বিজয়া দশমী কবিতা – Shubho Bijaya Dashami SMS

আসছে শরৎকাল,আসছে দেবী দুর্গা মাকে বরণ করার শুভলগ্ন৷ আসুন জাতি,ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে যোগদান করি এ মহা উত্সবে ৷ সকলকে শারদীয় দুর্গা পূজার শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ রইল ৷ আমাদের দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হল হিন্দু দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি উৎসব। দুর্গাপূজা সমগ্র হিন্দুসমাজেই প্রচলিত। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজে এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা করা হয়। আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বেশি। বাসন্তী দুর্গাপূজা মূলত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বা আছে। তবে আস্তে আস্তে এই বাসন্তী দূর্গা পূজাও বাড়ছে।  সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে “দুর্গাষষ্ঠী”, “মহাসপ্তমী”, “মহাষ্টমী”, “মহানবমী” ও “বিজয়াদশমী” নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় “দেবীপক্ষ”। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নাম মহালয়া; এই দিন হিন্দুরা মা গঙ্গায় অর্থাৎ গঙ্গা নদীতে সাধারণত গিয়ে তর্পণ করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করে। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা। এই দিন হিন্দু ধন দেবী মা লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। কোথাও কোথাও দশ  দিন ধরে দুর্গাপূজা পালিত হয়। তবে বেশিরবাগ এই দশ দিন ব্যাপী পুজো পশ্চিমবঙ্গের বাইরের রাজ্য গুলিতে হয়ে থাকে, তার মধ্যে যতদূর জানা গাছে মুম্বাই, গুজরাট, দিল্লী ইত্যাদি।  সেক্ষেত্রে মহালয়ার আগের নবমী তিথিতে পূজা শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর শহরের মৃন্ময়ী মন্দির এবং অনেক পরিবারে এই রীতি প্রচলিত আছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতে মহাসপ্তমী থেকে বিজয়াদশমী পর্যন্ত (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মহাসপ্তমী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত) চার দিন সরকারি ছুটি থাকে। বাংলাদেশে বিজয়াদশমীতে সর্বসাধারণের জন্য এক দিন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৩ দিন সরকারি ছুটি থাকে।

দুর্গাপূজা ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল সহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকে। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হওয়ার দরুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ও বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বিশেষ জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। এমনকি ভারতের অসম,বিহার, ঝাড়খণ্ড,মণিপুর এবংওড়িশা রাজ্যেও দুর্গাপূজা মহাসমারোহে পালিত হয়ে থাকে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে প্রবাসী বাঙালি ও স্থানীয় জনসাধারণ নিজ নিজ প্রথামাফিক শারদীয়া দুর্গাপূজা ও নবরাত্রি উৎসব পালন করে। এমনকি পাশ্চাত্য দেশগুলিতে কর্মসূত্রে বসবাসরত বাঙালিরাও দুর্গাপূজা পালন করে থাকেন। পারিবারিক স্তরে দুর্গাপূজা প্রধানত ধনী পরিবারগুলিতেই আয়োজিত হয়। কলকাতা শহরের পুরনো ধনী পরিবারগুলির দুর্গাপূজা যাকে আমরা মূলত  “বনেদি বাড়ির পূজা” বলে থাকি বা এই নামে পরিচিত। পারিবারিক দুর্গাপূজাগুলিতে শাস্ত্রাচার পালনের উপরেই বেশি জোর দেওয়া হয়। পূজা উপলক্ষে বাড়িতে আত্মীয়-সমাগম হয়ে থাকে। অন্যদিকে আঞ্চলিক স্তরে এক একটি অঞ্চলের বাসিন্দারা যৌথভাবে যে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন তা বারোয়ারি পূজা বা সর্বজনীন পূজা নামে পরিচিত। ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সময় সর্বজনীন পূজা শুরু হয়। মুলত দেবী দুর্গাকে মাথায় রেখেই দেশমাতা বা ভারতমাতা বা মাতৃভূমির জাতীয়তাবাদী ধারনা বিপ্লবের আকার নেয়। দেবী দুর্গার ভাবনা থেকেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম গানটি রচনা করেন যা ভারতের স্বাধীনতা-আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র। সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ বিল্পবী ও জাতীয়তাবাদী নেতারা বিভিন্ন সর্বজনীন পূজার সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। এখন সর্বজনীন পূজায় “থিম” বা নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক মণ্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। থিমগুলির শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে “শারদ সম্মান” নামে বিশেষ পুরস্কারও দেওয়া হয়। এছাড়া বেলুড় মঠ সহ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন শাখাকেন্দ্র এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের বিভিন্ন কেন্দ্রের সন্ন্যাসীরা দুর্গাপূজার আয়োজন করেন।

মায়ের আগমনী গান 

ঢাক বাজা কাঁসর বাজা
উলু দে আর শাঁখ বাজা
বছর পরে আবার এল মা যে
পূজো পূজো গন্ধ নিয়ে
নতুন গানের ছন্দ নিয়ে
শারদীয়ার খুশীতে মন নাচে
এলো এলো এলো এলো মা দূর্গা মা
আরে এলো এলো এলো মা দূর্গা মা।।
বলো দূর্গা মায় কি জয়
বলো দূর্গা মায় কি জয়
আরে বলো দূর্গা মায় কি জয়।

মা,তুমি যে মা
তোমার স্নেহ মায়ার নেই তুলনা
ও ও আজ সপ্তমীতে,
তোমারি আসনে দিলাম এ আল্পনা
নতুন জামা নতুন শাড়ি
ঘরের পূজো বারোয়ারি
সব কিছুতে প্রেম জড়িয়ে আছে।
পূজো পূজো গন্ধ নিয়ে
নতুন গানের ছন্দ নিয়ে
শারদীয়ার খুশীতে মন নাচে।
এলো এলো এলো মা দূর্গা মা
আরে এলো এলো এলো মা দূর্গা মা।
মা,ও দূর্গা মা
জানি তোমার নামের কি মহিমা
ও ও আজ অষ্টমীতে
ওই রাঙা চরণে দিলাম অঞ্জলি মা
নবমীতে ভোগ প্রসাদ
দশমীতে মন বিষাদ
বিসর্জনের সময় এলে কাছে।
পূজো পূজো গন্ধ নিয়ে
নতুন গানের ছন্দ নিয়ে
শারদীয়ার খুশিতে মন নাচে
এলো এলো এলো মা,দূর্গা মা
আরে এলো এলো এলো মা,দূর্গা মা
বলো দূর্গা মায় কি জয়
বলো দূর্গা মায় কি জয়
আরে বলো দূর্গা মায় কি জয়।

বিজয়া দশমী 

এই দিনটি কিছু মন খারাপের সাথে সাথে আমাদের এক বিশেষ দিন যেটা আমরা সবাইকে অভিনন্দন জানাই শুভ বিজয়া নাম করে। কোলাকুলি করে থাকি। ও অনেক মিষ্টি খাওয়াখায়িও হয় সেদিনটা। চলুন আজকের প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু কবিতা, ছন্দ, বা ম্যাসেজ একটু দেখে নি – যাতে করে আপনিও এই বার্তা পাঠাতে পারেন চট করে আপনাদের বন্ধুদের কাছে বা আত্মীয় স্বজন দেড় কাছে বা যারা দূরে থাকেন তাদের কে।

শুভ বিজয়া অভিনন্দন কবিতা ও ছন্দের ম্যাসেজ 

1.শুভ বিজয়া 

ঢাকের আওয়াজ এখনও বাজে, দুই কানে সারাক্ষন, বিদায় বেলায় আজকে মা’গো , বিষাদে ভরে মন।

2.শুভ বিজয়া 

 দশমীর এই সন্ধে বেলা,সাঙ্গ হলো সিঁদুর খেলা, মা এর ঘরে ফেরার পালা, চোখের জল-এ বিদায় বলা , মা-এর হলো সময় যাবার আসছে বছর আসবে আবার। শুভ বিজয়া 

3.শুভ বিজয়া 

শরত সকাল হিমেল হাওয়া, আনমনে তাই হারিয়ে যাওয়া, কাশফুল আর ঢাকের তালে, শিউলি নাচে ডালে ডালে, মা আসছেন বছর ঘুরে, পুজোর হাওয়া তাই জগত জুড়ে । শুভ বিজয়া

4.শুভ বিজয়া

রোদের ঝিলিক শরত আকাশ, শিউলি ফুলের গন্ধ, মা আসছে ঘরে এবার দরজা কেন বন্ধ,পূজো এল তাইতো আবার বাজনা বাজায় ঢাকি, পূজো আসতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি । শুভ বিজয়া 

5.শুভ বিজয়া 

ঢাকের তালে ধুনুচি নাচন, এটাই প্রাচীন রীতি, মনের ফ্রেমে বাধিয়ে রেখো, দুর্গা পূজার স্মৃতি ।শুভ বিজয়া 

6. শুভ বিজয়া 

ঢাকের কাঠি উঠল বেজে,মা আসছেন সেজে গুজে,চারিদিকে আজ মাতন লাগে,পূজার দিন যেন ভালো কাটে। শুভ বিজয়া 

7.শুভ বিজয়া 

পূজার বাঁশী বাজে দূরে,মা আসছেন বছর ঘুরে,শিউলির গন্ধে আগমনী, কাসের বনে জয়ধ্বনি, নীল আকাশে মাকে খুঁজো, হাসি খুশি কাটুক পূজো । শুভ বিজয়া 

8.শুভ বিজয়া 

ষষ্ঠীতে থাক নতুন ছোঁয়া, সপ্তমী হোক শিশির ধোয়া, অঞ্জলি দাও অষ্টমীতে, আড্ডা জমুক নবমীতে।, দশমীতে হোক মিষ্টি মুখ, পুজ সবার খুব ভালো কাটুক । শুভ বিজয়া 

9.শুভ বিজয়া 

 ঢাকের আওয়াজ ধাই কুরকুর, শোনা যায় ওই আগমনী সুর, মায়ের এবার আসার পালা, শুরু হল মজার খেলা, তাই নিয়ে এই সুখ মন, জানাই তোমায় অভিনন্দন ।শুভ বিজয়া 

10.শুভ বিজয়া 

বিজয়া হোক মিষ্টি মুখেঢাকের আওয়াজ হলো মৃদু , মায়ের হাসি হলো ম্লান,এবার মাগো বিদায় তবে আসছে বছর আবার হবে,সবাই কে মা রাখিস সুখে,শুভ বিজয়া 

শেষ কথা

এক কথায় যদি বলা যায় সেটা হল আমাদের এই দিনটি মন খারাপের দিন। বিজয়া দশমীতে আমাদের মনটা কেমন একটা শুন্য হয়ে যায়। কিছুই ভালো লাগে না। মা দূর্গা যখন তার সন্তানদের নিয়ে দশমীতে তার বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন তখন সবার মনে একটা দুঃখের ছায়া দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু এটাই বিধির বিধান। মা চলে যাবার পর থেকে আবার আমরা অপেক্ষা করে থাকি আবার সেই পাঁচটা দিন কবে আসবে। আমাদের সরোদৎসব প্রধান উৎসব বলে জানি আর মানিও। যাই হোক আমাদের মন ভেঙে যাবার পরও আমরা সবাইকে মিষ্টি মুখ করিয়ে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানাই। আর এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্যাপ, আরও বিভিন্ন রকমের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বা নরমাল ফোন এর ম্যাসেজ এর মাধ্যমেও আমরা সবাইকে অভিনন্দন জানাই। মা চলে যাবার সময় আমরা একটাই জয়গান গাই সেটা হল, “বোলো দুগ্গা মাই কি জয় আসছে বছর আবার হবে” এই কথা কথা বলতে বলতে মা কে বিসর্জন দিয়ে দেওয়া হয় অর্থাৎ বাপের বাড়ি থেকে শশুর বাড়ি চলে যায়। মা এসেছিলেন, মা আসছেন, মা আসবেন প্রত্যেক বছর। জয় মা দূর্গা। ভালো থাকবেন ভালো রাখবেন আর হ্যা প্রত্যেক দূর্গা পুজোর এই পাঁচটা দিন চুটিয়ে মজা করুন। পোস্টি শেয়ার করুন।

লেখক- শান্তনু পাল 


Comments are closed.