দাদা ৫ টাকা দাও না ভাত কিনে খাবো

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম।   আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আজ সম্পূর্ণ আলাদা, সম্পূর্ণ এক অন্য চিত্র তোমাদের সাথে একটু শেয়ার করতে চাই। যদিও এটা আমার নিজের লেখা নয় এটা সম্পূর্ণ সংগৃহিত। তবে আমি এতটুকু  মতন তোমাদেরও চোখ নোনতা হয়ে যাবে গল্প টা পড়লে। না না এটা কোনো গল্প না এটা একটা সত্যি ঘটনা। বা বলা যেতে পারে রুজ কার ঘটনা। আসুন না একটু পড়ি আর তাদের একটু স্মরণ করে ইতাদেরকে একটু ভালোবাসি। দেখবেন অনেকটা ভালো লাগবে। নাম টা আমি দিয়েছি – ” দাদা ৫ টাকা দাও না ভাত কিনে খাবো ”

সিগারেট টানছিলাম, পাশে কেউ গেঞ্জি ধরে টানলো। ঘুরে দেখলাম এক ৭-৮ বছরের একটা ছেলে।
-দাদা ৫ টাকা দাও না।
-৫ টাকায় কি হবে ?
-ভাত খাবো।
-৫ টাকায় ভাত হয় ??
-অল্প করে খাবো।
-(speechless !!) কত টাকা হলে বেশি করে খাওয়া হবে ?
-৫০ টাকা। ভাত ১০ আর তরকারি ৪০। দেবে ?
-হুম দিতে পারবো।
-এত টাকা দেবে !! (চোখে মুখে বিস্ময়) তাহলে ভাত কিনে দিতে হবে না,একটা অন্য জিনিস দেবে ?
-কি জিনিস ?
-ঐ টাকার চাল কিনে দাও। ঘরে নিয়ে যাবো। মা এর সাথে খাবো। ( এটা শুনেই আমার চোখে জল আসলো )
-বাড়িতে কে কে আছে তোমার ?
-মা বোন আর দাদা । মা হাটতে পারেনা। বোন বাড়ি বাড়ি কাজ করে। দাদা চা এর দোকানে থাকে। আমি ভিক্ষা করি।
– তোমার বাবা ?
-চলে গেছে অনেক আগে, মনে নাই।
-হুম। পড়াশোনা কর না ?
-পড়লে ভিক্ষা করতাম কখন ? খাওয়া জুটবে না।
১ কেজি চাল আর কিছু ডিম কিনে দিয়ে বিদায় নিলাম। ৪ জনের সংসারে একদিন চলে যাবে।
খুব অদ্ভুত ভাবে বেড়ে ওঠে ওরা। খুব অল্প বয়সেই জীবনকে বুঝে নিতে শেখে।
৭ বছরে যথাসম্ভব আমি ক্লাশ “টু” এ পড়তাম। বিকালে ছবি আঁকতাম। অবসরে ওটাই শখ ছিল। নিশ্চিন্তে ছবি আঁকতাম। খাবার জুটবে কোথা থেকে এই চিন্তা অন্তঃত ছিলনা। “পড়লে খাওয়া জুটবে কোথা থেকে” এই ধরণের প্রশ্নও মাথায় আসেনি । এগুলো ভাবার জন্য বাবা-মা ছিল।

৫ টাকায় আমি তো ছোটবেলায় কলম কিনেছি। আমার শিক্ষার উপকরণ। সে ৫ টাকায় ভাত খোঁজে। তার বেঁচে থাকার উপকরণ। আর যেই সিগারেট টা খাচ্ছিলাম তার দাম দশ টাকা।
পথের ধুলোয় অদ্ভুত ভাবে বেড়ে ওঠার মাঝেও তাদের মধ্যে বিবেকবোধ তৈরী হয়েছে। ৫০ টাকায় হোটেল থেকে ভাত-তরকারি কিনে খাওয়ার থেকে বাড়িতে পঙ্গু মা আর ভাই বোন কে নিয়ে খাওয়া বেশি তৃপ্তিদায়ক সেই বোধও এই ৭-৮ বছরের অশিক্ষিত মেয়ের মাঝে তৈরী হয়েছে।
শিক্ষায়_শুধুমাত্র_বিবেক_বোধ_শেখায়না।

এর বয়সে রোজ সকালে আমি ভাবতাম আজ স্কুলে গিয়ে টিফিনে কি খেলব, কার পাশে বসবো, স্যারের কোন হোমওয়ার্ক আছে কিনা।
আর এই ছেলেটা ভাবে রোজ সকালে “কোন রাস্তায় ভিক্ষা করলে বেশি টাকা পাবে” আর ৫০ টাকা আমাদের একদিন মোবাইলে খরচ যায় আর ওদের সবাই মিলে এক বেলা খাওয়া হয়ে যায়।
একই স্রষ্টার সৃষ্টি আমরা দুজনই। দুজনই দুজনের বাবা-মা এর সন্তান। স্রষ্টা চাইলে আমার আর স্থান টাও উল্টো হতে পারতো। আমরা ভুলে যাই সব।অনেক অহংকার আমাদের। গরীব দের মানুষ ভাবিনা। কখনও তাদের গায়ে হাত তুলি। কাছে আসলে রুমাল নাকে দিই।আমাদের ভাব ভঙ্গি এমন যে আজ আমাদের যা ভালো পজিশন এর ক্রেডিট আমাদের।

শেষ কথা 

আমি আগেই বলেছিলাম যে গল্পটা আমার লেখা নয় এটা ৯৫ শতাংশ সংগৃহিত। আর এটা কোনো গল্প নয় ব্যাপারটা সম্পূর্ণ সত্যি ঘটনা। আজ আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে একটা কথা বলতে চাই। আমি বা আমরা জানি রাস্তা ঘাট এ অনেক মানুষ আছেন যারা এইভাবে দুটো খাবারের জন্য ঘোড়া ফেরা করে। কি আর করবে বলুন , খিদে এমন একটা জিনিস কোনো কিছুই মানে না। তবে একটা কথা আমি জানি যে কিছু কিছু মানুষ জন আছে যেটা ব্যাবসার স্থান নিয়েছে। তাই আমি সবার কাছে অনুরোধ করছি যে তোমরা যদি এমনটা কোথাও দ্যাখো দু পাঁচ টাকা হাতে না দিয়ে একটু যদি পাশে বসিয়ে খাইয়ে দাও বা কোনো কিছু খাবার কিনে খাইয়ে দাও দেখবে আর কিছু পাও না পাও একটা বিশাল বড়ো শান্তি পাবে এটা আমার বিশ্বাস। ভালো থাকবেন,ভালো রাখবেন।



2 Comments
  1. Sananda Majumdar says

    ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি বাস্তবীক লেখা আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য। সবাই এভাবে ভাবলে হয়তো কিছু মানুষের মুখে হাসি ফুটানো সম্ভব।

    1. santanu paul says

      অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন

Comments are closed.