রুপ চর্চা টিপস – Bangla Beauty Tips for Fairness

এই গরমে বাড়ির বাইরে বেরোলে গায়ের রঙ পুড়বেই। কিন্তু তা-ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এই গরমের মোকাবিলা করার জন্য রয়েছে বেশ কিছু ঘরোয়া টিপস। দোকানের দামি দামি কেমিক্যাল দেওয়া  কসমেটিক ব্যবহার না করে আমরা যদি একটু সতর্ক থাকি আর একটু নিজেরাই বুঝে শুনে  বাড়িতে বসেই নানান পদ্ধতিতে নিজের ত্বকের যত্ন নিজেরাই নিতে পারি তাহলে আর দোকানে যাবো কেন ? আর কেনইবা মুখের ওপর বা আমাদের শরীরের ওপর কেমিক্যাল উসে করবো। যেসব প্যাকেটজাত সৌন্দর্য সামগ্রী আমাদের উজ্জ্বল ত্বকের নিশ্চয়তা দেয় আমরা  অনেকেই তা একবার করে আমাদের মুখে পরীক্ষা করে দেখে থাকি। এই করতে গিয়ে আমাদের মুখের ত্বকের বারোটা বাজে।  আমরা প্রায়ই ভুলে যাই–উজ্জ্বল ত্বক আসলে সুস্থ ত্বকেরই বাইরের রূপ। দীর্ঘস্থায়ী উজ্জ্বল ত্বকের নিশ্চয়তা কেবল সুস্থ ত্বকই দিতে পারে, বাইরের ত্বক নয়। বাজারে চালু ত্বক ফর্সা করা ক্রিমগুলি আমাদের ত্বকের বাইরের অংশে কাজ করে। এগুলির রাসায়নিক উপাদান শেষ পর্যন্ত ত্বকের ক্ষতিই করে। রূপচর্চার জন্যে আমাদের হাতে যখন  হার্বাল বা ভেষজ উপাদানের মত বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে তখন কেন এসব রাসায়নিকের ব্যবহার! হার্বাল রূপচর্চার জন্য যা যা প্রয়োজন সব রয়েছে আপনার হাতের নাগালে–আপনার রান্নাঘরেই। এই জিনিসগুলি ব্যবহার করে আপনি পাবেন দীর্ঘস্থায়ী ভালো ত্বকের নিশ্চয়তা। আজকের এই লেখাটার দ্বারা আপনারা আশা করি অনেকটাই উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। সরাসরি চলে যাবো আমরা ত্বকের যত্নের টিপসের দিকে। তবে একটা কথা বলি, এখানে টিপসের অনেকগুলোই দেওয়া থাকবে আপনারা যেগুলো ভালো বলে মনে করবেন বা যেগুলো আপনাদের পক্ষে সহজ বলে মনে হবে সেগুলো আপনারা  নিজেদের মতন করে ব্যবহার করতে পারেন।


রুপ চর্চার বেশ কিছু  টিপস

  1. ত্বক খুব বেশী রোধে পুড়ে গেলে বাড়িতে ফিরেই একটা সুতি কাপরের মধ্যে বরফের টুকরা পেঁচিয়ে আলতো করে ঘষতে থাকুন। আরাম পাবেন। কোন রকম ইনফেকশান হওয়ার সম্ভাবনা ও কমবে।
  2. পোঁড়া জায়গায় এলোভেড়া লাগালেও উপকার পাবেন। বাড়িতে অ্যালোভেরা গাছ থাকলে পাতা কেটে জেল বের করে পোড়া জায়গায় লাগান। না হলে বাজারে অ্যালোভেরা জেল পাওয়া যায়। সেগুলো ও লাগাতে পারেন।
  3. বেলা ১২টা-৩টার মধ্যে বাইরে বের না হওয়াই ভালো। এই সময় রোদের তাপ সবচেয়ে বেশী। আর যদি বেরোতেই হয় তাহলে ছাতা নিয়ে বের হবেন।
  4. রোদে বেরোবার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন লাগান। খুব বেশী তৈলাক্ত ত্বক যাদের, তাঁরা সানস্ক্রিন জেল ব্যাবহার করতে পারেন। শুধু মুখেই নয়, গলা, হাত, পায়ের পাতা এবং পিঠ- সব জায়গাতেই পর্যাপ্ত পরিমানে সানস্ক্রিন লাগান। তবে সানস্ক্রিন এর কার্যকারিতা বড়জোর ২ ঘন্টা। তাই বেশিক্ষণ বাইরে থাকলে, ২ ঘন্টা পর পর সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন। এখন নানা নামি-দামি কসমেটিকস ব্র্যান্ড সানস্ক্রিন স্প্রে ও বাজারে আছে। রাস্তাঘাটে এগুলো ব্যাবহার করা সহজ।
  5. যতটা পারেন গা-ঢাকা সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরার চেষ্টা করুন। তাহলে ত্বকে সূর্যের তাপ সরাসরি লাগবেনা, তা ছাড়া সুতির স্কার্ফ ব্যাবহার করতে পারেন। নানা রকম স্টাইলিশ হ্যাট ও এখন বাজারে আছে।
  6.  টক দই আর মসুর ডাল বেটে তার পেস্ট বানিয়ে রাখতে পারেন। স্নানের আগে সারা গায়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বক হলে এতে ২ ফোঁটা অলিভওয়েল মিশিয়ে নিন গায়ের রঙ পরিষ্কার হবে।
  7. গোলাপ জলে চন্দন বেটে মুখে লাগান। ত্বকের সব কালো দাগ দূর হয়ে যাবে। তৈলাক্ত ত্বক হলে সারা রাত লাগিয়ে রাখুন। তবে শুষ্ক ত্বক হলে ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।
  8. চুল পড়া বন্ধ করতে মাথায় আমলা, শিকাকাই যুক্ত তেল লাগান।
  9. তৈলাক্ত ত্বকে ঘাম জমে মুখ কালো দেখায়। এক্ষেত্রে ওটমিল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখবেন আধা ঘন্টা। আধা ঘন্টা পর ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন।
  10. যাদের হাত খুব ঘামে তারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লাউয়ের খোসা হাতে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ।
  11. পায়ের গোড়ালি ফাটলে পেঁয়াজ বেটে প্রলেপ দিন এ জায়গায়।
  12. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন ১৫ গ্রাম করে মৌরি চিবিয়ে খান। খুব কম সময়ে রক্ত শুদ্ধ হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
  13. মুখে কোন রেশ বের হলে অড়হর ডাল বাটা পেষ্ট লাগান রেসের ওপর  উপর। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। দাগ থাকবেনা।
  14. পিঠের কালো ছোপ তুলতে ময়দা ও দুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে পিঠে দশ মিনিট ধরে ঘষবেন। এটা নিয়মিত করলে পিঠের ছোপ উঠে যায়।
  15. মুখের তাৎক্ষনিক লাবণ্য আনতে একটা ভেষজ রুপটান আছে। আধা চা চামুচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। পনের মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা আপনার মুখকে আদ্র রাখবে।
  16. হাত পায়ের সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখতে হাতে ও পায়ে আপেলের খোসা ঘষে নিন। এতে হাত ও পা অনেক বেশী ফর্সা দেখাবে।
  17. মুখের বাদামী দাগ উঠাতে পাকা পেঁপে চটকে মুখে লাগান, ১৫ মিনিট পরে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন দাগ মিলিয়ে যাবে।
  18. লিগমেন্টেশন বা কালো দাগ থেকে মু্ক্তি পেতে আলু, লেবু ও শসার রস এক সঙ্গে মিশিয়ে তাতে আধ চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে যেখানে দাগ পড়েছে সেখানকার ত্বকে লাগান। 
  19. নিঃশ্বাসের দুগন্ধ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত দুই কোয়া করে কমলালেবু খান। দুই মাস পর এ সমস্য থাকবেনা।
  20. সমপরিমান তুলসী পাতার রস ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে দুই বেলা নিয়মিত মুখে লাগান যেকোন দাগ মিলিয়ে যাবে।
  21. অতিরক্ত শুষ্কতা থেকে মুক্তি পেতে মধু, দুধ ও বেসনের পেষ্ট মুখে লাগান নিয়মিত। এতে ত্বকের বলিরেখা ও দূর হয়ে যাবে।
  22. বেলা ১২টা-৩টার মধ্যে বাইরে বের না হওয়াই ভালো। এই সময় রোদের তাপ সবচেয়ে বেশী। আর যদি বেরোতেই হয় তাহলে ছাতা নিয়ে বের হবেন।
  23. ঠোটেঁ কালো ছোপ পড়লে কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে ঠোটেঁ মুছবেন। এটি নিয়মিত করলে ঠোটেঁর কালো দাগ উঠে যাবে।
  24. টমেটোর রস ও দুধ একসঙ্গ মিশিয়ে মুখে লাগালে রোদে জ্বলা ভাব কমে যাবে।
  25. হাড়িঁ-বাসন ধোয়ার পরে হাত খুব রুক্ষ হয়ে যায়। এজন্য বাসন মাজার পরে দুধে কয়েক ফোঁটা লেবু মিশিয়ে হাতে লাগান। এতে আপনার হাত মোলায়েম হবে।
  26. কনুইতে কালো ছোপ দূর করতে লেবুর খোসায় টিনি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এতে দাগ চলে গিয়ে কনুই নরম হবে।
  27. মুখের ব্রণ আপনার সুন্দর্য নষ্ট করে। এক্ষেত্রে রসুনের কোয়া ঘষে নিন ব্রণের উপর। ব্রণ তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।   

শেষ কথা 

নিজের ত্বক নিজেকেই বহাল রাখতে হবে। আপনার কাছে এসে কিন্তু কেউ বলে দেবে না এটা কর বা ওটা কর। হয়তো দু একজন বন্ধু বান্ধব বললেও বলতে পারে। আমাদের এই লেখাটার প্রত্যেক টিপস গুলো নিজ নিজ ভাবে ঠিক থাকে মতন যদি ব্যবহার করে থাকেন আমি বলছি আপনার সমস্যা থাকবেই না। ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।

লেখক – শান্তনু পাল 



Comments are closed.