তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও গুণাগুণ

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম।   আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। বন্ধুরা আমরা তেতুল অনেকেই চিনি মানে সবাই চিনি। তবে এই তেতুল কথাটা বাংলা। আমরা বাঙালিরা এটাকে তেতুল বলেই চিনি ও খাই। তবে এটার হিন্দি নাম ইমলি। আজ আমি তোমাদের বলবো বেশ কিছু তেতুলের গুনাগুন। আমরা জন্য যে – তেঁতুল বীজের উপকারিতা, তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, কাঁচা তেতুলের উপকারিতা, তেতুলের বিচির খাওয়ার উপকারিতা, তেঁতুলের বীজ খেলে কি হয়, তেতুলের বিচির গুড়ার উপকারিতা, তেতুলের বিচির উপকারিতা কি, তেঁতুল খাওয়ার নিয়ম, ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে আর সময় নষ্ট না করে আমরা চলে যাই মূল পর্বে।

তেঁতুল বৈজ্ঞানিক নাম:

Tamarindus indica,

ইংরেজি নাম

Melanesian papeda

 তেঁতুলের নাম শুনলে জিভে জল আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। টক তেঁতুল মুখে দিলে আমাদের যে ভিন্ন এক অনুভূতি হয় তা নিশ্চয়ই বলতে হবে না। আমাদের অনেকেরই ধারণা তেঁতুল খেলে রক্ত জল হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তেঁতুল কোনোভাবেই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে খুব উপকারী। তেঁতুল বসন্ত-কালের ফল হলেও বছরের সব সময়ই পাওয়া যায়।   এটি এক প্রকার টক ফল বিশেষ। তেঁতুল  এর বোটানিকাল নাম, তামারিন্দুস ইন্ডিকা (Tamarindus indica)। দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে মূল্যবান খাবারের মধ্যে তেতুল অন্যতম। তেতুলের সুরেলা নামটি “তামর-ই-হিন্দ” ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে যার অর্থ “ভারতের খেজুর”। এটি সারাবিশ্বের কাছে রস আস্বাদনের একটি ফল হিসেবে পরিচিত। আফ্রিকার স্থানীয়রা বলেন, এই বহিরাগত ফল অতি লম্বা একধরণের গাছে জন্মায় যা এশিয়া, মেক্সিকো, ভারত এবং বাংলাদেশের শুষ্ক অঞ্চলে জন্মায়।

তেঁতুল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। তেঁতুল ও তেঁতুলের পাতায় রয়েছে বহু প্রকার স্বাস্থ্যগুণ। আসুন দেখে নেওয়া যাক কি কি গুণ রয়েছে এই তেঁতুলে। টক খেতে পছন্দ করে না এমন নারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অনেকেরই ধারণা তেঁতুল খেলে রক্ত জল হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তেঁতুল কোনোভাবেই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।

আবার অনেকেই মনে করে তেঁতুল মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। কিন্তু আসলে এই ধারনাটি সঠিক নয়। তেঁতুল মস্তিষ্কের জন্য উপকারি। তেঁতুলের এসকর্বিক এসিড খাবার থেকে আয়রন আহরণ, সংরক্ষণ এবং তা বিভিন্ন কোষে পরিবহন করে। যা মস্তিষ্কের জন্য খুব প্রয়োজন। মস্তিষ্কে আয়রনের পর্যাপ্ত সরবরাহ চিন্তা ভাবনার গতি বৃদ্ধি করে। তেঁতুলগাছের পাতা, ছাল, ফলের শাঁস (কাঁচা ও পাকা), পাকা ফলের খোসা, বীজের খোসা সব কিছুই উপকরী। এর কচিপাতায়  রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে এমাইনো এসিড। পাতার রসের শরবত সর্দি-কাশি, পাইলস ও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় বেশ কাজ দেয়। তেঁতুল চর্বি কমানোয় বেশ বড় ভূমিকা রাখে। তবে তা দেহের কোষে নয় রক্তে। এতে কোলস্টেরল ও ট্রাইগ্রাইসেরাইডের মাত্রা এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

দেখা যায়, পুরোনো তেঁতুলের কার্যকারিতা বেশি। যদি পেট ফাঁপার সমস্যা থাকে এবং বদহজম হয়, তাহলে পুরোনো তেঁতুল এক কাপ পানিতে ভিজিয়ে সামান্য লবণ, চিনি বা গুড় দিয়ে খেলে অসুবিধা দূর হয়। আবার হাত-পা জ্বালা করলেও এই শরবতে উপকার পাওয়া যায়। প্রয়োজনে টমেটোর সসের পরিবর্তে তেঁতুলের সস বা আচার খাওয়া যেতে পারে। যদি তেঁতুলের সঙ্গে রসুনবাটা মেশানো যায়, তাহলে রক্তের চর্বি কমানোর কাজে ভালো ফল দেয়।

তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

1. রক্তের কোলেস্টেরল কমায়

2. শরীরের মেদ কমাতে সহায়ক

3. তেঁতুল দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী

4. পেটে গ্যাস, হজম সমস্যা, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী

5. খিদে বাড়ায়

6. গর্ভাবস্থায় বমি বমি ভাব দূর করে

7. মুখের লালা তৈরি হয়

8. তেঁতুল পাতার ভেষজ চা ম্যালেরিয়া জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়

9. শিশুদের পেটের কৃমিনাশক

10. তেঁতুল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে

11. পাইলস নিরাময়ে উপকারী

12. তেঁতুল রক্ত পরিস্কার করে

13. বাত বা জয়েন্টগুলোতে ব্যথা কমায়

14. ভিটামিন সি-এর বড় উৎস

15. পুরনো তেঁতুল খেলে কাশি সারে

16. পাকা তেঁতুলে খনিজ পদার্থ অন্য যে কোনো ফলের চেয়ে অনেক বেশি

17. খাদ্যশক্তিও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে

18. ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১৭ গুণ বেশি

19. আর আয়রনের পরিমাণ নারকেল ছাড়া সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি।

20. ব্রণ-অ্যাকনেতেও উপকারী তেঁতুল। মরা কোষ তুলতে ও ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে তেঁতুল ৷ এছাড়া গবেষণায় দাবি তেঁতুল আল্ট্রাভায়োলেট রে থেকে ত্বককে রক্ষা করে ৷

শেষ কথা 

 তেঁতুল আমাদের দেশের বসন্তকালের টকজাতীয় ফল হলেও সারা বছর পাওয়া যায়। তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ভেষজ গুণ। তেঁতুল দেহে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী। তেঁতুল দিয়ে কবিরাজি, আয়ূর্বেদীয়, হোমিও ও এলোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করা হয়। পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ সব ফলের চেয়ে অনেক বেশি। খাদ্যশক্তির পরিমাণ নারিকেল ও খেজুর ছাড়া সব ফলের চেয়ে অনেক বেশি। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি আছে। অন্যান্য পুষ্টি উপাদান স্বাভাবিক পরিমাণে আছে এ তেঁতুল যেসব রোগের জন্য উপকারী তা হলো স্কার্ভি রোগ, কোষ্ঠবদ্ধতা, শরীর জ্বালা করা প্রভৃতি রোগে তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী। তেঁতুল রক্তের কোলস্টেরল কমায়। মেদভুঁড়ি কমায়। পেটে গ্যাস হলে তেঁতুলের শরবত খেলে ভালো হয়। তেঁতুল খেলে কোনো ক্ষতি হয় না। তবে বেশি খেলে রক্তের চাপ কমে যেতে পারে।



Comments are closed.