চুল ঘন করার উপায় – How to Thicken your Hair

কেমন আছেন বন্ধুরা, আশা করি ভালোই আছেন। আর ভালো তো থাকতেই হবে তাও আবার ভালো ভাবে সুস্থ ও সবল ভাবে। আমাদের জীবনে শারীরিক সৌন্দর্যের মধ্যে বিশেষ যেই জিনিসটা আছে সেটা হলো আমাদের চুল। হ্যা এই চুলের জন্যই মানুষের পাল্টে যায় লুক মানে সৌন্দর্য। পাল্টানোটা ভালো মন্দ মিশিয়ে হয়ে থাকে। আমাদের এই চুলের জন্য আমরা অনেকেই জীবনে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে পারি বা বাস্তব এ পড়িও। চুলের সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট একটা সমস্যা নয়। একবার যদি চুলের সমস্যা দেখা যায় তার থেকে সৃষ্টি হয় আমাদের নানান সমস্যা। আর এই সমস্যা যে শুধু মাথাতেই বা চুলেই স্থির হয়ে থাকে তা নয়। ছড়াতে পারে চুল থেকে মুখ পর্যন্ত এমনকি শরীরের নানান জাগায়। এই সমস্যার থেকে আসে পাশের লোকজনদের থেকে নানান কথা শুনতে পাওয়া যায়। যেমন, একি গো তোমার মাথার চুল তো একেবারেই পাতলা হয়ে গিয়েছে, বা আমা তোমার তো আস্তে আস্তে তাকে পরে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।  দিন-রাত এই উক্তি কি আপনাকে হন্ট করে বেড়াচ্ছে ? চিন্তায় চিন্তায় ঘুম আসছে না ? অথচ এই আপনিই একদিন নানারকম সাইডে সিঁথি, ক্রিস-ক্রস সিঁথি, নানারকম হেয়ার স্টাইল করেছেন।  কিন্তু তবুও চুলের ফাঁক দিয়ে আপনার টাক উঁকি মেরে পুরো স্টাইলের সর্বনাশ করে দিচ্ছে ! এমন অবস্থায় রাস্তায় কেশবতী কন্যা বা মাথাভরা কুচ কুঁচে কালো চুল আলা কোনো ছেলে দেখলে কেমন গা জ্বলে বলুন তো ? ঘন আর সুন্দর চুলের আকাঙ্ক্ষা থাকে সবারই। অনেক সময় চুল ঘন হলেও বিভিন্ন কারণে তা ঘন দেখায় না। আবার কখনো চুল পড়ে যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব কমে আসে। তবে এসব প্রতিরোধেও আছে উপায়। কিছু সহজ উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে চুল সহজেই ঘন করে তোলা সম্ভব। দুশ্চিন্তায় মাথার বাকি চুল না ছিঁড়ে শান্ত হয়ে ভাবতে হবে এর থেকে বাঁচার জন্য কি কি উপায় আছে।

অয়েল ম্যাসাজ

অয়েল ম্যাসাজ খুব উপকারী আমাদের মাথার পাতলা চুল মোটা বা ঘন করার জন্য।  অয়েল ম্যাসাজের ফলে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়।  ফলে মাথায় নতুন চুল গজায়।  আজ আমি আপনাদের ৫ টি খুব উপকারী হেয়ার অয়েলের কথা বলবো যা আপনি বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন, এবং এই তেলগুলি নিয়মিত ম্যাসাজ করলে আপনার মাথায় নতুন চুল গজাবে এবং খুব সহজেই চুল ঘন হয়ে উঠবে। 

1.পেঁয়াজের আর নারকোল তেল

পেঁয়াজের রস আমাদের চুল গজানোর ক্ষেত্রে ম্যাজিকের মত কাজ করে।  খুব কম সময়েই তাই এই তেল আপনার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।  শুধু আমি না, যে কোনো ডার্মাটোলজিস্ট কিন্তু তাই বলবেন।  তাই পেঁয়াজ এবার থেকে শুধু রান্নার কাজে না লাগিয়ে চুলের খাদ্য হিসেবেও কাজে লাগান। 

কি কি লাগবে 

২ টি ছোটো পেঁয়াজ, ৪ টি রসুনের কোয়া, ১ কাপ নারকেল তেল। 

তেল বানানোর পদ্ধতি

পেঁয়াজ স্লাইস করে কেটে নিন।  রসুনের কোয়াগুলি ছুলে নিন।  নারকেল তেল একটি পাত্রে গরম করে তাতে রসুন ও পেঁয়াজের স্লাইসগুলো দিন।  এবার কম আঁচে নাড়তে থাকুন। যতক্ষণ না পেঁয়াজ বাদামী রঙের হচ্ছে ততক্ষণ ক্রমাগত তেল নাড়তে থাকুন।  ১৫ মিনিট পর গ্যাস বন্ধ করুন।  ঠান্ডা হয়ে গেলে একটি পাত্রে ছাঁকা তেল টুকু  বোতলে বা কোনো সিসিতে ভরতি করে রাখুন প্রতিদিন রাতে এই তেল আপনার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। সকালের আগে হালকা গরম জলে মাথা ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।  আমি তো আপনাকে উপায় বলেই দিলাম। কিন্তু আপনার কাজ হলো এর মধ্যে যে কোনো একটি বা দুটি তেল বানিয়ে সেই তেল ব্যবহার করা।    নিয়মিত ব্যবহার করুন, দেখবেন ১ মাসের মাথার চুল সামলাতে আপনি হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন। 

2. আমলকীর  তেল

চুলের ক্ষেত্রে আমলকীর উপকারিতা নতুন করে আর বলার কিছু নেই। আমলকি চুলের জন্য একদম পারফেক্ট একটা জিনিস আর এই আমলকি শুধু চুল নয় আমাদের পেটের পক্ষেও খুউব ভালো।  তাই পাতলা চুলের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এই তেল অবশ্যই ব্যবহার করুন। 

কি কি লাগবে 

১ কাপ আমলকী জুস, ১ কাপ নারকেল তেল। 

তেল বানানোর পদ্ধতি

আমলকী ভালো করে ধুয়ে একটি পাত্রে থেঁতো করে বীজগুলি বের করে নিন।  এবার মিক্সিতে অল্প জল দিয়ে বেটে, ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে জুস বের করে নিন।  এবার একটি পাত্রে নারকেল তেল গরম করে তাতে খুব সাবধানে আমলকীর জুস মেশান।  কম আঁচে ৫-৭ মিনিট নাড়লে দেখবেন জল শুকিয়ে গিয়ে তেলের রং বাদামী হয়ে গিয়েছে।  এবার গ্যাস বন্ধ করুন। তেল টা ঠান্ডা হলে একটি বোতলে ঢেলে রাখুন।  প্রতিদিন রাতে এই তেল আপনার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।  সকালে আগে হালকা গরম জলে মাথা ধুয়ে তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই আপনার চুল কেমন গোছা হয়ে থাকে। 

4. আদার তেল

আদার তেল বাজারেও কিনতে পাওয়া যায়।  কিন্তু যখন বাড়িতেই আপনি আদার তেল বানাতে পারবেন তখন খামোখা কিনবেন কেন? আদার তেল কিন্তু চুলের গোছ বাড়ানোর জন্য খুব উপকারী।  আমাদের চুল গোড়া থেকে পাতলা হয়ে গেলে সমানে পড়তে শুরু করে।  আদার তেল চুলের গোড়া মজবুত করে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। 

কি কি লাগবে 

২০০ গ্রাম নারকেল তেল, ৫০ গ্রাম আদা, ২-৩ বড় চামচ অলিভ অয়েল (অলিভ অয়েল চাইলে নাও দিতে পারেন)।

 তেল বানানোর পদ্ধতি

পরিমান মতো আদা ভালো করে ধুয়ে ছোটো টুকরো করে কেটে একটু থেঁতলে নিন। এবার একটি পাত্রে নারকেল তেল গরম করুন।  আদার টুকরোগুলি ওতে দিয়ে দিন।  খুব কম আঁচে ২০-২৫ মিনিট ধরে তেল নাড়তে থাকুন। এতে আদার সম্পূর্ণ রস তেলের সাথে মিশে যাবে।  ২৫ মিনিট পর গ্যাস বন্ধ করুন।  ঠান্ডা হয়ে গেলে একটি পাত্রে ছেঁকে নিন। এবার তার সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন।  প্রতিদিন রাতে শোবার আগে এই তেল আপনার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।  সকালে শ্যাম্পু করে নিন।  ১ মাসের মধ্যেই আপনার মাথা চুলে ভরে যাবে। 

5. জবা ফুলের ও পাতার তেল

জবা ফুল ও জবা পাতা আমাদের চুলের জন্য মায়ের আশীর্বাদ বলতে পারেন। এই ফুলের ও পাতার তেল বানিয়ে মাথায় লাগালে চুল পড়া চিরতরে বন্ধ হবে এবং খুব তাড়াতাড়ি নতুন চুল গজাতে শুরু করবে। ঘন কালো একগুচ্ছ চুলের জন্য চটপট বানিয়ে ফেলুন জবা ফুলের ও পাতার  তেল। 

কি কি লাগবে 

লাল জবা ফুল ১২-১৫ টি, কারি পাতা ১ কাপ, কচি জবা পাতা ৫- ৬ টি,  নারকেল তেল ৫০০ গ্রাম। 

 তেল বানানোর পদ্ধতি

ফুলের পাপড়িগুলি ও জবা পাতা আর কারি পাতা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এবার পাত্রে নারেকেল তেল গরম করে তাতে জবা ফুলের পাপড়ি, জবা পাতা ও কারি পাতা সাবধানে দিয়ে আঁচ কম করে নাড়তে থাকুন।  যাতে পুড়ে না যায়। ১০ মিনিট কম আঁচে নাড়ার পর গ্যাস বন্ধ করুন। তেল ঠান্ডা হয়ে গেলে একটি পাত্রে ছেঁকে রেখে দিন।  প্রতিদিন রাতে শোবার আগে ভালো করে ৫ মিনিট ধরে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। 

অ্যালোভেরা তেল

অ্যালোভেরা আমাদের চুল গজানোর সাথে সাথে চুল মজবুত ও ঘন করে।  তাই অ্যালোভেরা তেল আপনার মাথার চুল যদি পাতলা হয়ে গিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে বেশ উপকারী হবে। 

কি কি লাগবে 

১ টি অ্যালোভেরা পাতা, ১/২ কাপ নারকেল তেল। 

তেল বানানোর পদ্ধতি 

অ্যালোভেরা পাতা সমান দু’ভাগে কেটে তার ভেতর থেকে সমস্ত জুস বের করে নিন। একটি পাত্রে নারকেল তেল গরম করুন।  তেল গরম হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে খুব সাবধানে আলোভেরা জেল বা জুস তেলে ঢালুন।  এবার ৫-৭ মিনিট ক্রমাগত তেল নাড়তে থাকুন।  দেখবেন অ্যালোভেরা জেল তেলের সাথে মিশে গিয়েছে।  তেল ঠান্ডা হলে একটি পরিষ্কার বোতলে পুরে রাখুন।  এই তেল ২ সপ্তাহ ভালো থাকবে| রাতে শোবার সময় প্রয়োজন মত তেল একটি বাটিতে ঢেলে গরম করে ম্যাসাজ করুন। 

শেষ কথা 

প্রতিদিনের নানা ভুলের কারণে এবং অযত্ন আর আমাদের নিজস্ব কিছু অবহেলায় আমরা এই সৌন্দর্যের প্রতীকটি নষ্ট করে ফেলি। আগের মতো ঘন কালো লম্বা চুলের অধিকারিণী বা অধিকারী নজরে পড়ে না। চুল ঘন করার মূল কৌশলগুলো কিন্তু আপনার হাতেই। ঘন কালো সুন্দর চুল সকলেরই বেশ পছন্দের। সেই প্রাচীনকাল থেকে মেয়েদের সৌন্দর্যের বর্ণনায় চুলের উপমা দেয়া হয়ে থাকে। ঘন কালো লম্বা চুলের উপমা ছাড়া নারীর সৌন্দর্যের বর্ণনা পরিপূর্ণতা পায় না। মাঝে বেশ কিছুদিন ছোট চুলের ফ্যাশন ছিল। কিন্তু আবার নতুন করে ফিরে এসেছে লম্বা চুলের ফ্যাশন। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানান কাজে ব্যস্ত থাকার পরও আমাদের এই কাজ গুলো করতে হবে নিজের স্বার্থে। যাতে করে আমাদের কেউ ছোট করতে না পারে বা আমাদের দেখে কেউ হাসাহাসি না করতে পারে। ভালো থাকবেন সুস্থ খাবেন নিজের সৌন্দর্য নিয়ে। ধন্যবাদ।

লেখক – শান্তনু পাল 


Comments are closed.