ম্যালেরিয়া লক্ষণ ও প্রতিকার – Home Remedies For Malaria And Dengue

হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা। সকলেই ভালো আছেন।আর ভালো তো থাকতেই হবে আপনার জন্য বা আপনার পরিবারের জন্য।বন্ধুরা আজকে আমরা একটু আলোচনা করবো এমন একটা জিনিস নিয়ে যা সারাটা দেশে বেশ মহামারী বা ভয়ানক বলে আমরা সকলেই জানি আর সেটা হল ম্যালেরিয়া।তাহলে আসুন একটু শুনেনি ও জেনেনি ম্যালেরিয়া হলে করণীয় কি ? Traditional Treatment For Malaria.

ম্যালেরিয়া কেন হয় ? Causes Of Malaria

স্ত্রী জাতীয় এনোফেলিস মশাবাহিত বিশেষ এক ধরণের জীবাণুর (Plasmodium) দ্বারা সংক্রমণের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া হয়ে থাকে।

ম্যালেরিয়ার লক্ষণ – Malaria Definition

1. প্রথম দিকে মাথাধরা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিদ্রা ইত‍্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

2. দ্বিতীয় পর্যায়ে রোগীর শীত শীত অনুভূত হয় এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। জ্বর ১০৫°-১০৬° ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। কয়েক ঘণ্টা পর জ্বর কমে যায়। পরে আবার আসে। ৪৮ ঘণ্টা পর পর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা Plasmodium vivax দ্বারা সৃষ্ট ম‍্যালেরিয়ার প্রধান লক্ষণ।

3. তৃতীয় পর্যায়ে রোগীর দেহে জীবাণুর সংখ্যা অসম্ভব ভাবে বেড়ে গেলে দ্রুত রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা ভাঙতে থাকে, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। যকৃত বড় হয় ও সংক্রমিত হয়। প্লীহা, মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

নির্দিষ্ট সময় পরপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। জ্বর সাধারণত ১০৫-১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। তবে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বর আসা-যাওয়া করে যেমন- একদিন পর পর জ্বর, তা তিন চার ঘণ্টা দীর্ঘ হওয়া এবং এরপর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যায়। জ্বর ছেড়ে গেলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও কমে যেতে পারে। এ ছাড়াও মাঝারি থেকে তীব্র কাঁপুনি বা শীত শীত অনুভব, গায়ে প্রচণ্ড ব্যথা, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া বা ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমিবমি ভাব অথবা বমি, হজমে গোলযোগ, অত্যধিক ঘাম হওয়া, খিঁচুনি, পিপাসা লাগা, ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভব করা, মাংসপেশি, তলপেটে ব্যথা অনুভব, প্লীহা ও যকৃত বড় হয়ে যাওয়াসহ লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হওয়ার কারণে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। ম্যালেরিয়া রোগের জটিলতম ধরন হলো ‘ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া’। সাধারণ ম্যালেরিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জটিলতা যেমন রক্তশূন্যতা, কিডনি বৈকল্য, শ্বাসকষ্ট হওয়া, জন্ডিস, খিঁচুনি, রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। জরুরি চিকিৎসা না পেলে এসব রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে, এমন কি মৃত্যুও হতে পারে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা : ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলে প্রথমবার পরীক্ষায় যদি ম্যালেরিয়ার কিছু না পাওয়া যায়, তবে পর পর তিন দিন পরীক্ষাটি করা উচিত। যদি ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়, তাহলে দেরি না করে বা উদ্বিগ্ন না হয়ে দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আবার আমরা আলোচনা করবো ম্যালেরিয়ার লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে।

ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

রোগের লক্ষণের ধরন অনুসারে ম্যালেরিয়া রোগকে কে দু ভাগ এ ভাগ করা হয়

1. সাধারণ ম্যালেরিয়া

2.মারাত্মক ম্যালেরিয়া এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়৷

সাধারণ ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ

ম্যালেরিয়া জ্বর সাধারণত থেকে থেকে নির্দিষ্ট সময়ে আসে৷

মাঝারি থেকে তীব্র কাপুনি দিয়ে শীত/ঠান্ডা লাগা।

গায়ে প্রচন্ড ব্যথা হয়৷

শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে অত্যধিক ঘাম হওয়া

হজমের গোলযোগ দেখা যায়।

মাথা ব্যাথা

বমি বমি ভাব অথবা বমি

ডায়রিয়া

শরীর দুর্বল অনুভূত হয় ও ক্লান্তি লাগে।

এ সময়ে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়৷ তাই এ সময় রোগীকে হালকা ধরনের খাবার বিশেষ করে তরল খাদ্য দেয়া উচিত।

মারাত্মক ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ

ম্যালেরিয়া রোগের জটিল ধরন হলো মারাত্মক ম্যালেরিয়া। জরুরী চিকিৎসা না পেলে এসব রোগীর মৃত্যু হতে পারে৷ সেরিব্রাল বা মারাত্মক ম্যালেরিয়া রোগে নিম্নলিখিত লক্ষন ও উপসর্গসমূহ দেখা যায়

জলশূন্যতা 

রক্ত শূণ্যতা

যকৃত বা লিভারের অকার্যকারিতা

শ্বাসকষ্ট হওয়া

কিডনির অকার্যকারিতা

খিঁচুনি

জন্ডিস

রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া, এক্ষেত্রে রোগীর বারবার বমি হয়, নিজে বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে অসুবিধা হয় এবং রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায়

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এ রোগ সম্পূর্ণ প্রতিকার ও প্রতিরোধযোগ্য। মশাবাহিত রোগ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হলে সচেতনতা অবলম্বন প্রয়োজন। মশার কামড় থেকে দূরে থাকাই এ রোগ প্রতিরোধের উপায়। এজন্য কিছু করণীয় রয়েছে। যেমন- দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি বা কয়েল ব্যবহার করা। দরজা-জানালায় মশক নিরোধক জাল, প্রতিরোধক ক্রিম, স্প্রে ব্যবহার করা। ঘরের আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে মশা বংশবিস্তার না করতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা বা স্থির জলাধার, জলাবদ্ধ এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার করা।  জমা পানিতে মশা ডিম পাড়ে বেশি। এসব স্থানে কীটনাশক বা কেরোসিন ছিটিয়ে দেওয়া। ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় বেড়াতে গেলে, আগে থেকেই চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া বা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ সঙ্গে রাখা।

ম্যালেরিয়া নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের উপসর্গ এবং ভ্রমণ ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে ৩ থেকে ১২ ঘন্টার ব্যবধানে ২ বার রক্ত পরীক্ষা করতে হতে পারে। ম্যালেরিয়া সাধারণত ব্লাড-ফিল্মস ব্যবহার করে রক্তের দূরবীক্ষণ পরীক্ষা অথবা অ্যান্টিজেন ভিত্তিক দ্রুত ডায়গনিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়।

ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা

কোন ঔষধ কতদিন সেবন করতে হবে এবং কতদিন চিকিৎসা করতে হবে তা কিছু বিষয় যেমন- রোগীর বয়স, চিকিৎসা শুরুর সময় অসুস্থতার পরিমান, ম্যালেরিয়ার ধরণ, কোথায় সংক্রমণ হয়েছে ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। সেরিব্রাল বা মারাত্মক ম্যালেরিয়া রোগীকে মুখে খাওয়ার ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়৷ ফলে এদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হয়৷ ম্যালেরিয়া রোগে সাধারনত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মুখে বা শিরাপথে ক্লোরোকুইন, হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন, কুইনিন সালফেট, মেফ্লোকুইন, পাইরিমেথামাইন, সালফাডক্সিন ইত্যাদি ঔষধ ব্যবহার করা হয়। ডাক্তারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে করনীয়

খাটে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।

জানালা ও দরজায় নেট ব্যবহার করতে হবে।

মশা তাড়াবার জন্য মশার কয়েল, ভেপরম্যাট ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।

প্রয়োজনে ঘরের দেয়ালে কীটনাশক জাতীয় ঔষধ ছিটানো।

বাড়ির আশেপাশে কোন ঝোপ জঙ্গল থাকলে তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

জমা জল বের করে দিতে হবে, যেখানে সাধারণত মশা ডিম পাড়ে। জমা জলে মশা ডিম পারলে সেখানে কীটনাষক বা কেরোসিন ছিটিয়ে দিতে হবে।

ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকায় বেড়াতে যাওয়ার দুই থেকে তিন মাস আগে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা (প্রতিষেধক ঔষধ) নিতে হবে।

ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকা থেকে ফেরার চার সপ্তার পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিষেধক ঔষধ সেবন করতে হবে।

শেষ কথা

ম্যালেরিয়া সাধারনত ক্রান্তীয় অঞ্চল, ‌উপ‌-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলেই বেশি দেখা যায় কারণ বৃষ্টিপাত, উষ্ণ তাপমাত্রা এবং স্থির জল মশার ডিম পাড়ার জন্য আদর্শ আবাসস্থল। অবশ্যই মশারি ব্যবহার এবং প্রয়োজনে পোকা তাড়ানোর ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। স্থায়ীভাবে কোথাও পানি জমে থাকতে দেয়া যাবে না। সর্বোপরি দ্রুত রোগ নির্ণয় করে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া। ম্যালেরিয়া জটিল হয়ে ওঠার আগেই লক্ষণ দেখে দ্রুত রোগীকে হাসাপাতালে নিয়ে আসতে হবে। উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই ম্যালেরিয়া থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।

Comments are closed.