স্বাধীনতার সম্বন্দ্বীয় উক্তি – Quotes on Freedom

আজ থেকে ৭১ বছর আগে এই দিনে আমরা পরাধীনতার শিকল ভেঙে স্বাধীন হয়েছিলাম । কে আমাদের এই স্বাধীনতা দিলো কেউ কি আদও স্বাধীনতা কাউকে দেয় ? । স্বাধীনতা আসলে কি ? সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই কি স্বাধীনতা ? প্রতিষ্ঠান যে সিদ্ধান্ত নেয়, তার পিছনে থাকে মানুষের নিজস্ব ব্যক্তিক বা গোষ্ঠীগত ইচ্ছার প্রকাশ । তা যেমন অবাধ হতে পারে না, তেমনই ব্যক্তির স্বেচ্ছাসিদ্ধান্তকেও স্বাধীনতার অধিকার হিসেবে মেনে নিতে পারি না।  স্বাধীনতাকে একটা খোলা মাঠের সঙ্গেও তুলনা করা যায়, যার দৈর্ঘ, প্রস্থ দুই – ই আছে । স্বাধীনতা আসলে আলাদিন এর সেই আশ্চর্য প্রদীপ যা সবার চাই । সেই প্রদীপ যা মানুষ ঘষলে কোনো এক আশ্চর্য জিন বেরিয়ে আসে । এখানে প্রদীপ ঘষে যে ব্যক্তিটি তাকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আসলে , রাষ্ট্রব্যবস্থা , সমাজ , জাতি , বৈদেশিক নীতি কে বোঝানো হচ্ছে । এবং প্রদীপ এর ভিতর এ থাকা জিনকে আমরা রাষ্ট্রপরিচালনাকারী দল হিসেবে দেখতে পারি । পনেরোই অগস্ট আমরা কী পেলাম? সে দিনের সেই স্বাধীনতার নাম আসলে ক্ষমতার হস্তান্তর।সুদীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারতবাসী এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিল যে ,আমাদের দেশ আমরাই শাসন করতে চাই। এরই নাম স্বাধীনতা । ‘স্বাধীনতা’-র বোধ এবং আবেগ থাকা বা প্রত্যাশা করা যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। ‘স্বাধীন দেশ’ সম্পর্কিত গর্বের কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির গ্রাহ্যতা তাঁদের ক্ষেত্রে অন্তত সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিল কি? তাঁরাও নিশ্চয়ই ব্রিটিশের অধীনতা চাননি। কিন্তু দেশাত্মবোধ পাল্টাতেও কি চেয়েছিলেন সেই দিনের স্বাধীন হওয়া মানুষ গুলো ? প্রতি বার স্বাধীনতা দিবস সমাগত হলে এই যন্ত্রণার কথা স্মরণ করা উচিত। স্বাধীনতার নানান সংজ্ঞা এবং প্রকৃতি ওই ঘটনার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছিল। রাষ্ট্রিক স্বাধীনতাই নাগরিকের সার্বিক স্বাধীনতা রক্ষা করবে। কিন্ত , স্বাধীনতার চেতনা রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিমানসে সর্বত্র এক বিন্দুতে মেলে না। স্বাধীনতা নাগরিকের জীবন এবং ভূখণ্ড রক্ষা করে । সেই দেশের মধ্যে আছে সমাজ, ধর্ম, সংস্কার ও সংস্কৃতি। আছে নিয়ত বিবর্তনশীল মানবিক সত্তা। যা , সমাজের প্রতিটি দিক, প্রতি ব্যবস্থা এবং ব্যক্তি মানুষের নৈতিকতা ও আচরণবিধির মধ্যে পরিবর্তন ঘটায়। একজন ব্যক্তি প্রাথমিক ভাবে একজন একক সত্তা। তারপর সে সামাজিক সত্তা। এরপর সে এক রাষ্ট্রীয় পরিচিতি, যাকে প্যান কার্ড, পাসপোর্ট বা আধার নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু সেই ব্যক্তি ছবি আঁকবে কিনা, গান গাইবে কিনা, আমিষ খাবে না নিরামিষ , ঈশ্বরে বিশ্বাস করবে কিনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা থাকে না, কারণ , এটা সম্পূর্ণ রূপে , তাদের স্বাধীনতা । বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সমাজও তার নিয়ন্ত্রণক্ষমতা হারাচ্ছে ,  শক্তিশালী হয়ে উঠেছে ব্যক্তিস্বাধীনতা বা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ।

স্বাধীনতার সম্বন্দ্বীয় উক্তি – Quotes on Freedom

সমাজের প্রয়োজনে নিয়ম সৃষ্টি করা হয়, সমাজ তার রক্ষক সৃষ্টি করে, শৃঙ্খলার নির্ণায়ক এবং পরিচালক। তাকে আমরা বলছি ‘সরকার’ বা গভর্নমেন্ট। যে পরিকাঠামো অবলম্বন করে শাসনপ্রক্রিয়া চালায় ‘সরকার’ । নাগরিকবৃন্দের স্বাধীনতা, জীবন, অধিকার এবং নিরাপত্তার রক্ষক হলো এই সরকার ,  অর্থাৎ , দেশ ও দেশবাসীর জীবনের ও স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব তাদের । অনেক সময় এই সরকার নামক প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মতো নাগরিক অধিকার হরণ করতে থাকে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে , এবং ঠিক সেই মুহূর্তে , মানুষ স্বাধীন থাকতে পারে না । আর ঠিক তখনই , আসে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। অধিকার বোধের সঙ্গেই তো আসলে স্বাধীনতার উদ্ভব । কারণ স্বাধীনতা মানে কেবল শাসন প্রক্রিয়ার ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, স্বাধীনতা একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া যা সচেতন নাগরিককে অর্জন করে চলতে হয়। স্বাধীন দেশে আমরা ভোটাধিকার পাই এবং শাসনকার্যের প্রতিনিধি নির্বাচন করি। আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু তার মানে এই নয় ,  যে তারা মানুষ ( নাগরিক ) – র ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের , নাক গলাবে।

1. যুদ্ধের বার্তা 

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, লড়াই নয় ভালোবাসতে চাই।

২. স্বাধীন ভাবে বাঁচো 

স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায় !

৩.একতার গান 

এখন  আর দেরি নয় ধরগো তোরা হাতে হাতে ধরগো, আজ আপন পথে ফিরতে হবে সামনে মিলন সর্গ।

৪. উন্মুক্ত আকাশ  

স্বাধীনতা তুমি বিকেলের আকাশে ধবল বক, স্বাধীনতা তুমি নিশ্চিন্তে উড়া সোনালি-ডানা চিল।

৫. সোনার ফসলে লেখা স্বাধীনতা। 

স্বাধীনতা আমার রক্তমাখা ফসলের ক্ষেত! স্বাধীনতা আমার রোদেপোড়া কৃষকের ক্ষুধার্ত পেট!

৬. পাখিদের গানে গানে স্বাধীনতার সুর। 

স্বাধীনতা তুমি কোকিলের কণ্ঠে মিষ্টি সুর, স্বাধীনতা তুমি ভোরের আকাশে সোনাঝড়া রোদ্দুর।

৭. স্বাধীনতার ঝড়। 

স্বাধীনতা তুমি চা-খানায় আর মাঠে-ময়দানে ঝোড়ো সংলাপ। স্বাধীনতা তুমি কালবোশেখীর দিগন্তজোড়া মত্ত ঝাপটা।

৮.  বাঁধ ভাঙার গান। 

তুমিই প্রভাতের রবি,রজনীর চাঁদ, তুমিই লাখো-কোটি জনতার বিদ্রোহী হাত। এক মাত্র তুমিই ভেঙ্গে দিয়েছ সমস্ত পরাধীনতা একটিই তুমি বাংলার স্বাধীনতা ।

৯. স্বাধীনতার মুখ।  

বাক স্বাধীনতা প্রাপ্য জানি স্বাধীন একটি দেশে, স্বাধীন দেশে বাক আমার কেড়ে নিলো তবে কে সে ?

১০. বাংলার স্বাধীনতা। 

স্বাধীনতা নাইকি তব করবো কি হাহাকার ? খুঁজে দেখি মাঝে মাঝে বাংলার স্বাধীনতার পাহাড় !

শেষ কথা 

স্বাধীনতা মানুষের নৈতিক অধিকার গুলির মধ্যে একটি অন্যতম। ক্ষুধা বিনা মানুষ বাঁচতে পারে না, ঠিক সেরকম পরাধীনতার শিকলও মানুষকে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। স্বাধীনতা মানুষকে নতুন ও গঠন মূলক চিন্তা ভাবনা করতে আমাদের সাহায্য করে। স্বাধীনতা মানুষকে নতুন পথের দিশা দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। স্বাধীনতা সৃষ্টি করে ভেদাভেদহীন এক নতুন পৃথিবী। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন আর যতটা পারবেন কাউকে আঘাত না করে আর গুরুজনদের সম্মান দিয়ে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে বা থাকতে ধন্যবাদ।

লেখক – শান্তনু পাল 

Comments are closed.