মেডিটেশন, মেডিটেশন এর উপকারিতা – Benefits of Meditation

আগেই বলে নিচ্ছি কেননা আপনারা পরে ভুলে যান। বাকি বন্ধুদের সাহায্যের উদ্দেশে লাইক আর শেয়ারটা  মনে করে করে দেবেন। শুরু করছি আজকের বিষয় –


নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই chalokolkata.com এ স্বাগতম।   আশা করি সবাই আপনারা ভালোই আছেন আর  সুস্থ আছেন। আজ আমি  আপনাদের সবার জন্য একটা দারুন টপিক নিয়ে কথা বলবো সেটা হল – মেডিটেশন

বন্ধুরা আমরা আমাদের দেহকে সুস্থ রাখার জন্যে অনেকেই অনেক কিছু করি। কেউ সকালে হাঁটি, ব্যায়াম করি, স্বাস্থ্যকর খাবার খাই ইত্যাদি। কিন্তু ছাত্রজীবনে উন্নতি সাধন করার জন্য দেহকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আমাদের মনকেও সুস্থ রাখা প্রয়োজন; যে কাজটা আমরা খুব সহজেই করতে পারি মেডিটেশনের মাধ্যমে।

আমরা অনেকেই এই মেডিটেশন বাড়িতে, মন্দিরে বা অনেক শান্তিপূর্ণ জায়গায় করে থাকি। কিন্তু বন্ধুরা এই মেডিটেশন করার লোক কিন্তু খুউব কম। আপনারা কি জানেন যে এই মেডিটেশন করলে কি কি উপকার পাওয়া যায়। তাহলে চলুন আজ আমরা জন্য যে  মেডিটেশন এর উপকারিতা, আমরা আরও জন্য জানবো যে, মেডিটেশনে বসার নিয়ম, ধ্যান মানে কি, ধ্যানের প্রকারভেদ, ধ্যানের শক্তি, ইসলামে ধ্যান করার নিয়ম, মেডিটেশন বই, ধ্যান কাকে বলে, মেডিটেশন কীভাবে করে ইত্যাদি ইত্যাদি।

1. মনোযোগ বৃদ্ধি

বন্ধুরা আমরা সবাই জানি যে পড়ার টেবিলে মনযোগ স্থির রাখা আমাদের সবার জন্যই কিছুটা কঠিন। বিশেষ করে পরীক্ষার দিনগুলোতে একটি বিষয়ের উপর অনেক্ষন মনোযোগ ধরে রাখা সত্যি কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে এই কষ্টসাধ্য ব্যাপারটাকে আমাদের সবার জন্য কিছুটা সহজ করে দিতে পারে মেডিটেশন। পরীক্ষার দিনগুলোতে দৈনিক কিছুক্ষণ মেডিটেশন তোমার মনোযোগ ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে। মেডিটেশন তোমার চিন্তা শক্তিকে একটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত করতে শেখাবে, যার ফলে তোমার যে কোনো একটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পড়ার সময় অন্য সব রকম চিন্তা মাথা থেকে দূর হবে।

ধ্যান মন্ত্র ও তার পদ্ধতি – Meditation Methods In Bengali

2. লেভেল বৃদ্ধি

বন্ধুরা আমরা সবাই কিন্তু নিজেকে একটু আধটু স্মার্ট ভাবতে পছন্দ করি। এখন যদি বলি এমন একটা জিনিস আছে যা আমাদের IQ লেভেল আসলেই বাড়িয়ে দিতে পারে তাহলে নিশ্চয়ই অবাক হবে! গবেষকদের মতে মেডিটেশন আসলেই আমাদের IQ লেভেল বাড়িয়ে দিতে পারে। ২০১১ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে করা এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৮ সপ্তাহ বা তার বেশি মেডিটেশনের ফলে আমাদের মস্তিষ্কের “LEFT HIPPOCAMPUS, “POSTERIOR CINGULATE CORTEX” এবং“TEMPORO PARIETAL JUNCTION” অংশ আয়তনে বৃদ্ধি লাভ করে। এতে আমাদের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি ও নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

3.খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগে সহায়ক

ছাত্রজীবনের কিছু অভ্যাস আছে যেগুলো আমরা খারাপ জেনেও সহজে ত্যাগ করতে পারি না। এর কারণ যথেষ্ট ইচ্ছাশক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব; যার জন্য দায়ী মস্তিষ্কের সম্মুখ অংশের। মেডিটেশন dlPFC কে প্রভাবিত করে যার ফলে আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায় এবং বাজে অভ্যাসগুলো আমরা সহজে ত্যাগ করতে পারি।

4. আত্ম-নিমগ্নতা 

মেডিটেশন মানে একজন মানুষের নিজের গভীরে নিমগ্ন হওয়া এবং অন্তরতম আমি-র সাথে সংযুক্ত হওয়া। তখনই একজন মানুষের অনুভবের দরজা খুলে যায় এবং সে নতুন সত্যকে অনুভব করতে পারে।

5.শারীরিক সুস্থতা

সঠিকভাবে জ্ঞান অর্জন ও পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো শারীরিক সুস্থতা। তুমি যতই ভালোভাবে প্রস্তুতি নাও না কেন, শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকলে তুমি কখনোই পরীক্ষায় তোমার ১০০% দিতে পারবে না। মেডিটেশন আমাদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আমাদের শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতেও সাহায্য করে। মেডিটেশন আমাদের দেহে C-Reactive Protein এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়।

6. Depression কে বিদায়, এবার আনন্দের পালা!

শিক্ষার্থীর একজন ছাত্রজীবনে কোন না কোন সময় Depression বা বিষণ্ণতায় ভোগে। পড়াশোনায় চাপ, খারাপ রেজাল্ট বা বন্ধুদের সাথে দ্বন্দ্ব; যে কারণেই হোক না কেন- বিষণ্ণতা আমাদের দেহ ও মন উভয়ের জন্যই খুবই ক্ষতিকর। এমনকি প্রতিবছর ১০০০ এর বেশি ছাত্র শুধুমাত্র বিষণ্ণতার কারণেই আত্মহত্যা করে! বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার অন্যতম সেরা উপায় হলো মেডিটেশন। এছাড়াও মেডিটেশন একজন ছাত্রের বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩১% কমিয়ে দেয়।

7. ব্রেনকে বেশি পরিমাণে ব্যবহার

মানবদেহের সবচেয়ে জটিল, রহস্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে ব্রেন বা মস্তিষ্ক। ব্রেনই মানুষকে প্রথম পাথরের অস্ত্র তৈরি করতে শিখিয়েছে। আর সেই ব্রেনের জেনেটিক উত্তরসূরীরাই বানিয়েছে মহাশূন্য যান। মানুষ অতীতে যা করেছে, ভবিষ্যতে যা করবে তা এই ব্রেনেরই ফসল। ব্রেনই মানুষকে মানুষ বানিয়েছে। এই ব্রেনকে বেশ পরিমাণে কাজে লাগাবার জন্যে যে সুসংহত মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন তা গঠনেই সাহায্য করে মেডিটেশন।

8. মনের অন্তস্থলের খবর জানতে সাহায্য করে

আমরা কতোজন জানি আমাদের মনের ভেতরেই কী চলছে? বাইরে এক ধরনের মনোভাব পোষণ  করি আর ভেতরে ভেতরে মুষড়ে শেষ হয়ে যাই। নিয়মিত মেডিটেশন চর্চার মাধ্যমে আপনি আপনার অন্তস্থলের সকল খবর জানতে সমর্থ হবেন।

9. শান্ত হতে সাহায্য করে

মেডিটেশন আমাদের মন-মেজাজ সব সময় শান্ত রাখতে সাহায্য করে। আত্মার শান্তি লাভ করা যায় এর মাধ্যমে। ঘুম থেকে ওঠার পর পর এবং ঘুমানোর আগে অল্প একটু সময় মেডিটেশনে ব্যয় করলে সারাদিন ভালো কাটে এবং ঘুম ও ভালো হয়।

10. মনোযোগশক্তি বাড়ায়

মেডিটেশন পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র কিংবা যেকোন কাজে মনোযোগ শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছাত্র থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মক্ষেত্রের মানুষের প্রত্যহ মেডিটেশনের চর্চা করা উচিৎ।

কিভাবে করবেন ?

মেডিটেশনের চর্চা করা কিন্তু খুব কঠিন কাজ হয়। প্রত্যহ সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা কার্ডিও কিংবা যোগব্যায়ামের পর ধ্যান করতে বসুন। এমন নয় যে পাক্কা তিরিশ মিনিট আপনাকে এতে ব্যয় করতে হবে। পাঁচ-দশ মিনিট করে শুরু করুন। সম্পূর্ণ মনোযোগ একত্রিত করার চেষ্টা করুন। আপনি চাইলে হালকা ধাঁচের গানও শুনতে পারেন। তবে গানের প্রতিই যেন মনোনিবেশ না করেন, সেদিকেও লক্ষ্য রাখবেন। আপনার নিত্যদিনের চলার পথে মেডিটেশন কিংবা ধ্যান হোক অন্যতম উপকারী অনুষঙ্গ

শেষ কথা 

মেডিটেশন বা ধ্যান মনের এমন এক অবস্থা যখন মন অপ্রয়োজনীয় সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন ধ্যানাবস্থায় ব্রেনে আলফা ওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি থাকে অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৮-১৩ সাইকেল। তারা বলেন এই ফ্রিকোয়েন্সিতেই ব্রেন সবচেয়ে সুন্দরভাবে কাজ করে। মেডিটেশনের মূল উদ্দেশ্য আপনার মনোসংযোগ ও চিন্তাকে একটি স্থির অবস্থায় নিয়ে আসা ।মেডিটেশন এর ফলে মন থেকে অকারণ চিন্তা যেমন দূর হয় তেমনি যেকোনো কাজে নিজের মনোসংযোগও অনেক বেশি বাড়ানো যায়। এছাড়া মেডিটেশনের রয়েছে বেশ কিছু উপকারী শরীরতাত্ত্বিক দিকও। এর মধ্যে শরীরে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করা, বাড প্রেশার স্বাভাবিক রাখা, মাংসপেশীর শিথিলতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা, মাথাধরা কমানো ইত্যাদি নানা উপকার পাওয়া যেতে পারে মেডিটেশন থেকে। এছাড়া ডিপ্রেশন, ইনসমনিয়া, মানসিক ক্লান্তি ও একঘেয়েমি কাটাতেও মেডিটেশন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।



Comments are closed.