লিভার সমস্যা ও সমাধান – Liver Problems And Solutions

স্বাস্থ্য টিপস

আমাদের দেহ সুস্থ রাখতে প্রয়োজন আমাদের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুস্থতা। লিভার আমাদের দেহের সব চাইতে বড় একটি অঙ্গ। দেহের ইমিউন সিস্টেম, হজমশক্তি এবং পুষ্টিধারণ সহ লিভার আমাদের দেহের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই লিভারের সুস্থতা আমাদের নিজেদের সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু আমরা নিজের অজান্তে আমাদের বাজে খাদ্যাভ্যাস এবং বাজে জীবনযাপনের জন্য প্রতিনিয়ত ক্ষতি করে যাচ্ছি আমাদের সুস্থতার কাজে নিয়োজিত এই অঙ্গটিকে। নানা ধরনের ক্ষতিকর টক্সিন পরিবেশের এবং আমাদের মাধ্যমে  প্রবেশ করছে আমাদের দেহে এবং নষ্ট করে দিচ্ছে লিভারের কার্যক্ষমতা। সুতরাং নিজের ভালোর জন্য আমাদের একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন লিভারের সুস্থতায় লিভারের জন্য উপকারী খাবার খাওয়ার কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা। আসুন দেখে নেই সেই সকল ভালো অভ্যাসগুলো যা আমাদের লিভারকে রাখবে সুস্থ। চলুন তাহলে দেখা যাক  লিভার সমস্যার প্রতিকার কি কি ?


লিভারের জন্য উপকারী খাবার

অনেকেই টিনজাত এবং বোতলজাত খাবারের প্রতি আসক্ত থাকেন। সময়ের অভাব এবং সতর্কতার অভাবে দিনে দিনে এই সকল প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম ফ্লেভারে ভরপুর এই ক্ষতিকর খাবার গুলো খাওয়ার অভ্যাস করে নিচ্ছি যা একেবারেই উচিৎ নয়। এইসকল প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম ফ্লেভার আমাদের লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আমাদের যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কোন ধরনের কৃত্রিম খাবার খাওয়া চলবে না। এতে লিভার থাকবে সুস্থ। আমাদের জানতে হবে যে লিভারের জন্য ক্ষতিকর খাবার গুলি কি কি।

তৈলাক্ত এবং ফাস্টফুড জাতীয় খাবার কম খাবেন

ফাস্ট ফুড খাবারের অপকারিতা বলতে তেলে ভাজা এবং ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খেতে অনেক বেশী সুস্বাদু হলেও আমাদের দেহের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। বিশেষ করে আমাদের লিভারের জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতিকর। এইধরনের খাবারে অনেক ক্ষতিকর ফ্যাট রয়েছে যা লিভারে ফ্যাট জমার জন্য দায়ী। এতে করে মুটিয়ে যাওয়া এবং ফ্যাট লিভারের জন্য দায়ী রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা দেখা দেয়।

লিভারের সুস্থতায় কার্যকর খাবার খান

হজমশক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকর যে খাবারগুলো সেধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। সালফার সমৃদ্ধ খাবার খান। ব্রকলি, সবুজ শাক, বাঁধাকপি এবং ফুলকপি লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। এছাড়া কাঁচা পেঁয়াজ এবং রসুন লিভারের জন্য ক্ষতিকর টক্সিনকে দেহ থেকে দূর করতে সহায়তা করে এবং লিভার ঠিক রাখে। প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন: দিনে ৬-৮ গ্লাস জল পান করুন। জল আমাদের লিভারের জন্য ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে লিভারকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। যারা জল কম খান তারা লিভারের নানা ধরনের রোগে ভুগতে পারেন। জল কম খাবেন না।

ঔষধ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন

অনেকেই সামান্য কারণে ঔষধ খেয়ে ফেলেন। অনেকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ঔষধ খান। কিন্তু এটি লিভারের জন্য অনেক ক্ষতিকর। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ খাবেন না। বিশেষ করে কোন ব্যথানাশক ঔষধ। ব্যথানাশক ঔষধে ব্যবহৃত এনজাইম লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে লিভার ড্যামেজ করে দিতে পারে। সুতরাং ঔষধ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্করা অবলম্বন করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ব্যায়াম দেহে মেদ জমার পাশাপাশি লিভারে মেদ জমতে বাধা দেয়। এতে করে লিভারের মেদ সংক্রান্ত রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। গবেষণায় দেখা যায় দিনে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যায়াম লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আমাদের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করতে সাহায্য করে। সুতরাং প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করুন।

ধূমপান এবং মদ্যপান ত্যাগ করুন

অনেকেই অভ্যাসবশত এবং শখের কারণে ধূমপান এবং মদ্যপান করে থাকেন। কিন্তু সিগারেট এবং মদ লিভার সেল নষ্ট করে দেয়ার জন্য দায়ী। সামান্য পরিমান মদ্যপান এবং ধূমপান হতে পারে হেপাটাইটিস এবং লিভার সিরোসিসের মত মারাত্মক রোগের কারন। সুতরাং ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।



Comments are closed.