বাস্তু শাস্ত্র – Ecosystem Scripture in Bengali

0

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা ও স্বাগতম আমার এই পেজ এ। আশা করবো আমার প্রত্যেক লেখা আপনাদের অনেকটাই উপকার করতে সাহায্য করবে ও আশা করবো অনেকটাই ভালো লাগবে ও নতুন কিছু জানতে পারবেন আজ সাংসারিক জীবন নিয়ে সাথে থাকবে আজকের মূল বিষয় বস্তু সহজ বাস্তু টিপস। 

আমাদের সব কিছুই মানে ভালো মন্দ হল আমাদের নিজেদের মধ্যেই থাকে। আমরাই পারি আমাদের ভালো মন্দ আবিস্কার করতে। কিন্তু অনেক জিনিস আমরা জেনেও চুপ করে বসে থাকি বা আলসেমি করে আমরা সেদিক গুলো নজর দিন বা দিতে চাইনা। একটু মেনে চললে ক্ষতিটা কোথায়। আসুন আমরা আজ আমাদের বাস্তু আমরাই ঠিক করে নেবো। বন্ধুরা আজকের বিষয়টা আমাদের সকলের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সম্ভব হলে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

বন্ধুরা ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র হল এমন একটা জিনিস যা একটু মেনে চললে আমাদের নতুন বাড়ির বা আমাদের বাসস্থান বাড়ির জন্য অনেকটাই উপকারী। আজ আমরা তাই ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র ও বাস্তু টিপস নিয়ে আলোচনা করবো যা আমাদের  অনেকটাই কাজে দেবে। 

বাস্তু কী

বন্ধুরা বস্তু হল নির্মাণ শিল্পের বিজ্ঞানকেই বলা যেতে পারে। বা বলা যেতে পারে নির্মাণ শিল্পে বিভিন্ন বস্তুর সমন্বয়ে যে শক্তির সৃষ্টি হয়, তাই হল বাস্তু। বাড়ি বা অফিসে কোন জিনিস কীভাবে রাখা হবে বা কোথায় রাখা হবে, তার উপর নির্ভর করে ভালো ও খারাপ শক্তি নির্গত হয়। বাস্তুশাস্ত্র এমন এক শিল্প, যার মাধ্যমে এই ভালো ও খারাপ শক্তির মধ্যে সমতা রক্ষা করা যায়। বাড়ি বা বিল্ডিং তৈরির পাশাপাশি, যেখানে সেটি অবস্থিত তার মাটি পরীক্ষা, সামনে দিয়ে যেভাবে রাস্তা গিয়েছে, ইমারতটি কোন দিকে মুখ করে রয়েছে, জলের ব্যবস্থা, আশেপাশের পরিবেশ সবকিছুই বাস্তু শাস্ত্রের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত। আমাদের প্রাচীন সাহিত্য ও ধর্মগ্রন্থতেও বাস্তুর উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালের বাস্তু বিশেষজ্ঞ রাজ বল্লভের মতে ভালো বাড়ি শুধু নয়, ভালো জীবনের জন্যও বাস্তু মেনে চলা প্রয়োজন। তার জন্য যে যে বিষয়গুলির উপর তিনি গুরুত্ব দিতে বলেছেন, তা হল –

1. ইমারত যে শহরে নির্মাণ করা হবে, তারা অনুসারে তার উপযোগিতা

2.  দিক নির্ণয়

3.  মাটি

4.  দিন

5. বাস্তু পুরুষের অবস্থান অনুসারে নক্ষত্রের বিচার

বাস্তু টিপস –  ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র – সহজ বাস্তু টিপস

শুধু দেখে পছন্দ হচ্ছে বলেই দুম করে জমি বা বাড়ি কিনে ফেলবেন না। বাসস্থানের বাস্তু ঠিকঠাক না হলে, রোগব্যাধি, অর্থক্ষয় এমনকী প্রিয়জনদের অসুখ-বিসুখও হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে শতকরা ৯০ ভাগ রিয়েল এস্টেট প্রোজেক্ট বাস্তু মেনেই হয় কথাটা কোনো রকম মিথ্যে নয় মানলে আপনার লাভ। 

বাস্তুশাস্ত্রের মূল কথা হল বাসস্থানে কীভাবে পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার করা যায় যাতে পরিবারে সুখ সমৃদ্ধি আসে এবং চরম দুঃখ দুর্দশা থেকে দূরে রাখা যায় পরিবারের সদস্যদের। বাস্তু নিয়ে দেশে-বিদেশে বহু বছর ধরে বিশদে গবেষণা করে আসছেন বহুজন।

সাম্প্রতিক কালের বাস্তু বিশেষজ্ঞরা যে সাধারণ কিছু বাস্তু নির্দেশ দিয়ে থাকেন তারই কয়েকটি এখানে দেওয়া হল। যদি ইতিমধ্যেই বাস্তু না-মেনেই বাড়ি বা জমি কিনে থাকেন তবে বাস্তু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তুদোষ কাটিয়ে নিতে পারেন। আমরা জেনে নেবো এমন অনেক টিপস যা আমাদের সকলের অনেক উপকার দেবে।

1. জমির উত্তরে এবং পূর্ব দিকে রাস্তা থাকলে তা যেন প্লট থেকে নীচু হয়। সেক্ষেত্রে বাড়ি করার সময় ভিতটি বেশ খানিকটা উঁচু করে নিতে হবে।

2. যেখানে রাস্তা টি বা ওয়াই ক্রস সেকশনে ভাগ হয়ে গিয়েছে, তার উল্টোদিকের জমি কখনও কিনবেন না। যেখানে রাস্তা বাঁক নিচ্ছে, সেই প্লটে ফ্ল্যাট কেনাও বাস্তু অনুযায়ী একেবারেই ভাল না।

3. ব্রিজের ধারের জমি কেনা বাস্তু মতে খারাপ। আবার যে জমিতে খরার ফলে ফাটল ধরেছে তেমন জমিও কেনা উচিত নয়।

4. অনেক বাস্তুশাস্ত্রীরা বলেন, কানাগলির শেষ প্রান্তে বাড়ি হলে সে বাড়িতে খুব সহজেই কুশক্তির বাসা হয় এবং বাড়ির মালিকের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়।

5. দক্ষিণ-পূর্ব দিক উঁচু হয় যে প্লটের, তেমন প্লটের বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আসে আর উল্টোটা হলে আর্থিক ক্ষতি হয়। আবার বাড়ির দক্ষিণ দিক যদি অন্যান্য দিকের থেকে উঁচু হয়, তবে বাসিন্দাদের শরীর-স্বাস্থ্য ভাল থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এমন কোনও উঁচু গাছ যেন না থাকে, যাতে সূর্য় আড়াল হয়।

6. লিভিং রুমের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি অ্যাকোয়ারিয়াম রাথবেন, এতে সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আসবে।

7. প্যাঁচা, ইগল, যুদ্ধ, ক্রুদ্ধ ব্যক্তি বা ক্রন্দনরত মহিলার ছবি ঘরের মধ্যে রাখবেন না। এমন কোনও ছবি যদি থাকে, অবিলম্বে সরিয়ে ফেলুন।

8. বাড়ির দরজার গোড়ায় উইন্ড চাইম ঝোলান। হাওয়ায় ক্রমাগত দুলে যে মৃদু আওয়াজ তৈরি হয় তাতে বাড়ির ভিতরে পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার হয়।

9. বেডরুমে কোনও আয়না না রাখাই ভাল। যদি তা সম্ভব না হয় তবে এমন জায়গায় আয়না রাখুন যাতে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় আয়নাটি কোনও ভাবেই দেখা নাযায়। বিছানার সামনে আয়না থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত তো হয়ই পাশাপাশি পরিবারে রোগব্যাধির প্রকোপ দেখা যায়।

10. বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রান্নাঘর হওয়াই বাস্তু মতে ঠিক। তা যদি না হয় তবে অন্তত ওভেন বা স্টোভটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখুন। আর রান্নাঘরে কখনোই ওষুধপত্র রাখবেন না।

11. নেমপ্লেট ছাড়া বাড়ি বাস্তু অনুযায়ী ঠিক নয়। তাই সুন্দর করে নিজের ও পরিবারের অন্যান্যদের নাম লেখা নেমপ্লেট অবশ্যই লাগাবেন।

12. বাড়িঘর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হল সবচেয়ে বড় বাস্তু। মেঝে, আসবাব-পত্র ইত্যাদি ঝকঝকে তকতকে রাখবেন। বাড়ির চৌকাঠে জল না ঢালতে পারলেও দিনে একবার অন্তত মুছে নেবেন।

13. ইশান কোণের দিকে মুখ করে বিছানা পেতে, ওইদিকেই মাথা করে শোওয়া সবচেয়ে ভাল। না পারলে পূর্বদিকে মাথা করে শোবেন। তবে কখনোই ইশান কোণটি ব্লক করবেন না। বলা হয় বাস্তুদেবতা থাকেন ইশান কোণে। তাই সব সময় ওই কোণটি ফাঁকা রাখবেন।

14. বাড়িতে দিনে অন্তত একবার ধূপ জ্বালবেন এবং জানলা খুলে তাজা বাতাস ঘরে আসতে দেবেন। বাড়ির ভিতরে ভাল হাওয়া চলাচল হলে নেগেটিভ এনার্জি বাসা বাঁধতে পারে না।

শেষ কথা 

আমাদের সব কিছুই মানে ভালো মন্দ হল আমাদের নিজেদের মধ্যেই থাকে। আমরাই পারি আমাদের ভালো মন্দ আবিস্কার করতে। কিন্তু অনেক জিনিস আমরা জেনেও চুপ করে বসে থাকি বা আলসেমি করে আমরা সেদিক গুলো নজর দিন বা দিতে চাইনা। একটু মেনে চললে ক্ষতিটা কোথায়। আসুন আমরা আজ আমাদের বাস্তু আমরাই ঠিক করে নেবো। বন্ধুরা আজকের বিষয়টা আমাদের সকলের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সম্ভব হলে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.