ঘৃতকুমারী, এলোভেরা জুসের উপকারিতা – Aloe Vera Juice Benefits

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে আমার এই পেজ এ স্বাগতম। আমি  সব সময় চেষ্টা করে থাকি আপনাদের প্রতি নিয়ত চাহিদা বা জানকারী দেবার। আপনাদের যদি কোনো রকম অন্য কিছু বিষয়ে জানার থাকে…তাহলে আমাকে কমেন্ট বাক্স এ জিজ্ঞাসা করতে পারেন আমি যথাসাদ্ধ চেষ্টা করবো আপনাদের সাহায্য করার।
বন্ধুরা আমরা অনেকেই জানি না যে ঘৃতকুমারী ও এলোভেরা একই জিনিস। ঘৃতকুমারী একটি স্বচ্ছ বাংলা শব্দ আর এলোভেরা একটু ইংরেজি শব্দ। কিন্তু আমরা ঘৃতকুমারী কথাটা খুব একটা ব্যাবহার করিনা এলোভেরাই বেশি ব্যবহার করে থাকি। আজ আপনাদের সরাসরি বলবো যে এই  ঘৃতকুমারী বা এলোভেরার জুসের কি কি উপকার আছে।

অ্যালোভেরার পাতার মধ্য যে স্বচ্ছ জেলির মত বস্তু পাওয়া যাই তাকে আমরা জেল বলে জানি। পাতার ঠিক নিচেই থাকে হলুদ রং এর ল্যাটিস এবং তার নিচেই এই জেল পাওয়া যায়। বহুগুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিকঅ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনএ, বি৬, বি২ ইত্যাদি। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরার জুস পান করে থাকেন। আমরা আজকে  আমাদের এই আসুন জেনে নেয়া যাক এই উদ্ভিদটির নানা রকম গুন সন্বন্ধে। অ্যালোভেরার জুস কি কি কাজে লাগে বা কি কি উপকার দেয়।

অ্যালোভেরার জুস বানাবেন কীভাবে জানুন – How To Make Aloe Vera Juice Taste Better

1. হার্ট খুব শক্তিশালী হয় 

অ্যালোভেরা জুস এমনি একটা পানিও যা পান করার কিছু দিনের মধ্যেই আপনি এর ফলাফল বুঝতে পারবেন। অ্যালোভেরা জুস পান করার সাথে সাথেই আপনার সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রভাব বাড়াবে , যে কারণে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে । সেই সঙ্গে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে । ফলে কোনও ধরনের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও দূর হয়।

2. ত্বকের যত্নে

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। এর অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান ত্বকের ইনফেকশন দূর করে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। অ্যালোভেরা জেল এর ব্যবহার।

3. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে

অ্যালোভেরা জুস রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে। ডায়াবেটিসের শুরুর দিকে নিয়মিত এর জুস খাওয়া গেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করুন।

অ্যালোভেরার জুস বানাবেন কীভাবে জানুন – How To Make Aloe Vera Juice Taste Better

4. লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বেড়ে যায়

অনেক নারীই অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে অ্যালোভেরা প্লান্টের রস খাওয়ার প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটিতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান দেহের ভেতরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে লহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। ফলে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমতে সময়ই লাগে না।

5.শরীরে পুষ্টি আনে

নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপদানটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর হয়। সেই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতিও দূর হতে থাকে। প্রসঙ্গত, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল সেই উপাদান, যা আমাদের শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, অ্যালোভেরা জেলকে যদি তুলসি, করলা অথবা আমলকির রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে আরও বেশি উপকার মেলে। সে ক্ষেত্রে ভিতর এবং বাইরে থেকে শরীরের ক্ষমতা তো বাড়েই, সেই সঙ্গে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

6.হরমোনের কাজ ঠিক মতো হয়

নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল খাওয়া শুরু করলে দেহের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে, যার প্রভাবে প্রয়োজনীয় হরমোনের কাজ ঠিক মতো হতে শুরু করবে । তার ফলে হরমেনাল ইমব্যালেন্স হওয়ার মতো সমস্যা ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, প্যানক্রিয়াস সংক্রান্ত নানা রোগের চিকিৎসাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অ্যালোভেরার জুস বানাবেন কীভাবে জানুন – How To Make Aloe Vera Juice Taste Better

7. দাঁতের যত্নে

অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।

8. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

শীত মানেইখাবারের কোনো ঠিক নেই আর তা ছাড়া এমনিতেই আমরা বাঙালি , সেই সঙ্গে এদিক-সেদিকের খাবার খাওয়া তো রোজের নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়েছে। আর এমনটা করতে গিয়ে কি পেটের হাল বেজায় বেহাল হয়ে পরেছে? তাহলে তো আজ থেকেই অ্যালোভেরা জুস খাওয়া শুরু করতে হবে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর পাচক রসের ক্ষরণ এতটা বাড়িয়ে দেয় যে বদ-হজমের মতো রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বল, অ্যাসিডিটি এবং কনস্টিপেশনের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে। এবার বুঝেছেন তো খাদ্যরসিকদের জন্য অ্যালোভেরা রস খাওয়ার প্রয়োজন

9. ওজন কমতে সাহায্য করে

হয়তো আপনার বিশ্বাস নাও হতে পারে তবে ওজন কমাতে অ্যালভেরা জুস বেশ কার্যকরী।আমাদের অনেক কারণে সে খাওয়া দাওয়াই হোক আর বেশি শুয়ে থাকায় হোক অনেক কিছুর কারণেই আমাদের  শরীরে মেদ জমে। অ্যালোভেরা জুসের অ্যাণ্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান এই প্রদাহ রোধ করে ওজন কম করে থাকে।পুষ্টিবিদগণ এই সকল কারণে ডায়েট লিস্টে অ্যালোভেরা জুস রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। করে দেখুন ফল পাবেন। 

10. ক্ষত জায়গায়  চিকিৎসায় কাজে আসে

রোজের ডায়েটে এই প্রকৃতিক উপাদানটিকে জায়গা করে দিলে দেখবেন কখনও শরীরে কোনও চোট-আঘাত লাগলে সেই ক্ষত সারতে সময় লাগবে না। কারণ অ্যালোভেরা জুসে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র এমন খেল দেখায় যে, যে কোনও ধরনের ক্ষত সারতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, ক্ষতের উপরে অ্যালোভেরা জেল লাগালেও কিন্তু সমান উপকার পাওয়া যায়।

অ্যালোভেরার জুস বানাবেন কীভাবে জানুন – How To Make Aloe Vera Juice Taste Better

এখানে শেষ কথা বলতে তেমন কোনো বাধা বিপত্তি কিছুই নেই ,আজকের বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও আপনার যদি কোনো সমস্যা নাও থাকে তাহলেও আপনিও বিনদাস ব্যাবহার করতে পারেন এই এলোভেরা জুস। আমি বলছি খুউব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি তোর তাজা বা চোখ চোক হয়ে উঠবেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন। নিচে ও ওপরে লিংক দেওয়া আছে যেখানে ক্লিক করলেই আপনি আপনার রেসিপি পেয়ে যাবেন কিভাবে ঘরে বা আপনার বাড়িতে বসেই বানাতে পারবেন অ্যালোভেরার জুস।

Comments are closed.