ফুসফুসে ইনফেকশন – Lung Infection Treatment in Bengali

অনেক সময়ই আমরা শুনি যে কারোর শ্বাস কষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তার ফুসফুস থেকে ১ লিটার বা দেড় লিটার জল বের করে দেবার পর সে সুস্থ হয়ে গেছে। এসব খবর আমাদের কাছে চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি করলেও প্রকৃতপক্ষে ঐ জল কিন্ত ফুসফুস থেকে বের করা হয়না, আর বের করা ঐ জলও ফুসফুসে জমা জল না। তা হলে আসলে জলটা কোথায় থাকে? ফুসফুসকে যে পাতলা আবরনী বা প্লুরা ঘিরে রাখে তাতেই জমা হয় ঐ জল, আর এই রোগটির নাম হলো প্লুরাল ইফিউশন। আর এটাও একটা মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে। বায়ু তে অক্সিজেনের পরিমাণ ২১ ভাগ। যদি কোনো কারণে এর ঘাটতি হয়ে অন্য গ্যাসের ঘনত্ব বা বালুকণার পরিমাণ বেড়ে যায়, তবেই তাকে দূষিত বায়ু বলে। আগুন পরিবেশের অক্সিজেন নষ্ট করে ব্যাপক মাত্রায়। যানবাহন, কলকারখানার কালো ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে। হাইড্রোজেন সালফাইড, অ্যামোনিয়া প্রভৃতি গ্যাসও ক্ষতিকর। আসুন জেনে নিই বায়ু দূষণের ফলে আমাদের কী ক্ষতি হয় এবং কী করলে এটা কমানো যায়। চলুন আমরা এখন সরাসরি আলোচনার বিষয়ে চলে যাবো যে কি কি কারণে আমাদের ফুসফুসের ইনফেকশন দেখা যায় বা ফুসফুসের নানান প্রবলেম দেখা যায়। 

আপনার শ্বাসকষ্ট হয়

আপনার মধ্যে কিছু সমস্যার কারণ হতে পারে কোল্ড বা ফ্লু। যদি আপনার ফুসফুস সমস্যা থাকে অথবা যদি আপনি প্রচুর মানসিক চাপে থাকেন কিংবা যদি আপনি জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ এ মোকাবেলা করেন তাহলে কোল্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আপনার ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকবে। সংকটাপন্ন বা দুর্বল ফুসফুস কার্যক্রমের কারণে ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া অথবা ব্রংকাইটিস হতে পারে। সমস্যা নির্ণয় করতে মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং রিকভার করতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হবে।

পদ্মাটাইমস ডেস্ক

কাশি লেগে থাকা, সিঁড়িতে আরোহণের সময় শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং কাশির সঙ্গে রক্ত আসা- ফুসফুসের বড় ও ছোট সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এ প্রতিবেদনে এমন কিছু কথা আলোচনা করা হয়েছে, যা সম্পর্কে অবহিত হয়ে আপনি আপনার ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে পারেন।

আপনার পায়ে ফোলা ও ব্যথা আছে বা স্পর্শ করলে ব্যথা অনুভূত হয়

প্রথমত আপনার মনে হতে পারে এটি আপনার ফুসফুসের কোনো ক্ষতি করবে না অথবা ফুসফুসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু এটি পায়ের রক্ত জমাটবদ্ধতা ডিপ ভেইন থ্রম্বসিসের লক্ষণ হতে পারে। এখানকার ঝুঁকি হচ্ছে, এই রক্ত জমাটবদ্ধতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে, এ অবস্থাকে বলা হয় পালমোনারি এম্বলিজম। ফুসফুসে রক্তের জমাটবদ্ধতা রক্তপ্রবাহে বাধা দিতে পারে এবং মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অন্যান্য লক্ষণগুলো হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নিতে সমস্যা এবং বুকব্যথা। অনেকক্ষেত্রে আপনার ফুসফুসের উপসর্গ নাও থাকতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেডিক্যাল সেবা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। 

আপনি সিঁড়ির পরিবর্তে লিফট ব্যবহার করা শুরু করেছেন

যদি আপনার স্বাভাবিক কার্যক্রমের সময় শ্বাস নিতে সমস্যা বা শ্বাসকষ্ট হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকে (ঠান্ডা লাগা ছাড়া), আপনার ডাক্তার সিওপিডি বা ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজের জন্য টেস্ট করতে পারেন। আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ মিলিয়ন লোকের মধ্যে এটি নির্ণীত হলেও অনেকেরই এটি সম্পর্কে ধারণা নেই, বিশেষ করে নারীদের। এছাড়া অনেক লোক মনে করে যে বয়স্কতার কারণে হাঁটার ফলে শ্বাসকষ্ট হয়, কিন্তু এটি বয়স্ক হওয়ার স্বাভাবিক সংকেত নয়।

আপনার শ্বাসকার্যের সময় বুকে শব্দ হয়

আমরা রোগীদের বলি যে যদি আপনি গভীর শ্বাস নিতে না পারেন, তাহলে আপনার ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন হবে। ডাক্তাররা সম্ভাব্য রোগ যেমন- সিওপিডি বা রক্তস্বল্পতা নির্ণয় করতে টেস্ট নিতে পারে (সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণীত হতে পারে)। ইউরোপিয়ান রেসপিরেটরি রিভিউর গবেষণা অনুসারে, শ্বাসকার্যের সময় বুকে হুইসেল দেওয়ার মতো বা সাঁইসাঁই শব্দ হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হচ্ছে বার্ধক্যজনিত অ্যাজমা, যা শৈশবে ডেভেলপ হওয়া অ্যাজমার চেয়ে বেশি তীব্র। প্রকৃতপক্ষে, ৬৫ উর্ধ্ব ১০ শতাংশ লোকের এটি হতে পারে এবং ক্রনিক সাইনাসাইটিস বা দীর্ঘস্থায়ী সাইনাস প্রদাহের মতো অবস্থার কারণে এর তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে।

আপনার কাশির সঙ্গে রক্ত আসে

এই ভীতিপ্রদ লক্ষণটি আপনাকে অবিলম্বে সোজা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে। রক্ত উজ্জ্বল লাল বা অধিক বাদামী এবং মিউকাসযুক্ত হতে পারে। এটি ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে। কিন্তু এর মানে এটা নয় যে আপনার ফুসফুস ক্যানসার আছে। অন্য অনেক কারণে কাশির সঙ্গে রক্ত আসতে পারে যেমন- উদরের পেশিতে টান পড়া, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস অথবা এমফিসেমা।’ যে কারণেই কাশির সঙ্গে রক্ত আসুক না কেন, একে অবহেলা করা উচিত নয় এবং ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

যেভাবে আপনার ফুসফুস সুস্থ রাখবেন

আপনি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করতে পারেন তা হচ্ছে তামাক বা ধূমপান বর্জন করা। লোকদের বোধগম্য হওয়া প্রয়োজন যে, ফুসফুস হচ্ছে ফিল্টার যা শরীরের অন্যান্য অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী কার্সিনোজেন ও অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর ভগ্নাবশেষ দূর করতে সাহায্য করে।’ এসব ফিল্টার যেন বাধাগ্রস্ত না হয় ও সুস্থ থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ভালো মতন চিকিৎসা করুন।

শেষ কথা 

রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত যে ধুলোবালি উড়ছে, তা শ্বাসতন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে হাঁপানির উদ্রেক করে। শহরে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেশি। ধুলা এড়ানোর জন্য নাকে-মুখে মাস্ক ব্যবহার করলে কিছুটা রক্ষা হয়, কিন্তু তারপরও ক্ষুদ্র কণা ঢোকে। যাঁরা ধূলিময় এলাকায় কাজ করেন, যেমন রাস্তা বা দালানের শ্রমিক, তাঁরা বিশেষ মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। শিল্পায়ন, নগরায়ণের ফলে ঝুঁকি বাড়ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজেরও। এটি দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ। ধূমপায়ীদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি। তাই ধূমপান—তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যা-ই হোক না কেন—অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এ ছাড়া কলকারখানার রাসায়নিক ফুসফুসের স্বাভাবিক কলাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে এবং শক্ত ও দানাদার করে তুলতে পারে।একে বলে ফাইব্রোসিস বা আইএলডি। শ্রমিক জনগোষ্ঠীর জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এখনই। প্রতিদিন একটু হলেও লেবু, আমলকী, আনারস, জাম্বুরা, আমড়া, পেয়ারা, কাঁচামরিচ, জলপাই, টমেটো, কমলালেবু ইত্যাদি গ্রহণ করুন। আবারো বলছি খুউব ভালো হয় আপনি যদি ধুম পান করাটা  একদমই ত্যাগ করে ফেলেন তাহলে দেখবেন আপনার সম্যসা অর্থাৎ ফুসফুসের সমস্যা প্রায়ই নেই বললেই চলে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন অন্যদেরও  ভালো রাখবেন। ধন্যবাদ। 

লেখক – শান্তনু পাল 



Comments are closed.