শিব – Shiv Tandav

 

শিবতাণ্ডব – Shiv Tandav

জটাটবী গলজ্জল প্রবাহ প্লাবিত স্থলে,
গলেহবলম্ব্য লম্বিতাং ভূজঙ্গ-তুঙ্গ-মালিকাম্‌।
ডমড্‌-ডমড্‌-ডমড্‌ ডমন্নিনাদ-বড ডমর্বয়ং,
চকার চণ্ড তাণ্ডবং তনোতু নঃ শিবঃ শিবম্‌॥1॥


জটাকটাহ সম্ভ্রম ভ্রমন্নিলিম্পনির্ঝরী
বিলোলবীচিবল্লরীবিরাজমানমূর্দ্ধনি।
ধগদ্ধগদ্ধগজ্জ্বলল্ললাটপট্টপাবকে
কিশোর চন্দ্রশেখরে রতিঃ প্রতিক্ষণং মম॥2॥

ধরাধরেন্দ্রনন্দিনীবিলাসবন্ধু-বন্ধুর
স্ফুরদ্‌দৃগন্তসন্ততি-প্রমোদমানমানসে।
কৃপাকটাক্ষধোরণী-নিরুদ্ধ দুর্দ্ধরাপদি
ক্বচিদ্দিগম্বরে মনো বিনোদমেতু বস্তুনি॥3॥

জটাভুজঙ্গ পিঙ্গল-স্ফুরৎ ফণা-মণিপ্রভা
কদম্বকুঙ্কুমদ্রবপ্রলিপ্ত দিগ্‌বধূমুখে।
মদান্ধ-সিন্ধুরস্ফুরৎত্বগুত্তরীয়-মেদুরে
মনো বিনোদমদ্‌ভূতং বিভর্ত্তু ভূতভর্ত্তরি॥4॥

সহস্রলোচন প্রভৃত্যশেষলেখশেখর
প্রসূনধূলি ধোরণী বিধূসরাঙ্ঘ্রি পীঠভূঃ।
ভুজঙ্গ রাজমালয়া নিবদ্ধজাটজূটকঃ
শ্রিয়ৈ চিরায় জায়তাং চকোরবন্ধুশেখরঃ॥5॥

ললাট চত্বর-জ্বলদ্ধনঞ্জয় স্ফুলিঙ্গভা
নিপীতপঞ্চসায়কং নমন্নিলিম্পনায়কম্।
সুধাময়ূখলেখয়া বিরাজমানশেখরম্‌
মহাকপালি সম্পদে শিরো জটালমস্তু নঃ॥6॥

করালভালপট্টিকা ধগদ্ধগদ্ধগজ্জ্বল-
দ্ধনঞ্জয়াধরীকৃত প্রচণ্ডপঞ্চসায়কে।
ধরাধরেন্দ্রনন্দিনী-কুচাগ্রচিত্রপত্রক-
প্রকল্পনৈকশিল্পিনি ত্রিলোচনে রতির্ম্মম॥7॥

নবীনমেঘমণ্ডলী নিরুদ্ধদুর্দ্ধরস্ফুরত্
কুহূনিশীথিনীতমঃ প্রবন্ধুবদ্ধকন্ধরঃ।
নিলিম্প নির্ঝরী-ধর স্তনোতু কৃর্ত্তি সিন্ধুরঃ
কলা নিধান বন্ধুরঃ শ্রিয়ং জগদ্ধুরন্ধরঃ॥8॥

প্রফুল্ল নীল-পঙ্কজ-প্রপঞ্চ-কালিমচ্ছটা
বড়ম্বিকণ্ঠ-কন্ধরা-রুচি-প্রবদ্ধ-কন্ধরম্।
স্মরচ্ছিদং পুরচ্ছিদং ভবচ্ছিদং মখচ্ছিদং
গজচ্ছিদন্ধকচ্ছিদং তমন্তকচ্ছিদং ভজে॥9॥

অগর্ব্বসর্ব্বমঙ্গলা কলা-কদম্ব-মঞ্জরী
রস-প্রবাহ-মাধুরী-বিজৃম্ভণামধুব্রতম্।
স্মরান্তকং পুরান্তকং ভবান্তকং মখান্তকং
গজান্তকান্ধকান্তকং তমন্তকান্তকং ভজে॥10॥

জয়ত্যদভ্রবিভ্রমভ্রমদ্‌-ভুজঙ্গমস্ফুর-
দ্ধগদ্ধগদ্বিনির্গমৎ-করাল-ভাল-হব্যবাট্
ধিমিদ্ধিমিদ্ধিমিধ্বনন্‌ মৃদঙ্গতুঙ্গমঙ্গল-
ধ্বনিক্রম প্রবর্ত্তিত প্রচণ্ডতাণ্ডবঃ শিবঃ॥11॥

দৃষদ্বিচিত্রতল্পয়োর্ভুজঙ্গমৌক্তিকস্রজো-
র্গরিষ্ঠ-রত্নলোষ্ট্রয়োঃ সুহৃদ্‌ বিপক্ষপক্ষযোঃ।
তৃণারবিন্দচক্ষুষোঃ প্রজামহীমহেন্দ্র য়োঃ
সমং প্রবর্ত্তয়ন্‌ মনঃ কদাসুখী ভবাম্যহম্॥12॥

কদানিলিম্পনির্ঝরীনিকুঞ্জকোটরে বসন্
বিমুক্তদুর্গতিঃ সদা শিরঃস্থমঞ্জলিং বহন্।
বিমুক্ত লোললোচনো ললামভাললগ্নকঃ
শিবেতি মন্ত্রমুচ্চরন্ কদা সুখী ভবাম্যহম্॥13॥

ইমং হি নিত্যমেব মুক্তমুত্তমোত্তমং স্তবম্‌-
পঠন্স্মরন্‌ ব্রুবন্নরো বিশুদ্ধিমেতি সন্ততম্।
হরে গুরৌ সুভক্তিমাশু যাতিনান্যথা গতিং-
বিমোহনং হি দেহিনাং সুশঙ্করস্য চিন্তনম্॥14॥

পূজাবসান-সময়ে দশবক্ত্র গীতং
যঃ শম্ভু পূজনমিদং পঠতি প্রদোষে।
তস্য স্থিরাং রথগজেন্দ্রতুরঙ্গযুক্তাং
লক্ষ্মীং সদৈব সুমুখীং প্রদদাতি শম্ভুঃ॥15॥

হে প্রভু শিবসুন্দর! তোমার জটার অরণ্য হতে গঙ্গার ধারা গলগল করে বেয়ে এসে তোমার গলদেশকে প্লাবিত করছে, সেই গলদেশ আবার সর্পমালায় বিভূষিত, তুমিই একবার ডমরু বাজিয়ে ডমড্‌ ডমড্‌ ডমড্‌ ধ্বনি তুলে তাণ্ডব-নৃত্যে ত্রিভুবনকে কম্পমান করেছিলে, তুমি আমাদের মঙ্গল বিধান কর॥1॥

যাঁর জটাজুট দেব-নির্ঝরিণী (গঙ্গা) চঞ্চল বীচিমালায় শিরোদেশের শোভাবর্দ্ধন করতঃ সসম্ভ্রমে ভ্রমণ করছেন, যাঁর কপাল-তলে (তৃতীয়লোচন) অগ্নি ‘ধক্‌ ধক্‌’ জ্বলছে, কিশোর (অর্দ্ধ) চন্দ্র যাঁর শেখর (শিরোভূষণ), সেই মহাদেবে প্রতিক্ষণ আমার রীতি (মতি) হোক॥2॥

ধরাধারেন্দ্র (শৈলীরাজ) নন্দিনী পার্বতীর বিলাসের উপকরণ স্বরূপ কুটিল ও চঞ্চল কটাক্ষ সমূহে যাঁর মন নিতান্ত পরিতোষ লাভ করে, যাঁর কৃপাকটাক্ষপাতে অসহ্য বিপদ্‌ যন্ত্রণা দূর হয়, এ হেন কোনও দিগম্বর বস্তুতে (মহাদেবে) আমার মন শান্তি লাভ করুক॥3॥

(প্ৰলয়-তাণ্ডবসময়ে) যাঁর জটা মধ্যবর্তী-ভুজঙ্গ-সমূহের ফণাস্থিত মণিদের ইতস্ততঃ বিকীর্ণ পিঙ্গলবর্ণ কিরণ রূপ কুকুম জল দ্বারা দিগ্‌বধূর মুখমণ্ডল বিচ্ছুরিত হয়, মদমত্ত হাতির চমড়ার মত উত্তরীয় দ্বারা স্নিগ্ধ শ্যামবর্ণ, ভূতপতি মহাদেবে আমার মন অপূর্ব শান্তি লাভ করুক॥4॥

সহস্ৰলোচন (ইন্দ্র) প্রভৃতি দেব গণের (প্ৰণামকালে) শিরোভূষণ স্বরূপ পুষ্প সমূহের ধূলিপাতে যাঁর পাদপীঠভূমি অতিমাত্ৰ ধূসর-বর্ণ ধারণ করে, ভূজঙ্গ-রাজ বাসুকির শরীর বলয় দ্বারা যাঁর জটাজুট নিবদ্ধ হয়, সেই চকোর বন্ধু (চন্দ্র) শেখর সর্বদা কল্যাণ বিধান করুন॥5॥

যাঁর ললাট-দেশে প্ৰজ্বলিত অগ্নির স্ফুলিঙ্গ-শিখায় পঞ্চবাণ (কন্দর্প) ভস্মীভূত, চন্দ্ররেখা যেখানে শিরোভূষণ-রূপে বিরাজ করছে, যা নরকপাল-মালায় অলঙ্কৃত, জটাজুট বিলম্বিত ও দেবরাজ-বন্দিত, মহাদেবের সেই শিরোদেশ আমাদের মঙ্গল বিধান করুন॥6॥

যাঁর ভালতলের ধক্‌ ধক্‌ প্ৰজ্বলিত করাল অগ্নি দ্বারা প্ৰচণ্ড পঞ্চবাণ পরাজিত, যিনি শৈলরাজবালা পার্বতীর স্তনাগ্রের বিচিত্ৰ পত্ৰ রচনায় একমাত্ৰ চিত্রকর, এ হেন ত্ৰিলোচনে আমার মতি হোক॥7॥

নবীন মেঘ মণ্ডলীর নিবিড় শ্যামবৰ্ণে আচ্ছাদিত, অমাবস্যা মধ্য রজনীর অন্ধকারের ন্যায় কালকূটের শ্যামলবর্ণে যাঁর গলদেশ রঞ্জিত, যিনি দেব নির্ঝরিণী গঙ্গাকে মস্তকে বহন করেন, যিনি করি-চামড়া ধারণ করেন, চন্দ্রকলা দ্বারা যাঁর দেহ বিভূষিত, সেই ত্ৰৈলোক্য ভারধারী মহাদেব আমাদের কল্যাণ বর্দ্ধন করুন॥8॥

প্ৰস্ফুটিত নীল কমল সমূহের ন্যায় শ্যামল কণ্ঠশোভায় যিনি অলঙ্কৃত যিনি কন্দর্প ও ত্রিপুরাসুরের বিনাশকর্তা, যিনি দক্ষযজ্ঞ ধ্বংসকারী এবং যিনি গজাসুরও অন্ধকাসুরকে বিনাশ করেন, ঈদৃশ মৃত্যুঞ্জয়কে ভজনা করি॥9॥

নিরভিমানা সর্বমঙ্গলার বিলাস-বিধৃত কদম্বের মাধুরী বিকাশ বিষয়ে যিনি ভ্রমরতুল্য, কন্দর্প, ত্রিপুরাসুর (সংহার কালে) সংসার, দক্ষযজ্ঞ ও অন্ধকাসুরকে যিনি বিনাশ করেন ঈদৃশ মৃত্যুঞ্জয়কে ভজনা করছি॥10॥

নৃত্যকালে যাঁর ভালদেশে বিবিধ বিলাসরঙ্গে ভুজঙ্গমগণ নৃত্য করে, আর তাঁদের নৃত্যের প্রতি তালে তালে যাঁর তৃতীয় নয়নের অনল শিখা বিনির্গত হয়ে ‘ধক্‌ ধক্‌’ জ্বলতে থাকে, মৃদঙ্গের ‘ধিমিদ্ধিমি দ্ধিমি’ এই মঙ্গল ধ্বনির তালে তালে যিনি প্ৰচণ্ড তাণ্ডব করেন এ হেন মহাদেবের জয় হোক॥11॥

প্রস্তর ও বিচিত্ৰ শয্যা, ভুজঙ্গও মুক্তাহার, মহামূল্য রত্ন ও লোষ্ট্রখণ্ড, মিত্র ও শত্রু পক্ষ, তৃণ ও কমল নয়না কামিনীগণ, প্ৰজা ও রাজা, সর্বত্র সমদৃষ্টি হয়ে কবে আমি সদাশিবের সেবা করব॥12॥

কবে আমি চঞ্চললোচনা কামিনীদের সঙ্গ পরিত্যাগ করে সংসারের সমস্ত দুর্গতি হতে অব্যাহতি পাব? কবে আমি দেব নির্ঝরিণী (গঙ্গা)র নিকুঞ্জ কোটরে বসে, মনোরম ভাল দেশে চিত্ত স্থাপন পুর্বক মস্তকে অঞ্জলি বহন করে ‘শিব’ এই মন্ত্র উচ্চারণ করে সুখী হব॥13॥

যে মানব প্রতিদিন এই অত্যুৎকৃষ্ট স্তব পাঠ, স্মরণ ও কীর্ত্তন করে, সে সতত বিশুদ্ধি লাভ করে এবং সে পরম গুরু হরে আশু অপূর্ব ভক্তি লাভ করে, তার অন্যরূপ গতি হয় না। যেহেতু শঙ্করের চিন্তা মানবগণকে মহাদেবের সৌন্দৰ্য্যে মুগ্ধ করে উত্তম গতি প্ৰদান করে॥14॥

যে ব্যক্তি পূজা শেষকালে এবং প্রদোষ সময়ে রাবণ-কৃত শম্ভুপূজার উপকরণ স্বরূপ এই শ্রীশিবতাণ্ডব স্তব পাঠ করে, ভগবান্‌ শম্ভু তাকে রথ অশ্ব হিস্তিকুল সমৃদ্ধ সুমুখী স্থিরা লক্ষ্মী প্রদান করেন॥15॥



Comments are closed.