ব্রংকাইটিস রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

0

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা ও স্বাগতম আমার এই পেজ এ। আশা করবো আমার প্রত্যেক লেখা আপনাদের অনেকটাই উপকার করতে সাহায্য করবে ও আশা করবো ভালো লাগবে আপনাদের। বন্ধুরা আমাদের ক্যালসিয়ামেরে অভাবে অনেক ক্ষয় ক্ষতি হয়ে যায় শরীরের। ভালো ভালো ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার দরকার আমাদের সকলের। আমরা দেখে নেবো আজকের মূল বিষয়বস্তু ব্রংকাইটিস।  আজ আমরা জানবো ব্রংকাইটিস কাকে বলে, ব্রংকাইটিস এর ঔষধ, ব্রংকাইটিস কি ধরনের রোগ, ব্রংকাইটিসের প্রতিকার, ব্রংকাইটিস সমস্যা, ব্রংকাইটিস মানে কি ইত্যাদি ইত্যাদি। 

ব্রংকাইটিস কাকে বলে

ব্রংকাইটিস এক ধরনের বক্ষব্যাধি। এর লক্ষণ ও উপসর্গ অনেকটা যক্ষ্মার মতোই। এটা ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। এ রোগের ফলে ফুসফুসের শ্বাসনালিতে বড় ধরনের প্রদাহ দেখা দেয়। আক্রান্ত স্থানের শ্বাসনালিগুলো তখন ফুলে মোটা হয়ে যায়।

ব্রংকাইটিসের  কারণ 

ইনফেকশন : ফুসফুসে ইনফেকশনই এ রোগের অন্যতম কারণ। এ ইনফেকশন সাধারণত বিভিন্ন ধরনের জীবাণু দিয়ে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাসজনিত হামে আক্রান্ত হওয়ার পর ব্রংকাইটিস হয়ে থাকে। এছাড়া ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশি হলেও এসবের জটিলতায় এ রোগ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক যক্ষ্মা বা প্রাইমারি টিউবারকুলোসিস হওয়ার পর এ রোগ হতে পারে। তবে যক্ষ্মাজনিত ব্রংকাইটিস সাধারণত বয়স্কদের বেশি হতে দেখা যায়।
বাধা বা অবস্ট্রাকশন : শ্বাসনালিতে বাইরের কোনো পদার্থ ঢুকে গেলে বা কোনো টিউমার থাকলে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে এ রোগ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসনালির বাইরে কোনো লিস্কগ্ল্যান্ড থাকলে বাইরে থেকে তার চাপে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। উল্লিখিত যে কোনো কারণে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে গেলে বন্ধ নালীতে দূরবর্তী অংশের বাতাস ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং সেই অংশে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। সেই প্রদাহের ফলে শ্বাসনালির ক্ষতি হলে ব্রংকাইটিসের সৃষ্টি হয়।
বংশগত কারণ : অনেক ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও এ রোগ হতে পারে। এ কারণে শ্বাসনালির অভ্যন্তরে সিলিয়া নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে শ্বাসনালির লালাজাতীয় পদার্থ ঠিকমতো বের না হয়ে ফুসফুসে জমা হয় এবং সেখানে ক্ষত সৃষ্টি করে। বংশগত কারণে এ রোগ সাধারণত শিশুকালেই হয়।
নিউমোনিয়া : যে কোনো জীবাণু দিয়ে বা যে কোনো বয়সেই নিউমোনিয়া হলে এবং তার ভালো চিকিৎসা না করলে ব্রংকাইটিস হতে দেখা যায়। ব্রংকাইটিসের অন্যতম উপসর্গ হলো দীর্ঘস্থায়ী কফ-কাশি। বেশিরভাগ রোগীই আমাদের কাছে আসে কাশির সাথে প্রচুর কফ পড়ার সমস্যা নিয়ে। ঘুম থেকে সকালে ওঠার পর কাশি বেশি হয়। একটু কাশিতেই প্রচুর কফ বেরিয়ে আসে। কফের রঙ সাদা হয়।

ব্রঙ্কাইটিসের লক্ষন

1. ক্রমাগত কাশতে থাকবে। কখনো কখনো এই কাশি এক দেড় মাস ধরে চলতে পারে। কাশি শুকনা বা কফমিশ্রিত হতে পারে।

2. কাশি র সাথে কফ বা শ্লেশ উঠে আসতে পারে। কফ সবুজ, হলুদ, সাদা বা অনেক সময় কফের সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকতে পারে।

3. নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে বা জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে পারে শিশু।

4. নিঃশ্বাস নেয়ার সময় বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

5. বাচ্চার জ্বর থাকতে পারে। সেই সাথে কাঁপুনি হতে পারে ও শরীর ব্যথা করতে পারে।

6. গলায় ব্যথা হতে পারে সেই সাথে নাক দিয়ে সর্দি যেতে পারে অনেক সময়।

7. শিশুর নিঃশ্বাসের সাথে বাঁশির মত শব্দ হতে পারে।

8. সাধারনের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল বোধ করতে পারে এ সময় শিশু।

9.  আক্রান্ত শিশুর অভিভাবক যদি ধূমপায়ী হন তাহলে তা পরিহার করার চেষ্টা করবেন। না সফল হলে বাচ্চার সামনে বা আশেপাশে ধূমপান করবেন না।

10. শিশুকে বেশি করে জল খেতে দিতে হবে। বেশি জল খেলে শ্বাসনালী আর্দ্র থাকবে ফলে মিউকাস থাকলে তা সহজে বের হয়ে যেতে পারবে।

11. খুব বেশি ঠাণ্ডা জায়গা বা খুব বেশি গরমের মাঝে বাচ্চাকে নিয়ে যাবেন না। ঠাণ্ডায় সমস্যা থাকলে সরাসরি এসির মধ্যে রাখবেন না। ঠাণ্ডা খাবার খেতে দিবেন না।

শেষ কথা 

এসবই একটি শিশুর মাঝে ব্রংকাইটিস হবার চিহ্ন বলে ধরা হয়। এমন কোন একটি বা দুইটি চিহ্ন সাত দিনের বেশি সময় ধরে দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। ডাক্তার হয়ত তাকে ওষুধের পাশাপাশি ইনহেলার বা নেবুলাইজার এর চিকিৎসা দিতে পারে। এটি বেশি অসুস্থ হলে দেয়া হতে পারে। অনেক অভিভাবক এক থেকে দুই দিন দেয়ার পরে তা বন্ধ করে দেন। এমনটা কখনই করতে যাবেন না। মনে রাখবেন সন্তানকে সুস্থ করে তলার জন্য ও ভবিষ্যতে এই রকম রগে যেন আক্রান্ত না হয় তার জন্যই এমন ওষুধ প্রেস্ক্রাইব করা হয়। তাই সন্তানের একটু কষ্ট হলেও তার চিকিৎসা ভালভাবে সম্পন্ন করাতে হবে। সেই সাথে ভবিষ্যতে যেন আপনার সন্তান সুস্থ থাকে তার জন্য নিজেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে চেষ্টা করবেন।

এ সময় সন্তানকে ওষুধ খাওয়ানো, ঠিক মত যত্ন নেয়া এসব তো করতেই হবে, সেই সাথে বাচ্চাকে অনেক বেশি ভালবাসা ও মমতা দিতে হবে। অসুস্থ হবার কারনে তাদের মনোবল এমনিতেই অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে তাই সুস্থ করে তোলার চেস্টার পাশাপাশি তার মানসিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতেও সাহায্য করতে হবে। মানসিকভাবে সুস্থ থাকলে শিশু দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবে। ভালো থাকবেন ভালো রাখবেন সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.