শুভ বড়দিন – Merry Christmas in Bengali

বন্ধুরা কেমন আছেন এই ঠান্ডায়। দিন দিন রাজ্যে ঠান্ডা যেন ক্রমশ বাড়ছে। আর সামনেই আমাদের বড়দিন, হাতে মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি। আজ রাত থেকেই শুরু হয়ে যাবে উৎসবের ঝড়। রাজ্য থেকে দেশ আর দেশ থেকে বিদেশে শুরু হবে উৎসবের কালবৈশাখী। এর রেশ থাকবে ডিসেম্বর এর লাস্ট অর্থাৎ ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত।আমরা অনেকেই মানি বা জানি যে এই বড়দিন মানে ২৫শে ডিসেম্বর থেকে আস্তে আস্তে শুরু হবে দিনের সময়সীমা বেশি অর্থাৎ আস্তে আস্তে সূর্যের আলো থাকবে আমাদের পৃথিবীতে বেশিক্ষন তাই আমরা বড়দিন বলি। আমরা অনেকেই বলি যে এই বড়দিন থেকেই আস্তে আস্তে রাত হবে ছোট আর দিন হবে বড়ো।


কাল ২৫শে ডিসেম্বর বড়দিন। বড়দিন একটি বাৎসরিক খ্রিস্টীয় উৎসব। ২৫ ডিসেম্বর তারিখে যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই উৎসব পালিত হয়। এই দিনটিই যিশুর প্রকৃত জন্মদিন কিনা তা জানা যায় না। আদিযুগীয় খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুসারে, এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যিশু। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয়। অন্যমতে একটিঐতিহাসিক রোমান উৎসব অথবা উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ অয়নান্ত দিবসের অনুষঙ্গেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখে যিশুর জন্মজয়ন্তী পালনের প্রথাটির সূত্রপাত হয়। বড়দিন বড়দিনের ছুটির কেন্দ্রীয় দিন এবং খ্রিষ্টধর্মে বারো দিনব্যাপীখ্রিষ্টমাসটাইড অনুষ্ঠানের সূচনাদিবস।

প্রকৃতিগতভাবে একটি খ্রিষ্টীয় ধর্মানুষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও, একাধিক অ-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও মহাসমারোহে বড়দিন উৎসব পালন করে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎসবের আয়োজনে প্রাক-খ্রিষ্টীয় ওধর্মনিরপেক্ষ বিষয়ভাবনার সমাবেশও দেখা যায়। উপহার প্রদান, সংগীত, খ্রিষ্টমাস কার্ড বিনিময়,গির্জায় ধর্মোপাসনা, ভোজ, এবং খ্রিষ্টমাস বৃক্ষ,আলোকসজ্জা, মালা, মিসলটো, যিশুর জন্মদৃশ্য, এবং হলি সমন্বিত এক বিশেষ ধরনের সাজসজ্জার প্রদর্শনী আধুনিককালে বড়দিন উৎসব উদযাপনের অঙ্গ। কোনো কোনো দেশে ফাদার খ্রিষ্টমাস (উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডে সান্টাক্লজ) কর্তৃক ছোটোদের জন্য বড়দিনে উপহার আনার উপকথাটি বেশ জনপ্রিয়।

উপহার প্রদানের রীতিটি সহ বড়দিন উৎসবের নানা অনুষঙ্গ খ্রিষ্টান ও অ-খ্রিষ্টানদের অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসব উপলক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয়ের একটি বিশেষ মরসুম চলে। বিগত কয়েকটি শতাব্দীতে বিশ্বে বিভিন্ন অঞ্চলে বড়দিনের অর্থনৈতিক প্রভাবটি ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে দেখে গেছে। ভারত ও বাংলাদেশে বড়দিন একটি রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।

আমরা এই দিনটি সকল বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন ইত্যাদি মানুষকে বড়দিনের SMS মাধ্যমে বড়দিনের শুভেচ্ছা পাঠায় হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক ও আরও অনেক রকম সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। আজ রায়াত্ব থেকে ই শুরু হয়ে যাবে চার্চের দরজায় দরজায় ভিড়। রাস্তায় রাস্তায়  মানুষের ঢল। শুরু কেক খাওয়ানোর উৎসব। ভিড় জমবে কেক এর দোকান গুলোতে। যদিও এই উৎসব খ্রীষ্টান দেড় প্রধান উৎসব কিন্তু বর্তীমান যুগে এই উৎসব হল মাকনুষের উৎসব, এই উৎসব হল আনন্দের উৎসব। সব মানুষেরা, সব ধর্মের মানুষরা এই উৎসব পালন করে থাকে।

কাল বা আজ রাত থেকেই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বড়দিন বা ক্রিসমাস। সময়ের আবর্তে বড়দিন আজ পেয়েছে সার্বজনীন উৎসবের আবহ। তবে শুরু থেকেই কিন্তু এমন ছিল না। যিশু খ্রিষ্ট, যার জন্ম উপলক্ষ্যে বড়দিন পালন করা হয়, তার মৃত্যুর বহু বছর পর থেকে শুরু হয় এই উৎসব পালন।
“প্রায় দুই হাজার বছর আগে মাতা মেরির (বিবি মরিয়ম) গর্ভে জন্মেছিলেন যিশু। তবে যিশুর জন্ম হয়েছিল অলৌকিকভাবে। মেরি ছিলেন ইসরাইলের নাজারেথবাসী যোসেফের বাগদত্তা। সৎ, ধর্মপ্রাণ ও সাধু এই মানুষটি পেশায় ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। একদিন এক স্বর্গদূতের (ফেরেস্তা) কাছ থেকে মরিয়ম জানতে পারেন, মানুষের মুক্তির পথ দেখাতে তাঁর গর্ভে আসছেন ঈশ্বরের পুত্র। ঈশ্বরের দূত শিশুটির নাম যিশু রাখার নির্দেশ দেন।

বিয়ের আগেই মেরির সন্তান হচ্ছে জেনে ধর্মপ্রাণ যোসেফ খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন গোপনেই ত্যাগ করবেন মেরিকে। কিন্তু সেই স্বর্গদূত এসে যখন ঈশ্বরের পরিকল্পনা যোসেফের কাছে খুলে বলেন, তখন যোসেফ রাজি হয়ে যান মেরিকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে।যোসেফের গ্রাম নাজারেথ ছিল জুদেয়া রাজ্যের একটি শহর। রাজার নির্দেশে তখন রাজ্যজুড়ে চলছে আদমশুমারির কাজ। কর দেওয়া ও নাম লেখানোর জন্য হাজার হাজার মানুষ বেথেলহেমে যান। মেরিকে গাধার পিঠে বসিয়ে যোসেফও রওয়ানা দেন বেথেলহমে। পথেই মেরির গর্ভবেদনা ওঠে। রাজ্যের মানুষের ভিড়ে বেথেলহেমের কোনো সরাইয়ে জায়গা হয় না তাদের। অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে সন্তান জন্মদানের জন্য মেরিকে এক গোয়ালঘরে ঠাঁই নিতে হয়। সেখানেই জন্ম নেন যিশু। যিশুর জন্মের অনেক বছর পর থেকে খ্রিষ্টানরা এ দিনকে আনন্দ ও মুক্তির দিন হিসেবে পালন করতে শুরু করে। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালন করা হয় বলে অনেকের ধারণা এই দিনেই যিশু খ্রিষ্ট জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই ধারণা ঠিক নয়। প্রকৃতরূপে যিশুর জন্মগ্রহণের সঠিক দিন-ক্ষণ পাওয়া যায় না।
২০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মিসরে একদল মানুষ যিশুর জন্মদিন পালন শুরু করে। ২২১ খ্রিষ্টাব্দে মিসরের একটি দিনপঞ্জিতে লেখা হয়েছিল, মা মারিয়া ২৫ মার্চ গর্ভধারণ করেন। এ বিষয়টি রোমান ক্যালেন্ডারেও ছিল। এ ক্যালেন্ডারে সূর্যদেবতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উৎসবের কথাও রয়েছে। ইতিহাস রয়েছে, ৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে রোমে সর্বপ্রথম বড়দিন উৎযাপন শুরু হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য দেশেও। ৩৫৪ খ্রিষ্টাব্দের রোমান ক্রমপঞ্জিতে ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মদিন উল্লেখ করে দিনটিকে যিশুর জন্মদিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ৪৪০ সালে পোপ একে স্বীকৃতি দেন।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালিত হলেও রাশিয়া, জর্জিয়া, মিসর, আর্মেনিয়া, ইউক্রেন ও সার্বিয়ায় ব্যতিক্রম। জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের জন্য এ দেশগুলোতে ক্রিসমাস পালিত হয় ৭ জানুয়ারি। উত্তর ইউরোপীয়রা যখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে তখন পৌত্তলিকতার প্রভাবে ক্রিসমাস শীতকালীন উৎসবের মতো পালন শুরু হয়। ফলে সেখানকার এ উৎসবে শীত উৎসবের অনুষঙ্গও জড়িত হয়েছে। এখন পর্যন্ত স্ক্যান্ডিনেভীয়রা এ দিনটিকে `জুন` উৎসব বলে থাকে। পূর্বদেশ অর্থাৎ এশিয়া মাইনরের দেশগুলোতে ৬ জানুয়ারি এ উৎসব পালন করা হয়।

শেষ কথা

সবার আগে আমাদের মানতে হবে আমাদের একটাই ধর্ম সেটা হল মানুষ ধর্ম। জাত,পাত ,ধর্ম, হিন্দু,মুসলিম, শিক ইত্যাদি আমাদের জানার দরকার নেই। আমরা মানুষকে ভালোবাসবো। মনে রাখবেন একটা কথা যে কোনো ধর্ম মানুষকে বানায়নি, মানুষ কিন্তু ধর্মকে বানিয়েছে। আপাত দৃষ্টিওতে দেখতে গেলে আমাদের একটাই ধর্ম আর সেটা হল মানুষ ধর্ম। বন্ধুরা আজ আর কয়েক ঘন্টা পর থেকেই শুরু হবে বড়দিনের উৎসব। সকলকে আমার তরফ থেকে শুভ বড়দিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।  ভগবান যীশুর আশীর্বাদ সবাই যেন পায়। ভালো থাকবেন ভালো রাখবেন ও অনেক অনেক আনন্দ করুন। ধন্যবাদ



Comments are closed.