হাম রোগের চিকিৎসা – Medical Treatment of Measles

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা ও স্বাগতম আমার এই পেজ এ। আশা করবো আমার প্রত্যেক লেখা আপনাদের অনেকটাই উপকার করতে সাহায্য করবে বা আশা করবো ভালো লাগবে আপনাদের। আপনাদের সকলের সুস্থতা কামনা করি। আমি চেষ্টা করবো আপনাদের সাথে বা আপনাদের পাশে থাকতে। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের কাছেএমন একটা জিনিসের ব্যাপারে আলোচনা করবো সেটা আমি জানি আপনাদের অনেকটাই ভালো লাগবে। আর পারবেন অনেক অজানা তথ্য। বন্ধুরা হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। পৃথিবীজুড়ে এর প্রকোপ দেখা যায়। সাধারণত আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এর ভাইরাস আশপাশের সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির ঘরে ঢুকলেও সুস্থ যে কেউ হামের জীবাণুতে আক্রান্ত হতে পারে। হামের ভাইরাস মানব দেহে ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকে। অর্থাৎ সুস্থ কারও শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করার পর ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ প্রকাশ পায়।

এই রোগটি শুধু ছোটদেরই নয় বড়দেরও হতে পারে। হামের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, অপুষ্টিসহ নানা রকম জটিলতা হতে পারে। এছাড়া অনেক সময় মস্তিষ্কের প্রদাহ হতে পারে। এজন্য হামের ক্ষতি থেকে বাঁচতে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।

সারাবছর পৃথিবীতে প্রায় ১ কোটি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে নানা রকম জটিলতার কারণে ২ লাখের মৃত্যু ঘটে থাকে। হামের কারণে ৫ বছর কম বয়সী শিশুরাই বেশি মৃত্যুবরণ করে। নবজাতক শিশু এবং বড়রাই হামের জটিলতার বেশি শিকার হয়।

হামের লক্ষণ

হাম হলে প্রচণ্ড জ্বর হয়। জ্বরের সঙ্গে সারা শরীরে ব্যথা, চোখ-নাক দিয়ে পানি ঝরা, কাশি, মাথাব্যথা, কানে ব্যথা ইত্যাদি নানারকম উপসর্গ দেখা দেয়। জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিনের মাথায় শরীরে গুঁড়ি গুঁড়ি দানা ওঠে। দেখতে অনেকটা ঘামাচির মত। প্রথমদিকে চুলের রেখা বরাবর ও কানের পেছনে আর ঘাড়ে, তারপর মুখে ও গলায় এবং সেখান থেকে নীচে নামতে নামতে শেষে হাতে পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। শরীরে তখন প্রচুর চুলকাকায়। হামের লাল দানা ওঠার ৪ দিন আগ থেকে শুরু করে পরবর্তী ৪ দিন পর্যন্ত রোগীর শরীর থেকে হামের জীবাণু অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। এসময়ে আলতোভাবে শরীরের কোথাও চামড়া পেঁয়াজের ছিলকার মত খসে যায়।

হামের চিকিৎসা

হামের বিশেষ কোনো চিকিৎসা নেই। রোগীকে বিশ্রাম নিতে দিতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার যেমন মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এবং সকল প্রকার শাক-সবজি খেতে দিতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল এবং গায়ে চুলকানির জন্য এন্টিহিস্টামিন দেয়া যেতে পারে।

হামের প্রতিরোধ

ঘরের কোন শিশুর যদি হাম হয়ে থাকে এবং অন্যান্য শিশুদের হামের টিকা দেয়া না থাকে তবে তাদেরকে হামের টিকা দিতে হবে। শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হালের টিকা দিয়ে দিতে হয়।

হাম হলে কি খেতে হবে – হাম হলে কি কি খাওয়া যায়

হাম, চিকেন পক্স—এ জাতীয় রোগে অনেকেই মাছ, মাংস, দুধ, ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেন। শিশুদের বুকের দুধও দেওয়া হয় না। যাঁরা লোকমুখে এ ধরনের শোনা উপদেশ মানেন, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে ভুল করেন। এতে শরীর দুর্বল হয়ে অপুষ্টি ও রোগের যৌথ আক্রমণে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে, এমনকি মৃত্যুও হয়।

এসব রোগের খাবার-দাবার পরিবর্তনের কোনো দরকার নেই। তখন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার বেশি করে দেওয়া উচিত। কোনো খাবারের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো। এসব রোগে সাধারণ সব খাবারই খাওয়া যায়। তবে অনেক সময় রোগের ব্যাপ্তি খাদ্যনালির অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে যায়। এতে শক্ত খাবারে পেটে ব্যথা অনুভূত হয়। এ জন্য নরম কিংবা তরল খাবার খেতে বলা হয়। এই নরম ও তরল খাবার যেকোনো খাদ্যোপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে।

তবে শুধু লাউ, পেঁপে আর আলু খেয়ে থাকতে হবে—এ ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

হাম রোগের ভাইরাসের নাম

হাম ভাইরাস জনিত একটি রোগ। জার্মান মিজলস নামেও পরিচিত হাম। ঠিক মতো এ রোগের চিকিৎসা না করা হলে রোগী নানা জটিলতায় পড়তে পারে। তবে হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। শিশুরাই হামে বেশি আক্রান্ত হয় বলে এক বছর থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুদের হামের ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ।

নবজাতকের হাম এর লক্ষণ

অন্যান্য ভাইরাল জ্বরের মতো প্রথমে জ্বর ও শরীর ম্যাজম্যাজ বা হালকা ব্যথা হয়। প্রথম এক-দুদিন তীব্র জ্বরও হতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে উঠতে পারে। চোখ লাল হয়ে যেতে পারে, চোখ দিয়ে জল পড়তে পারে। নাক দিয়ে জল পড়তে পারে এবং হাঁচিও হয়। শরীরে র‍্যাশ বা ছোট ছোট লালচে গুটি বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। দ্রুত তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময়, বিশেষ করে শিশুরা কিছু খেতে চায় না এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে র‍্যাশ চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি ভাইরাল জ্বরেও হতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Comments are closed.