দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় – Home Remedies For Constipation

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই পেজ chalokolkata তে স্বাগতম। আমি  সব সময় চেষ্টা করে থাকি আপনাদের প্রতি নিয়ত চাহিদা বা জানকারী দেবার। আপনাদের যদি কোনো রকম অন্য কিছু বিষয়ে জানার থাকে যে কোনো বিষয়ে …তাহলে আমাকে কমেন্ট বক্স এ জিজ্ঞাসা করতে পারেন আমি যথাসাদ্ধ চেষ্টা করবো আপনাদের সাহায্য করার। অনেকের মেসেজের মধ্যে বাছাই করা একটা টপিক যার নাম কোষ্ঠকাঠিন্য যাকে ইংরেজিতে আমরা বলি Constipation সেটাকে নিয়েই আজকে আমাদের বিষয়। আমরা জানবো যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান কি ভাবে পাওয়া যাবে।


বন্ধুরা সবার আগে আমাদের জানতে হবে যে কোষ্ঠকাঠিন্য  অর্থাৎ Constipation  আসলে কি বা কাকে বলে ?

কোষ্ঠকাঠিন্য কি ? – What is Constipation ?

কোষ্ঠকাঠিন্য বা Constipation অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তিকর একটা সমস্যা বলাই যেতে পারে । সাধারণত সপ্তাহে দু থেকে তিনবারের কম পায়খানা অথবা মলত্যাগের বেগ হলে এবং শুষ্ক ও কঠিন পায়খানা যাকে আমরা বাংলা ভাষায় বলি শরীর কোষে যাওয়া। তেমন কিছু হলে সেটাই কোষ্ঠকাঠিন্য। এ অবস্থায় পায়খানায় অনেক সময় ধরে বসে থেকেও পায়খানা হয় না অথবা হলেও সম্পূর্ণ হয়নি এমন মনে হয়। অনেকটাই অস্বস্তি হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের চিকিৎসার চেয়ে যা করলে বা যেভাবে চললে কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না সেভাবে চলাই শ্রেয়। এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যার জীবনে কখনোই কোষ্ঠকাঠিন্য হয়নি। কোনো বন্ধু যদি পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পরেও, সপ্তাহে তিনবারের কম পায়খানা করেন, বা মল মূত্র ত্যাগ করতে অসুবিধে হয়ে থাকে তখন এটাকে জটিল সমস্যা ভেবে নিতে হবে। আর সাথে সাথেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের লক্ষণ

যে কোনো রোগের বা কোনো সমস্যার যদি লক্ষণ না জানা থাকে তাহলে তাকে সারাতেই পারবেন না। আপনি কেন কোনো ডাক্তারও পারবে না। সমস্যা তা জেনেই আমাদের সমাধান করতে হয় তাই না ? আর ডাক্তার রাই তাই করে কোষ্ঠকাঠিন্যের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষন আছে। যেমন –

1. মলদ্বারের আশপাশে কিংবা তলপেটে ব্যথা অনুভব করা।

2. পায়খানা করতে প্রয়োজনের চেয়ে অধিক সময় লাগা।

3. পায়খানা শক্ত হওয়া।

4. পায়খানা করার জন্য অতিরিক্ত চাপের দরকার হওয়া।

5. আঙুল দিয়ে  কিংবা অন্য কোনো ভাবে পায়খানা বের করা ইত্যাদি।

6. অনেক সময় নিয়ে পায়খানা করার পরও মনে হবে পায়খানা সম্পূর্ণ হয়নি।

7. পায়খানার সাথে রক্ত আসা।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় – কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ

আমরা আগেই  জেনেছি যে কোষ্ঠকাঠিন্য কি বা কাকে বলে। এখন আমরা জেনে নেবো  কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে আমরা আমাদের নিজেদের বা পরিবারের সবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারি অতি সহজেই। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

 

1. প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ জল পান করতে হবে। আর সকালে খালি পেটে টেনে ২ গ্লাস জল পান করতেই হবে। দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় যদি বলি তাহলে রোজ সকাল বলে হালকা গরম জল পান করতে পারেন। রাতে সবার আগেও করবেন।

2. কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে প্রতিদিন বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।

3. তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া ও মাংস খাওয়া কমাতে হবে।

4. প্রতিদিন সকালে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া যেতে পারে।

5. অধিক দুশ্চিন্তা কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি মূল কারন। তাই দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

6. অনেকে মনে করেন রুটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে কিন্তু আটা, বিশেষ করে লাল আটায় অধিক পরিমাণে আঁশ থাকে। তাই লাল আটায় কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই তবে পরোটার ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই অধিক পরিমানে পরোটা না খাওয়াই ভাল।

7. প্রতিদিন সময় করে পরিশ্রম অথবা ব্যয়াম করতে হবে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক হতে পারে।

8. যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি মলত্যাগের আগে কিংবা পরে রক্ত আসে অথবা মলের সঙ্গে রক্ত লেগে থাকে, এরকম ক্ষেত্রে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এবার দেখে নেওয়া যাক যে কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে কি কি  হতে পারে

1. রক্তশল্পতা দেখা দিতে পারে।

2. পায়খানা ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

3. দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে পাইলস কিংবা এনালফিশার হতে পারে।

4. রেকটাল প্রোলাপস বা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে যেতে পারে।

5. অনিদ্রা, চোখে ব্যথা অথবা চোখের নিচে কালি পরতে পারে।

6. প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

7. খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লেগে পেট ফুলে যেতে পারে।

8. মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা যত তীব্র হয়, রোগী তত বেশি দুর্বল ও হীনমন্য হয়ে পড়ে।

9. খাদ্যনালীতে আলসার হতে পারে।

10. দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কিছু চর্ম রোগ যেমন- চুলকানি, মুখে ঘা, মেছতা ইত্যাদি হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য যদি কোলন ক্যান্সার এবং মস্তিষ্কে টিউমারের কারনে হয় এবং সময়মতো এর চিকিৎসা করা না হয় তবে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

শেষ কথা 

কোষ্ঠকাঠিন্য এমন এক সমস্যা যা কোন না কোন সময় প্রায় সকলেরই হয়ে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় লজ্জা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব এইসব বাদ দিয়ে প্রতিকার এবং সমাধান এর কথা ভাবতে হবে। না হলে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে, প্রতিদিন দুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে মলটা সহজ হয়। আজকাল অনেক বাচ্চাই দুধ খেতে চায় না। আবার অনেকে মনে করেন দুধ খেলে গ্যাস হয় কিংবা অনেক বাচ্চার দুধ খেতে ভালো লাগে না। এরকম ক্ষেত্রে বাচ্চাদের অভ্যাস করার জন্য দুধের সাথে চকোলেট বা হরলিক্স মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে। বাচ্চাকে পাতলা করে দুধ খাওয়ালে পায়খানা শক্ত হবে অপরদিকে দুধ একটু ঘন করে খাওয়ালে পায়খানা নরম হবে।

বন্ধুরা ঔষধের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারে স্বাভাবিক মলত্যাগের অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধানে চিকিৎসকেরা ঔষধের চেয়ে কারণ অপসারণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে থাকেন। দ্রুত প্রতিকারের জন্য নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারেন।  তবে যদি কোনো রকম বাড়াবাড়ি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতেই হবে। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।



Comments are closed.