ফেসিয়াল করার নিয়ম – Facial Treatment Steps

নমস্কার বন্ধুরা আমি শান্তনু আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসা ও স্বাগতম আমার এই পেজ এ। আশা করবো আমার প্রত্যেক লেখা আপনাদের অনেকটাই উপকার করতে সাহায্য করবে বা আশা করবো ভালো লাগবে আপনাদের। আপনাদের সকলের সুস্থতা কামনা করি। আমি চেষ্টা করবো আপনাদের সাথে বা আপনাদের পাশে থাকতে। বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের কাছেএমন একটা জিনিসের ব্যাপারে আলোচনা করবো সেটা আমি জানি আপনাদের অনেকটাই ভালো লাগবে। আজকে আমি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কম বেশি সবাই ফেসিয়াল করে থাকি। আজ সেই সমস্ত ফেসিয়াল এর জন্য সবার ভালোর জন্য কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই বা আপনাদের এমন অনেক তথ্য জানাতে চাই যা আপনি জানেন না।


ত্বককে তার প্রয়োজনীয় আরাম প্রদানের ক্ষেত্রে ফেসিয়ালের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কিন্তু অনেকেই ফেসিয়ালের পর এমন কিছু কাজ করে থাকেন যার জন্য ত্বকের ভাল হওয়ার পরিবর্তে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। সেই সঙ্গে সৌন্দর্যও কমতে শুরু করে চোখে পরার মতো। সেই কারণেই তো ফেসিয়ালে পর কতগুলি জিনিস একেবারেই করা উচিত নয়, যেগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল এই প্রবন্ধে। ফেসিয়াল নানাভাবে ত্বকের উপকারে লাগে। এতে ত্বক নরম হয়। সেই সঙ্গে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্তও হয়ে ওঠে। তাই তো সৌন্দর্য বৃদ্ধির ইচ্ছা পূরণের জন্য সব সময়ই ফেসিয়ালের পক্ষে সাওয়াল করেন বিশষজ্ঞরা। তবে ত্বকের এমন ধরনের পরিচর্যা করার পর যদি ঠিক মতো নিয়ম মেনে না চলা হয়, তাহলেই ঘটে যায় নানা বিরূপ ঘটনা। তাই সাবধান! আসলে ফেসিয়ালের পরে ত্বক খুব নরম হয়ে যায়। সেই কারণেই তো এই সময় আরও বেশি করে ত্বকের খেয়াল রাখাতে হয়। আর এই কাজটি যদি কেউ ঠিক মতো না করেন, তাহলে উলটো ঘটনা ঘটে। ত্বক সুন্দর হওয়ার পরিবর্তে আরও খারাপ হয়ে যায়। কী কী কাজ এক্ষেত্রে করতে মানা করেন বিশেষজ্ঞরা? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে।

ফেসিয়াল করার সঠিক নিয়ম

সারা বছরই আমাদের ত্বকের যত্ন নিতে হয়। কিন্তু গরমের সময়টায় ত্বকের যত্ন নেয়াটা হয়ে যায় বাধ্যতামূলক। এই সময়ে ময়শ্চারাইজ়ারও মাখা যায় না। তাই গরমকালে ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে বাড়তি যত্ন নিতেই হবে। আমরা মনে করি ত্বকের পরিচর্যার জন্য হয়তো অনেক কিছু প্রয়োজন। আসলে কিন্তু তা নয়। আমরা রান্নাঘর বা ফ্রিজ থেকেই পেতে পারি প্রয়োজনীয় উপকরণ যা দিয়ে ধরে রাখতে পারি প্রতিদিনের সুন্দর ত্বক। ঘরোয়া জিনিস ব্যবহার করে কীভাবে ফেসিয়াল করব, আর কোন ত্বকে কোন ফেসিয়াল ভাল হবে সেটা আগে জেনে নিই ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের পরিচালক রূপবিশেষজ্ঞ ফারনাজ আলমের কাছে। চট জলদি রূপচর্চার বেশ কিছু উপায় বাতলে দিলেন ফারনাজ।

এখন যে কোনো একটি ট্রাই করুন

ফেসিয়ালের ধাপগুলো এভাবে অনুসরণ করুন, ফেসিয়াল করার নিয়ম ক্লিঞ্জিং প্রথমে ক্লিঞ্জিং দিয়ে মুখ ধোয়ার পূর্বে প্রথমে গরম ভাপ নিয়ে নিন। এটি আপনার মুখের লোমকুপগুলো খুলে দিতে সাহায্য করবে। ভাপ নেয়া হয়ে গেলে ক্লিঞ্জার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন ভালো করে। দুধে তুলা ভিজিয়ে ত্বক পরিস্কার করে নিতে পারেন।

ক্রিম ম্যাসাজ ফেসিয়াল ক্রিম দিয়ে ১০ মিনিট ত্বকে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে নিন। স্ক্র্যাবিং এবার স্ক্র্যাব দিয়ে মুখ আলতো ভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘষুন। তারপর উষ্ণ তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ফেলুন। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য চালের গুঁড়া, সুজি অথবা চিনি হতে পারে সবচেয়ে ভালো স্ক্র্যাব। টোনিং সমপরিমাণ ভিনেগার ও গোলাপ জল মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন টোনার। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে খুবই উপযোগী।

তুলা দিয়ে টোনার মুখে লাগান কিন্তু ভুলেও ঘষবেন না। চোখের কাছে লাগাবেন না। এই পর্যায়ে ফেসিয়াল যে কোনো একটি মাস্ক প্রস্তুত করুন।

একটা শসা কুড়িয়ে, সেটা থেকে রসটা বের করে এক চামচ চিনি ভাল করে মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। ত্বকে মেখে দশ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। শসার রস ত্বককে হাইড্রেট করে, ফলে ত্বক অনেক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।

দু’চামচ মসুর ডাল সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে মসুর ডাল বেটে তার মধ্যে অল্প দুধ ও আমণ্ড তেল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই প্যাকটা মুখে মেখে দশ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার জল দিয়ে ঘষে ঘষে ধুয়ে নিন।

শসার রস, এক কাপ ওটমিল ও এক টেবিল চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণটা পুরো মুখে মেখে তিরিশ মিনিট রেখে হালকা গরম জলে ধুয়ে নিন।

একটা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে এই মিশ্রণটা ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন। আজকাল সারা বছর টমেটো পাওয়া যায়।

একটি টমেটো ভাল করে চটকে নিন। সঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে আমাদের ত্বকের দাগগুলো সব মিলিয়ে যাবে।

ফুটন্ত গরম জলে ১ চামচ গ্রিন টি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। ১টি বাটিতে ২ চামচ মুলতানি মাটি নিন। তাতে ২-৩ চামচ গ্রিন টি ভেজানো জল মেশান। অ্যালোভেরার আবরণ সরিয়ে রস বের করে নিন। এবার মুলতানি মাটি ও গ্রিন টির মিশ্রণে মিলিয়ে নিন। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন, তারপর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। একবার ভালো করে দেখুন তো আয়নায়, স্টোরিটা পড়েই কেমন যেন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন, এবার ঝটপট শুরু করুন।

যেগুলো একদমই করবেন না

1.পুনরায় ত্বক পরিষ্কার করবেন না:

ফেসিয়াল করলে এমনিতেই ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা ময়লা এবং ক্ষতিকর উপাদান সব ধুয়ে য়ায়। তাই তো এই ধরনের ত্বকের পরিচর্যার পর আরও একবার স্ক্রাবিং বা ঐ জাতীয় কোনও পদ্ধতির সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার করার প্রয়োজন পরে না। আর যদি কেউ এমনটা করেন? তাহলে স্কিন সেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিষণ রকম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, ফেসিয়ালের করার কয়েক দিন পর থেকে পুনরায় মুখ পরিষ্কার করা শুরু করতে পারেন। তাতে যদিও ভাল ফল পাওয়া যায়।

2. ওয়েক্সিং

ফেসিয়াল করার পর পরই ওয়েক্সিং নৈব নৈব চ! অসলে এই সময় ত্বকের উপরের স্থরটি খুব নরম হয়ে যায়। তাই ওয়েক্সিং করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে নানা ধরনের ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

3. থ্রেডিং করবেন না:

ওয়েক্সিং মতই ফেসিয়ালের পর ভুরু প্লাক বা থ্রেডিং করবেন না। কারণ ওই একই। এই সময় ত্বকের উপরিভাগ নরম থাকার কারণে এমন কাজ করলে ত্বকের প্রদাহ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক কথায় ত্বক যখন খুব স্পর্শকাতর অবস্থায় থাকে, তখন প্রদাহ বা জ্বালা সৃষ্টি হয়, এমন কাজ করা একেবারেই উচিত নয়। তাতে ভাল হওয়ার থেকে খারাপ হয় বেশি।

4. রোদে বেরবেন না

যেমনটা আগেও বলেছি। ফেসিয়ালের পর ত্বক যেহেতু খুব সস্পর্শকাতর হয়ে যায়, তাই এই সময় বেশি রোদে ঘোরাঘুরি না করাই ভাল। কারণ এমনটা করলে ত্বকের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে স্কিনের উপরিঅংশ মারাত্বকভাবে পুড়ে যায়।

5. বোটক্স

ফেসিয়ালের পর পরই বটক্স করলে ত্বকের সংক্রমণ এবং ব্রণর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই সঙ্গে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। ফলে ত্বকের বয়স বাড়তে শুরু করে। সেই কারণেই ফেসিয়ালের পর কম করে ৭২ ঘন্টা কেটে যাওয়ার পর বটক্স বা ঐ জাতীয় স্কিন কেয়ারের দারস্থ হওয়া উচিত। তার আগে একেবারেই নয়।

6. নতুন কোনও বিউটি প্রডাক্ট ব্যবহার করবেন না

ফেসিয়াল পর ত্বক খুব সেনসিটিভ হয়ে যায়। তাই তো এই সময় নতুন কোনও ক্রিম বা বিউটি প্রডাক্ট ব্যবহার না করারই পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, ফেসিয়াল করার অন্তত ৩ দিন পর থেকে বিউটি প্রডাক্ট ব্য়বহার করবেন, তার আগে নৈব নৈব চ!

7. ফেস মাস্ক

এই সময় কোন ধরনের ফেসিয়াল মাস্ক ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। অনেকে মনে করেন ফেসিয়ালের পর প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ফেসিয়াল পেস্ট ব্যবহার করা যেতেই পারে, তাতে কোনও ক্ষতি হয় না। এই ধরণা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ ফেসিয়ালের পর ত্বক যেহেতু খুব স্পর্শকাতর হয়ে যায়। তাই এই সময় যে কোনও কিছু থেকে বড় কোনও ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই ফেসিয়ালের কম করে ৩৬ ঘন্টা পর থেকে ফেস মাস্ক বা কেমিকেল পিলং ব্যবহার করবেন, তার আগে নয়।

ট্যাগস – ফেসিয়াল, ফেসিয়াল ক্রিম, ফেসিয়াল করার নিয়ম, ফেসিয়াল মাস্ক, ফেসিয়াল স্ক্রাব, ফেসিয়ালের নিয়ম, ফেসিয়াল টিপস, ফেসিয়াল করার উপায়, ফেসিয়াল কি, ফেসিয়াল প্যাক, ফেসিয়াল করা, গোল্ড ফেসিয়াল, ছেলেদের ফেসিয়াল, হারবাল ফেসিয়াল, ফ্রুট ফেসিয়াল, ঘরোয়া ফেসিয়াল, পার্ল ফেসিয়াল, চকলেট ফেসিয়াল, অরেঞ্জ ফেসিয়াল, হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল 



Comments are closed.