ভিটামিন বি ও তার কাজ – Vitamin B Benefits

ভিটামিন বি  কি? কেন তা দরকার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য? আজ আমরা জেনেনি ভিটামিন বি এর গুনাগুন এবং তার প্রয়োজনীতা। আমাদের শরীরের কোষের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন করে। আমাদের শরীরের সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য ভিটামিন অত‍্যন্ত‍্ জরুরি।

ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স গোষ্ঠীর কাজ হলো বিশেষ বিশেষ উৎসেচকের অংশ হিসেবে আমিষ, শর্করা ও স্নহ পদার্থকে বিশিষ্ট করা এবং এদের অন্তর্নিহিত শক্তিকে মুক্ত হতে সাহায্য করা। দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ,দেহকোষের বিপাক,প্রজনন ইত্যাদি সম্পন্ন করা|খাওয়ার অরুচি,ঠোট ফাটা রোধ,রক্তশূন্যতা রোধ,বেরিবেরি রোগ থেকে রক্ষা, জিভের ঘা রোধ,বমিভাব ও অ্যানিমিয়া রোগ থেকে রক্ষা করা ভিটামিন বি এর কাজ দেহের বৃদ্ধি , হূদপিন্ড,স্নায়ু এবং পরিপাক ব্যবস্থার সুষ্ঠু কাছ করে তাছাড়া চামড়ার স্বাস্থ্য ঠিক রাখে।

ভিটামিন ‘বি’ আসলে অনেক গুলো ‘বি’ ভিটামিনের সমন্বয়, যাকে আমরা ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স বলতে পারি। ‘বি’ গুলো হচ্ছে বি১, বি২, বি৩,বি৪, বি৬, বি৭, বি৯,বি১২। এগুলো সবই ‘বি’ ভিটামিনের মধ্যে পড়ে। মানবদেহের অত্যন্ত জরুরী কিছু ফাংশন নিয়ন্ত্রণে ভিটামিন ‘বি’ গুরুত্বপূর্ণ। দেহের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান এই ভিটামিন বি।

 আরও পড়ুন – ভিটামিন ই উপকারিতা – Vitamin E Benefits

প্রতিদিনই আমাদের এই ভিটামিন ‘বি’ এর প্রয়োজন। যা আমরা পেয়ে থাকি আমাদের খাদ্য তালিকার বিভিন্ন খাবার থেকে। এবার আমরা বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস ও প্রয়োজন সমন্ধে আলোচনা করবো-

ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ৮ টি ভিটামিন হচ্ছে

থায়ামিন(বি1), রিবোফ্লাবিন(বি2), নায়াসিন(বি3), পেন্টোথেনিক এসিড(বি5), পাইরিডক্সিন(বি6), বায়োটিন(বি7), ফোলেট(বি9) এবং  কোবালামিন(বি12)। এগুলোকে একসঙ্গে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স বলা হয়।

ভিটামিন বি 1 (থায়ামিন)

বি১ ভিটামিনটিকে থায়ামিন নামেও ডাকা হয়। এর প্রধান কাজ হলো শর্করা বিপাকে অংশগ্রহণ করে শক্তিমুক্ত করা। তাছাড়া স্বাভাবিক ক্ষুধা বজায় রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করা। সেইসঙ্গে কোষেদের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা নেয় বি১। প্রসঙ্গত, ডাল এবং হোল গ্রেন খাবারে এই ভিটামনটি প্রচুর পরিমাণে থাকে।

ভিটামিন B2 (রিবোফ্লাবিন)

এটা অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড ও কার্বহাইড্রেডের বিপাকে অংশ নিয়ে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করা। হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ কমাতে এবং ব্লাড সেলের সংখ্যা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে বি২। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, চুল এবং ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এই বি২ বিশেষ কাজে আসে। তাইতো প্রতিদিন বি২ ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- বিনস, দুধ, দই এবং ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

ভিটামিন B3

হার্ট অ্যাটাকের কারণে যদি মরতে না চান, তাহলে বি৩ এর ঘাটতি যাতে কোন সময় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। কারণ বি৩ শরীরে উপস্থিত বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি ভাসকুলার ডিজঅর্ডার এবং শ্বাসকষ্টজনিত নানাবিধ সমস্যাকে দূর রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেইসঙ্গে হাড়কে শক্তপোক্ত করতেও সাহায্য করে। সাধারণত সামুদ্রিক মাছ, মাংস এবং বাদামে ভিটামিন বি৩ পাওয়া যায়।

ভিটামিন B5

নিয়মিত ডিম, বাদাম, দুগ্ধজাত খাবার, ব্রকলি, হোল গ্রেন এবং বিনস খেলে শরীরে এই ভিটামিনটির ঘাটতি দূর হয়। বি৫ কোষের গঠনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন B6 (পাইরিডক্সিন)

এটা শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। প্রায় ১০০ ধরনের এনজাইম রিঅ্যাকশন যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে ভিটামিন বি৬। সেইসঙ্গে প্রোটিন মেটাবলিজম প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করে। প্রসঙ্গত, দুধ, দই, ডিম, মাংস এবং সবুজ শাক-সবজিতে এই ভিটামিনটি প্রচুর পরিমাণে থাকে।

ভিটামিন B7

চুলের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বক এবং নখকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব রয়েছে বি৭ এর উপর। শুধু তাই নয়, মেটাবলিজম প্রক্রিয়া যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে ভিটামিন বি৭। মাংস, সয়াবিন এবং পনিরে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন – ভিটামিন ই ক্যাপসুল, ব্যবহার, উপকারিতা – Benefits Of Vitamin E Capsules

ভিটামিন B9

প্রেগন্যান্সির সময় বি৯ ভিটামিনটির প্রয়োজন বেড়ে যায়। কারণ চিকিৎসক মহলে ফলেট নামে পরিচিত এই পুষ্টিকর উপাদানটি, শরীর যাতে ঠিক মতো প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে, সেদিকে নজর রাখে। সেই সঙ্গে গর্ভাবস্থায় যাতে কোন ধরনের জটিলতা প্রকাশ না পায়, সে ব্যাপারেও সাহায্য করে। সেই কারণেই তো ভাবি মায়েদের নিয়মিত সবুজ শাক-সবজি, হোল গ্রেন খাবার, বিনস, ডাল এবং কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ভিটামিন B12 (সায়ানোকোবালামিন)

এটা লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি ও উৎপাদনে সহায়তা করে। শ্বেত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।সেইসঙ্গে ব্রেন ফাংশনে যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকেও নজর রাখে। এই ভিটামিনটির খোঁজ মেলে মূলত দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, মাংস, সামুদ্রিক মাছ এবং সবজিতে।

ভিটামিন বি উৎস 

ভিটামিন বি আমাদের শরীরের জন্য অতন্ত্য জরুরী। কোন খাবারে ভিটামিন বি থাকে সেইটাও জেনে নেওয়া উচিত আমাদের। মাছ,মুরগির মাংস,পাঠার মাংস,গম ইত্যাদি খাবারের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি ১ এবং ভিটামিন বি ২ থাকে।

ব্রকোলি, মাশরুম, দই, ভুট্টা, ফুলকপি, আলু, তরমুজ, বাঁধাকপি, কলা, বিভিন্ন ধরণের বেরি ফল ইত্যাদি। মাছ,সবুজ রঙের সবজি,বীটরুট, গম, দুধ এবং দুধের থেকে যে খাবার পাওয়া যায় যেমন ছানা, চীজ,দই ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন বি থাকে।

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর কিছু অভাবজনিত রোগ

এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। দূর্বলতা, বুক ধড়ফড় করা, হাত পা ব্যাথা করা ইত্যাদি এই ভিটামিন বি ১ এর অভাবে হয়ে থাকে।

ঠোঁট এবং তালু ফাটা, ঠোঁটের কোনায় ঘা, গলা শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি এই ভিটামিন বি ২ এর অভাবে হয়ে থাকে।

চুলকানি, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, দূর্বলতা এবং ডাইরিয়া বি ৩ এর অভাবে হয়ে থাকে।

এর অভাবে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ,রক্ত স্বল্পতা,বিষন্নতা এবং ত্বকের সমস্যা ভিটামিন বি ৬ এর অভাবে অভাবে হয়ে থাকে।

শিশুদের বৃদ্ধি এবং মানসিক বৃদ্ধি ভিটামিন বি ৭ এর অভাবে ব্যাহত হয়।

অভাবে রক্ত স্বল্পতা হয়। গর্ভবতি মায়েদের ভিটামিন বি ৯ এর অভাবে গর্ভস্থ শিশুর জন্মবিকৃতি ঘটে থাকে।

এর অভাবে রক্তস্বল্পতা এবং মানসিক সমস্যা দেখা যায়।

Comments are closed.