
  • ARS আক্রান্তের একেবারে প্রথম দিকের লক্ষণ হতে পারে মৃদু জ্বর, যা প্রায় ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে এবং এর সাথে থাকতে পারে কিছু সাধারণ মৃদু উপসর্গ যথা, ক্লান্তি, লিম্ফ গ্লান্ডের স্ফীতি, এবং গলা ব্যাথা।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা লোপ পেয়ে ব্যাথা বোধ হয় এবং এটির কারণে ক্লান্তি এবং তন্দ্রা ভাব হতে পারে। HIV এর প্রথম এবং পরবর্তী লক্ষণ উভয়ই হতে পারে ক্লান্তি বোধ।
  • ফ্লু, mononucleosis, বা অন্য কোনও রকমের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, এমনকি সিফিলিস বা হেপাটাইটিস এর সাথে ARS লক্ষণ ভুল করা হতে পারে।
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে যদি শুস্ক কাশি থাকে এবং সহজে সারবে না এমন মনে হয়, তবে তা HIV এর একটি লক্ষণ হতে পারে।
  • Candida এর কারণে এক ধরণের ছত্রাক জনিত মুখের সংক্রমণ হল Thrush।
  • বিভ্রান্তি এবং মনোযোগের অসুবিধা ছাড়াও, AIDS সম্পর্কিত dementia স্মৃতি শক্তির সমস্যার সাথে এবং আচরণ জনিত সমস্যা যেমন ক্রোধ বা খিটখিটে মেজাজ জনিত সমস্যার সাথে জড়িত।
  • নখের পরিবর্তন যেমন clubbing (নখ পুরু হয়ে বেঁকে যাওয়া), নখ ভেঙ্গে যাওয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে নখের রঙের পরিবর্তন (সমান্তরাল ভাবে বা আড়াআড়ি ভাবে কাল এবং বাদামী দাগ)।
  • সংক্রমণের পরবর্তী একটি সাধারণ অবস্থা হল রাত্রিকালীন ঘাম এবং এটি কোনরূপ পরিশ্রম বা রুমের তাপমাত্রার সাথে সম্পর্কিত নয়।
  • জীবাণুর দ্বারা একটি মারাত্মক সংক্রমণ হল নিউমোনিয়া যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে তবে হতে পারে।
  • ৩ মাসের বেশি সময় ধরে হাড়ের জয়েন্টগুলো ফুলে থাক

শেষ কথা 

কখন যে কার আর কিভাবে রোগ এর শিকার হয় সেটা কেউ বলতে পারেন না। হয় এখন আপনি দিব্বি ভালো আছেন কিন্তু দু ঘন্টা পরে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। হতেই পারে কিন্তু আমাদের এইডস বা HIV সংক্রামক রোগের হাত থেকে বাঁচতে যেটা আমাদের সকলকেই মাথায় রাখতে হবে যেটা ওপরের লেখা গুলো পড়লেই আপনারা বুঝতে পারবেন তাছাড়া আমাদের সর্বদা মাথায় রাখতে হবে যে আমাদের যৌন মিলন বা যৌন সঙ্গম আমরা প্রটেকশন নিয়ে অর্থাৎ কনডম ব্যবহার না করে আমরা কখনোই আমরা যৌন সঙ্গম এ লিপ্ত হবো না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে ধরুন আপনি কারোর সাথে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হচ্ছেন তখন আপনার কাছে প্রটেকশন বা কনডম নেই কিন্তু আপনার শরীরে তখন কামের চাহিদা অত্যন্ত বেশি সেই ক্ষেত্রে আপনাকে নিজেকে বা আপনার পার্টনার বা যৌন সঙ্গীকে সামলাতে হবে নিজেরদের কট্রোল কোকরতেই হবে। মাথায় রাখবেন আপনার ছোট্ট একটা ভুল করে দিতে পারে সারাটা জীবনের মতো অসহায়। কেড়ে নিতে পারে আপনার জীবন থেকে সব আনন্দ। ঢলে পড়তে পারেন কিছু বছরের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে। শক্ত পোক্ত ভাবে আপনাকে নিজেকে সামলাতে হবে। আপনাকে বাঁচতে হবে। আগে আপনার জীবন তারপর সব আনন্দ। আর জীবন টাই যদি নিরাপদ বা বেঁচে না থাকে তাহলে কিসের এতো আনন্দ। যাই হোক বন্ধুরা। কনডম ছাড়া যৌন সফঙ্গমে লিপ্ত হবে না। শুধুমাত্র যে সেক্স বা যৌন সঙ্গমেই যে এইডস বা HIV সংক্রামক রোগে আমাদের আক্রমণ করে তা কিন্তু নয়। আমরা অন্নেই ব্লেড, নেইল কাটার, কোনোরকম দাড়ি কাটার মেশিন ইত্যাদি আমরা কারোর জিনিস ব্যাবহার করবো না। সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন। আর পোস্ট টি এত্ত শেয়ার এত্ত শেয়ার করুন যাতে কপরে সবার কাছে ব্যাপারটা পৌঁছায় বা এইডস এর ব্যপারে সব্বাই জানতে পারে। আর যারা ভুল করতেন তারাও যেন এখন থেকে বোঝে বা বুঝতে পারে। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।



Comments are closed.