টাইফয়েড জ্বরের ঔষধ – Typhoid Fever Test

টাইফয়েড কি ? কারণে হয় ? এর উৎস কি ?

টাইফয়েড জল বাহিত একটি রোগ এবং সালমলনা টাইফি নামক ব্যাকটিরিয়া যা এই মারাত্মক রোগের জন্য দায়ী।  রক্তের বিটেল নামক পরীক্ষা করার পর শরীরে টাইফয়েডের সংক্রমণ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়। টাইফয়েড হলে ফাস্ট জেনারেশন সিফলস্পেরিন হচ্ছে চিকিৎসকদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু এই ওষুধগুলোর মাত্রাতিরিক্ত এবং যখন তখন ব্যাবহারের ফলে অনেক রোগীর শরীরে এটা রেজিস্টেন হয়ে যায় তাই চিকিৎসকরা এখন সরাসরি সেফটিআক্সন নামক ইনজেকশন দৈনিক ১ গ্রাম অথবা ২ গ্রাম করে থাকেন। সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে রোগী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভাল হয়ে যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে পেনিসিলিন গ্রূপের আরেকটি ইনজেকশন ব্যাবহার করতে হয়। এই রোগের সংক্রমন ঠেকাতে জল ফুটিয়ে পান করতে হবে এবং এই রোগ ছোঁয়াচে নয় । সবসময় মনে রাখবেন “জর” হলে কখনোই এন্টিবায়োটিক দিয়ে ট্রিটমেন্ট শুরু করা যাবেনা. প্রথমে paracetamol জাতীয় ওষুধ দিয়ে চিকিত্সা শুরু করতে হবে সাথে অনেক সময় cefixime (তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পরিন ) দেয়া হয় তবে ofloxacin অথবা sparfloxacin বেস্ট মেডিসিন। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায় প্যারাসিটামল (paracetamol) এবং tetracycline এই ভালো হয়ে যায়.১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায় কিন্তু প্রথমে উল্টা-পাল্টা মেডিসিন খেলে একটু বেশি সময় লাগে.

টাইফয়েড সারার উপায়

সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা হলে এবং অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা হলে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই কমে যেতে শুরু করে। কিন্তু জ্বর সেরে গেলেও সম্পূর্ণ কোর্স সমাপ্ত করতে হবে। আমরা অনেকেই আছি যারা ডাক্তার দেড় দেওয়া ওষুধ বা মেডিসিন গুলো আমরা পুরো শেষ করি না। শরীরটা একটু মোটামুটি বা পুরো ঠিকঠাক লাগলেই আমরা ওষুধ বা মেডিসিন খাই না।  টাইফয়েড জ্বরে সাধারণত টানা ১৪ দিন বা কখনো তারও বেশি দিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে বা ইনজেকশন দিতে বলা হয়। সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময় পর্যন্ত ওষুধ সেবন না করলে জীবাণু রয়ে যেতে পারে এবং আবারও পরে আক্রমণ করতে পারে।

এখন অনেকেরই জ্বর হচ্ছে তার জন্য কি করা উচিত

জ্বর হলে প্রথমে ঔষধ খবার চিন্তা টা বাদ দেওয়া উচিৎ। জ্বর হলে মুখে আর কোনোকিছুই যেন রোচে না। তখন মধুকেও যেন চিরতার রস মনে হয়। স্বাভাবিক সব খাবার বন্ধ করে তখন খেতে হয় পথ্য ধরনের খাবার। মুখে না রুচলেও একপ্রকার জোর করেই খেতে হয়। তবে এমনকিছু খাওয়া উচিত যা শরীরে শক্তি যোগানোর পাশাপাশি জ্বর সারাতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নেই এমনই কিছু খাবারের কথা।

জ্বর বা টাইফয়েড হলে কি করা উচিত বা কি খাওয়া উচিত :-

  • ঠান্ডা খাবার, ফ্রিজের জল খাওয়া বা করতে হবে। কুসুম গরম পানি পান করতে পারলে ভালো হয়।
  • যে কোনও নরম খাবার যেমন সবজি, ডিমসেদ্ধ ইত্যাদি খাবার হজম হতে সুবিধে হয়। ভাত চটকে খাওয়া যাদের পছন্দ নয় তারা এই খাবারগুলি খেতে পারেন। এগুলি পুষ্টিগুণেও ভরপুর।
  • আদার মতোই রসুনও সর্দিজ্বর নিরাময়ে খুবই কার্যকরী। এককাপ মতো পানি তে একটি কোয়া ফেলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই ইষদুষ্ণ পানি দিনে দুইবার খেলে জ্বর কমাতে সাহায্য করে।
  • আদা দিয়ে গলানো ভাত খুব একটা উপাদেয় নয় কিন্তু ফ্লু-এর ক্ষেত্রে শরীরের জন্য বেশ উপকারী। ভাতটা গলা গলা থাকলে ভালো।
  • আপেল,কমলালেবু,আঙুর,আনারস ইত্যদি ফলে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ রয়েছে। তাই জ্বরের সময় ফ্রুট সালাদ খাওয়া উচিত বেশি করে।
  • জ্বরের সময় মাঝেমধ্যেই একটি’দুটি করে কিসমিস খাওয়া ভালো কারণ এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। তাছাড়া শরীরে এনার্জি সরবরাহ করে এই ড্রাই ফ্রুট।
  • দিনে দুইবার কমলালেবুর রস খেলে উপকার পাবেন।
  • সর্দি-কাশি প্রতিরোধে পরিচিত টোটকা তুলসি-মধু। জ্বর হলে একটি-দু’টি পাতা চিবিয়ে খেলেও উপকার হবে।
  • প্রোবায়োটিক হল ভালো ব্যাকটেরিয়া যারা শরীরে বাসা বেঁধে অন্যান্য ভাইরাসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে কোনও প্রোবায়োটিক ড্রিংক খাওয়া যায়। এছাড়া ইয়োগার্ট বা বাটারমিল্কও প্রোবায়োটিক ফুড ও খাওয়া যায়।

উপসর্গ

রোগের প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর। তবে শরীরে জ্বর মাঝে মধ্যে অনুভূত হলেও থার্মোমিটারে সাহায্যে মাঝে মাঝেই পরীক্ষা করা দরকার। জ্বর ছাড়া শরীর ম্যাজম্যাজ করা, মাথাসহ হাত-পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা হতে পারে। বয়স্কদের অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। শিশুদের ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে। সব ধরনের জ্বরের প্রায় সপ্তাহখানেক পর পেট ও পিঠে গোলাপি রঙের ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে সবার ক্ষেত্রে আবার নাও হতে পারে। সালমোনেলা টাইফি অনেক সময় ব্রঙ্কাইটিস কিংবা নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারে।

জটিলতা

রোগ টা বোঝার পরে সত্তর রোগীকে যদি চিকিৎসা না করা হয়, তবে রোগী মারাত্মক জটিলতায় পড়তে পারে। পেট ফুটো হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে এ সময় খিঁচুনি, অসাড় বোধ করা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ভাগ্য ভালো হলে জ্বর দু, তিন বা চার  সপ্তাহে নেমে এসে রোগী আপনাআপনি ভালো হতে পারে। অন্যান্য জটিলতার মধ্যে পিত্তথলির প্রদাহ, নিউমোনিয়া, অস্থিসন্ধি ও অস্থির প্রদাহ, মেনিনজাইটিস, হৃদপিণ্ডের মাংসপেশিতে প্রদাহ, কিডনি প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

রোগ বোঝার উপায়

টাইফয়েড রোগ নির্ণয় করা কঠিন। তবে  রোগ নির্ণয়ের নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হল রক্তের কালচার। ভিডাল টেস্ট করা,অবশ্য ভিডাল টেস্ট কোনো নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা নয়। কেননা টাইফয়েড জ্বরের জন্য টিকা নিলেও এ পরীক্ষাটি পজিটিভ আসতে পারে। পায়খানা-প্রস্রাব কালচার করে নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে  জীবাণু আলাদা করা যায়।

চিকিৎসা

চিকিৎসকরা জ্বর ও ব্যাথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট দিনে ৪-৫ বার সেবন করার পরামর্শ দেন। এ জ্বরের মূল চিকিৎসা করা হয় অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে। যে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই শুরু করা হোক না কেন, চিকিৎসা ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখতে হয়। নইলে জীবাণু না মরে মানবদেহের পিত্তথলি কিংবা কিডনিতে থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে জীবাণুটি পায়খানা বা প্রস্রাবের সঙ্গে মিশে অন্যের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

প্রতিরোধ

টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে তিন ধরনের টিকা আছে। একটি মুখে খাওয়ার এবং বাকি দুটি ইনজেকশন। তবে টিকা ব্যবহারে সফলতার হার ৫০ থেকে ৮০ ভাগ। দুবছরের বেশি বয়সী শিশুরা এ টিকা নিতে পারে। টিকা কার্যকর থাকে তিন বছর।

শেষ কথা

নরমাল জ্বর বা টাইফয়েড যদি হয়ে থাকে কোনোটাতেই ভয় পাবার কারণ নেই। কারণ আপনি যদি সবার আগে ভয় পেয়ে গিয়ে থাকেন তাহলে কিন্তু আপনি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। কোনো ব্যাপারেই তাড়াহুড়ো করবেন না। অন্যের কোনো কথায় ঘরোয়া পদ্ধতিতে রোগ সারানোর কথা মনেই আনবেন না। একটাই জিনিস করতে হবে আর সেটা হলো সরাসরি ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে বা ডাক্তারকে দেখতে হবে। নিজেকে ডাক্তার একদমই ভাববেন না। হ্যা অনেক সময় অনেকেই একটা তুচ্ছ ব্যাপার বা সামান্য জ্বর মনে করে নিজেকেই ক্ষনিকের জন্য ডাক্তার ভেবে ফেলে কিন্তু সেটা যে কতটা ক্ষতিকারক সেটা বোঝে না। যাই হোক ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আর হ্যা পোস্টি অবশ্যই শেয়ার করে অন্যকেও জানাতে বা বোঝাতে সাহায্য করুন। ধন্যবাদ।



Comments are closed.