মেদ কমানোর ঔষধ – Weight Loss Tips in Bangla

হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন আশা করি আপনারা ভালোই আছেন। আর ভালো তো থাকতেই হবে তাও আবার সুস্থ সবল ভাবে। দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার মাধ্যমে আমাদের শারীরিক অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে কম বেশি। বাইরে কাজ করতে গেলে প্রতিনিয়ত আমাদের শারীরিক অবনতি ঘটে। তার জন্য বাইরের খাবার অন্যতম দায়ী। বয়সের সাথে সাথে একটা ব্যাপার নিশ্চয় খেয়াল করেছেন যে ওজন বাড়লেই মনে হয় সব মেদ পেটেই জমছে, পেট দেখাচ্ছে একটা বড় টায়ারের মতো। এরকম কেন হয় এই প্রশ্নও নিশ্চয় করেছেন নিজেকে ? আসলে আমাদের দেহ এমন ভাবে তৈরি হয়েছে যেন তা প্রতিকূলতা থেকে আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে রক্ষা করতে পারে আর সন্তান জন্ম দেবার প্রক্রিয়াটাকে সহজ করতে পারে ( মেয়েদের ক্ষেত্রে ) এর ফলে সময়ের সাথে সাথে শরীরের কোথায় অতিরিক্ত চর্বি জমা হবে সেই হিসেবও বদলে যেতে থাকে। আর আমরা যখন ফ্যাট নিয়ে কথা বলি, তখন ফ্যাট বলতে আসলে বুঝাই এডিপোজ টিস্যুকে। এই টিস্যুগুলো তৈরি হয় এডিপোজ কোষ দিয়ে যা আমাদের দেহ দৈনন্দিন কাজে কিছুটা ব্যবহার করে। এই কোষগুলোর শক্তি মূলত জমা থাকে এমন সময়ের জন্য, যখন হয়তো আমরা প্রতিদিন তিন বেলা খেতে পারবনা। সে সময় দেহ এই টিস্যুগুলোকে কাজে লাগায়। এডিপোজ কোষ আবার দুই ধরনের হয়, সাদা আর বাদামী। সাদা কোষের কাজ প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য শক্তি সঞ্চয় করা আর বাদামীগুলোর কাজ হলো আমাদের দেহকে উষ্ণ রাখা।

এই চর্বি দেহের কোথায় জমে ?

আমাদের দৈহিক গঠন অনেকখানিই নির্ভর করে আমাদের জিনের উপরে। তাই কারো অতিরিক্ত চর্বি জমা হয় পেটে, কোমরে, থাই এ  বা আর কারো হয় পশ্চাতদেশে অর্থাৎ পাছায়।  আর এই অতিরিক্ত চর্বি হলো সাদা আর বাদামী এডিপোজ কোষের মহাসম্মেলন। বয়সের সাথে সাথে আর আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণে আমাদের শরীরের গঠন বদলায় আর কেউ আসলে খুব জোর দিয়ে বলতে পারেনা যে কেন মেদ পেটেই বেশি জমা হয়। তবে খুব সাধারণভাবে বলা যায় যে, একজন সুস্থ নারীর ক্ষেত্রে তার কৈশোর থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত তার নিতম্ব, পশ্চাতদেশ বা পাছায় আর বুকে কিছুটা ফ্যাট জমা থাকে। । বিবর্তনের থিওরি অনুযায়ী এই ফ্যাট তার  সন্তান জন্ম দিয়ে তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো, বড় করে তোলার মতো বিষয়গুলোতে সাহায্য করবে। কিন্তু মেনোপজের পর, বাড়তি চর্বি জমতে শুরু করবে পেটের আশেপাশে, আর পা ও পশ্চাতদেশ চর্বি জমার পরিমাণ কমতে থাকবে। যেহেতু এখন আর সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা নেই তাই দেহ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যে পেটের চারপাশের চর্বি শরীরের ভিতরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে ভালোভাবে রক্ষা করতে পারবে। বিবর্তন আসলে খুবই অসাধারণ একটি প্রক্রিয়া, বয়সের সাথে সাথে আমাদের শরীর কিভাবে বিভিন্ন বদলের সাথে মানিয়ে নেয় তা লক্ষ্য করলেই এটা বোঝা যায়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে

আর পুরুষদের ক্ষেত্রে পেটের চর্বি বাড়ার কারণ হতে পারে – অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রক্ষা, তার প্রতিদিনের ব্যায়ামের মাত্রা আর পারিবারিক ধারা। তবে এই সবকিছুর জন্য যে একেবারে পোক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে তা নয়। তবে এই অনুমানগুলোর ব্যাখ্যাও কিন্তু কম নেই। মেদ যখন দুশ্চিন্তার বিষয় পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে তা আবার আমাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। এটা এড়ানোর উপায় একটাই, ব্যায়াম আর পরিমিত খাবারের সাহায্যে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা। আর এজন্যে সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, চর্বিবিহীন মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম আর হোলগ্রেইন শর্করা খাওয়া। সেই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে শরীরচচর্া আর দেহকে রাখতে হবে কর্মক্ষম। বেশি কথা আর না বাড়িয়ে আমরা সরাসরি জেনে নেবো যে আমাদের এই মেদ কমানোর উপায় গুলো কি কি আছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক আমাদের আজকের মূল বিষয়বস্তু মেদ কমানোর ঔষধ বা মেদ কমানোর কি কি উপায় আছে।

জেনে নেবো মোটামুটি কি কি কারণে আমাদের এই মেদ জমে 

দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে আজকাল বাচ্চাদের মধ্যেও পেটের মেদ দেখা যাচ্ছে। যদি সময় মত পেটের এই মেদের দিকে নজর না দেওয়া যায় তাহলে তা বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ রোগের অন্যতম কারন হতে পারে। পেটের মেদ সৃষ্টি হওয়ার কারণ শুধু একটি না বরং অনেক কারণ থাকে এবং এই কারণগুলো খুঁজে বের করে সময় মত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরি। পেটের মেদ কেন হয় তা জানার আগে পেটের মেদের ঝুঁকিগুলোও জানা প্রয়োজন। যা হয়তো এসব সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনাকে বিনষ্ট করে দিতে পারে। পেটের মেদ হৃদ রোগের সাথে জড়িত সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, কিডনির রোগ এমনকি ক্যান্সার হবার সম্ভাবনাও থাকে। পেটের মেদ ছোট আকৃতিরও যদি হয় তবুও তা বেশ বিপদজনক। কারণ একবার যদি কোন ভাবে পেটের মেদ সৃষ্টি হয়ে যায় সেটা বড় হতে বাধ্য। তাই পেটের মেদের কারণ খুবই গুরুতর এবং একে গুরুত্বের সাথেই সবার দেখা উচিত। আর এটাও সবারই জেনে রাখা উচিত যে পেটের মেদ জমাকৃত স্থান থেকে মেদ কমানো বেশ কঠিন একটি কাজ। তাই কিভাবে এই পেটের মেদ থেকে পরিত্রাণ পাবেন তা জানার জন্য আগে কেন পেটের মেদ সৃষ্টি হয় তা জানা থাকলে অনেক উপকৃত হবেন। অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং ভ্রান্ত খাদ্যাভ্যাসই মূলত পেটের মেদের জন্য দায়ী।

  • রাতে দেরি করে খাওয়া

    রাতের খাবার খাওয়ার পর তা হজম হওয়ার জন্য সময়ের প্রয়োজন। আমরা অনেকেই রাতের খাবার খেয়েই কতক্ষনে বিছানায় শুতে যাবো সেই তাড়না করে থাকি। জানিও না আর বুঝিও না যে এটা কতটা ক্ষতিকর একটা জিনিস আমরা রোজ রোজ করে থাকি। ভরপেট খাবার খেয়ে সাথে সাথেই ঘুমাতে গেলে সেই খাবারটা আর সঠিকভাবে হজম হওয়ার সময় পায়না এবং দেহে খাদ্যোপাদানগুলোর সঠিক বণ্টনও হয় না। এর ফলে তা পেটের মেদ হিসেবেই জমা হয়।

  • ইটিং ডিজঅর্ডার

    অনেকেরই খাবার সম্পর্কীয় এই রোগটি রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানি না। যদিও একে অনেকেই রোগ মনে করেন না। যখন মন খারাপ থাকে তখন অনেকেই ভাবেন যে বেশি করে খেয়ে সেটা ভালো করবেন। আসলে সেটি কোন সমাধান না। কারণ এই কাজটি কখনো মানসিক ভাবে আপনাকে সাহায্য করবেনা শুধু পেটের মেদ বাড়ানো ছাড়া। খাবার প্রতি এভাবে নেশাগ্রস্ত না হয়ে চেষ্টা করুন শারীরিক ব্যায়াম করতে। এটা বেশ উপকারে আসবে। চেষ্টা করুন যোগা করতে এটি দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করবে।

  • নিষ্ক্রিয়তা

    সুস্থ থাকার জন্য শারীরিক ব্যায়াম করার কোন বিকল্প নেই এটা অনেক আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। সঠিক দেহের আকৃতি বহির্গত এবং অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রের জন্য শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই প্রয়োজন। তাই যখন আপনি নিয়মিত ভাবে শারীরিক ব্যায়াম শুরু করবেন তখন আস্তে আস্তে পেটের মেদও কমতে শুরু করবে তখন আর সেই পেটের মেদ লুকানোর জন্য ঢিলেঢালা পোশাক পরার প্রয়োজন হবে না।

  • বিষণ্ণতা

    আমাদের আধুনিক সমাজ জীবনে বিষণ্ণতায় ভোগার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং আমাদের অনেকেরই অনেকটা সময় বিষণ্ণতায় কাটেও। এই বিষণ্ণতাও পেটের মেদের একটি কারণ। কারণ বিষণ্ণতায় ভুগলে তখন দেহে কর্টিসল নামক একপ্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়। আর এই কর্টিসল হরমোন পেটের চারদিকে চর্বি জমাতে সাহায্য করে পেটের মেদ বৃদ্ধি করে।

  • কম প্রোটিনযুক্ত খাবার

    প্রোটিন আমাদের দেহের রক্তের শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন। এটি ইন্সুলিনের মাত্রা কমিয়ে বিপাক ক্রিয়াকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর বিপাকক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়া মানেই দেহে চর্বি পরিমাণ কমায়। তাই যদি কম প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া হয় তাহলে দেহে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

  • সময়মত খাবার না খাওয়া

    অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যখন শরীর জানবে না ঠিক কখন পরবর্তী খাবার আসবে তখন শরীর দেহে চর্বি জমা করা শুরু করে। তাই এই অবস্থা এড়ানোর জন্য সঠিক সময় এবং সঠিক বিরতিতে খাবার গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে শরীরের শক্তির সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে।

  • ঘুমের অপর্যাপ্ততা

    প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো খুবই প্রয়োজন। তাই কম ঘুমিয়ে বেশিক্ষণ জেগে থাকলে তা কর্টিসল হরমোনের উৎপাদন বাড়ায় এবং বেশি মিষ্টি খাবার বা যেকোন খাবারের ইচ্ছাকেও বাড়ায়। তাই এটিও মেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

  • মদ্যপান

    মদ্যপানের ফলে তা দেহে ক্যালোরির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যা দেহের ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে পেটের মেদও বৃদ্ধি করে।

  • কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস খাওয়ার ফলে

    কার্বনেটেড ড্রিংকসগুলোতে অনেক বেশি পরিমাণ চিনি থাকার ফলে এগুলো থাকে ক্যালোরিতে পরিপূর্ণ। এসব ড্রিংকসগুলোতে থাকা অতিরিক্ত চিনি খাবার ইচ্ছাকে বাড়িয়ে দেয় এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়। আর এভাবেই পেটের মেদ বৃদ্ধি পায়। আবার অনেকে মনে করেন ডায়েট ড্রিংকসগুলো খেলে কোন সমস্যা হয় না কিন্তু সেগুলোও অনেক ক্ষতিকর।

  • মেনোপজ পর্যায়ে

    মহিলাদের মেনোপজ পর্যায়ে দেহে বিভিন্ন ধরনের হরমোনের পরিবর্তন হয়। যার ফলে ওই বয়সে মহিলাদের পেটের মেদ বৃদ্ধির একটা প্রবণতা দেখা দেয়।

  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

    প্যাকেট ও প্রক্রিয়াজাত করা খাবারগুলো দেহে আক্রমণাত্মক ভাবে ক্যালোরির পরিমাণ বাড়ায়। কারণ এসব খাবারগুলোতে চিনি ও ক্যালরির পরিমান খুব বেশি থাকে যা পেটের মেদ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাই যে কোনো প্যাকেটজাত, টিনজাত ও প্রক্রিয়াজাত করা খাবার গুলোর প্যাকেটে উপাদানগুলোর নাম এবং পরিমানণ দেখলেই হয়তো সবারই সেটা বুঝতে পারবেন।

  • বংশগত কারনে

    পেটের মেদ অনেক সময় বংশগত কারণেও হতে পারে। যদি বাবা মায়ের কারো পেট মেদ বহুল থাকে তাহলে ছেলে মেয়েদের মাঝেও পেটের মেদ হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তাই সেসব ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধারায় অবশ্যই একটু অতিরিক্ত মনোযোগী হতে হবে। যদি ঠিক থাকে করে নিজেকে পরিচালনা করা যায় তাহলে কিন্তু বংশগত কারণ ঠিক এই ব্যাপারটাই আমাদের জীবন বা আমাদের মুখের থেকে চলে যায়। তার জন্য আপনাকে নিয়মিত ব্যায়াম আর খাবারের জিনিসগুলোকে ঠিক থাকে দেখে আর মেনে চলতে হবে। 

মেদ কমানোর ঘরোয়া উপায় 

  • প্রতিদিনের সকালটা শুরু হোক লেবুর সরবত দিয়ে। এই পদ্ধতি পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী ১টি উপায়। ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু চিপে সরবত করে সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে নিন। ইচ্ছে হলে একটু মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু চিনি মিশাবেন না। প্রতিদিন সকালে পানীয়টি পান করুন। এই পানীয় আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে। করে দেখতে পারেন বা এটা খুব কমন একটা জিনিস তাই হয়তো অনেকেই করে থাকেন আর অনেক লাভদায়কও হয়েছেন। কিন্তু যারা এখনো করেন নি বা জানেন না তারা কিন্তু কিছু দিন ওই মানে ১ থেকে ২ মাস রেগুলার করে দেখতে পারেন ঠকবেন না। 
  • প্রতিদিন সকাল এবং বিকাল এই দুই সময়ে ফল ও সবজি খান। তবে এক্ষেত্রে জল জাতীয় ফল বাছাই করুন। এই অভ্যাসটি আপনার দেহে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজলবণ এর ঘাটতি পূরণ করবে।
  • কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকাল বেলা চুষে খান। হ্যা জানি সুখেই আপনি হয়তো ওরে বাবারে করবেন তার কারণ সকাল সকাল কারোর ভালো লাগেনা রসুন খেতে বা রসুন চুষতে। মুখে গন্ধ হবার ভয়ে। তবে আমি বলি কি একটু চেষ্টা করে দেখুন না জিনিস গুলো।  আর হ্যা আপনি কাজটি করার পরে ভালো করে ব্রাশ করে একটা  লবঙ্গ বা একটা এলাচ মুখে পুড়ে দিন রসুনের গন্ধ থাকবে না। তারপরে লেবুর সরবত পান করুন। এই চিকিৎসাটি আপনার ওজন কমানোর জন্য সাহায্য করবে এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ সহজ করবে।
  • ঝাল খাবার খান। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবেন না। ঝাল খাবেন কিন্তু ঝালগুলো আসবে দারচিনি, আদা, গোলমরিচ, কাঁচা লঙ্কা এবং কাঁচামরিচ থেকে। এগুলো রান্নায় ব্যবহার করুন। এই মশলা স্বাস্থ্যকর। এগুলো শরীরের ইনসুলিন সরবরাহ বাড়ায় এবং রক্তের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে। তাই এগুলো ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও বেশ উপকারী।
  • যতদিন পেটের মেদ না কমবে ততদিন নন-ভেজ খাদ্য অর্থাৎ মাংস, মাছ, ডিম, দুধ বাদ দিতে হবে। তবে মাছের টুকরোর চামড়া ফেলে খাওয়া যেতেই পারে।
  • প্রতিদিন সকাল এবং বিকাল এই দুই সময়ে ফল ও সবজি খান। তবে এক্ষেত্রে পানি জাতীয় ফল বাছাই করুন। এই অভ্যাসটি আপনার দেহে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজলবণ এর ঘাটতি পূরণ করবে।
  • চিনি জাতীয় খাবার থেকে দূরেই থাকুন অর্থাৎ চিনিকে না বলুন। এছাড়া মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন মিষ্টি, চকলেট, আইসক্রিম, ফিরনী, সেমাই ইত্যাদি থেকে কিছুদিনের জন্য বিদায় নিয়ে নিন।
  • সাদা ভাত কম খান অথবা কিছুদিনের জন্য ছেড়ে দিন সাদা চালের ভাত খাওয়া। সাদা চালের ভাতের বদলে বিভিন্ন গম জাতীয় শস্য যুক্ত করে নিন আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়। তাছাড়া লাল চালের ভাত, গমের রুটি, ওটস, অন্যান্য শস্য যুক্ত করে নিতে পারেন।
  • পেটের মেদ কাটিয়ে উঠতে চাইলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। তাহলে শরীরের বিপাকের হার বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলোকে দূর করে দিবে। তাই পানিকে প্রাকৃতিক ক্লিঞ্জার বলা হয়।
  • প্রতিদিনের সকালটা শুরু হোক লেবুর সরবত দিয়ে। এই পদ্ধতি পেটের মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী ১টি উপায়। ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু চিপে সরবত করে সঙ্গে একটু লবণ মিশিয়ে নিন। ইচ্ছে হলে একটু মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু চিনি মিশাবেন না। প্রতিদিন সকালে পানীয়টি পান করুন। এই পানীয় আপনার বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে।
  • উচ্চ তেলযুক্ত খাবার এবং কোল্ড ড্রিঙ্কসগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চর্বি জমিয়ে রাখে। যেমন আমাদের পেট কিংবা উরু। সুতরাং বুঝেই ফেলেছেন যে এই খাবারগুলো তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিতে হবে।

মাত্র ১৫ দিনে পেটের মেদ কমাবে এই ২টি পানীয়

মাত্র ১৫ দিনে পেটের মেদ কমাবে এই ২টি পানীয়,  নাশপাতি স্বাস্থ্যের জন্য অনেকটাই উপকারী । আপনি কি বাইরে বা কোনো পার্টিতে রাত কাটানোর পরিকল্পনা করছেন ? প্রথম পানীয় হিসেবে খেয়ে নিতে পারেন এক গ্লাস নাশপাতির জুস। সারা রাত না ঘুমালেও সকালে থাকবেন একেবারে চনমনে। শুধু তাই নয়, নাশপাতিতে চর্বি এবং ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম এবং আছে অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন, আঁশ, মিনারেল ও এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। চার হাজারেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে নাশপাতি উৎপাদিত হলেও সম্প্রতি এর খাদ্যগুণ দৃষ্টি কেড়েছে।রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি কি পান করেন? সাধারণত বেশির ভাগ মানুষ দুধ পান করে থাকেন। আবার কিছু মানুষ চা পান করেন। এমন কিছু পানীয় আছে যা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করলে আপনার পেটের মেদ কমিয়ে দিবে অনেকখানি। পেটের মেদ নিয়ে আমাদের চিন্তার শেষ নেই। ডায়েট, ব্যায়াম কত কিছুই না করা হয়ে থাকে পেটের মেদ কমানোর জন্য। নিয়মিত এই পানীয় পান করার ফলে দ্রুত পেটের মেদ কমে যাবে।

শেষ কথা 

ওপরের উল্লেখিত কার্য গুলো আপনি যদি সত্যি কিছুদিন মেনে চলতে পারেন কথা দিচ্ছি আপনার মেদের বংশ থাকবে না। তবে কিনা আমরা কি করি বলুন তো ওই একদিন দুদিন করেই হাপিয়ে যাই। আর মানুষ হচ্ছে সব থেকে লোভী একজন প্রাণী তার পর আবার আমরা বাঙালি, তাই ভালো মন্দ খাবার দেখলেই হয়েছে মনে মনে বলেই নি যে না শুধু আজকেই খাবো আর কাল থেকে খাবো না। কি তাই তো করি তো আমরা এরকম।  এরকম করতে করতেই আমরা আমাদের নিয়মাবলীকে নষ্ট করে ফেলি। আর আমাদের মেদ শরীরে হেসে খেলে বেরোয়। দেখুন না কি হয়, একটু ধৈর্য ধরে কাজ গুলো করে দেখুন না একবার। খাবারের দিন তো পরেই আছে। আর হ্যা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে যেটা সেটা হল ব্যায়াম। সবকিছু করার পরেও আপনাকে যেটা করতে হবে তাহলো ব্যায়াম। মেদ কমাতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। শরীরকে ঠিক রাখতে প্রতিনিয়ত ব্যায়াম করতে হবে। মোটামুটি সঠিক ভাবে আপনি ব্যায়াম করুন। না রোজ হয়তো আপনার সময় নাও হতে পারে তাও যদি সপ্তাহে ৪ দিনও ব্যায়াম করে থাকেন ব্যাস আর কিছু লাগবেই না। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।

লেখক – শান্তনু পাল 



Comments are closed.