জন ঔষধি যোজনা কি

বন্ধুরা আমরা অনেকেই জানি যে এখন চাকরি বকরীর অবস্থা খুব খারাপ। সকারও ঠিক মতন চাকরির আকাঙ্খা পূরণ করতে পারছে না আর তার জন্য সরকার এক নতুন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের জন্য এক নতুন ব্যবসার সাহায্যে সাহায্য করার পরিকল্পনা করেছেন। আপনি কি নতুন ব্যবসায়ে নামার পরিকল্পনা করছেন? স্বল্প বিনিয়োগে নিশ্চিত আয় চান? তা হলে খোদ কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে ব্যবসায় নামুন। কারণ একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারই দিচ্ছে আড়াই লক্ষ নিশ্চিত আয়ের গ্যারান্টি।

আসলে আগামী বছর থেকে চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি যোজনা। এই যোজনার অধীনে যত বেশি সম্ভব ওষুধের দোকান খোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। সেই সঙ্গে দোকান যিনি খুলবেন, তাঁকে দেওয়া হচ্ছে আড়াই লক্ষ টাকা লাভের গ্যারান্টি, যা আদপে ইনসেন্টিভের আকারে তাঁর কাছে আসবে। পাশাপাশি দোকান খোলার জন্য সরকার আপনাকে দেবে গ্রান্টও। এমনকী ওষুধের বিক্রিতে ২০ শতাংশ কমিশনও পাওয়া যাবে। সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি এই যোজ‌না বেকার যুবকদের রোজগারেরও সুযোগ করে দেবে বলে মনে করছে সরকার।

যে কেউ এই যোজনার সুযোগ নিতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য, ব্যবসা যাঁরা শুরু করবেন, তাঁদের পরবর্তী দু’ বছর রোজগারের গ্যারান্টি দেওয়া। সেই কারণেই ইনসেন্টিভের অঙ্ক স্থির করা হয়েছে ২.৫ লক্ষ টাকা, যা মাসিক ভিত্তিতে দেওয়া হবে। এছাড়াও প্রতি মাসে ওষুধ বিক্রির উপর ২০ শতাংশ কমিশনও দেবে সরকার। রাজ্য নিয়ন্ত্রিত এজেন্সি ছাড়াও, ব্যক্তিভিত্তিক রিটেলর/ফার্মাসিস্ট, এনজিও এবং চ্যারিটেবল অর্গানাইজেশন— যে কেউ এই যোজনার অধীনে আসতে পারেন।

সকলের কাছে সুলভমূল্যে উন্নতমানের ওষুধ পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র খোলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে।

দেশের দরিদ্র ও অবহেলিত স্তরের পরিবারগুলি সহ সকলের জন্য উন্নত মানের ওষুধের যোগান নিশ্চিত করা হল সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে অন্যতম। এই বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণে কেন্দ্রীয় সার ও রসায়ন মন্ত্রকের ওষুধ সংক্রান্ত দপ্তরটি সময়ান্তরে বেশকিছু নিয়ন্ত্রণমূলক আর্থিক উদ্যোগ ও ব্যবসা গ্রহণ করে থাকে। এই লক্ষ্যেই চালু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি যোজনা। সকলের জন্য জেনেরিক ওষুধের যোগান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের সর্বত্র সূচনা হয়েছে এই অভিযানটির। এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে খোলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র যেখানে স্বল্প ব্যয়ে উন্নতমানের জেনেরিক ওষুধ বিক্রির ব্যবসা রয়েছে। এই কর্মসূচি রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে ব্যুরো অফ ফার্মা পিএসইউ অফ ইন্ডিয়া (বিপিপিআই)।

জন ঔষধি যোজনা কি 

এদিন ঝাড়খণ্ড থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সূচনা করলেন “প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি যোজনা” PMJAY. এই প্রকল্পের দ্বারা উপকৃত হবেন সেসব গরীব পরিবার যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না। ২দিন পরে অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর দীন দয়াল উপাধ‍্যায়ের জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ রুপে কার্যকারী হবে।

তবে কী এই আয়ুষ্মান যোজনা আর তার দরুন মানুষ কীভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবে জেনে নিন……

এই যোজনার দ্বারা দেশের ২৯ টি কেন্দ্রশাসিত রাজ‍্যের ৪৪৫ টি জেলার মানুষরা এই যোজনার সুবিধাভোগ করতে পারবে।

✓ এই প্রকল্পের দ্বারা ১০.৭৪ কোটি পরিবারের ৫০ কোটি মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিষেবা পাবেন।

✓এই যোজনার দ্বারা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন ।

✓ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে উভয়ে এই পরিষেবা প্রযোজ‍্য হবে।

✓এই যোজনার দরুন যাবতীয় খরচ কেন্দ্র এবং রাজ‍্য সরকার যৌথভাবে বহন করবে। এর মধ্যে কেন্দ্র খরচ বহন করবে ৬০% ও রাজ‍্য বহন করবে ৪০%।

✓ শুধুমাত্র গরীব পরিবারগুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

✓এই যোজনার সুবিধা ভোগ করার জন্য আধার কার্ডের প্রয়োজন নেই।

✓এই যোজনাকে প্রচার করার জন্য ন‍্যাশনাল হেলথ এজেন্সি (NHA) একটি ওয়েব সাইট ও হেল্প লাইন নম্বর চালু করেছেন।

যার নাম mera.pmjay.gov.in এবং হেল্প লাইন নম্বর হল ১৪৫৫৫

কেন এই যোজনা ?

দেশের একটা বড় অংশের মানুষ টাকার অভাবে চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেন না । পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ভারতে ৫.৫ কোটি মানুষ গরীব কেনকি তারা যা উপার্জন করে তা সবটাই নিজেদের চিকিৎসায় খরচ করে ফেলেন। এর মধ্যে ৩.৪ কোটি মানুষ শুধু মাত্র ওষুধের জন‍্য খরচ করেন। সেই সুবাধে গরীব পরিবারগুলিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করতে এদিন শুভারম্ভ হয়  “প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি যোজনা”PMJAY তবে যেসব রাজ‍্য এই যোজনার পরিষেবা থেকে বঞ্চিত তারা হলেন।

দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তেলেঙ্গানা ও পাঞ্জাব ।এখনও পর্যন্ত এই সকল রাজ‍্য কেন্দ্রের সাথে মেমোরেনডম ওফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং অর্থাৎ “মৌ”(MOU) তে স্বাক্ষর প্রদান করেনি। কারন কোনো কোনো রাজ‍্য চায় এইধরনের প্রকল্পে তাদের নিজস্ব যোজনা হোক আবার কোনো কোনো রাজ‍্যে এই ধরনের যোজনা প্রচলিত রয়েছে।

শেষ কথা 

দেশের ২৬টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে চালু হয়েছে মোট ৪৩৭টি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে এই কেন্দ্রের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে তিন হাজার-এ। সিএসসি, পিসিআই, সিএনআরআই, শ্রী তপোবন বিকাশ ট্রাস্ট, ইন্ডিয়ান রেডক্রস সোসাইটি, লায়ন্স ক্লাব, সিআইএসএসআইএল, সিএমআই, আইএমএ, বিজ্ঞান ভারতী এবং ভারত সেবক সমাজ সহ বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা , ট্রাস্ট ও সংগঠনের সঙ্গে এব্যাপারে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, পাঞ্চাব, হরিয়ানা, কেরল, মহারাষ্ট্র, অরুণাচলপ্রদেশ এবং আসাম রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। এই ধরনের কেন্দ্র স্হাপনের জন্য বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন, কোন রাজ্য সরকার বা রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা এই কেন্দ্র স্হাপনের জন্য বিনা ভাড়ায় জমি দিতে সম্মত হলে এই কেন্দ্র পরিচালনার জন্য দেওয়া হয় আড়াই লক্ষ টাকা। অন্যদিকে কোন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র গড়ে তোলায় আগ্রহী হলে প্রতি মাসে তাদের ১৫ শতাংশ হারে আর্থিক সুবিধা দানের ব্যবসা রয়েছে। ধন্যবাদ।



Comments are closed.