হার্নিয়া কি – Hernia Symptoms, Treatment

0

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় 

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম। আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। বন্ধুরা হার্নিয়া এর ব্যাপারে আমরা অনেকেই জানি, আবার অনেকেই জানিনা। কি এই হার্নিয়া ? আমরা আরও জন্য যে – হার্নিয়া প্রতিরোধ, হার্নিয়ার ভেষজ চিকিৎসা, হার্নিয়া হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, নবজাতকের হার্নিয়া, হার্নিয়া হোমিও ঔষধ, হার্নিয়া রোগের হোমিও চিকিৎসা ইত্যাদি ইত্যাদি। হার্নিয়া কি ,কয় ধরনের এবং কেন হয় ? ️ কিভাবে বুঝবেন যে হার্নিয়া হয়েছ ? ️কিভাবে চিকিৎসা করে ️চিকিৎসা না করলে কি বিপদ হতে পারে?

হার্নিয়া আমাদের দেশে সচরাচর দেখা যায় এমন একটি পরিচিত রোগ যাতে নাড়িভূড়ির একটি অংশ উদরগ্রাত্র ভেদ করে অণ্ডথলিতে নেমে যায়। মানুষের পেটের ভিতরে খাদ্যনালী মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তিত , এবং এটি ২০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়৷ হার্নিয়ার ক্ষেত্রে পেটের কিছু দুর্বল অংশ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ বিশেষ অণ্ডথলিতে চলে আসে৷ তখন কুচকি এবং অণ্ডথলি অস্বাভাবিক ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়৷

আমরা হার্নিয়া বলতে শুধু ছেলেদের কোথায় ভাবি কিন্তু না বন্ধুরা, হার্নিয়া এমন একটা প্রব্লেম যা ছেলে মেয়ে উভয়েরই হয়ে থাকে।

হার্নিয়া বলতে কী বোঝানো হয়?

আমাদের পেট যেটি, এটি ক্লোজ ক্যাভেটি। এই ক্লোজ ক্যাভেটি  থেকে পেটের দেয়াল যেটি রয়েছে, দুর্বল অংশ দিয়ে যদি চর্বি বের হয়ে যায়, সাধারণত একে আমরা হার্নিয়া বলি।

হার্নিয়ার কারণ 

কেন হয়, কখন হয়? এটি কয়েকটি ভাগে ব্যাখ্যা করা যায়। একটি হলো জন্মগত ত্রুটির জন্য হতে পারে। আরেকটি হলো জন্মের পরে বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কোনো কারণে যদি একটি অস্ত্রোপচার হয়, সেখানে একটি দুর্বল অংশ তৈরি হয়।

অথবা দেখা গেল, একজন রোগী খুব স্থূল অথবা দেখা গেল সে গর্ভবতী হয়েছিল অথবা দেখা গেল তার দীর্ঘ মেয়াদে কফ অথবা তার কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা প্রস্রাব করতে গেলে তাকে বেগ দিয়ে প্রস্রাব করতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদে যদি সে এই কাজটা করে, তাহলে তার দুর্বল পয়েন্ট যেটি রয়েছে, সেটি দিয়ে তার পেটের ভেতরের খাদ্যনালি অথবা ওমেন্টামের পাশে যে চর্বি থাকে, দুটোই বের হয়ে যেতে পারে। একেই আমরা হার্নিয়া হিসেবে বলি। এবং এগুলোকেই আমরা কারণ হিসেবে বলি।

জটিলতা 

অপারেশনের মাধ্যমে হার্নিয়া ঠিক না করলে ক্রমে হার্নিয়া বড় হতে থাকে। বড় হার্নিয়া চারপাশের টিস্যুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে-পুরুষের ক্ষেত্রে হার্নিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হলো যখন অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালের দুর্বল জায়গায় আটকে যায়। এ সময়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, বমি বমি ভাব ও বমি হয় এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়, কিংবা বায়ু চলাচল করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে অন্ত্রের আটকে পড়া অংশে রক্ত চলাচল কমে যায়-এ অবস্থাকে বলে স্ট্রাংগুলেশন-যার কারণে আক্রান্ত অন্ত্রের টিস্যুর মৃত্যু ঘটতে পারে। স্ট্রাংগুলেটেড হার্নিয়া একটি জীবন মরণ সমস্যা, এ ক্ষেত্রে জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

উপসর্গ

ইনগুইনাল হার্নিয়ার অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে-
০ কুঁচকিতে ব্যথা বা অস্বস্তি হওয়া, বিশেষ করে ঝুঁকে কাজ করলে, কাশি দিয়ে কিংবা ভারী কিছু তুললে।
০ কুঁচকিতে ভারী বা টানবোধ করা।
০ মাঝে মধ্যে ফোলা অন্ডথলিতে নেমে আসে, অন্ডকোষের চারপাশে অন্ডথলি ব্যথা করে ও ফুলে ওঠে।

শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ 

প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় পাঁচজনের ইনগুইনাল হার্নিয়া থাকে। জন্মের সময় পেটের দেয়াল দুর্বল থাকার কারণে নবজাতক ও শিশুদের ইনগুইনাল হার্নিয়া হয়। কখনো কখনো হার্নিয়া দৃশ্যমান হয় শুধু নবজাতক কাঁদলে, কাশি দিলে কিংবা মলত্যাগের সময় কোৎ দিলে। বয়স্ক শিশুদের হার্নিয়া চোখে পড়ে যখন তারা কাশি দেয় অথবা মলত্যাগের সময় চাপ দেয় অথবা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। শিশুদের হার্নিয়া হলে দু’বছর বয়সের মধ্যে জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি থাকে। কারণ শিশুরা বিভিন্ন কারণে প্রায়ই কাঁদে, যার ফলে হার্নিয়া আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বারবার ঘটে। তাই অভিজ্ঞ সার্জনের দ্বারা দ্রুত অপারেশন করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রতিরোধ 

যদি আপনার জন্মগত ত্রুটি থাকে যার কারণে ইনগুইনাল হার্নিয়া হতে পারে-সেটা আপনি প্রতিরোধ করতে পারবেন না, তবে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চললে পেটের মাংসপেশি ও টিস্যু  টান কমাতে পারবেন।

1. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন – যদি আপনার স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ব্যায়াম ও খাদ্যগ্রহণ করুন।

2. কোষ্ঠকাঠিন্য  – উচ্চ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য ও টানটান অবস্থা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

3. ভারী বস্তু উত্তোলনে সতর্ক হোন – পারত পক্ষে ভারী বস্তু উত্তোলন করবেন না। যদি একান্তই উত্তোলন করতে হয় তাহলে সর্বদা হাঁটু ভাঁজ করে শুরু করবেন, কখনো কোমর বাঁকাবেন না।

4. ধূমপান বন্ধ করুন – ধূমপান আপনার মারাত্মক রোগ যেমন ক্যান্সার, এমফাইসেমা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ছাড়া ধূমপান সচরাচর দীর্ঘস্থায়ী কাশির সৃষ্টি করে, যা ইনগুইনাল হার্নিয়া সৃষ্টিতে উৎসাহ জোগায়।

চিকিৎসা 

যদি আপনার হার্নিয়া ছোট থাকে এবং আপনার কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে তাহলে আপনার চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ করার কথা ও অপেক্ষা করার কথা বলতে পারেন। কিন্তু হার্নিয়া যদি বড় হতে থাকে এবঙ ব্যথা হয় তাহলে অস্বস্তি দূর করতে ও মারাত্মক জটিলতা প্রতিরোধ করতে সাধারণত অপারেশনের প্রয়োজন হয়। হার্নিয়ার দু’ধরনের সাধারণ অপারেশন করা হয়

Leave A Reply

Your email address will not be published.