ব্রেন স্ট্রোকের চিকিৎসা -Treatment Of Brain Stroke In Bengali

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম। আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের একটা গুরুত্ব পূর্ণ ব্যাপারে আলোচনা করবো একটু মন দিয়ে শুনলে বা মন দিয়ে পড়লে অনেকটা রেহাই পাবেন এটা আমার বিশ্বাস। আজ আমরা জন্য যে –  স্ট্রোকের রোগীর পরিচর্যা, স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার, ব্রেইন স্ট্রোকের হোমিও চিকিৎসা, স্ট্রোকের রোগীর খাবার তালিকা, ব্রেইন স্ট্রোকের রোগীর ব্যায়াম, ব্রেন স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা, ব্রেইন স্ট্রোকের ঔষধ  ইত্যাদি ইত্যাদি। সবার  ব্যাপার জেনে নেবো যেটা অনেকের কাছে পরিস্কার না যে স্ট্রোক কি ?

স্ট্রোক কি ?

বন্ধুরা কোন কারনে মস্তিস্কের নিজস্ব রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া যখন বাধা পায় যেটা হওয়ার ফলে স্মায়ুকোষ নষ্ট হয়ে যায় একেই স্ট্রোক বলে। স্ট্রোককে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় সেরিব্রো ভাসকুলার এ্যাকসিডেন্ট বলা হয়। জেক বাংলায় বলি মস্তিস্কের রক্তনালীর দূর্ঘটনা। আমাদের মস্তিস্কের বিভিন্ন জায়গা আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট থাকে। তাই মস্তিস্কের কোথায়, কতটুকু আক্রান্ত্ হয়েছে তার উপর নির্ভর করে স্ট্রোকের ভয়াবহতা।

ব্রেন স্ট্রোকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভুমিকা

আমার বাবাতামন্জ কোনো বিশাল সমস্যায় ছিল না। একদিন সকাল বেলা হটাৎ সকালের ব্রাশ করতে করতে তার মুখ বেঁকে যায়। মুখ দিয়ে লালা ঝড়তে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পরে যান। পরে তার ডান হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। অথবা, ভালো মানুষটা রাতে ঘুমালেন, সকালে উঠে দেখি এক পাশের হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। সাধারণত এরকমই হয়ে থাকে স্ট্রোক আক্রান্ত্ রোগীর আত্মীয়ের রোগী সম্পর্কে বর্ণনা। পৃথিবিতে প্রতি ছয় সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে মারা যায়। স্ট্রোকের ফলে মানুষ হারাচ্ছে কার্যক্ষমতা এবং ব্যায় হচ্ছে প্রচুর অর্থ। শুধুমাত্র ভুল চিকিৎসার কারনে স্ট্রোক আক্রান্ত্ রোগী হয়ে যাচ্ছে শারিরীক, মানষিক ও কর্মক্ষেত্রে অক্ষম। আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে, হার্টে বা হৃদপিন্ডে স্ট্রোক হয়। আসলে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। স্ট্রোক একটি মস্তিস্কের রক্তনালীর জটিলতা জনিত রোগ। আসুন এবার জেনে নেয়া যাক স্ট্রোক কি, কেন হয় এবং স্ট্রোক রোগীর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনিয়তা সম্পর্কে।

স্ট্রোকের কারন সমূহ

সাধারনত দুটি কারনে স্ট্রোক হয়ে থাকে

1. মস্তিস্কের রক্তনালীতে কোন কিছু জমাট বাধলে – যার ফলে রক্তের নালীকা বন্ধ হয়ে যায় এবং মস্তিস্কের আক্রান্ত্ অংশের স্মায়ুকোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।

2. মস্তিস্কে রক্তক্ষরন ঘটলে – উচ্চ রক্তচাপ এই স্ট্রোকের অন্যতম কারন যেখানে ছোট ছোট রক্তনালীকা ছিড়ে রক্তক্ষরন হয়, ফলে মস্তিস্কের মধ্যে চাপ বেড়ে যায় এবং অক্সিজেনের অভাবে মস্তিস্কের স্মায়ুকোষগুলো মারা যায়। 

স্ট্রোকের প্রাথমিক ৫ টি উপসর্গ দেখা যায়

1. হঠাৎ অতিরিক্ত মাথা ব্যথা।

2. হঠাৎ মুখ, হাত ও পা অবশ হয়ে যাওয়া (সাধারণত শরীরের যে কোন এক

পাশ)অনেক সময় মুখের মাংস পেশি অবশ হয়ে যায়, ফলে লালা ঝড়তে থাকে।

3. হঠাৎ কথা বলতে এবং বুঝতে সমস্যা হওয়া।

4. হঠাৎ এক চোখে অথবা দুই চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া।

5. হঠাৎ ব্যালেন্স বা সোজা হয়ে বসা ও দাড়াতে সমস্যা হওয়া, মাথা ঘুরানো এবং হাটতে সমস্যা হওয়া।

স্ট্রোক পরবর্তী সমস্যা

শরীরের এক পাশ অথবা অনেক সময় দুই পাশ অবশ হয়ে যায়, মাংসপেশীর টান প্রাথমিক পর্যায়ে কমে যায় এবং পরে আস্তে আস্তে টান বাড়তে থাকে, হাত ও পায়ে ব্যথা থাকতে পারে, হাত ও পায়ের নড়াচড়া সম্পূর্ন অথবা আংশিকভাবে কমে যেতে পারে, মাংসপেশী শুকিয়ে অথবা শক্ত হয়ে যেতে পারে, হাটাচলা, উঠাবসা, বিছানায় নড়াচড়া ইত্যাদি কমে যেতে পারে, নড়াচড়া কমে যায় যার ফলে চাপজনিত ঘা দেখা দিতে পারে, শোল্ডার বা ঘাড়ের জয়েন্ট সরে যেতে পারে ইত্যাদি।

স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় কখন ?

1. বয়স সাধারণত ৫০ এর উপরে হলে, বংশে স্ট্রোক রোগী থাকলে,

2. উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, উচ্চ কোলস্টেরল লেভেল থাকলে,

3. ধূমপায়ী হলে,

4. ডায়াবেটিস থাকলে,

5. ইতিপূর্বে একবার স্ট্রোক করলে,

6. অ্যালকোহলিক হলে,

7. রক্তের নালীকাতে কোন সমস্যা থাকলে।

স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়:

উচ্চ রক্তচাপ সর্ম্পকে জানা

রক্তনালীর কোন ধরনের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা,

ধূমপান বন্ধ করা,

কোলস্টেরল, সোডিয়াম এবং ফ্যাটের পরিমান নিয়ন্ত্রনে রাখা,

চর্বি ও শর্করা জাতীয় খাবার (যেমন: ফাষ্টফুড, মাখন, ঘি, মিষ্টি,

পোলাও, গরু-খাশির গোশত, চিংড়ি, ডিমের কুসুম ইত্যাদি) কম খাওয়া,

অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকা,

ডায়াবেটিস এর সঠিক চিকিৎসা করা,

নিয়মিত ৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা

অতিরিক্ত ঔষধ সেবন না করা।

চিকিৎসা পদ্ধতি:

একজন স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসার জন্য মাল্টি ডিসিপ্লিনারি টিম (MDT) পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রয়োজন। এই টিমে থাকেন নিউরোলজিষ্ট, জেনারেল ফিজিশিয়ান, ফিজিওথেরাপিষ্ট, অকুপেশনাল থেরাপিষ্ট, নার্স, ভোকেশনাল ট্রেইনার ইত্যাদি। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, ঔষধ স্ট্রোক রোগীকে মেডিকেলি ষ্ট্যাবল করতে পারলে ও তার শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। স্ট্রোক পরবর্তী সমস্যাগুলো দূর করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। তাই রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত্ হলে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাবেন এবং ২৪ ঘন্টার ভেতরে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করার ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নিশ্চিত করবেন। যদি সেই হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা না থাকে, তাহলে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সমৃদ্ধ যে কোন হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চেম্বারের সাথে কথা বলুন। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের পর যত দ্রুত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করা যাবে, রোগীর কার্যক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।

স্ট্রোকের পরবর্তী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেষ্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেষ্ট, বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেষ্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট এর মাধ্যমে কি ধরনের স্ট্রোক হয়েছে এবং শারিরীক সমস্যা সূমহ নির্ণয় করে থাকেন। অত:পর রোগীর সমস্যানুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা বা ট্রিটমেন্ট প্লান করেন এবং সেই প্লান অনুযায়ী নিন্মোক্ত পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন।

স্ট্রোকের প্রাথমিক অবস্থায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা :

1. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করণ

2. সঠিক পজিশনিং

3. মাংস পেশীর স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য বজায় রাখা

স্ট্রোকের ২-৩ সপ্তাহ পর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

1 মাংস পেশীর স্বাভাবিক টান ফিরিয়ে আনা

2 শরীরের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট ফিরিয়ে আনা

3 শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের স্বাভাবিক নাড়ানোর ক্ষমতা বা মুভমেন্ট ফিরিয়ে আনা

4 ব্যালেন্স ও কো-অরডিনেশন উন্নত করা

5 রোগীর কর্মদক্ষতা বাড়ানো

6 রোগীর মানষিক অবস্থা উন্নত করা

7 রোগীকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে যেতে সাহায্য করা

অতএব রোগীর শারিরীক সমস্যা দুর করে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভূমিকা অপরিসীম। তবে ফিজিওথেরাপি’র নামে শুধূমাত্র মেশিন যেমন: হিট, ভাইব্রেশন, ইলেকট্রিক্যাল ষ্টিমুলেশন ইত্যাদি ব্যবহার করে যে অপচিকিৎসা দেয়া হয় তা থেকে বেঁচে থাকাই ভালো। সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন।

শেষ কথা ও বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

হঠাৎ এক দিকের হাত-পা অবশ হয়ে গেলে, মুখ বাঁকা হলে অথবা কথা আটকে গেলে অথবা অজ্ঞান হয়ে গেলে আপনি অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে দেখবেন তার সত্যিই স্ট্রোক হয়েছে কি না। অজ্ঞান হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করাবেন। আগেই বলা হয়েছে, স্ট্রোক রক্তক্ষরণ (হেমোরেজ) হয়ে এবং রক্ত জমাট বেঁধে (ইনফারকশন) দু’ভাবেই হতে পারে। হেমোরেজ ও ইনফারকশন দুটোর প্রাথমিক চিকিৎসা দুই ধরনের। কাজেই এটি বুঝতে হলে রোগীকে ব্রেনের সিটি স্ক্যান করা দরকার। রোগের কারণ ও উৎস বুঝতে আরও কিছু প্রাথমিক পরীক্ষা করা যেতে পারে। সেসব সাথে সাথে না করলেও চলবে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হার্টের জন্য ইসিজি ও ইকো কার্ডিওগ্রাফি, ক্যারোটিভ ডপলার, রক্তের চর্বি, ইলেকট্রোলাইট ইত্যাদি। তবে ব্লাড সুগার সাথে সাথেই দেখে নিতে হবে। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমেই স্ট্রোক হেমোরেজ না ইনফারকশন বোঝা যাবে এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা করানোই ভালো। চিকিৎসা যত দ্রুত করা যায় ততই রোগীর জন্য মঙ্গল। মেডিক্যাল চিকিৎসা তাড়াতাড়ি শুরু করলে অনেক অনাকাক্সিত ব্রেন ড্যামেজ থেকে রোগীকে রক্ষা করা যায়। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আর বাকিদের ও ভালো থাকার জন্য একটু শেয়ার করে দেবেন। ধন্ন্যবাদ।

Comments are closed.