ত্বকের দাগ দূর করার ঘরোয়া কৌশল

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম।   আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আমরা আমাদের ত্বক নিয়ে অনেকটা  চিন্তা করি সব সময়। কিভাবে আমাদের ত্বক একটু ভালো রাখতে পারি। সত্যি কথা বলতে ত্বকের রং যেমনি হোক না কেন ত্বক যদি পরিস্কার না থাকে তাহলে কারোরই সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না।  তাই রঙ ফর্সাকরার দিকে নজর না দিয়ে  নয় বরং ত্বকের দাগ দূর করার দিকে নজর দিন। আজকে জেনে নিন ব্রণের দাগ, রোদে পোড়া দাগ বা অন্যান্য সমস্যায় ত্বকে দাগ পড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকার ঘরোয়া গোপন কিছু  কৌশল। কালো দাগ দূর করার, ত্বকের দাগ দূর করতে মধু, কালো দাগ দূর করার মলম, ব্রণের দাগ দূর করার মলম, ব্রণের দাগ দূর করার মেডিসিন, মুখের কালো দাগ দূর করার নিয়ম, মুখের যেকোন দাগ দূর করার উপায়, মুখে সাদা দাগ দূর করার উপায় ইত্যাদি ইত্যাদি।

মুখে, বিশেষ করে দুই গালে, কপালে, গলায়, পিঠে একটা বয়সের পর দাগ-ছোপ পড়ে মোটামুটি সব মহিলারই। তবে যাঁরা নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেন, রোদের হাত থেকে সুরক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন, তাঁরা দীর্ঘদিন এই ধরনের স্পটের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে সক্ষম হন। তাই ত্বকের যত্নআত্তির ব্যাপারে কোনওরকম সমঝোতা না করাই ভালো। নিয়মিত ক্লেনজ়িং, টোনিং, ময়েশ্চরাইজ়িংয়ের রুটিন মেনে চলুন। রাতে শুতে যাওয়ার আগে নিশ্চিত করুন ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকছে। মনে রাখবেন যে আমরা আজকাল দিনের অনেকটা সময়, এমনকী রাতের বেলাতেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকি। তাই যতটা আন্দাজ করা যায়, আসলে আপনার ত্বকের তার চেয়ে অনেক বেশি আর্দ্রতা প্রয়োজন। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, সুইট আমন্ড অয়েলও ময়েশ্চরাইজ়ার হিসেবে খুব কাজের। আপনার ত্বকের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো, সেটা কেবল বুঝে নিতে হবে।

ত্বকের দাগ দূর করার গোপন কিছু ঘরোয়া কৌশল,বড় কোনো আঘাত থেকে সৃষ্টি ক্ষতের দাগ যে কেবল ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে তা নয়। বরঞ্চ ব্রণের দাগ, বসন্তের দাগ, পোকা কামড়ানোর দাগ সবই কিন্তু মুখে নিজের উপস্থিতির ছাপ রেখে সৌন্দয যায়।

টমেটো ও বেসনের মাস্ক

বেসন ত্বকের দাগ দূর করতে অনেক আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বকের নানা ধরণের দাগ দূর করতে এর জুড়ি নেই।

 

  •  ২ টেবিল চামচ বেসনের সাথে প্রয়োজন মতো টমেটো রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন।
  •  এরপর এই পেস্টটি মুখ, ঘাড় ও গলায় ভালো করে লাগিয়ে নিন।
  • ১৫ মিনিট পর জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করবেন এই মাস্কটি।

 শসা ও লেবুর রসের মাস্ক

লেবুর রসের ব্লিচিং এজেন্ট ত্বকের দাগ ফিকে হয়ে আসতে সহায়তা করে এবং শসা প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার হিসেবে ত্বকের যত্ন নেয়।

৩ টেবিল চামচ শসা ও ৩ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রন তৈরি করে নিন।

এই মিশ্রণটি মুখ, ঘাড় ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট।

এরপর সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এই মাস্কটি প্রতিদিনই ব্যবহার করতে পারবেন।

 দুধ, মধু ও লেবুর রসের মাস্ক

প্রাচীনকাল থেকেই দুধ ও মধু রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন উপাদান বলে এর কদর রয়েছে বেশ।
  • ১ টেবিল চামচ দুধ, ১ টেবিল চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন ভালো করে।
  •  এরপর মুখ, ঘাড় ও গলায় লাগিয়ে রাখুন মাত্র ১০ মিনিট।
  • জল দিয়ে ধুয়ে নিন ভালো করে এবং তোয়ালে আলতো চেপে মুখ শুকিয়ে ফেলুন।
  • সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

 

কোন কোন কারণে ত্বকে কালো ছোপ পড়ার আশঙ্কা বাড়ে

রোদ

ত্বকের নিদাগ উজ্জ্বলতার সবচেয়ে বড়ো শত্রু হচ্ছে সূর্যের চড়া আলো। রোদে বেরনোর আগে অতি অবশ্যই মুখসহ শরীরের সব খোলা অংশে সানস্ক্রিনের প্রলেপ লাগান। সাঁতার কাটার সময় ব্যবহার করুন ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন। সানস্ক্রিনের আস্তরণ না থাকলে আপনার ত্বক নিজেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বেশি বেশি করে মেলানিন তৈরি করবে। ফলে গাঢ় দাগের সংখ্যাও বাড়বে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

হরমোনের অতিরিক্ত বেশি বা কম ক্ষরণের জন্য আপনার ত্বকে গাঢ়রঙের দাগ-ছোপ পড়তে পারে। প্রেগন্যান্সি বা মেনোপজ়ের কারণেও হরমোনের স্তরে ভারসাম্যের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে মেলানিনের উৎপাদনেও সাম্য থাকে না। ফলে মুখে, কাঁধে, গলায় ছোপ-ছোপ দাগ দেখা দিতে পারে।


ত্বককে রোমহীন রাখার অনন্ত প্রচেষ্টা

বহু মহিলাই ত্বকের বাড়তি রোমের আস্তরণ সরিয়ে ফেলতে চান। সে কারণে রোম তোলার ক্রিম, টুইজ়ার, ওয়্যাক্স ইত্যাদি নানা পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু নিরন্তর এই প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে ত্বকের স্পর্শকাতরতা বাড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে দাগ-ছোপের আশঙ্কাও।


ব্রণ বা চোট-আঘাতের দাগ

ব্রণ বা ফোড়া হলে খুঁটবেন না, হাত লাগাবেন না বেশি। তা হলে কিন্তু দাগ চট করে মিলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।কোন কোন ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে এই দাগ মিলিয়ে যেতে পারে। 

 

লেবুর রস আর জলের মিশ্রণ

একমাত্র আপনার চোখের চারপাশটা বাদ দিয়ে মুখে বা গলার অন্যত্র প্রতি একদিন অন্তর লেবুর রস আর জলের মিশ্রণটা লাগিয়ে দেখতে পারেন। চলতে পারে লেবুর রস আর মধুর মিশ্রণও। লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। এর সাইট্রিক অ্যাসিড আর ভিটামিন সি ক্রমশ গাঢ় কালো ছোপ হালকা করে দেয়। আপনার ফেস মাস্কেও লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। তবে তাজা রসই ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, বোতলবন্দি লেবুর নির্যাসে কিন্তু প্রিজ়ারভেটিভ থাকে। তা থেকে বাড়তে পারে ত্বকের প্রদাহ।


ভিটামিন ই তেল

যদি আপনার ভিটামিন ই তেলে কোনও অ্যালার্জি থাকে, তা হলে আলাদা কথা। না হলে দাগ-ছোপে সরাসরি তা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল কিনে এনে তা থেকে তেল বের করে নিয়েও সরাসরি দাগের উপর লাগানো সম্ভব। তবে যাঁদের ব্রণর ধাত আছে, তাঁরা আমন্ড, সানফ্লাওয়ার সিডস, শুকনো অ্যাপ্রিকট ইত্যাদি রাখুন খাদ্যতালিকায়।

শেষ কথা 

শেষ কথা বলতে তেমন কিছু বলবো না। একটা কোথায় বলতে চাই কোনো কিছু চিন্তা না করে আজকেই আপনার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার জন্য আমার এই ঘরোয়া টোটকা ব্যাবহার করতে পারেন। ভালো থাকবেন।



Comments are closed.