জীবন বীমা কি – Jibon Bima in Bengali

0

নমস্কার বন্ধুরা আশা করি সবাই ভালোই আছেন। বন্ধুরা আজ আমরা এমন একটা জিনিসের ব্যাপারে আলোচনা করবো যেটা জীবনের সাথেও থাকে আর জীবনের পরেও থাকে। আর সেটা হলো জীবন বীমা। হ্যা বন্ধুরা আমি জানি যে আপনারা অনেকেই জানেন এই জীবন বীমার সম্পর্কে।  জীবন বীমা এমন একটি চুক্তি যা একজন বীমা গ্রহীতা ও একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত হয়; যেখানে বীমা প্রতিষ্ঠান এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করে যে বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বীমা গ্রহীতার উত্তরাধিকারীকে প্রদান করবে। চুক্তির শর্তানুসারে কখনো কখনো মারাত্মক অসুস্থ হলেও বীমা গ্রহীতা অর্থ পেয়ে থাকে। বীমা গ্রহীতা সাধারণতঃ এককালীন বা নির্দিষ্ট সময়ান্তে বীমা কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করে থাকে। বীমা গ্রহীতার সুবিধা হচ্ছে “মানসিক প্রশান্তি” লাভ; কারণ তিনি জানেন যে তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা অর্থ সমস্যায় পতিত হবে না। এই পদ্ধতিটিতে অবসর গ্রহণের পর আর্থিক সুবিধা লাভের জন্যও ব্যবহার করা হয়, যদি বীমা গ্রহীতা সতর্কতার সাথে বীমা গ্রহণ করেন ও শর্তাবলীতে এরূপ উল্লেখ করেন।

বীমা হল অর্থের বিনিময়ে জীবন, সম্পদ বা মালামালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ন্যায়সঙ্গত ও নির্দিষ্ট ঝুঁকির স্থানান্তর। এর মাধ্যমে ব্যক্তি বা বীমা প্রতিষ্ঠান অর্থের (প্রিমিয়ামের) বিনিময়ে মক্কেলের আংশিক বা সমস্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি গ্রহণ করে থাকে। এটি অনিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি অংশ। জীবন বীমা একটি আইনগত চুক্তি এবং চুক্তির শর্ত বীমার আওতা দ্বারা সীমাবদ্ধ। এখানে বিশেষ শর্তাবলী লিখিত থাকে এবং তার দায় বীমা গ্রহীতার উপর বর্তায়; যেমনঃ আত্মহত্যা, যুদ্ধ প্রভৃতি কারণে মৃত্যু ঘটলে বীমা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বীমা গ্রহীতার উত্তরাধিকারীকে কোনোরূপ অর্থ প্রদান করা হয় না।

জীবন-নির্ভর চুক্তি দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত:

  • নিরাপত্তা পলিসি
  • বিনিয়োগ পলিসি

জীবন বীমার মূলনীতি

বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রিমিয়াম প্রদানের মাধ্যমে বীমাকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সব ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে মুক্ত থাকে এবং অসংখ্য বীমাকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে বীমা কোম্পানিগুলো মূলধন বৃদ্ধি করে। বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ছাড়াও ব্যাক্তিগতভাবে অর্থ সঞ্চয় করে সম্ভাব্য ঝুঁকির দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা যায়। বীমা প্রক্রিয়া, ক্ষয়ক্ষতির ধরন এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু মূলনীতি মেনে চলতে হয়।

জীবন বীমা যোগ্যতা

বেসরকারী কোম্পানী কর্তৃক বীমা করানোর জন্য মোটামুটি ভাবে সাতটি বীমাযোগ্যতার মূলনীতি মেনে চলতে হয়

1. একই ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এমন অনেক উপাদানের অস্তিত্ব

 যেহেতু একটি বীমা কোম্পানি ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে তাই বাস্তবে সেই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এমন উপাদান প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকতে হবে। যেমনঃ ‘লয়েডস অফ লন্ডন’ জনপ্রিয় শিল্পী এবং খেলোয়াড়দের জীবন এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের বীমা করানোর জন্য বিখ্যাত। এখানে লয়েডস অফ লন্ডন যেসব উপাদানের বীমা করায় সেগুলো বাস্তব জীবনে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান এবং এই উপাদানগুলো একই ধরনের না হলেও এগুলোকে একই শ্রেণিতে ফেলা যায়।

2. নির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি

 বোঝাতে বীমা কোম্পানি শুধুমাত্র একটি বা একাধিক নির্দিষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ থাকবে। যেমনঃ একটি গাড়ির যদি শুধু অগ্নি বীমা করা থাকে তাহলে বীমা কোম্পানি গাড়িটি হারিয়ে গেলে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে না।

3. দূর্ঘটনাজনিত ক্ষতি

 অর্থাৎ যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রনের বাইরে থাকবে। যদি গাফিলতির কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় তাহলে এর ক্ষতিপূরণ নাও পাওয়া যেতে পারে।

৪. বৃহৎ আকারের ক্ষতি

 ক্ষতির পরিমাণ অবশ্যই বীমাকৃত ব্যাক্তির সাপেক্ষে যুক্তিযুক্ত হতে হবে।

5. প্রিমিয়াম অবশ্যই সাশ্রয়ী হতে হবে

 সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যতই ব্যাপক হোক না কেনো, বীমা প্রিমিয়াম অবশ্যই বীমা গ্রহণকারীর নাগালের মধ্যে থাকতে হবে।

6. ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অবশ্যই পরিমানযোগ্য হতে হবে

 যেহেতু সবধরনের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া যায় না এবং বীমা কোম্পানি শুধুমাত্র টাকার অঙ্কে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি টাকার অঙ্কে পরিমাপ করতে হবে।

7. প্রাকৃতিক মহাদূর্যোগের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সীমিত হবে

 যেমনঃ বন্যা বা ভূমিকম্পের ফলে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, বীমা কোম্পানিগুলো এই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া থেকে বিরত থাকে কারণ এত ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতিপূরণ কোনো একক বীমা কোম্পানির পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয় না।

জীবন বীমার সম্পর্কে ভুল ধারণা 

জীবন বীমা সাধারণ কোনো পণ্য নয়। জীবন বীমা নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে অনেক সময় ভুল ধারণা জন্ম নিতে দেখা যায়, যেমন—

1. আমার জীবন বীমা পলিসি ক্রয়ের প্রয়োজন নেই: কথাটি সত্যি নয়। জীবনের প্রধান সত্য হলো মৃত্যু। যে মানুষটির রোজগারে পুরো পরিবার চলে, সে মানুষটির অকাল মৃত্যুতে পরিবার এক অনিশ্চয়তায় পতিত হয়, থেমে যেতে চায় জীবনের চাকা। অনেক সময় অর্থাভাবে সন্তানের লেখাপড়া, চিকিত্সা, বিয়েসহ নানা সংকটে দৈনন্দিন জীবনযাপন দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। জীবন বীমার ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতা এক বা একাধিক মনোনীতক নিয়োগ করেন, যাতে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে তার মৃত্যু হলে মনোনীতককে পূর্বনির্ধারিত বীমা অঙ্ক প্রদান করা যায়। তাই জীবন বীমা পত্র ক্রয় করা থাকলে ব্যক্তির অভাব সম্পূর্ণ পূরণ সম্ভব না হলেও আর্থিক সমস্যা কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

2. বীমা কোম্পানিগুলো ব্যাংকের চেয়ে কম লাভ দেয়: বীমা পলিসি ক্রয় না করে টাকা এফডিআর বা অন্য কোনো নামে ব্যাংকে জমা রাখলে ব্যাংক জমাকৃত টাকা ও নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদসমেত হিসাব গ্রহীতাকে অথবা তার মনোনীতককে ফেরত দেয়। কিন্তু জীবনের কোনো ঝুঁকি নেয় না। সবসময় ব্যাংকের লাভের সঙ্গে জীবন বীমা পলিসির তুলনা করা সঠিক নয়। কেননা দুটির উদ্দেশ্য আলাদা। ব্যাংক শুধু জমাকৃত টাকার হেফাজত করে, অন্যদিকে জীবন বীমা কোম্পানি গ্রহীতার আর্থিক ঝুঁকি-সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কাজ করে।

3. জীবন বীমা পলিসি ক্রয় অর্থ অপচয়ের শামিল: জীবন বীমা পলিসি ক্রয় একটি বিনিয়োগ। কোনোক্রমেই অর্থ অপচয় নয়। পলিসি কিনলে বীমাগ্রহীতা কোম্পানির কাছ থেকে বীমা দাবি পান। এ বীমা দাবি দিয়ে গ্রহীতা সাময়িক আর্থিক সমস্যা মেটাতে পারেন, উন্নয়নমূলক কোনো কাজ এবং অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে ও পরিবারকে মুক্ত রাখতে পারেন।

4. আমার অনেক সম্পদ রয়েছে সুতরাং বীমা পলিসির প্রয়োজন নেই: প্রচুর সম্পদ অনেক সময় দায় সৃষ্টি করে। দেখা দরকার যে, মোট সম্পদের তুলনায় মোট দায় (চলতি দায় ও দীর্ঘমেয়াদি দায়) কম না বেশি। যদি মোট দায় বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত দায়ের সমপরিমাণ বীমা পলিসি ক্রয় করে ঘাটতি মেটানো যেতে পারে। জীবন বীমা পলিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ থেকে অর্জিত লাভের একটি অংশ টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায়, অন্য অংশটি পরিমাপযোগ্য নয়।

5. একাকী জীবনে বীমা পলিসির প্রয়োজন নেই: জীবনমাত্রই ঝুঁকি। ঝুঁকি বিদ্যমানও হতে পারে কিংবা ভবিষ্যতে আসতে পারে। কেননা ভবিষ্যৎ অজানা। সুতরাং একাকী জীবন হলেও বীমা পলিসি ক্রয় করা উচিত।
6. প্রতিষ্ঠান আমার জন্য গ্রুপ পলিসির ব্যবস্থা করেছেন: অনেক সময় চাকুরিদাতা তার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য গ্রুপ বীমার ব্যবস্থা করেন, যেখানে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজের জীবন বীমাকৃত থাকলেও, পরিবারের অন্য সদস্যরা জীবন বীমার বাইরে থেকে যায়। আমাদের বেড়ে ওঠার পেছনে যেমন পরিবারের অন্য সদস্যদের অবদান রয়েছে, তেমনি তাদের প্রতিও আমাদের কর্তব্য রয়েছে। সুতরাং নিজের জীবন ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবন ঝুঁকিগ্রস্ত হলে শান্তি আসবে না।

7. আমার একটি পলিসি রয়েছে, সুতরাং আর দরকার নেই: জীবনের মূল্য টাকার অঙ্কে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। জীবন বীমা পলিসি ক্রয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই। সামর্থ্যবান ব্যক্তি তার সম্পদ অনুযায়ী যত খুশি তত জীবন বীমা পলিসি ক্রয় করতে পারেন।

8. বেশি অঙ্কের বীমা পলিসির প্রয়োজন নেই: একজন ব্যক্তির কী পরিমাণ বীমা অঙ্ক দরকার তা নির্ভর করে ওই ব্যক্তির আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর। চিকিত্সাসেবা, দায় পরিশোধ, সন্তানের ভরণ-পোষণ ইত্যাদি মেটানোর জন্য যথাযথ অর্থের সংস্থান করা প্রয়োজন।

9. জীবন বীমা পলিসি ক্রয় না করে অন্য কোথাও বিনিয়োগ করব: সব বিনিয়োগের মধ্যেই ঝুঁকি বিদ্যমান। একমাত্র জীবন বীমা পলিসি ঝুঁকি কমানো/নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। জীবন বীমা পলিসি ক্রয় করলে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কর রেয়াত পাওয়া যায়।

10. আমার অবর্তমানে নমিনি বীমার টাকা নাও পেতে পারে: বীমা ব্যবসা একটি নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। বীমা চুক্তির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকেই নীতিগুলো মেনে চলতে হয়। বীমার ক্ষেত্রে বীমাযোগ্য স্বার্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। যে জীবনের বীমাযোগ্য স্বার্থ নেই, তা বীমা করা সম্ভব নয়। যেমন— মানুষের নিজের জীবনের ওপর তার বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জীবনের ওপর বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে। তবে দেনাদার তার পাওনাদারের জীবনের ওপর কোনো বীমাযোগ্য স্বার্থ বহন করে না। বীমাযোগ্য স্বার্থসহ অন্য সব তথ্য সঠিক থাকলে বীমাগ্রহীতার অবর্তমানে নমিনি বীমার দাবিকৃত অর্থ পেতে কোনো বাধা নেই।

উপরের উদাহরণগুলো ব্যতীত আরো অনেক ধারণা/মন্তব্য থাকতে পারে। সারা বিশ্বে বীমা ব্যবস্থা ঝুঁকি হ্রাসকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এটা একটি সমবায়ের মতোও বটে। যেখানে একজনের বিপদে অন্য সদস্যরাও ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রে অবদান রাখে। সুতরাং বীমাকে অবজ্ঞা না করে সামর্থ্য অনুযায়ী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য ন্যূনতম একটি করে পলিসি ক্রয় করে আর্থিক ঝুঁকি যেমন হ্রাস করা সম্ভব, তেমনি এটি একটি ভালো বিনিয়োগও বটে। জীবন বীমা পলিসি লোকে ক্রয় করতে উত্সাহ দেখায় না, এটা বিক্রয় করতে হয়। বাংলাদেশে বিক্রীত প্রায় সব জীবন বীমা পলিসি বীমা এজেন্টের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে থাকে। বীমা কোম্পানিগুলো তাদের এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এমনভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলবে যেন তারা পলিসি হোল্ডারদের চাহিদা অনুধাবন করতে পারেন এবং সে অনুযায়ী তা বিক্রি করতে পারেন।

শেষ কথা 

জীবন বীমা হল মানুষের মৃত্যুজনিত ঝুঁকি, ক্ষতি, বিপদ হস্তান্তরে বা এড়ানোর একটি কৌশল। বীমাগ্রহীতার মৃত্যু অথবা বার্ধক্য অবস্থায় বীমাগ্রহীতা অথবা তার পরিবার পরিজনদের আর্থিক ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আধুনিক যুগে জীবন বীমা একটি কার্যকর মাধ্যমে হিসেবে কাজ করে। বীমাগ্রহীতার নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম পরিশোধের বিনিময়ে বীমাকারী প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানীর বা মেয়াদ শেষে একটি নির্দিষ্ট সময় পরে অথবা তার মৃত্যুর পর পূর্ব নির্ধারিত পরিমান অর্থ পরিশোধের যে প্রতিশ্রুতি দেয় এ চুক্তিগত ব্যবস্থাকে জীবন বীমা বলা হয়। সুতরাং জীবন বীমা হলো বীমাগ্রহীতা এবং বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত একটি আধুনিক চুক্তি যাতে সুনির্দিষ্ট প্রিমিয়াম পরিশোধের প্রতিদান হিসেবে বীমাকারী প্রতিষ্ঠান বীমাগ্রহীতাকে অথবা তার উত্তরাধিকারীদের বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পর অথবা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। তাই আমাদের সব্বার অন্তত একটা করে বীমা করানো উচিত সব্বার।যাতে করে সবার ভবিষ্যত এ কোনো সমস্যার দেখা না মেলে। 


Leave A Reply

Your email address will not be published.