হাড় ভাঙ্গার চিকিৎসা – Bone Treatment

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা ও স্বাগতম আমার এই পেজ এ। আশা করবো আমার প্রত্যেক লেখা আপনাদের অনেকটাই উপকার করতে সাহায্য করবে বা আশা করবো ভালো লাগবে আপনাদের। আপনাদের সকলের সুস্থতা কামনা করি। আমি চেষ্টা করবো আপনাদের সাথে বা আপনাদের পাশে থাকতে। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের কাছেএমন একটা জিনিসের ব্যাপারে আলোচনা করবো সেটা আমি জানি আপনাদের অনেকটাই ভালো লাগবে।  আজকে আমাদের হাড় ভাঙ্গা প্লাস্টার বা হাড় ফাটা  নিয়ে একটু বলবো।পড়ে গিয়ে বা অন্য কোনোভাবে আঘাতে হাড় ভেঙে যেতে পারে। সাধারণত আমরা ব্যথা পেলে স্থির থাকি না। অন্যজন গিয়েই টানাটানি শুরু করি; হাড় জোড়া লাগাতে চাই। এটি কিন্তু খুবই মারাত্মক ভুল। হাড় ভেঙে গিয়ে যতটা ক্ষতি হয়, এর চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় এই টানাটানিতে। কারণ, ভাঙা হাড় নড়াচড়া করলে ভাঙা অংশ আশপাশের মাংসপেশী, রক্তনালীকে ছিড়ে ফেলতে পারে। এতে হাড় ভাঙ্গা পরবর্তী অংশ রক্তশূন্যতার কারণে পঁচেও যেতে পারে।

হাড়, মানব শরীরের সবচেয়ে মজবুত ও শক্তিশালী অঙ্গ। শারীরিক গঠন, আকৃতি, স্পর্শকাতর অঙ্গের সুরক্ষা, জোড়ার নড়াচড়া ও দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় হাড়ের অবদান অপরিসীম। হাড়ের মজ্জা রক্ত ও রক্তকণিকা তৈরি করে, ক্যালসিয়াম মজুদ করে এবং প্রয়োজনে সরবরাহ করে। শরীরের ছোট বড় ২০৬টি হাড়ের প্রতিটিই কোলাজেন, শর্করা, আমিষ, পানি ও খনিজ লবণ দিয়ে তৈরি। ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ লবণ হাড়ের মজবুত গঠন এবং শক্তিমত্তা বৃদ্ধি করে। মানুষের জীবনের কোন না কোন সময় অন্তত একটি হাড় ভাঙ্গার প্রবণতা দেখা যায়।

হাড় ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

1. ভাঙ্গা অঙ্গটি চিহ্নিত করুন।

2. ভাঙ্গা অঙ্গটি অহেতুক নাড়চড়া করবেন না।

3. শরীরে অন্য কোনো স্থানে হাড় ভাঙ্গা আছে কি না পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে লক্ষ করুন কোমর, মেরুদন্ড, বুক বা পাঁজরের হাড় ভেঙ্গেছে কি না।

4. হাত বা পায়ের হাড় ভেঙ্গে গেলে বাঁশের চটা বা কাঠের টুকরা বা স্প্রীন্ট দিয়ে ভাঙ্গা জাযগাটি ব্যান্ডেজ বা এক টুকরা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিন যাতে ভাঙ্গা অংশ নড়াচড়া করতে না পারে।

5. যদি হাতের হাড় ভেঙ্গে গিয়ে থাকে। স্প্রীন্ট দেওয়ার পর ব্যান্ডেজ বা কাপড়ের সাহায্যে বা সস্নিং করে ভাঙ্গা হাতকে গলার সাথে ঝুলিয়ে দিন।

6. যদি কোমর বা মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে দিয়ে থাকে তাহলে ঐ ব্যক্তির শরীরের নীচে সাবধানে একটা চার হাত লম্বা এবং দেড় হাত চওড়া কাঠের তক্তা স্থাপন করুন এবং ব্যক্তিটিকে কাঠের তক্তার সাথ সাবধানে ব্যান্ডেজ বা কাপড়ের টুকরা দিয়ে বেঁধে ফেলুন (মাথা, বুক, কোমর, হাঁটু ও পায়ের পাতা বরাবর বাঁধন দিতে হবে)। এবার তক্তার দুইদিকে দড়ি ও বাঁশ বা কাঠের টুকরার সাহায্যে স্ট্রেচারের মত তৈরি করুন এবং তাকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

প্রতিরোধ

চলাফেরা ও ভ্রমণের সময় যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করলে দুর্ঘটনা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়। খেলাধুলার আগে পরে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও স্ট্রেসিং এবং খেলার সময় সতর্কতা ও উপযুক্ত কলাকৌশললে হাড় ভাঙা থেকে মুক্ত থাকা যায়। উপযুক্ত ব্যায়াম যেমন নিয়মিত হাঁটা, জগিং, সিড়ি দিয়ে উঠা-নামা করা এবং ওজন বহন করা হাড়কে মজবুত ও শক্তিশালী করে। কিশোর বয়সে কায়িক পরিশ্রম করলে হাড়ের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং হাড় মোটা হয়। ফলে বৃদ্ধ বয়সে হাড় কম ভাঙে। সুষম খাদ্য এবং কিশোর বয়সে ১৩০০ মিলি গ্রাম, ৫০ বৎসর পর্যন্ত ১০০০ মিলি গ্রাম এবং ৫০ বৎসরের ঊর্ধ্বে ১২০০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম দৈনিক সেবন করা উচিত। ধূমপান ও মদপান থেকে বিরত থাকা উচিত।

করণীয়

আঘাত বা যে কোন কারণেই হাড় ভাঙলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। ফ্র্যাকচারের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সাথে সাথে প্রাথমিক কারণের চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। আক্রান্ত অংশের এক্স-রে করে সহজেই ফ্র্যাকচার নির্ণয় করা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সটিকভাবে ফ্র্যাকচারের আকৃতি নির্ণয় করতে এবং প্রাথমিক কারণ জানতে সিটি স্ক্যান, এমআরই ও বোন স্ক্যানের সাহায্যে নিতে হয়। হাড় ভাঙার সাথে জোড়ার স্থানচ্যুতি এবং রক্তনালী ও স্নায়ু ইনজিরি থাকলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতারে স্থানান্তর করতে হবে। ভাঙা হাড়কে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে যাতে টিস্যু ইনজুরি কম হয়। বরফের টুকরা টাওয়ালে নিয়ে বা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি ইলাস্টিক ব্যাগে নিয়ে লাগালে ব্যথা ও ফুলা কমে আসবে। আক্রান্ত অংশে প্লাস্টার বা স্প্লিন্ট ব্যবহারে ফুলা ও ব্যথা কমে আসে। ওপেন বা কমপাউন্ড ফ্র্যাকচার হলে বিশুদ্ধ গজ ব্যান্ডেজ বা কাপড় ড়দিয়ে পেঁচিয়ে রাখতে হবে যাতে রক্ষক্ষরণ কম হয়। এনালজেসিক বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে ব্যথা নিরাময় হবে। কমপাউন্ড ফ্র্যাকচার হলে এন্টিবায়োটিক, টিটেনাস টক্সয়েডও টিটেনাস ইম্নিুনোগোলোবিউলিন, স্যালাইন এবং প্রয়োজনে শরীরে রক্ত সঞ্চালন করতে হবে। উল্লেখিত প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাড় ভাঙার প্রয়োজনীয় (কনজারভেটিভ বা শল্য) চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। হাড়ের বিভিন্ন উপাদানের ক্ষয় পূরণের জন্য পরিমিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডিও বিসকোসফোনেট (এলেনড্রোনেট, ইটিড্রোনেট, ইটিড্রোনেট ও রাইসোড্রোনেট) সেবন, হোরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি এবং রেলোক্সিফেন ও ক্যালসিটোনিন ইনজেকশন পুশের প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং আমাদের সচেতন হতে হবে যে, হাড়ের পরিমাণ হ্রাস, দুর্বল ও ভঙুরতা প্রতিরোধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন একান্ত প্রয়োজন।

শেষ কথা 

শেষ কথা বলতে আমি আপনাদের একটাই কথা সব সময় বলি আজকেও বলবো যে একা একা কোনো রকম বেশি মাত্রায় কেদ্দারী মারতে যাবেন না বা নিজেই ডাক্তার হতে যাবেন না তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। সামান্য কোনো রকম  ব্যাথার দু দিনের মধ্যে না কমলেই ডাক্তারের সাথে সত্তর যোগাযোগ করুন। কেননা আমাদের নিজেদের নিজেদের জন্য নিজেরাই সচেতন হতে হবে। তাই আপনার জন্য বা আপনার পরিবারের জন্য কোনোরকম রিস্ক নেবেন না। আপনাদের সকলের ভালোথাকা আমার একমাত্র কাম্য। ভালো থাকবেন।

Comments are closed.