টিবি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার – TB Disease And Remedy

টিবি বা যক্ষ্মা এমন একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা প্রাথমিকভাবে ফুসফুসকে আক্রান্ত করে।  টিবি হচ্ছে এমন একটি রোগ যা Mycobacterium tuberculosis (Mtb) এর মাধ্যমে মানব শরীরে ছড়ায়। বর্তমানে বিশ্বে টিবি সংক্রামণে মানুষের মৃত্যুর হার দ্বিতীয় স্থানে আছে। বর্তমানে টিবি রোগের যেসব ঔষধ বাজারে আছে তাতে টিবি সংক্রামণ সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছেনা ফলে নতুন এ ঔষধ বাজারে এলে টিবি কে অনেক টা প্রতিরোধ করা যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। এখন বিশ্বে যে সকল যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে একক ভাবে কোনটাই যক্ষ্মাকে নির্মূল করতে পারেনা ফলে যক্ষ্মার এ নতুন আবিস্কারের ফলে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসাতে নতুন যুগের সূচনা ঘটল। নতুন আবিষ্কৃত ঔষধ দিয়ে Mycobacterium tuberculosis (Mtb) ১০০% নির্মূল করা যাবে বলে জানা যায়। যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা।


যক্ষা একটি সংক্রামক ব্যাধি। যা প্রধানত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। যক্ষা বলতে সাধারণভাবে আমরা ফুসফুসের যক্ষাকেই বুঝি। তবে ফুসফুস ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে যক্ষা হতে পারে। যেমন- লসিকাগ্রন্থি, হার ও গিট, অন্ত্র, হৃদপিন্ডের আবরণ ও মস্তিস্কের আবরণ ইত্যাদি। অতীতে মানুষের যক্ষা ধরা পড়লে হতাশ হয়ে জীবন যাপন করত। কারণ তখন যক্ষার কোন ঔষধ ছিল না। ফলে মানুষ খুবই ভয় পেত। আজ আর সেই দিন নেই, যক্ষার ওষুধ নিয়মিত খাওয়ার পর তা সম্পূর্ণরুপে ভালো হয়।

যক্ষ্মা বা যক্ষা (Tuberculosis বা টিবি) একটি সংক্রামক রোগ। মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) নামক একটি জীবাণু এই রোগের জন্য দায়ী। ‘যক্ষ্মা’ শব্দটা বাংলা ‘রাজক্ষয়’ শব্দ থেকে এসেছে। যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীরা খুব রোগা হয়ে পড়েন। যক্ষ্মা রোগে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হয় ফুসফুস, যদিও হৃৎপিণ্ড, অগ্ন্যাশয়, ঐচ্ছিক পেশী ও থাইরয়েড গ্রন্থি ছাড়া শরীরের প্রায় যেকোনও অঙ্গেই যক্ষ্মা রোগ হতে পারে এমনকি কিডনি, মেরুদন্ড অথবা মস্তিষ্ক পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে। জীবাণু শরীরে ঢুকলেই কিন্তু যক্ষ্মা হয় না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে যক্ষ্মা হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

যক্ষা রোগের লক্ষণ ও তার প্রতিকার

সাধারণত সন্ধ্যা বেলায় জ্বর আছে। খাবার খাবে কিন্তু তারপরও শুকিয়ে যাবে। কফ হবে। সেই কফ আর সারবে না। সাধারণ এন্টিবায়টিক খেলেও সারবে না। একটা সময় দেখা যাবে যে কফের সঙ্গে রক্ত আসছে। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত নাও আসতে পারে। ওজন কমে যায়। ক্ষুধামন্দা হবে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সাধারণত এটা ফুসফুসের যক্ষা। কিন্তু এছাড়া অন্য কোন যক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষ নাও থাকতে পারে।

যক্ষা শরীরের কোথায় কোথায় হয়?

মাথার চুল থেকে শুরু করে সর্ব অঙ্গেই যক্ষা হতে পারে।

যক্ষা রোগীকে অনেক ওষুধ খেতে হয়। কেনো?

যখন একজন রোগীর যক্ষা হয় তখন তিনি বিপুল পরিমানে টিবির জীবানুতে আক্রান্ত হন। আমরা চিকিৎসকরা ওই সময় রোগীর দেহের সব টিবির জীবানু কিল করার চেষ্টা চালাই।

রোগ নির্নয়ের জন্য কি কি পরীক্ষা করা হয়?

রক্তের পরীক্ষা, কফ পরীক্ষা, ত্বকের পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, কালচার টেস্ট।

কাদের যক্ষা হবার সম্ভাবনা বেশি?

অপুষ্টিতে ভুগলে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম।

বয়স্ক ব্যক্তি।

যক্ষায় সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি।

যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করছেন।

ডায়াবেটিস রোগীদের কি টিবি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

অবশ্যই টিবি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সাধারণ মানুষের তুলোনায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এজন্য তাদের টিবি হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে।

 যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধের উপায় কি? TB Disease Treatment

যক্ষ্মা বা টিবি রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে একজন সুস্থ ব্যক্তিকে কিছু বিষয়ে সাবধান হতে হবে। যেমন :

জন্মের পর পর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দিতে হবে।

পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বাসস্থানের পরিবেশ খোলামেলা, আলো-বাতাস সম্পন্ন হতে হবে।

জনাকীর্ণ পরিবেশে বসবাস যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।

ডায়াবেটিস জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী রোগের ক্ষেত্রে, সুষ্ঠু চিকিৎসা নিতে হবে।

যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীকে সবসময় নাক মুখ ঢেকে চলাচল করতে হবে।

যক্ষ্মা জীবাণুযুক্ত রোগীর সঙ্গে কথা বলার সময় একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

রোগী জীবাণুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে অন্য সবার থেকে একটু আলাদা রাখতে হবে।

জীবাণুযুক্ত রোগীকে যেখানে সেখানে কফ ফেলা পরিহার করতে হবে।

শেষ কথা 

অবশ্যই মনে রাখবেন যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই এই কথার কোনো ভিত্তি নাই। তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে অবহেলা না করে সরাসরি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে কফ পরীক্ষা করান নাহলে বিপদ হতে পারে। সঠিক চিকিৎসায় যক্ষ্মা পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। যক্ষ্মা বা টিবি ধরা পড়লে সঠিক নিয়মে ওষুধ সেবন করুন। সব থেকে ভালো সংবাদ হল যে যক্ষ্মা বা টিবি রোগের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা হয়ে থাকে। তাই কোনো ভয়ের কিছু কারণ নেই। ওপরের উল্লেখিত ব্যাপারগুলি থেকে ভালো করে সচেতন হন। ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ। 



Comments are closed.