প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা (পি.এম.এস.বি.অয়াই)

0

বন্ধুরা কেমন আছেন আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন আর ভালো তো থাকতেই হবে।  আর নিশ্চিন্তে আর নিরাপদে থাকার জন্য বা সংসারে বা আপনার পরিবারের বিপদের সময় বা বিপদের পরে আপনার কাছে আপনার পাশে থাকার জন্য ও সাহায্যের জন্য ভারত সরকার এক অন্যতম প্রকল্প নিয়ে এসেছেন। প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা (পি.এম.এস.বি.ওয়াই) – দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং বিকলাঙ্গতা বীমা পরিকল্পনা।   যিনি উদয়াস্ত রিক্সা চালিয়ে কিংবা বাড়ি বাড়ি কাজ করে পরিবারের মুখে ডাল-ভাত তুলে দেন, হয়তো আচমকা তিনি মারা গেলেন। তখন পরিবারের কী হবে? তারপর এই যে রাস্তাঘাট, বড় বড় বাড়ি তৈরির কাজে জুতে থাকেন হাজার হাজার দিনমজুর, একটা সময়ের পরে তাঁদের শরীর আর দেয় না। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাসুল দিয়ে এঁদের হয়তো ‘অবসর’ নিতে হয় বহু আগেই। একলা রোজগারের সংসারে হাল টানবে কে?

কোনওক্রমে অতি সামান্য আয়ের ভরসায় বেঁচে থাকা মানুষের জীবনে এ ধরনের প্রশ্নগুলোর উত্তর নেই। তবে নরেন্দ্র মোদীর সরকার সম্প্রতি এই সমস্ত সমস্যার কিছুটা সুরাহা বাতলেছে। সমাজের পিছিয়ে পড়াদের জন্য এ বারের বাজেটে কেন্দ্রের তিন দাওয়াই— ১২ টাকায় দুর্ঘটনা বিমা, ৩৩০ টাকায় জীবনবিমা ও বেলা শেষে পেনশনের সুবিধা। আর্থিক ভাবে দুর্বলদের মাথায় সুরক্ষার ছাতা ধরতে প্রকল্পগুলি সত্যি কতটা কার্যকর হবে, সেটা বলবে সময়। তবে এর সুবিধা নিতে হলে প্রথমে সকলকেই বিষয়গুলো জানতে হবে। বুঝতে হবে। এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিজের প্রয়োজন না-থাকলে চোখ মেলে দেখতে হবে আশেপাশে কারা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের এগিয়ে চলার পথ দেখাতে হবে। আমাদের আজকের  আলোচনার লক্ষ্য প্রধানত এটাই।

ভারতীয় জনসংখ্যার একটি বড় অংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে এবং তাদের অধিকাংশই কোন ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় পড়ে না। এমনকি এই জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ব্যাংকিং সুবিধাগুলো উপভোগ করেনা এবং বেশীর ভাগই সময়ের সাথে সাথে চালু হওয়া বিভিন্ন সরকারি স্কিম গুলি সম্পর্কে অজ্ঞাত।

সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জীবনের এই গুরুতর অনিয়ম সংশোধন করার জন্য, ভারতের প্রধান মন্ত্রী ২০১৫ সালের ৯-ই মে কলকাতায় পি.এম.এস.বি.ওয়াই প্রকল্প চালু করেন এবং তার পাশাপাশি দুটি অন্যান্য বীমা ও পেনশন সংক্রান্ত স্কিম চালু করেন। এই প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে সরকারের এই ধরনের গম্ভীরতা যা প্রায় সমগ্র গরিষ্ঠ মন্ত্রীপরিষদকে বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানী ও প্রধান শহরগুলিতে একযোগে প্রকল্পগুলির প্রবর্তন ও সেগুলির সফল বাস্তবায়নকে সুনিশ্চিত করার তাগিদে তৎপর করে রেখেছে।

প্রকল্পের সমন্ধে কিছু কথা 

পি.এম.এস.বি.ওয়াই-র দুটি দিক একে আকর্ষণীয় এবং সহজলভ্য করে তোলে। প্রথমত, এর স্পষ্ট বাহ্যরূপ এবং বোধগম্যতা এবং এই প্রকল্পের অধীনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে আচ্ছাদিত করা এই প্রকল্পকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং প্রতিদ্বন্ধিতামূলক করে তোলে। বর্তমানে, কোন পরিবারের একজন রোজগেরে সদস্য যদি চিরতরে প্রতিবন্ধী হয়ে যায় বা তার আকস্মিক মৃত্যু হয় তাহলে তার পরিবার কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম গ্রুপের থেকে কোন সুরক্ষা বা সহায়তা না পেয়ে এক দারিদ্র ও কষ্টকর জীবনের সম্মুখীন হবে। পি.এম.এস.বি.ওয়াই প্রকল্পে যোগদানের মাধ্যমে এবং একটি নামমাত্র প্রিমিয়াম প্রতি বছর মাথাপিছু ১২/- টাকা প্রদান করলে, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা স্থায়ী সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে তিনি ২,০০,০০০/- (দুই লাখ) টাকার একটি বীমা অথবা আংশিক কিন্তু সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে তিনি ১,০০,০০০/- (এক লাখ) টাকার একটি বীমা কভারেজ পাবেন। এই প্রকল্প এক বছরের জন্য বহাল থাকবে এবং এটা প্রতি বছর পুনর্নবীকরণ করতে হবে।

বহু সরকারী সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প কাছাকাছি অবস্থিত আর্থিক ব্যবস্থা পরিকাঠামোর অভাবের জন্য বা অ্যাকাউন্ট খোলার সাথে জড়িত কাগজপত্র হ্যান্ডেল করার জন্য এগুলি খুব বেশী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে নি। এছাড়াও এই ব্যবস্থাগুলিতে অবহেলা থাকায় বিপুল অংশ এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যায়। বর্তমানে এইগুলি সরকারের দ্বারা খুব ভালোভাবে সুরাহ করা হয়েছে, যেখানে সামাজিক প্রকল্প বিতরণ এবং নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। সকল পেমেন্ট সরাসরি সুবিধাভোগীরর অ্যাকাউন্টে জমা হবে কোন রকমের ফাঁকি ছাড়া।

কারা প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনায় যোগদান করতে পারে?

১৮ এবং ৭০ বছর বয়সের মধ্যে একটি সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আধার কার্ড সহ যেকেউ এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারেন। একজন ব্যক্তিকে মনোনীত ব্যাক্তি (নমিনি)-র নাম উল্লেখ করে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার কার্ড যুক্ত করে একটি সাধারণ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই প্রকল্পটিকে অব্যাহত রাখার জন্য ব্যক্তিকে প্রতি বছর ১-লা জুনের মধ্যে এই ফর্মটি জমা দিতে হবে। এই ভাবে অ্যাকাউন্টটি খুব সহজেই সক্রিয় হয়ে যাবে এবং সম্পূর্ণ প্রিমিয়ামটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলে যাবে। অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তিকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং তারপর তার অ্যাকাউন্টে অন্তত ১২/- টাকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে ও প্রতি বছর ১-লা জুনের আগে এই প্রকল্পের স্বয়ংক্রিয় পুনর্নবীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রতি বছর এই প্রকল্পের স্বয়ংক্রিয় পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই প্রকল্পের একটি দীর্ঘমেয়াদী বিকল্পের জন্য অন্তর্ভুক্তি পেতে পারেন।

কারা প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা-কে বাস্তবায়িত করবে?

সমস্ত সরকারী স্পনসর্ড সাধারণ বীমা কোম্পানি এই প্রকল্প প্রদান করবে ও অন্যান্য বীমা কোম্পানি ব্যাংকগুলির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই কর্মসূচি বন্টনে যোগদান করতে পারে।

আমি কি এই প্রকল্পে যোগ দেওয়ায় কোনো শুল্ক সুবিধা পাব?

গ্রাহকদের দ্বারা দেওয়া সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম ধারা ৮০-সি অনুযায়ী করমুক্ত হবে। উপরন্তু, প্রত্যেক ব্যক্তি ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা পাবেন যা ধারা ১০ (১০-ডি) অনুযায়ী করমুক্ত হবে। কোন ব্যক্তি যদি ফর্ম ১৫-এইচ বা ১৫-জি বীমা সংস্থাকে জমা না দেয়, তাহলে ১,০০,০০০/-টাকার অধিক টাকায় ২% হারে একটি টি.ডি.এস. (ট্যাক্স ডিডাকটেড অ্যাট সোর্স) প্রয়োগ করা হবে।

 সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুচনা 

প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে এক বছর পূর্ণ করেছে এবং ক্ষমতায় আসার এক বছর পর নির্বাচন প্রতিশ্রুতি ও তার প্রকৃত বাস্তবায়নের মাঝে যে ফাঁক রয়ে গেছে তার বিশ্লেষণের জন্য গভীর সুবিবেচনা করার জন্য তাদের কর্মদক্ষতাকে বুঝতে পেরেছে। সরকার দ্রুত গতিতে এগোতে না পারার জন্য কিছু সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে, বিশেষত পণ্য ও পরিষেবা কর বাস্তবায়ন (জি.এস.টি.) এবং অত্যাবশ্যক ভূমি অধিগ্রহণ বিল সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ও উৎপাদনের খাতে যা উভয় সংসদে বিভিন্ন মুলতুবি বিলের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। অতএব, সরকার শুধুমাত্র এই সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প ঘোষণাতেই আগ্রহ দেখাননি বরং যাদের এই প্রকল্পে যোগদান করা অত্যন্ত প্রয়োজন তাদেরকে এই প্রকল্পের ব্যাপারে জ্ঞ্যাত করেছে।

একদিকে এটা সত্য যে জন-ধন যোজনা অ্যাকাউন্টের খোলার সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে যেমন একটি অল্প সময়ের মধ্যে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, সেরকম আরেকটি সত্য হল যে বহু ব্যক্তি তাদের অ্যাকাউন্টে শুন্য ব্যাল্যান্স রাখছে, যার ফলে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্যটি ব্যহত হচ্ছে। পি.এম.এস.বি.ওয়াই প্রকল্প মানুষদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার জন্য এক বছর লাগবে এবং তারপরে একবছর পর দেখতে হবে যে এটি প্রকৃতপক্ষে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং কতটা আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে। ততদিন, মোদীর ত্বরিত উন্নয়নের প্রতি ও তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির প্রতি আমাদের প্রফুল্ল এবং আশাবাদী থাকতে হবে এবং পি.এম.এস.বি.ওয়াই প্রকল্প বর্তমান সরকারের সার্বিক সাফল্যতার ভূমিকা পালন করবে।

পি.এম.এস.বি.ওয়াই সম্পর্কিত আরো তথ্যের জন্য www.jansuraksha.gov.in বা www.financialservices.gov.in লগ ইন করুন। আপনি জাতীয় টোল ফ্রি নম্বর -গুলিতেও ফোন করতে পারেন : 1800 110 001/1800 180 1111 এবং রাজ্য ভিত্তিক টোল ফ্রি নম্বর এই নথিতে তালিকাভুক্ত করা রয়েছে – http://www.jansuraksha.gov.in/PDF/STATEWISETOLLFREE.pdf

কিভাবে আবেদন করবেন 

আবেদনপত্রটি, http://www.jansuraksha.gov.in/FORMS-PMJJBY.aspx থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এই ফর্ম বিভিন্ন ভাষায় উপলব্ধ রয়েছে; যথা – ইংরেজি, হিন্দি, গুজরাটি, বাংলা, কন্নড, উড়িয়া, মারাঠি, তেলুগু এবং তামিল।


Leave A Reply

Your email address will not be published.