বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – Rain Poem in Bengali

বৃষ্টির কবিতা – Romantic Rain Poem in Bengali 

আবার এসেছে আষাঢ়

আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে–
আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে।
এই পুরাতন হৃদয় আমার আজি
পুলকে দুলিয়া উঠিছে আবার বাজি
নূতন মেঘের ঘনিমার পানে চেয়ে
আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে।


রহিয়া রহিয়া বিপুল মাঠের ‘পরে
নব তৃণদলে বাদলের ছায়া পড়ে।
এসেছে এসেছে এই কথা বলে প্রাণ,
এসেছে এসেছে উঠিতেছে এই গান,
নয়নে এসেছে, হৃদয়ে এসেছে ধেয়ে।
আবার আষাঢ় এসেছে আকাশ ছেয়ে।

মেয়েটি দেখছে রোদ

মেয়েটি দেখছে রোদ
রোদটা হৃদয় ছুই ছুই,
বৃষ্টি নিবে প্রতিশোধ
মেঘটা বলছে তুই তুই।

মেয়েটি দেখছে মেঘ
মেঘটা আকাশ ছুই ছুই,
ঘুড়িটা উড়ছে তবু বেশ
পাখিটা বলছে তুই তুই।

মেয়েটি দেখছে পাখি
পাখিটা দুঃক্ষ ছুই ছুই,
লোনা জলে ডোবে আঁখি
বৃষ্টিটা বলছে তুই তুই।

জল অভিমান

তোমার চোখের জল অভিমান
দেখতে লাগে মিষ্টি
সব অভিমান ধুয়ে যেতো
নামতো যদি বৃষ্টি
ইচ্ছে করে নিজেই আমি
বৃষ্টি হয়ে যাই
মেঘ দুপুরে হঠাৎ এসে
তোমাকে ভিজাই
ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে তুমি
হতে অন্যরকম
মনে হতো তুমি যেন
সদ্য ফোটা কদম

তুমি চাইলে বৃষ্টি হবো

তুমি চাইলে মেঘ হবো
কিংবা চোখে হবো নীল আকাশ
নিদান কালের সঙ্গী হবো
হবো তোমার নিঃশ্বাসের বাতাস
তুমি চাইলেই মিষ্টি রোদের খামে
হবো ঝরাপাতার চিঠি
তোমার আকাশে ধ্রুবতারা হয়ে
জ্বলবো মিটিমিটি
তুমি চাইলে চৈত্র দিনের বৃষ্টি হয়ে
তোমাকে দিবো ছুঁয়ে
চোখের বিষাদ সব দূর করে দিবো
কষ্ট দিবো ধুয়ে

না বলে আসা বৃষ্টি

হঠাৎ করে শুরু হোক
না বলে আসা বৃষ্টি
আমার ওপর এসে পড়ুক
তোমার মৃদু দৃষ্টি
টিনের চালে বেজে উঠুক
বৃষ্টি নুপুর
ভেসে যাক ধুয়ে যাক
আনমনা দুপুর
প্রকৃতি মেতে উঠুক
সুরের জল তরঙ্গে
কিছু কথা জমে উঠুক
তোমার-আমার সঙ্গে

বৃষ্টি কি তোমাকে কাঁদায়

বৃষ্টি ঝরা বর্ষাকালে
বৃষ্টি পড়ে টিনের চলে
বৃষ্টি পড়ে তোমার রাঙা পায়
তোমার ঐ ফর্সা গালে
চোখের কাজল লেপ্টে থাকে
বৃষ্টি কি তবেতোমাকে কাঁদায়?

দীর্ঘশ্বাস

ঝুম বৃষ্টির পরে তোমার হঠাৎ চলে যাওয়া
আমার জন্য রেখে গেলে বৃষ্টি ভেজা হিমেল হাওয়া
চোখের তারায় নাই’বা রইলাম
তোমার মনের ভিতর করবো বাস
তোমার জন্য রেখে যাবো এক জনমের দীর্ঘশ্বাস

বৃষ্টি হয়ে তোমার সকল কষ্ট ধুয়ে দেই

তোমার চোখে জল দেখি
মেঘ দেখি মুখে
নিজের ভিতর পুড়ছো তুমি
অজানা কোন দুঃখে
দুঃখ গুলো আমাকে দাও
একটু ছুঁয়ে দেই
বৃষ্টি হয়ে চোখের কোনের
কষ্ট ধুয়ে দেই

জলে ভরা চোখ

তোমার চোখে এক পশলা বর্ষা হয়ে গেল
সে বর্ষাতে ভিজলো আমার বুকের মধ্যিখান
ভেজা বুক ছুঁয়ে দেখ কতো জমাট অভিমান
মন খারাপের আকাশে যতোই জোছনা হোক
আমি তো দেখেছি তোমার জলে ভরা চোখ

কিছু বিষাদ মেঘ হোক

কিছু বিষাদ মেঘ হোক
কিছু কষ্ট হোক না নোনা জল
কিছু দুঃখ বৃষ্টি হয়ে
ভিজাক তোমার নীল আঁচল
কিছু রাগ হোক মিষ্টি অনুরাগ
কিছু বিরহ হোক অভিমান
কিছু দুঃখ তোমার হৃদয়ে
ভালোবাসা করুক বিনির্মাণ

নোনা কষ্ট

জানালার কাঁচে বৃষ্টির ছাঁট
বুকের ভিতর কষ্টের হাট
সেই নীলচে কষ্টের মিছিলে
কিছু কষ্ট তুমিও দিয়েছিলে
তোমার দেয়া কষ্ট সকল চোখে আনে নোনা জল
সেই কষ্ট কেউ দেখে না ভিজে শুধু বালিশের কোনা সর্বনাশ
বর্ষা দিনে চায়ের কাপে গল্প জমে বেশ
কথা বলতে বলতে দুজন হঠাৎ নিরুদ্দেশ
তোমার মাঝে তুমি নেই আমার মাঝে আমি
ভাবনা নদীর তীরে দুজন হঠাৎ গিয়ে থামি
তুমি হলে আনমনা আর আমি হলেম উদাস
বাদল দিনে হলো মোদের যৌথ সর্বনাশ

হৃদয়ে আসুক প্রেম শরতের বৃষ্টি হয়ে

হৃদয়ে প্রেম আসুক শরতের বৃষ্টি হয়ে
বুকের ভিতর শীতল বাতাস নীরবে যাক বয়ে
তোমার সঙ্গে যদি হয় দেখা কোন বৃষ্টি মুখর দিনে
আমাকে নিভৃতে বাঁধিও প্রিয়া তোমার ভালোবাসার ঋণে

বৃষ্টি জলের নকশা আঁকে

বৃষ্টি ভেজা একলা দুপুর
তোমার পায়ে বাজে বৃষ্টি নূপুর
আমি কষ্ট লিখি মেঘের খাতায়
তুমি বৃষ্টি মাখো চোখের পাতায়
আমার বিষাদ মিশে বৃষ্টি জলে
আর তুমি বৃষ্টি জমাও করতলে
তোমার তন্বি দেহের সিক্ত বাঁকে
বৃষ্টি জলের নকশা আঁকে

মেঘের চিঠি

মেঘের চিঠি লিখে দিলেম প্রিয়া তোমার নামে
সেই চিঠিটি ভরে দিলাম মিষ্টি রোদের খামে
যখন রোদ ফুরিয়ে নামবে আঁধার দৃষ্টি সীমানায়
তখন বৃষ্টি হয়ে যাবে চিঠি তোমার ঠিকানায়

জলের কারুকাজ

তুমি যেন বর্ষা বিকেলের ফুল
ঝড়ো হাওয়ায় উড়ছে তোমার চুল
ভিজছে শাড়ির ভাঁজ
তোমার সঙ্গে মেঘের সঙ্গে কাব্য হবে আজ
বৃষ্টি এসে বলবে কথা
তোমার রক্ত ঠোঁটের সঙ্গে
শিহরণে কাঁপবে হৃদয়
ঢেউ উঠবে অঙ্গে
বৃষ্টির সঙ্গে তোমার সঙ্গে কাব্য হবে আজ
তোমার চোখে বর্ষা আঁকবে জলের কারুকাজ

বৃষ্টিরে তুই ভিজিয়ে দে

তুমি বৃষ্টি দেখে মুগ্ধ হয়ে
বৃষ্টি জলে নামো
আমি তোমার কাছে গেলেই
হঠাৎ কেন থামো
বৃষ্টি তোমার লজ্জা ভাঙে
আমি কেন ভাঙ্গিনা
বৃষ্টিরে তুই ভিজিয়ে দে আজ
প্রিয়ার মনের আঙিনা

মেঘ-দুপুরে বৃষ্টি হয়ে তোকে একটু ছুঁই

বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
তোর তন্বি দেহে বৃষ্টি পড়ে
দৃষ্টি পড়ে দৃষ্টি পড়ে
তোর সিক্ত দেহে দৃষ্টি পড়ে
বৃষ্টি পড়ে কদম ফোটে
বৃষ্টি পড়ে তোর ভেজা ঠোঁটে
দৃষ্টি পড়ে দেহের ভাঁজে
তোর নগ্ন পায়ের কারুকাজে
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
তোর পায়ে বাজে বৃষ্টির নুপুর
সঙ্গে বাজিস তুই
ইচ্ছে করে মেঘ-দুপুরে বৃষ্টি হয়ে     
তোকে একটু ছুঁই

বৃষ্টির রীম্ঝিম শব্দ

কত বৃষ্টির রীম্ঝিম শব্দ বুকে নেয়া স্তব্ধ মেঘ!
কতো ঘুমন্ত বৃষ্টির ফোটা বুকে নেয়া ক্লান্ত মেঘ!
কত তৃষ্ণার্তের তীব্র চাওয়া বুকে নেয়া মৌন মেঘ!
একটু একটু করে জমানো কথার মত তারা তবু,
হাতে হাত ধরা বৃষ্টির ফোটা সব
মেঘ ভেঙ্গে যখন পৃথিবীতে নামে,
আমরা হাতে হাত ধরে পথে নামি,
আমরা দল বেঁধে গান গাই,
আমরা পবিত্র হই সেই বৃষ্টির স্নানে,
প্রাণ ফিরে আসে সব মৃত প্রায় ফসলের প্রানে,
চাতক পাখির ঠোঁটে হীরকের মত বৃষ্টির জল,
প্রানবন্ত পৃথিবী! দেখি ঘুম ভাঙ্গা রিমঝিম সব বৃষ্টির ফল।

শেষ কথা 

বৃষ্টি কি শুধুই জল ঝড়ায় এইপৃথিবীতে? না কি বৃষ্টি অনুভুতিও ঝড়ায়, এবং তা ছড়িয়ে পরে মানুষের মাঝে । তাইতো বৃষ্টি একটা অনুভুতির নাম। আর এই অনুভুতি মানুষ নানান কায়দায় নানান রঙ্গে প্রকাশ করে। কেউ আবেগী হয়, কেউবা অভিমানের গন্ধ ছড়ায় আবার কেউ কেউ বিরক্তের রঙ্গে বিভৎস হয়। বৃষ্টি ফানি মুড তৈরি করতেও ভুল করেনা। অকবিও কবি হয়ে ওঠে বৃষ্টির কোমল শীতল মৃদু স্পর্শে।
দেখি কার কি অনুভুতি এই বৃষ্টিতে……ভালো লাগলে শেয়ার করুন। আর অনেক অনেক ভালো থাকুন।



Comments are closed.