হাটু ব্যাথার চিকিৎসা – Knee Pain Treatment in Bengali

বয়স বাড়ার সাথে সাথে এক একটা শারীরিক অসুবিধে লেগেই থাকে। তার মধ্যে প্রধান হল হাঁটুর ব্যাথা। এই রোগটি আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এর ভোগান্তি অতি মারাত্মক। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম থামিয়ে দিতে পারে হাঁটুর যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা। সকালে উঠে পা ফেলতে কষ্ট হয় ? আসহ্য হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন ? হাঁটুর ব্যথা বা গাঁঠের ব্যথা এখন আর বয়সের মধ্যে কোনো  সীমাবদ্ধ নেই। যে কোন বয়সেই হানা দিতে পারে এই সমস্যা। ক্যালসিয়াম এর অভাব অনিয়মিত ডায়েট শরীর চর্চার ঘাটতি এসব হল মূল কারন। অনেক সময় হাঁটুর সাধারণ ব্যাথা মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এতে প্রতিদিনের কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং জীবনযাপনের কারণে এ সমস্যা বেড়েছে। ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সুগঠিত পেশি না হওয়ার কারণে হাঁটুব্যথা অতি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আজ রয়েছে হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তির কিছু সহজ উপায়। আসুন দেখে নেওয়া যাক এই ব্যাথা কমানোর কিছু ঘরোয়া উপাই।


বরফের সাহায্য 

হাঁটুর ব্যাথা অনুভূত হলে ৩ থেকে ৪ টুকরো বরফ পাতলা কাপড় এর সাথে জড়িয়ে নিন। এরপর যে জায়গায় ব্যাথা অনুভূত হবে সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন বা হালকা হালকা করে মাসাজ ও করতে পারেন। মনে রাখবেন একটানা এক জায়গায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট এর বেশি বরফ রাখবেন না তাতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। হাঁটুর ব্যাথায় আরও ভালো ফলাফলের জন্য একটি বরফ আইস প্যাক ও ব্যবহার করতে পারেন।

মাস্যাজ থেরাপি 

হাঁটুর ব্যাথার জন্য ম্যাসাজ থেরাপি ভালো কাজ দিতে পারে আপনাকে। ৩ থেকে ৪ চামচ অলিভওয়েল গরম করুন এরপর ব্যাথার স্থানে আলতো আলতো করে মালিশ করতে থাকুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট এই মালিশ করতে থাকুন। এই মালিশটি দিনে ৩ থেকে ৪ বার করুন। আশা করা যায় ভালো ফল পাবেন।

হিট বা গরম ভাপ থেরাপি 

হাঁটুর ব্যাথায় ঠান্ডা জলের মতো গরম জলকেও ভালো ভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। বাথ টব বা অন্য যেকোনো উপায়ে গরম জলের মধ্যে আপনার আপনার হাটু দুটোকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।  তাছাড়া গরম জলের ব্যাগ যাকে আমরা হিট ব্যাগও বিলে থাকি সেটাও ৫ থেকে ১০ মিনিট ব্যাথা স্থানে রেখে দিতে পারেন। এরকম প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বার করযে অবশ্যই উপকার পাবেন।

গরম দুধ পান করা 

দুধ পানের মাধ্যমে হাঁটুর ব্যাথার সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রথমে ২ কাপ দুধের সাথে এক টেবিল চামচ বাদাম, আখরোটের গুঁড়ো, আর এক চিমটি হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর এই মিশ্রণটি ভালোভাবে ফুটাতে হবে। এমন ভাবে ফুটাতে হবে যাতে করে দুধের পরিমানটা অর্ধেক হয় মানে আরও ঘন হয়। পুরোপুরি এক মাস  এই দুধ দিনে একবার পান করতে হবে, এক মাস পরে দেখা যাবে যে হাঁটুর ব্যাথার অনেকটাই কমে গেছে।

আদায় ও চায়ে মিলতে পারে স্বস্তি  

প্রতিদিন আদা দিয়ে চা পান করুন। এটি আপনার হাঁটুর ব্যাথা অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।

হিল জুতা ত্যাগ করুন 

হাই হিল জুতো দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় এটি পরে থাকলে হাঁটুসহ দেহের বিভিন্ন অংশে ব্যথার সৃষ্টি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল নারী হাই হিল জুতো পরেন তারা হাঁটুর ব্যথায় ভোগেন।

ওজন কমাতে হবে

দেহের ওজন বহন করে দুই পা। চাপটা এসে হাঁটুতেই পড়ে। তাই ওপরের অংশের ওজন যদি বেড়ে যায় তবে হাঁটুতে ব্যথা হতেই পারে।সেই ক্ষেত্রে নিয়তিম ব্যায়াম এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বা অন্য যেকোনো জিনিসের মাধ্যমে আপনার ওজন কমাতে হবে, ওজন কমলেই আপনার হাঁটুর ব্যাথা আপনা আপনি  কমে যাবে।

হাঁটাচলা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন 

যাদের হাঁটুর ব্যাথা রয়েছে তাদের জন্য হাঁটুর ব্যায়াম করা একদমই ভালো নয় বা আদর্শ নয়। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা যাওয়া টাই হল বেশি উপযোগী।

নিয়মিত খাবার 

 প্রতিদিন নিয়মিত শাকসবজি খেতেই হবে। ফল বাদাম ইত্যাদি রোজকার অভ্যাস করা একদম উচিত। আর এসব খাবার নিয়মিত খেলে আপনার হাঁটুর ব্যাথা একদমই কম থাকবে বা নির্মূলও হতে পারে।

ভিটামিন ডি

যেকোনো বয়সে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে ভিটামিন ডি দারুণ শক্তিশালী হাড় গঠন করে। ভিটামিন ডি এর অভাবের সঙ্গে অস্টেয়োপরোসিসের সম্পর্ক রয়েছে। সূর্যের আলোতে ভিটামিন মেলে। তবে পাশাপাশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেনকিন্তু ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ বা পরামর্শ করে।

মেথি 

যে কোন জ্বালা যন্ত্রনা কমাতে মেথির জুড়ি মেলা ভার। এর মধ্যে আছে উচচ মাত্রাই এন্টি অক্সিডেন্ট। গাঁটের ব্যথায় কষ্টপেলে প্রতিদিন নিয়মিত মেথির বীজ হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে খেতে পারেন। কিংবা সারারাত ভিজিয়ে রেখে মেথির পানি সকালে খালি পেটে খেলেও অনেক উপকার পাবেন।

 গাজর ও লেবুর জুস 

দু’টো গাজর পিষে তার রস বার করে নিন,এবার তার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে জুস বানিয়ে খালি পেটে খেয়ে নিন।নিয়মিত এই জুস খেলে কিছু দিন পরে দেখবেন আপনার অনেক ব্যাথা কমে গেছে।

শেষ কথা 

হাঁটুর ব্যাথা অনেক কারণেই হতে পারে তার জন্য ভয় বা দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। দেখবেন ব্যাথাটা কত দিন ধরে আছে আর ব্যাথাটা ওপরের উল্লেখিত টোটকাতে কমছে কিনা। যদি কমে যায় তাহলে তো ভালো কিন্তু কমে যাবার পরেও ২ থেকে ৪ বার আরও ব্যবহার করতে হবে যাতে করে একেবারেই নির্মূল হয়ে যায়। আর যদি না কমে তাতেও ভয় পাবার কিছু নেই সেই সময় একটা ভালো হারের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।



Comments are closed.