পটাশিয়ামের অভাবে কি হয় – পটাশিয়াম বেড়ে গেলে কি হয়

বন্ধুরা আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম।   আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। আমরা জেনে নেবো যে – পটাশিয়াম আসলে কি ? পটাশিয়ামের অভাবে কি রোগ হয়, রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে কি হয়, পটাশিয়ামের অভাবে কি হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। 

বন্ধুরা আমরা অনেকেই জানি আবার অনেকেই জানি না এই পটাশিয়াম এর ব্যাপারে। পটাশিয়াম হল শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। পটাশিয়াম উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। পটাশিয়াম শরীরে ফ্লুইড ও মিনারেলসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। তাই শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে নানান রকমের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। জেনে নিন কিছু লক্ষণ সম্পর্কে যেগুলো মিলে গেলে বুঝতে পারবেন আপনার শরীরে পটাশিয়ামের অভাব আছে।

ক্লান্তি

আপনার শরীরের প্রতিটি কোষেরই পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম প্রয়োজন। আর তাই পটাশিয়ামের অভাব হলেই আপনাকে ক্লান্তি কাবু করে ফেলতে পারবে খুব সহজেই। আপনার যদি পর্যাপ্ত ঘুম ও খাওয়ার পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয় তাহলে আপনার শরীরে পটাশিয়ামের অভাব থাকার সম্ভাবনা আছে।

উচ্চ রক্তচাপ

পটাশিয়ামের কাজ হলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। তাই শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যায় তাহলে এই সমস্যার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে পটাশিয়ামের অভাব।

মাংশপেশীর দূর্বলতা

পটাশিয়াম শরীরের মাংশপেশী গুলোকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। আপনার মাংসপেশি যদি দূর্বল মনে হয় কিংবা মাংসপেশীতে ঘন ঘন টান খাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে আপনার শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা আছে।

হৃৎপিন্ডের গতির তারতম্য

আপনার হৃৎপিন্ডের গতি যদি হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায় কিংবা একেবারে কমে যায় তাহলে আপনাকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কারণ শরীরে পটাশিয়ামের অভাবে হৃৎপিন্ডের গতির তারতম্য হতে পারে। বুক ধড়ফড় করার সমস্যাও পটাশিয়ামের অভাবে হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

পটাশিয়ামের অভাব হলে শরীরের হজম প্রক্রিয়ায় গড়মিল দেখা দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও ঘন ঘন পেট ব্যাথাবমি ভাব হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

 

পটাশিয়ামযুক্ত খাবার

 

1. সাদা ও মিষ্টি আলু

একটি মিষ্টি আলুতে ৪৩৮ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম থাকতে পারে। অন্যদিকে, সাদা আলুর ক্ষেত্রে এ পরিমাণ হতে পারে দ্বিগুণ, প্রতিটি আলুতে ৯৫০ মিলিগ্রাম। দুই ধরনের আলুতেই উচ্চমাত্রায় ভিটামিন-এ বিদ্যমান।

2. বীট

মাত্র ১ কাপ বীটে পাওয়া যেতে পারে ৬৫৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। বাড়তি হিসেবে পাচ্ছেন ফলেট, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আঁশ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-সি, আয়রন এবং ভিটামিন বি-৬

3. টমেটো সস

টমেটো সস যে পটাশিয়ামের ভালো উৎস হতে পারে তা শুনে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। তবে পিজা, পাস্তা ও বার্গারসহ ফাস্টফুডে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এ সসের এক কাপে থাকতে পারে ৯০৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম।

4. মটরশুটি

আশ্চর্যজনক ভাবে, মটর শুঁটি থেকে আপনি পেতে পারেন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম। এক কাপ মটর শুঁটিতে থাকতে পারে ১ হাজার ১৯০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম, যা প্রতিদিনকার প্রয়োজনের চার ভাগের এক ভাগ। এছাড়া উপরি পাওনা হিসেবে প্রোটিন, আঁশ ও ভিটামিন তো রয়েছেই।

5. তরমুজ

মাত্র দু’ফালি তরমুজে থাকতে পারে ৬৪০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম। পাশাপাশি তরমুজের প্রধান খাদ্য উপাদান হচ্ছে লাইকোপেন, যেটি এক ধরনের উদ্ভিদ পিগমেন্ট। ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে লাইকোপেনের ভূমিকা বহুলভাবে স্বীকৃত।

6. দই

ক্যালসিয়ামের একটি অন্যতম প্রধান উৎস হলো দই, পাশাপাশি প্রতি কাপ দই এ ৩৮০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। সঙ্গে এক টেবিল চামচ হ্যাজেলনাট আইসক্রিম মিশিয়ে নিলেই হলো। পেয়ে যাবেন বাড়তি ২১১ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, যা সমপরিমাণ কলায় উপস্থিত পটাশিয়ামের থেকেও বেশি।

শরীর সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পটাশিয়ামের উৎস হিসেবে এখন থেকে কলার পাশাপাশি এসব খাবারও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।



Comments are closed.