প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা – Pradhan Mantri Awas Yojana Online Apply

আগে এর নাম ছিল ‘ইন্দিরা আবাস যোজনা’ বা ‘Indira Awaas Yojana’(I.A.Y), যেটা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী’র হাত ধরে ১৯৮৫ সালে শুরু হয়। ২০১৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রামীন আবাস যোজনা’ বা ‘Pradhan Mantri Gramin Awaas Yojana’(P.M.G.A.Y)। এস.সি, এস.টি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা যারা বি.পি.এল গ্রুপে আছে, তাদের জন্য এ স্কিম আনা হয়েছে। এতে আবাদন করলে  উপযুক্ত ব্যক্তিরা ১.২ লক্ষ টাকা পেতে পারেন বাড়ি বানাবার জন্য ও ১২০০০ ( বারো হাজার) টাকা পেতে পারেন শৌচালয় বানাবার জন্য। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আপনি ৭০,০০০ (সত্তর হাজার) টাকা ধার হিসাবে নিতে পারেন।

‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ (গ্রামীণ)-এর আওতায় গ্রামীণ বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প রূপায়ণের বিষয়টি বুধবার অনুমোদিত হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠকটি। গ্রামের যে সমস্ত মানুষের মাথার ওপর ছাদ নেই কিংবা যাঁরা জীর্ণ ও ভাঙ্গা বাড়িতে বসবাস করেন তাঁদের পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তাদানের প্রস্তাব রয়েছে এই কর্মসূচিতে।

সমগ্র প্রকল্পটি রূপায়িত হবে ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ – এই তিনটি অর্থ বছরের মধ্যে। এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১,৯৭৫ কোটি টাকা। এই সময়কালের মধ্যে ১ কোটি পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য সহায়তাদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। দিল্লি ও চণ্ডীগড় বাদে ভারতের সবক’টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় রূপায়িত হবে এই কর্মসূচিটি। পাকা বাড়ি তৈরির খরচ দেওয়া হবে কেন্দ্র ও রাজ্যের পক্ষ থেকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে।

কর্মসূচির আওতায় সমতল এলাকার গ্রামগুলিতে প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। পার্বত্য রাজ্যগুলিতে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সহায়তাদানের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। কর্মসূচি রূপায়ণে অতিরিক্ত ২১,৯৭৫ কোটি টাকার প্রয়োজন মেটানো হবে জাতীয় কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (নাবার্ড)-এর কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মে মাসে সংসদের এক যৌথ অধিবেশনে ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন যে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে অর্থাৎ, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য জল ও শৌচাগারের সুবিধা সহ একটি করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

অনলাইনে আবেদন 

যাতে আবেদন করা সহজসাধ্য হয় ও অনেকে আবেদন করতে পারে তাই অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করার ব্যবস্থা হয়েছে। আসুন পদ্ধতি জেনে নিই।

নির্দিষ্ট লিঙ্ক খোঁজা 

প্রথমে আপনাকে pmaymis.gov.in এই লিঙ্ক সার্চ করতে হবে। সার্চ করলেই পেজটা চলে আসবে।

নির্দিষ্ট OPTION খোঁজা

পেজটা এলে ‘Citizen Application’ option আসবে। তাতে ক্লিক করতে হবে। তারপর অনেকগুলো  option আসবে, যার মধ্যে থেকে ‘Benefit Under Other 3 Components’-এ ক্লিক করতে হবে।

আধার কার্ড যোগ করা

এরপর আপনাকে ‘আধার কার্ড’ (Aadhar Card)-এর নম্বর জানাতে বলা হবে। সেটা ঠিকঠাকভাবে দিতে হবে। তারপর ‘Check’ option-এ যেতে হবে ও ক্লিক করতে হবে।

ফর্ম পূরণ 

ক্লিক করার পর একটা ফর্ম আসবে। সেটার মধ্যে আপনার যাবতীয় তথ্য যেমন রাজ্য , জেলা, নাম, বয়স ইত্যাদি সব জানতে চাওয়া হবে যা আপনাকে ঠিকঠাকভাবে দিতে হবে। আর জানতে চাওয়া হবে ব্যাঙ্ক-এর নাম, ঠিকানা, অ্যাকাউন্ট নম্বর এই সব। এইগুলোও আপনাকে ঠিকঠাকভাবে দিতে হবে। সব ভালোভাবে পূরণের পর ‘captcha’ option-এ যে সংখ্যাটা আসবে সেটা লিখে দিতে হবে ওখানে। এরপর ‘save’ option-এ ক্লিক করতে হবে। তাহলেই আপনার আবেদনটি পৌছে যাবে সরকারের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে।

সবটা এক নজরে 

আপনাদের সুবিধার জন্য গোটা পদ্ধতিটা আরেকবার দেখে নিন- Google chrome – google – pmaymis.gov.in – (official website) – ‘Citizen Application’ – ‘Benefit Under Other 3 Components’ – Aadhar Card নম্বর দিন –  ‘check’ – ফর্ম আসবে যা পূরণ করতে হবে – ‘captcha no’ দিতে হবে – ‘save’

গ্রাম সভার মাধ্যমে 

আবার অনেকসময় অনলাইনের বদলে গ্রাম সভার মাধ্যমে এই বাড়ি বানানোর প্রক্রিয়া চালানো হয়। সেক্ষেত্রে, আপনার গ্রাম সভার কাছে তো আপনার যাবতীয় তথ্য আছেই। যদি না থাকে, তাহলে এখনি দিয়ে আসুন। তাঁরা একটি তালিকা বানাবেন যাদের প্রয়োজন এই বাড়ির সেই ভিত্তিতে। তার মধ্যে আপনার নাম এলেই আপনি বাড়ি বানাবার টাকা পেয়ে যাবেন।      তাহলে আর দেরী কেন! আজই যান ও আপনার স্বপ্নের বাড়ি বানানোর পথে প্রথম পা টা রেখেই ফেলুন। পরিবারকে নিয়ে নিজের বাড়িতে থাকা আর কয়েক দিনের অপেক্ষা।

দেড়লাখি বাড়ির সুযোগ কারা পাবে?

কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী — ‘সকলের জন্য আবাস’ অর্থাৎ সকলের-ই পাকা বাড়ি হবে ২০২২ সালের মধ্যে। দেশে এই সংখ্যা এস ই সি সি-র তথ্য মতে ২.৩৭ কোটি যদিও এই তালিকায় সবার নাম নেই। তথ্যে ভুল আছে সেটা ডিজিটাল রেশন কার্ড প্রাপকদের তালিকা প্রস্তুতি পর্যায়ে বোঝা গেছে। যাদের নাম নেই, যে মৌজা সম্যক সার্ভেতে বাদ পড়েছে, যাদের নাম ও অন্যান্য তথ্যে ভুল আছে তাদের সম্পর্কে নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। এ সব সত্ত্বেও এস ই সি সি-র তালিকাকে ভিত্তি করে উপভোক্তা নির্বাচন করা হবে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি হলো (ক) ওয়েবসাইট থেকে গ্রাম সংসদ ভিত্তিক তালিকা ডাউনলোড করতে হবে। (খ) গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সংসদ ভিত্তিক সভা করে এই তালিকাকে ভিত্তি করে খসড়া তালিকা প্রস্তুত হবে। (গ) তালিকা থেকে যে পরিবারগুলির ইতিমধ্যে পাকাবাড়ি আছে তাদের নাম প্রথমেই বাদ দিতে হবে। যারা সরকারিভাবে বাড়ি তৈরির জন্য কোনো প্রকল্প থেকে টাকা পেয়েছে, যাদের মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার বেশি, যাদের পরিবারে কোনো সদস্য ১০,০০০টাকার বেশি বেতনের কোনো চাকরি/শিক্ষকতা করে, যারা আয়কর দাতা, যাদের বাড়িতে রেফ্রিজারেটর বা ল্যান্ড লাইন ফোন আছে, যাদের বা‍‌ড়িতে ২/৩/৪ চাকার যন্ত্রচালিত যান বা ফিশিংবোট অছে, ট্রাক্টর/ পাওয়ার টিলার আছে, ৫০,০০০ টাকা ক্রেডিট লিমিটযুক্ত কিষান ক্রেডিট কার্ড আছে, অকৃষি পণ্যের ব্যবসা আছে, বৃত্তিকর দাতা, ৭.৫ বিঘা বা তার বেশি সেচসেবিত জমি ও সেচের জন্য সরঞ্জাম (পাম্পসেট ইত্যাদি) আছে, তাদের নাম কোনোভাবেই উপভোক্তার তালিকায় রাখা যাবে না। অন্যদিকে গৃহহীন পরিবার, নিঃস্ব, ভিক্ষাজীবী, ঝাড়ুদার, সাফাই কর্মী, আদিম জনজাতি, চুক্তিশ্রমিক-পরিবারগুলির নাম কোনোভাবেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। (ঘ) কোনো পরিবার কি কারণে এই সুযোগ পাচ্ছে না তা খসড়া প্রস্তুতের সময় উল্লেখ করতে হবে। (ঙ) যাদের এক/দুই রুম বিশিষ্ট কাঁচা দেওয়াল কাঁচা ছাদ (খড়, টালি, টিন) বাড়ি আছে, তাদের প্রত্যেকের নাম তালিকায় থাকবে যদি না বাদ দেওয়ার জন্য যে ১৩টি সূচক ঠিক করা হয়েছে তার মধ্যে পড়ে। (চ) তফসিলি জাতি, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্যদের জন্য পৃথক পৃথক খসড়া তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। (ছ) এভাবে যে খসড়া তালিকা তৈরি হবে তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজানো হবে। সাজানোর ক্রম হবে-১, গৃহহীন, ২, এক রুমের কাঁচা ঘর, ৩, দুই রুমের কাঁচা ঘর ইত্যাদি। অন্যদিকে আর্থ-সামাজিক বঞ্চনার বিষয়টি অগ্রাধিকার ক্রম তৈরির ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে। যেমন- ১, পরিবারে ১৬-৫৯ বছর বয়সের কোনো সদস্য নেই, ২, পরিবারের কর্তা মহিলা এবং প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্য (১৬-৫৯ বছর) নেই, ৩, পরিবারে ২৫ বছরের উর্ধ্বে কোনো সাক্ষর সদস্য নেই, ৪, পরিবারে প্রতিবন্ধী আছে কিন্তু সক্ষম, উপার্জনশীল কেউ নেই, ৫, ভূমিহীন খেতমজুর, কায়িক শ্রমেই জীবন চলে। গৃহহীনতা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থান বিচার করে অগ্রাধিকার ঠিক হবে। এছাড়া একটি বিশেষ সফ্টওয়ার ব্যবহার করে স্কোর ও র্যা ঙ্ক ঠিক করা হবে। এই তালিকাকে বলা হবে অ্যানুয়েল সিলেক্ট লিস্ট (এ এস এল)।

শেষ কথা 

 বন্ধুরা ওপরের লেখাগুলো ভালোকরে পড়ুন আর সেইভাবে আপনারা ফর্ম গুলো ফিলাপ করুন আর সাথে ধৈর্য রাখুন এক না একদিন আপনার বাড়ি আসবেই। ধন্যবাদ



Comments are closed.