ভিটামিন সি এর কাজ ও অভাবজনিত রোগ – Vitamin C Benefits

হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই ? জানি জানি অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন কি তাই তো ? দেখুন আমরা যতই বলিনা কেন আমাদের জীবনে কেউ আমরা সুখী না। আমাদের কাছে সব থাকা সত্ত্বেও আমরা হয়তো অভাবী।  কিন্তু কি সেই অভাব তা সেটাও আমরা হয়তো অনেকেই জানি না বা জানার চেষ্টাও করি না। আর যাদের কাছে কিছু নেই তাদের তো কোনো সমস্যায় নেই বরং তারাই ভালো আছে। যাইহোক বন্ধুরা আজকের একটা খুউব গুরুত্ব পূর্ণ জিনিস যেটা নিয়ে আমাদের বা আমাদের বাবা মা বা আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা সর্বদাই একটু আধটু চিন্তিত থাকি আর সেটা হলো সু খাদ্য বা ভালো ভিটামিন। আমাদের নানান লোকের নানান সমস্যার একমাত্র কারণ হলো ভিটামিন এর অভাব বা ভিটামিনের সি অভাবজনিত রোগ। আমাদের জানতে হবে ভিটামিনের সি বৈশিষ্ট্য।

সর্দি হলে ভিটামিন সি খেতে অনেকেই উপদেশ দেন। ভিটামিন সি সর্দি সারায় না (কোনও ওষুধই সারায় না), তবে ভিটামিন সি সাধারণভাবে আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা শক্তির কিছু কিছু খামতি পূরণ করে। এছাড়া হৃদ্-সংক্রান্ত সমস্যা, চোখের অসুখ, ক্যানসার, ইত্যাদি অনেক শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে ভিটামিন সি-র উপকারিতা আছে বলে মনে করা হয়।

ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের গবেষকরা সম্প্রতি ভিটামিন সি-র বহুমুখী উপকারিতা নিয়ে অনুসন্ধান করে সিদ্ধান্ত করেছেন, যে এটি –

1. সর্দি বা ঠাণ্ডা থেকে নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের অন্যান্য সংক্রমণের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে।

2. দুর্ভাবনা বা মানসিক চাপের জন্য অনেকের দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। আবার মানসিক চাপ বা স্ট্রেস প্রভাবে দেহের ভিটামিন সি-র পরিমাণ কমে যায়। যেমন কমে যায় মদ্যপান, ধূমপান, ইত্যাদির জন্য। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি দেহে থাকা সুস্থ দেহের লক্ষণ।

3. আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশান-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে দেহে ভিটামিন সি-র মাত্রা বেশি থাকলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা শুকনো হয়ে যাবার সম্ভাবনা কম থাকে।

4. রক্তে ভিটামিন সি-র পরিমান বেশি থাকলে স্ট্রোক হবার সম্ভাবনাও কিছুটা কমে বলে দেখা গেছে।

এছাড়া শরীরের নানান কাজে ভিটামিন সি-র অবদান আছে। দেহের টিস্যু-র বৃদ্ধি বা সংরক্ষণে, ক্ষতের নিরাময়ে, দেহের নিত্য-প্রয়োজনীয় আয়রণ সংগ্রহে, দাঁত, হাড় এবং মজ্জা সংরক্ষণে ভিটামিন সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন সি এর অভাবজনিত রোগ

ভিটামিন হলো খাদ্যে জরুরি কিছু ছোট জৈব অণু। ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। যেমন : বি২, ফলিক এসিড, বি১২, ভিটামিন সি ইত্যাদি) এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ( ভিটামিন ডি, এ, ই কে)। ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। অবসন্নতা, ছোট শ্বাস, ক্লান্ত ত্বক, মাথা ঘোরা, অনিয়ন্ত্রিত হার্টবিট- এগুলো ভিটামিনের অভাবের লক্ষণ। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে ভিটামিনের অভাবে পাঁচ ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যার কথা।

1. যাঁদের শরীরে ভিটামিন সি-এর অভাব রয়েছে, তাঁরা খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। শরীরে শক্তি কমে যায়, অবসন্ন হয়ে পড়েন।

2. শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি হলে বিরক্তিভাব দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

3. যাদের শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি হয়, তাদের হঠাৎ করে ওজন কমে যেতে পারে।

4. ভিটামিন সি-এর অভাব হলে গিঁটে ব্যথা বা পেশিতে ব্যথার সমস্যা হয়।

5. ভিটামিন সি-এর অভাব হলে দেহে কালশিটে দাগ পড়ে।

6. ভিটামিন সি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। এর ঘাটতি দেখা দিলে এসব অংশে সমস্যা হতে পারে।

7. ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়াও ভিটামিন সি-এর ঘাটতির লক্ষণ।

8. ভিটামিন সি-এর ঘাটতি হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। 

ভিটামিন সি বেশি খেলে কি হয়

সত্যি বলতে কি, প্রায় সব ভিটামিনেরই একটি টক্সিক মাত্রা আছে। এই মাত্রার ওপর ভিটামিন সেবন অবশ্যই ক্ষতিকর। যদিও দুর্ঘটনা ছাড়া এত বেশি মাত্রার ভিটামিন সেবন করা সাধারণত হয়ে ওঠে না। তার পরও শিশুদের মধ্যে দুর্ঘটনাবশত অতিরিক্ত ভিটামিন খেয়ে ফেলাটা একেবারে বিরল নয়। তাই সব ধরনের ওষুধ অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে থাকতে হবে। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের স্মৃতিভ্রম বা মানসিক রোগ আছে, তাঁরাও অনেক সময় ভুল করে অনেক বেশি মাত্রায় ভিটামিন বড়ি খেয়ে ফেলতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে অকারণে উচ্চমাত্রার ভিটামিন খাওয়া থেকেও বিপদ হতে পারে।

ভিটামিন সি: এক গ্রামের বেশি ভিটামিন সি একসঙ্গে খেয়ে ফেললে ডায়রিয়া হতে পারে। শিশুরা চুষে খাবার ভিটামিন সি লজেন্স বেশি খেয়ে বিপদ ঘটাতে পারে।

ভিটামিন ‘সি’ হচ্ছে ওয়াটার সলিউবল ভিটামিন। এটা শরীরে স্টোরেজ বা সঞ্চিত থাকে না। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন ‘সি’ সেবন করলে অথবা প্রাকৃতিক উত্স থেকে গ্রহণ করলে এটা প্রয়োজন মেটানোর পর অবশিষ্ট ভিটামিন ‘সি’ ইউরিন বা ঘামের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তাই বেশি আঙ্গুরের রস খাওয়ালে শিশুদের শারীরিক কোনো লাভ হয় না। প্রতিদিন ৪ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো শিশু বা প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির মাত্র ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন। একটা কাঁচা মরিচ খেলেই এ ধরনের ভিটামিন ‘সি’ আসতে পারে।

ভিটামিন সি খাবার কি কি

  কমলা লেবু, পাতি লেবু, টমেটো, সবুজ শ্বাক সবজি, বাধা কপি ইত্যাদিতে। এছাড়াও প্রতিদিন যে পরিমাণ সবুজ শাক সবজি, লেবু খাওয়া হয় তা থেকেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। এছাড়া বিদেশি ফল নয়, দেশের আমলকী, কামরাঙ্গা, পেয়ারা থেকেও প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়াও কাঁচা মরিচ , পেয়ারা, বেল মরিচ , টাটকা ভেষজ  ,গাঢ় সবুজপাতা এবং শাক , ব্রকোলি, কিউয়ি ফল, পেঁপে, কমলা, স্ট্রবেরী। 

ভিটামিন সি ট্যাবলেট এর নাম

বিবরণ

হলুদ ট্যাবলেট হালকা সাদা

ডাক্তার না দেখিয়ে বা ডাক্তারের সঙ্গে কথা না বলে একদমই এই ওষুধ গুলো খাবেন না তাতে আপনার ক্ষতি ছাড়া ভালো কোনোদিন হবে না।

আইবুপুফেন ট্যাবলেট

আম্পিসিলিন সোডিয়াম ইনজেকশন

ক্লিন্ড্যামাইকিন ইনজেকশন

Chloroquine ফসফেট ট্যাবলেট

Polygeline ইনজেকশন

ম্যানিনটল ইনজেকশন

ভিটামিন সি যুক্ত সবজি

পুই শাক, মুলা শাক, সিম , বেগুন ,পটল, ঢেরস, পেপে , লেবু , ঝিঙ্গা, করল্লা,কাচ্কলাসহ শীতকালীন ভিবিন্ন ররম শাক সবজিতে ভিটামিন সি পাওয়া যায়

Tag – ভিটামিন, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি, ভিটামিন-সি, ভিটামিনের উত্‍স, ভিটামিনের উপকারিতা

Comments are closed.