মুখের দুর্গন্ধের 6 টি অদ্ভুত কারণ এবং প্রতিকার

0

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম।   আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আজ আমি তোমাদের এমন একটা জিনিস নিয়ে আলোচনা করবো যার সাথে আমাদের সকলের না হলেও অনেকের ক্ষেত্রে এটা খুবই লজ্জা জনক ও অনেক জায়গায় অসুবিধে তে পড়তে হয়। আর সেই জিনিস তা হল মুখের দুর্গন্ধ। এর জন্য কিন্তু একমাত্র আমরাই দায়ী। অনেক ক্ষেত্রে এমনটা দেখা গেছে যে আপনি দেখতে শুনতে অনেকটাই ভালো কিন্তু আপনার সামনে এসে কথা বলতে সবাই ভয় পায়। কাছে যেতে ভয় পায়। তার একটাই কারণ আর সেটা আর কিছু নয় আপনার মুখের দুর্গন্ধ।

আমরা এমন কিছু খেলে আমাদের এই সমস্যা হয়ে থাকে যদি খাবারের পর ভালো কপরে কুলকুচি করে মুখ না ধুয়ে থাকি বা এমন অনেক খাবার আছে যা মুখ ধোবার পরেও গন্ধ যায় না।  আবার অনেক সময় এমনিতেই অথবা রোগের জন্য মুখ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই দুর্গন্ধ মানুষকে প্নেক সময়ই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। মুখের গন্ধের কারণে তার চারপাশের মানুষ কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে। আসুন তাহলে দেখেনি এই সমস্যার সমাধান কি কি আছে।

মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তির উপায়

আমাদের আরও অনেক কিছু আছে যেমন – মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তির উপায়, মুখের দুর্গন্ধ চিরতরে দূর করার উপায়, মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ঔষধের নাম, মুখের দুর্গন্ধ দূর করার হোমিও ঔষধ, মুখের দুর্গন্ধ দূর করার স্প্রে, মুখের দুর্গন্ধ দূর করার খাবার, মুখের দুর্গন্ধ দূর করার স্প্রে নাম, মুখের দুর্গন্ধের চিকিৎসা ইত্যাদি ইত্যাদি।

1. মাউথওয়াশ ব্যবহার

আপনি যদি মাউথওয়াশ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার মাউথওয়াশটি লক্ষ্য করুন। এর উপাদানসমূহ ভালো করে দেখুন। অনেক মাউথওয়াশে থাকে মুখের ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য অ্যালকোহল। যদি এই অ্যালকোহল ২৭% এর বেশি থাকে তাহলে তা অবশ্যই দেখার বিষয়। কারণ অ্যালকোহল মুখের ভেতরের স্যালাইভা শুকিয়ে ফেলে। এতে মুখে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে থাকে কিছুক্ষণ পর থেকেই। ফলে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

প্রতিকার —— মাউথওয়াশ কেনার আগে অবশ্যই অ্যালকোহলের মাত্রা দেখে কিনবেন। ২৭% এর নিচে কিনবেন। নাহলে কিনবেন না।

2. ডায়েট করার ফলে

বাড়তি মেদ কমানোর জন্য অনেকে ডায়েট করে থাকেন। কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দিয়ে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান ডায়েটের সময়। কিন্তু প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার মুখে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয় অতি মাত্রায়। যদি আপনি প্রতিদিন উচ্চমাত্রায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান তবে মুখ দুর্গন্ধ হবে। প্রতিকারঃ উচ্চমাত্রায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খুব বেশি খাবেন না। ফল খান। এবং শাকসবজি থেকে প্রোটিন নেয়ার চেষ্টা করুন।

3. অনেক্ষন কথা না বলে থাকা বা অনেক কম কথা বলা 

যদিও এটা আমার বেক্তিগত ভাবে বোঝা ও জানা।  অনেক মানুষ আছেন যারা অনেকটাই কম কথা বলেন ব্যাপারটা খুব খারাপ না। বেশি কথা বলা বা বেশি বগ  বগ  করাটাও শোভনীয় নয়। অনেকেই পছন্দ করেন না। কিন্তু দেখা  গেছে যে বেশিক্ষণ বা অনেক্ষন চুপ করে থাকা মানুষ গুলোর মুখে গন্ধ। উদাহরণ স্বরূপ বলাই যেতে পারে আমরা সারা রাত ঘুমাই তাই মুখ বন্ধ থাকে আর এই চুপ থাকার কারণেই মুখে গন্ধ হয়ে থাকে। আপনি রাতে যতই ব্রাশ করে ঘুমান না কেন সকালে আপনার মুখে খুব খারাপ না হলেও গন্ধ হবেই হবে।

প্রতিকার —— রাতের বলা ছাড়া অর্থাৎ ঘুমানোর সময়টা বাদ দিয়ে আপনি হালকা কথা বলবেন বা বই পড়বেন মুখে আওয়াজ করে। মুখে জল নিয়ে কুলুকুচি করে ফেলবেন। এইরকম জিনিস করলে ফল টা আপনি পাবেন।

4. লজেন্স খেলে

যে ধরণের লজেন্সগুলো দাঁতে বা মুখে লেগে থাকে যেমন, জেলি ধরণের চকলেট, ক্যারামেল চকলেট, ইত্যাদি, এসব লজেন্সগুলো মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়। ফলে মুখের দুর্গন্ধ বাড়তে থাকে প্রতিনিয়ত।

প্রতিকারঃ লজেন্স জাতীয় খাবার বন্ধ করুন। এর পরিবর্তে ডার্ক চকোলেট খান। এতে চিনি কম থাকে এবং এগুলো মখে বা দাঁতে লেগে থাকে না। মুখ দুর্গন্ধ হবে না।

5. দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ

আশ্চর্য হলেও সত্যি যে দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ হতে পারে মুখ দুর্গন্ধের কারণ! যখন দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ ভর করে মনে তখন হাত পা ঘেমে যায়, মাথা গরম হয়ে যায় এবং মুখ শুকিয়ে আসে। ফলে মুখে বাড়তে থাকে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ। সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধের।

প্রতিকারঃ এক গ্লাস দুধ পান করুন। ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকগণের মতে ফ্যাটবিহীন দুধ মুখের দুর্গন্ধ কমাতে বেশ কার্যকরী। কারণ দুধ খেলে মুখে স্যালাইভার পরিমাণ বাড়ে। ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। দুর্গন্ধ কমে।

6. ঠাণ্ডা লেগে নাক বন্ধ থাকলে

একটু অনিয়ম করলে অনেকেই ঠাণ্ডার সমস্যায় পড়েন। অনেকের তো সারাবছরই ঠাণ্ডা লেগে থাকে। মুখের দুর্গন্ধ এই ঠাণ্ডা জনিত সমস্যার কারণে হয়। আমাদের মুখের ভেতরে খাবার হজম করার সুবিধার্থে থাকে লালা বা স্যালাইভা। এই স্যালাইভা শুকিয়ে গেলে মুখে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে থাকে। যখন আমাদের ঠাণ্ডা লাগে তখন আমাদের মুখের ভেতর শুকিয়ে আসে অর্থাৎ স্যালাইভার পরিমাণ কমে যায় এবং ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়ে। ফলে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। প্রতিকারঃ একটি চুয়িং গাম মুখে নিয়ে চিবুতে থাকুন। মুখ আর্দ্র হবে, ফলে দুর্গন্ধ দূর হবে।



Leave A Reply

Your email address will not be published.